লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল ২০০৪ সালে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে। তবে মিসরের বিপক্ষে ২০০৫ সালের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের ম্যাচটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ, সেটিই ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির প্রথম শুরুর একাদশে খেলা ম্যাচ এবং বিশ্বকাপের মঞ্চে তার প্রথম গোলের সাক্ষী।
সেই টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার শুরুটা ছিল হতাশাজনক। প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় তারা। ব্যবধান আরও বাড়তে পারত, কিন্তু ফ্রেডি এদুর পেনাল্টি পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ওই ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেও মেসি দলের ভাগ্য বদলাতে পারেননি।
ম্যাচ শেষে টানেলে ঘটে এক নাটকীয় ঘটনা। তৎকালীন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি জুলিও গ্রনদোনা ক্ষোভ প্রকাশ করে কোচ ফ্রান্সিসকো ‘পাঞ্চো’ ফেরারেকে প্রশ্ন করেন, কেন মেসিকে শুরুর একাদশে রাখা হয়নি। কথোপকথন একপর্যায়ে তুমুল বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়। এমনকি কোচকে বরখাস্ত করার হুমকিও দিয়েছিলেন গ্রনদোনা। পরে অবশ্য সেই হুমকি বাস্তবায়িত হয়নি।
পরবর্তীতে কোচ ফেরারে জানান, শেষ অনুশীলনে মেসির পেশিতে সামান্য টান ধরা পড়েছিল। দলের চিকিৎসকের পরামর্শেই তাকে বিশ্রামে রেখে দ্বিতীয়ার্ধে নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই কৌশল কাজে আসেনি।
সব বিতর্কের অবসান ঘটে মিসরের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে। শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে ম্যাচের ৪৭তম মিনিটে জুলিও বারোসোর ক্রস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন মেসি। সেটিই ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে তার প্রথম গোল। পরে পাবলো জাবালেতার আরেক গোলে ২-০ গোলে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা এবং নকআউট পর্বে ওঠার পথ সহজ করে।
এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি মেসিকে। পুরো টুর্নামেন্টে ছয় গোল করে জেতেন গোল্ডেন বুট, হন সেরা খেলোয়াড়ও। সেমিফাইনালে ব্রাজিল এবং ফাইনালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেন তিনি। আকাশি-সাদা জার্সিতে সেটিই ছিল মেসির প্রথম বড় আন্তর্জাতিক সাফল্য, যার সূচনা হয়েছিল মিসরের বিপক্ষে সেই স্মরণীয় ম্যাচ দিয়ে।
পাপ্পু/রিফাত/