ব্রিটিশ শাসনামলে রেলপথের যাত্রা শুরু হলেও আজও ট্রেনযাত্রায় ভোগান্তি সাধারণ মানুষের নিত্যসঙ্গী। বিশেষ করে ঈদ, পূজা বা দীর্ঘ ছুটিতে স্টেশনে টিকিট কেটেও উপচে পড়া ভিড়ের কারণে অনেকে ট্রেনে উঠতে পারেন না। নিরুপায় হয়ে কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদ বা জানালা দিয়ে যাতায়াত করেন, যা দেখে মনে প্রশ্ন জাগে যে, একটি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা কি দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নয়? অনলাইন ব্যবস্থা টিকিট সংগ্রহ সহজ করলেও সিগন্যাল ব্যবস্থার দুর্বলতা, কারিগরি ত্রুটি ও ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কারণে ট্রেন প্রায়ই বিলম্বে চলে, যা যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, গত ৫ জুন ২০২৬ তারিখেও কমলাপুর স্টেশনে শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে শত শত যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে নাকাল হন।
এই অচলাবস্থা দূর করতে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের আগে বাধ্যতামূলক টিকিট যাচাই, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রেলের আধুনিকায়ন, সময়সূচির লাইভ আপডেট দেওয়া এবং মাঝপথে ইঞ্জিন বিকল হলে দ্রুত বিকল্প ইঞ্জিন ও কারিগরি দল মোতায়েনের ব্যবস্থা করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা ও সঠিক পরিকল্পনাই পারে এই দীর্ঘমেয়াদি অব্যবস্থাপনার অবসান ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের ট্রেনযাত্রাকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সময়নিষ্ঠ করে তুলতে।
মোসা. সাদিয়া আক্তার
শিক্ষার্থী, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
[email protected]