কিছুদিন আগে খবরের কাগজের ডাকঘর বিভাগে মোহসিন মিয়া নামে এক ভদ্রলোকের একটি চিঠি ছাপা হয়েছে, যা অনেক চিঠির মধ্যে অনন্য কিরণে উদ্ভাসিত। চিঠিতে পুলিশের পোশাক পরিবর্তন নিয়ে লেখকের যুক্তি পরম দেশপ্রেম, নীতিনিষ্ঠা, দরিদ্র দেশের গণসম্পদ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মিতব্যয়িতা, দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতার আদর্শ সাহসের সঙ্গে প্রস্ফুটিত হয়েছে। যেকোনো সরকারি বিভাগেই দুর্নীতির চর্চা অপ্রতিরোধ্য বলে স্বীকার করা হয়। বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীলরাও বলছেন, ‘দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে, বিষদাঁত উপড়ে ফেলা হবে, পরিচয় যাই হোক কোনো দুর্নীতিবাজকে কোনোরকম ছাড় দেওয়া হবে না’ ইত্যাদি। পুলিশ বিভাগ যেহেতু এ বিষয়ের সঙ্গে তথা দুর্নীতি দমনে ওতপ্রোতভাবে সংশ্লিষ্ট, তাই তাদের দায়িত্ববোধ আরও উঁচু করার কাজটি সম্পাদন করা, তাদের পোশাক পরিবর্তন করার চেয়ে অধিকতর জরুরি। সরকারপ্রধান দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম সপ্তাহেই বলেছেন, ‘পুলিশকে জনগণের আরও কাছে যেতে হবে এবং আস্থা অর্জন করতে হবে’। চমৎকার কথা। তার মানে দূরত্ব রয়েছে, আস্থারও ফাঁক আছে। কাজেই কোনো ঠিকাদারের মুনাফা বৃদ্ধি করার চেয়ে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে পুলিশের আচরণের সংস্কৃতির আরও উন্নতিসাধনের লক্ষ্যই যেন সরকারের কাছে গুরুত্ব পায়। কোনো গ্রেপ্তার, আটক, জব্দ, তদন্ত, সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও চার্জশিট চূড়ান্ত করার কাজে পুলিশকর্তা সন্দেভাজনের শরীরে হাত দিতে পারবেন না। এ কাজগুলো করার সময় পুলিশ তাদের সঙ্গে জেলা কমিশনার কর্তৃক বরাদ্দ করা ফৌজদারি সরকারি উকিল/ ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন নেবে। পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ/ মামলা পুলিশ তদন্ত করতে পারবে না, তা আইন/ ম্যাজিস্ট্রেসি বিভাগ কর্তৃক করাতে হবে। পুলিশের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন সম্পাদন করবেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। দেশের অতি বিশিষ্ট বাতিঘর শিক্ষক আন্দোলনের সময় একটি ছবি দেখে বলেছিলেন, ‘পুলিশ শিক্ষককে লাঠিচার্জ করছে আর সেই শিক্ষক পুলিশ কনস্টেবলকে স্যার সম্বোধন করে বলছেন, মারবেন না’। কাজেই এগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া দরকার, পোশাক পরিবর্তনের দিকে নয়। বরং স্বরাষ্ট্র সচিব এটা নিশ্চিত করুন যে, থানায় থানায় পুলিশ সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে আইনানুগ আচরণ করছে।
মাসুদ আহমেদ
সাবেক সিনিয়র সচিব ও প্রজাতন্ত্রের সাবেক কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল
[email protected]