ঢাকা ২০ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
অলাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’ ১৭ বছর ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেও মাথা নোয়াইনি: মির্জা ফখরুল একটি বিকেল, তিনটি প্রাণ, আজীবনের শোক ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, আরও ১৩৯ জন হাসপাতালে ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধি কামনা টেইলর সুইফট-ট্রাভিস কেলসি’র রাজকীয় বিয়ে সব বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী থানায় অভিযোগ নিয়ে যা বললেন শাওন কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নজর থাকবে: গণপূর্তমন্ত্রী মা হচ্ছেন মৌসুমী হামিদ নোয়াখালীতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগকর্মী আটক বিএসবিআরএ নির্বাচনে সভাপতি মহসিন চৌধুরী ও সিনিয়র সহসভাপতি সেলিম উদ্দিন আয়াতুল কুরসির জীবনমুখী শিক্ষা সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘CFMOTO Fiesta Football Tournament 2026’ ডিজিটাল লেনদেন সহজ করতে ‘পেমেন্ট পাসকি’ আনল ভিসা ৬ জুলাই থেকে ৬৪ জেলায় পদযাত্রা করবে এনসিপি সন্তানের কর্মসংস্থান চাই মোহসিন মিয়ার পুলিশ সংস্কার প্রস্তাব তৃতীয় কোনো ভাষা শেখানোর চিন্তা কতটা বাস্তবসম্মত! সিংড়ায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর উত্তরা মোটর্স বাংলাদেশে নিয়ে এলো ইসুজু লাক্সারি এনকিউআর বাস দেবহাটায় ব্ল্যাকমেইল করে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ, এরপর... ‘কে পাবেন ফ্যামিলি কার্ড, তা ঠিক করবে কম্পিউটার’ ধনবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, হুমকিতে শতাধিক প্রজাতি টাকা খেলেন, জেল পেলেন! উখিয়ার ট্রে ওভেন প্রকল্প ঘুরে দেখলেন জাইকা প্রেসিডেন্ট আবারও বড় ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যানার্জী The Grocer and the Fruit seller বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা, ৮ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র

৬ জুলাই থেকে ৬৪ জেলায় পদযাত্রা করবে এনসিপি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
৬ জুলাই থেকে ৬৪ জেলায় পদযাত্রা করবে এনসিপি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংবাদ সম্মেলন। ছবি: খবরের কাগজ।

গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা ২০২৬’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

দলটির ঘোষিত মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৬ জুলাই থেকে দেশের ৬৪ জেলার ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় এ পদযাত্রা শুরু হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে দলের শীর্ষ নেতারা একযোগে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে পদযাত্রায় অংশ নেবেন। উত্তরাঞ্চলে কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলে নেতৃত্ব দেবেন মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি ও দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

এনসিপি জানায়, ‘জুলাই পদযাত্রা ২০২৬’-এর মাধ্যমে শহিদদের আত্মত্যাগ স্মরণ, গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা মানুষের মধ্যে তুলে ধরা এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করাই মূল লক্ষ্য।

এনসিপি ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচিতে দেশের সর্বস্তরের নাগরিক, তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী, পেশাজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

রাজু/রিফাত/

নোয়াখালীতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগকর্মী আটক

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
নোয়াখালীতে মিছিলের প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগকর্মী আটক
পারভেজ শান্ত। ছবি: খবরের কাগজ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সরকারবিরোধী মিছিলের প্রস্তুতিকালে পারভেজ শান্ত নামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে চৌমুহনী পূর্ব বাজারের হাসেম মিয়ার পোল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি ব্যানার ও ক্রিকেট স্ট্যাম্প জব্দ করা হয়।

আটক পারভেজ শান্ত চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা এবং ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চৌমুহনী পূর্ব বাজারের হাসেম মিয়ার পোল এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের একদল কর্মী জড়ো হয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় তাদের উপস্থিতির খবর পেয়ে চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন চন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে ব্যানার ও ক্রিকেট স্ট্যাম্পসহ পারভেজ শান্তকে আটক করা হয়।

চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন চন্দ্র ঘোষ জানান, আটক ছাত্রলীগকর্মীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তদন্ত করে বাকিদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মজনু/রিফাত/

৬ জুলাই থেকে ৬৪ জেলায় পদযাত্রা করবে এনসিপি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
৬ জুলাই থেকে ৬৪ জেলায় পদযাত্রা করবে এনসিপি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংবাদ সম্মেলন। ছবি: খবরের কাগজ।

গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা ২০২৬’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

দলটির ঘোষিত মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৬ জুলাই থেকে দেশের ৬৪ জেলার ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় এ পদযাত্রা শুরু হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে দলের শীর্ষ নেতারা একযোগে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে পদযাত্রায় অংশ নেবেন। উত্তরাঞ্চলে কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলে নেতৃত্ব দেবেন মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি ও দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

এনসিপি জানায়, ‘জুলাই পদযাত্রা ২০২৬’-এর মাধ্যমে শহিদদের আত্মত্যাগ স্মরণ, গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা মানুষের মধ্যে তুলে ধরা এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করাই মূল লক্ষ্য।

এনসিপি ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচিতে দেশের সর্বস্তরের নাগরিক, তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী, পেশাজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

রাজু/রিফাত/

ভাঙ্গুড়ায় যুবলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় বিক্ষোভ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম
ভাঙ্গুড়ায় যুবলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় রিপন সরকার নামের যুবলীগের এক নেতাকে আটক করে থানায় নেওয়ার পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় বিক্ষোভ ও অবস্থান নেন প্রায় ৩০০ জন গ্রামবাসী। পরে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর প্রতিনিধিদের আলোচনার পর আটক করা রিপন সরকারকে গ্রামবাসীদের জিম্মায় ছেড়ে দেয় পুলিশ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভাঙ্গুড়া থানায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, আটক রিপন সরকার (৪০) উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও হাবিবুর সরকারের ছেলে। তিনি পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলিপাড়া গ্রাম থেকে নাশকতা সম্পৃক্ততার সন্দেহভাজন হিসেবে রিপন সরকারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম উপস্থিত লোকজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি যুবলীগের সভাপতিকে আটক করে নিয়ে এসেছি। আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা কি মব করতে চান? এই মুহূর্তে থানা এলাকা ছেড়ে চলে যান। আইন শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আগেই থানার রাস্তা ছেড়ে চলে যান। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থেকে শীর্ষ পাঁচজনকে নিয়ে ওসির কক্ষে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে রিপন সরকারকে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।  

তবে স্থানীয়দের দাবি, টেবুনিয়া-বাঘাবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন পাটুলিপাড়া গ্রামের একটি খাসজমি ও মাছবাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর সঙ্গে ইউনুস সরকার নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরোধ চলে আসছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, সরকারি জায়গা দখল করে ইউনুস সরকার সেখানে একাধিক ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। পরে গ্রামবাসীর স্বার্থে ঘরটি ভেঙে সেখানে পুনরায় মাছের বাজার বসান এবং স্থানটিকে ছোট বাজার ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন প্রায় মাস দুইয়েক আগে। অন্যদিকে ইউনুস সরকার জায়গাটি নিজের দাবি করে রিপন সরকারসহ কয়েকজন গ্রামবাসীকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

গ্রামবাসীর দাবি, ওই বিরোধে তাদের গ্রাম বাসীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন যুবলীগ নেতা রিপন সরকার। তাকে হয়রানি ও আন্দোলন থামাতেই পুলিশ তাকে আটক করেছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসী।

তারা আরও দাবি করেন, ইউনুস সরকারের দায়ের করা অভিযোগের কারণেই তাকে আটক করা হয়ে থাকতে পারে। শুক্রবার রিপন সরকারকে আটক করে থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ৩০০ গ্রামবাসী ভাঙ্গুড়া থানায় গিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং তাকে মুক্তির দাবি জানান। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের থানা চত্বর থেকে বাইরে সরিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, নাশকতার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাবাদের তার সম্পৃক্ততা না পাওয়া ও গ্রামবাসীর বিক্ষোভ এবং দাবির কারণে তাকে  গ্রামবাসীর তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আমিনুল/নাঈম

খাগড়াছড়িতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, ছাত্রলীগ নেতা আটক

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
খাগড়াছড়িতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, ছাত্রলীগ নেতা আটক
ছবি: খবরের কাগজ
খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 
 
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। 
 
বৃষ্টি থাকায় এবং স্মৃতিস্তম্ভটি লোহার তৈরি হওয়ায় আগুনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
 
শনিবার (৪ জুলাই) ভোরে জেলা সদরের সবুজবাগ এলাকা থেকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল আলম রনিকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
 
এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে খাগড়াছড়ির আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ফেসবুক আইডিতে একাধারে আগুন দেওয়ার ভিডিও পোস্ট করা হয়।
 
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশ পরা এক যুবক স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশে পেট্রল জাতীয় দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন। পরে রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পেট্রল ঢালার পর ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের বোতলও জব্দ করে পুলিশ।  
 
খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের নৈশপ্রহরী সেনময় ত্রিপুরা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই যুবক সাংগঠনিক কাজ আছে বলে কলেজ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। তার একটু পরেই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
 
ছাত্র প্রতিনিধি জাহিদ হাসান ঘটনার জন্য নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পলাতক নেতা-কর্মীদের দায়ী করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
 
তিনি বলেন, 'এ ঘটনার মাধ্যমে তারা আবারও চিরায়ত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিচয় দিয়েছে। তারা সারাদেশে অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করছে।'
 
গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোরতাজা আলী খাঁন ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায় কিসলু।
 
পুলিশ সুপার জানান, শুক্রবার রাতে বেশ বৃষ্টি ছিল। রাতের কোনো এক সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল আলম রনিকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য অপরাধীদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।
 
দিদারুল রাজু/খাদিজা রুমি/

আদালতের রায়ে বদলে গেল চট্টগ্রাম-৪ এর রাজনৈতিক সমীকরণ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
আদালতের রায়ে বদলে গেল চট্টগ্রাম-৪ এর রাজনৈতিক সমীকরণ
বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে বাতিল হওয়ার পর আসনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। আদালতের এই চূড়ান্ত রায়ের পর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পথ এক প্রকার বন্ধ। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসন নিয়েও চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। ফটিকছড়ি আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত সরোয়ার আলমগীর ঋণখেলাপি মামলার কারণে এখনো শপথ গ্রহণ করতে পারেননি। আগামী ৯ জুলাই তার মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। 

আদালতের রায় আসলাম চৌধুরীর বিপক্ষে গেছে। এখন রায়ের অপেক্ষায় আছেন সরোয়ার আলমগীর। আসলাম চৌধুরীর শপথ নেওয়ার পথ বন্ধ হওয়ার পর সাধারণ ভোটার এবং কর্মী-সমর্থকদের মাঝেও দেখা দিয়েছে নানা শঙ্কা। আবার কেউ কেউ আশাবাদী। 

আসলাম চৌধুরীর মামলার রায়ের পর জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী ব্যারিস্টার শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কমনসেন্সে বলে যিনি দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা উচিত। এখন আদালত কী বলেন তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

দেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা তথা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, এই আসনে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনি ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী যেহেতু আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিনেই তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সেই মনোনয়ন বা প্রার্থিতাই চূড়ান্তভাবে বাতিল করে দিয়েছেন। তবে এর মানে এই নয় যে দ্বিতীয় স্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীকে সরাসরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এবং বাংলাদেশের নির্বাচনি আইন অনুযায়ী কোনো আসনে বিজয়ী প্রার্থীর প্রার্থিতা যদি শুরু থেকেই অবৈধ বা অযোগ্য ঘোষিত হয়, তবে সাধারণত নির্বাচন কমিশন ওই আসনটিকে ‘শূন্য’ ঘোষণা করে নতুন তফসিল জারি করে উপনির্বাচনের আয়োজন করে। ভোটারদের ভোটাধিকার পুনঃপ্রয়োগের সুযোগ দেওয়াটাই এখানে গণতান্ত্রিক ও আইনি রেওয়াজ। প্রায় একই ধরনের একটি জটিলতা তৈরি হয়েছিল ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে। চট্টগ্রাম-৪ আসনের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তা অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ।

সে সময় ওই আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের মেজর (অব.) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বিজয়ী হয়েছিলেন। নির্বাচনের পর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ আদালতের শরণাপন্ন হন। ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, মেজর (অব.) জসিম উদ্দিনকে ২০০৪ সালের ৩১ আগস্ট সেনাবাহিনী থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়ার পাঁচ বছর পার না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য হন না।
উচ্চ আদালত এবং পরবর্তীতে ২০০৯ সালের অক্টোবরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জসিম উদ্দিনের প্রার্থিতাকে শুরু থেকেই ‘অবৈধ ও অযোগ্য’ হিসেবে রায় দেন। যে কারণে তিনি সংসদ সদস্য পদ হারান এবং ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করলেও দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিএনপির মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে সরাসরি বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি। আইন অনুযায়ী আসনটি শূন্য করে ২০১০ সালের এপ্রিলে সেখানে উপনির্বাচন দেওয়া হয়। ওই আসনে তখন আওয়ামী লীগের নতুন প্রার্থী নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন বিজয়ী হন। সীতাকুণ্ড আসনেও উপনির্বাচনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। 

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন পাওয়ার প্রক্রিয়াটি ছিল চরম নাটকীয়তায় ভরা। ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে বিএনপি শুরুতে তাকে মনোনয়ন দেয়নি। তখন মনোনয়ন পান বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা কাজী সালাউদ্দিন। কিন্তু পরে আসলাম চৌধুরীর সমর্থক ও কর্মীদের বিক্ষোভ মিছিল, চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধসহ রাজনৈতিক চাপের মুখে কাজী সালাউদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। নতুন করে মনোনয়ন দেওয়া হয় আসলাম চৌধুরীকে। একদম শেষ মুহূর্তে আদালতের আদেশে শর্ত সাপেক্ষ বৈধতা নিয়ে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন এবং সীতাকুণ্ডের মানুষ তার প্রতি আস্থা রেখে বিপুল ভোটে তাকে জয়ী করেন। কিন্তু ঋণখেলাপির দায় থেকে মুক্ত হতে না পারায় তিনি শপথ নিতে পারেননি। এতে সীতাকুণ্ডের জনগণও হতাশ। একই সঙ্গে এটি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্যও একটি বড় নৈতিক পরাজয়।

আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের পর গত মঙ্গলবার সীতাকুণ্ডের ছোট দারোগারহাট এলাকায় আসলাম চৌধুরীর সমর্থকরা মহাসড়কের ধারের গাছ কেটে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে এভাবে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা এবং দেশের প্রধান লাইফলাইন খ্যাত মহাসড়কে তীব্র যান চলাচল বিঘ্নিত করার ঘটনা জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এ ঘটনায় অবশ্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ মামলা করেছে। দুজন আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে। তাতে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়, আদালতের রায়ের প্রতি দলের হাইকমান্ডের সম্মান রয়েছে।

পরে অবশ্য আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন আসলাম চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের গাছ কেটে বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে বোঝা যায় আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীন। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর তিনি করণীয় নির্ধারণ করবেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও বলেছে পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকতার কবির চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, রাষ্ট্রীয় আইনে ঋণখেলাপি নির্বাচন করতে পারবেন না। তবুও আসলাম চৌধুরী আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আদালতের রায় মেনে নিতে হবে। যারা তার পক্ষে জনদুর্ভোগ তৈরির কাজ করেছেন তার দায় তাকেই নিতে হবে। যারা কষ্ট পেয়েছেন তারা সবাই তার মতোই নাগরিক। এটা ঠিক যে, অনেক সময় সাধারণ মানুষ বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে প্রতিবাদ করেন। কিন্তু একজন ঋণখেলাপির মনোনয়ন বাতিল হয়েছে এই ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ কখনোই প্রতিবাদ করবেন না। যারা কাজটি করেছেন তারা তার অনুসারী। বাস্তবতা হলো এটা অপরাধ। ঋণখেলাপি সংসদে কেন যাবেন। তিনি আগে তার ঋণ পরিশোধ করুন। এই রায় ঋণখেলাপিদের হতাশ করবে। দৃষ্টান্তমূলক এই রায়ের জন্য তিনি আদালতকে সাধুবাদ জানান।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-৪ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ না করার নির্দেশ দেন। সেই আদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী আপিল করেন। তার অভিযোগ ছিল, ঋণখেলাপি হওয়ায় আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আইনগত সুযোগ ছিল না। পরে ১৫ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয় এবং মঙ্গলবার আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায়ে তার প্রার্থিতা বাতিল করেন।