ঢাকা ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
বিয়ের রাতে সবচেয়ে বড় অবিচার হয় যে কাজে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারাল মেক্সিকো সরকারি রাজস্ব জমায় ‘এ’ চালান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা: মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ১০ বছর চট্টগ্রামে চিনিগুঁড়ার দাম কেজিতে বেড়েছে ৭০ টাকা যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্নযাত্রায় বসনিয়ার বাধা পোলাওয়ের চালে নৈরাজ্য নরসিংদীতে কিশোরী ও প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিক হিসেবে ফুটবল বিশ্বকাপ কভার করার অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা কত সময় ব্যয় করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়? ভাঙ্গায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ: গুলিতে যুবক নিহত, আহত ১৫ মানুষের বিকল্প হতে কতদূর বর্ণবাদের শিকার টাইব্রেকারে মিস করা ফুটবলাররা ভ্যান্স-রুবিওর ভিন্ন মন্তব্য, ট্রাম্প প্রশাসনে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত! রেশন-ভাতা হারানোর শঙ্কায় মুসলিমরা উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়াতে বড় ছাড় ১০৬ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেসি আরও গোল করুক, কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি আমি চাই: এমবাপ্পে রোনালদোর অনন্য রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপ্পে, ধারের কাছেও নেই মেসি সাধারণ করদাতাদের ধরা হলেও ছাড় পাচ্ছে বড়রা! ফেভারিট বেলজিয়ামের সামনে লড়াকু সেনেগাল ‘একাত্তরে আমরা কোনো অপরাধ করিনি, ক্ষমা চাইব কেন?’ শেকৃবিতে পশু চিকিৎসায় প্রযুক্তির ছোঁয়া নকআউট পর্বে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় গিলবার্তো মোরা গোল্ডেন বুট নির্ধারণের নিয়ম কী? মেসিকে টপকে শীর্ষে এমবাপ্পে বুনো উদ্ভিদ বেগুনি হুড়হুড়ে জলাবদ্ধতার দুষ্টচক্রে রাজধানী ময়মনসিংহে খাল পুনর্খনন কর্মসূচি: কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ১ জুলাই: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১ জুলাই: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল

‘একাত্তরে আমরা কোনো অপরাধ করিনি, ক্ষমা চাইব কেন?’

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
‘একাত্তরে আমরা কোনো অপরাধ করিনি, ক্ষমা চাইব কেন?’
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ‘একাত্তরে আমরা কোনো অপরাধ করিনি, তাহলে ক্ষমা চাইব কেন? বরং যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।’

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে এমন দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে আগামী ২ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত মাসব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি ও ৩ দফা প্রধান দাবি পেশ করা হয়। অন্যদিকে গত রবিবার জাতীয় সংসদে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিএনপি মহাসচিবের সেই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল জামায়াতের শীর্ষ নেতারাও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জাতীয় সংসদে এবং সংসদের বাইরে বিএনপির নেতারা বারবার মুক্তিযুদ্ধের পুরোনো বিতর্ক সামনে এনে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। কিছুদিন পরপরই বিএনপির মহাসচিবসহ তাদের মন্ত্রী-এমপিরা ৫০-৬০ বছর আগের মীমাংসিত ৭১-এর ইস্যু পার্লামেন্টে নিয়ে এসে নতুন বিতর্ক তৈরি করছেন। তারা প্রশ্ন তোলেন, একাত্তরে কার কী ভূমিকা ছিল? আমরাও পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই, বিএনপি যখন ক্ষমতায় এসেছিল, তখন স্বাধীন বাংলাদেশে অন্তত ১৪-১৫ জন অখণ্ড পাকিস্তানের সমর্থককে কেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী বানিয়েছিল? তার জবাব দিন।’

সাবেক জোট রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘বিএনপিই দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় জামায়াতের সঙ্গে জোটগত রাজনীতি করেছে। যদি ১৯৭১ সালের প্রশ্নই মূল বিষয় হয়, তাহলে এত বছর জোট করার সময় সেই প্রশ্ন কোথায় ছিল? রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গোলাম আযমের  মগবাজারের বাসায় বিএনপি নেতারা ধরনা দিয়েছিলেন। তখন কি একাত্তরের কথা মনে ছিল না? আমি তো মাঝে মাঝে বলে থাকি—সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি!’

সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের একটি অংশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কয়েকটি করপোরেট মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পরিবর্তে একটি রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিবেদন করছে। ফ্যাসিবাদের রেজিম চেঞ্জ হওয়ার আগে এই পত্রিকাগুলো নির্লজ্জভাবে ফ্যাসিবাদের দালালি করেছে, অর্থ খেয়েছে এবং জনতার রোষে পড়ে অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। হঠাৎ করে আপনারা রূপ পরিবর্তন করে ফেললেন। ইয়েলো জার্নালিজম বা হলুদ সাংবাদিকতা কোনো বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নয়। এটি দেশ ও সভ্যতাকে ধ্বংস করে।’ 

সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিভাজনের রাজনীতির কারণেই জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠেনি। দুঃখজনকভাবে বর্তমান সরকারও নেপথ্যে থেকে বিভিন্নভাবে বিভাজনের রাজনীতি উসকে দিচ্ছে। পত্রিকায় দেখেছি, বিএনপির মহাসচিব বলেছেন—স্বাধীনতাবিরোধিতার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ফ্যাসিবাদ যেভাবে কথা বলত, আজ একই সুরে কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে সেই রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ‘তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল বার্তাই ছিল—‘তুমি কে, আমি কে? আমরা সবাই বাংলাদেশি।’ তাই পুরোনো বিভাজনের রাজনীতি এখন ইতিহাসের অংশ। এসব পুরোনো কৌশলে আর কোনো লাভ হবে না। আগে আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখুন। আমরা কোনো অপরাধ করিনি, তাহলে ক্ষমা চাইব কেন? বরং যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক হওয়া উচিত।’

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করতে এবং শহিদদের স্মরণে মাসব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২ থেকে ৯ জুলাই রাজধানীতে জুলাইয়ের শহিদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়, স্মৃতিচারণা, আলোচনা সভা ও দোয়া। ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহিদ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকার দুই মহানগরীর উদ্যোগে হবে আলোচনা সভা। ১৮ থেকে ৩১ জুলাই সারা দেশে শহিদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং আলোচনা সভা। ১ আগস্ট দেশের সব মহানগরী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘গণমিছিল’। ২ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন বিশেষ কর্মসূচি। ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে ১১ দলের যৌথ উদ্যোগে রাজধানীসহ দেশব্যাপী সমাবেশ ও মিছিলে জামায়াতে ইসলামীর অংশগ্রহণ। এ ছাড়া নারী বিভাগ, ছাত্র সংগঠন এবং জুলাই যোদ্ধাদের ফোরামগুলোর পক্ষ থেকে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় সহকারী প্রমুখ।

‘একাত্তরে আমরা কোনো অপরাধ করিনি, ক্ষমা চাইব কেন?’

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০ এএম
‘একাত্তরে আমরা কোনো অপরাধ করিনি, ক্ষমা চাইব কেন?’
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ‘একাত্তরে আমরা কোনো অপরাধ করিনি, তাহলে ক্ষমা চাইব কেন? বরং যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।’

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর কর্মসূচি ঘোষণা উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে এমন দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে আগামী ২ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত মাসব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি ও ৩ দফা প্রধান দাবি পেশ করা হয়। অন্যদিকে গত রবিবার জাতীয় সংসদে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিএনপি মহাসচিবের সেই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল জামায়াতের শীর্ষ নেতারাও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জাতীয় সংসদে এবং সংসদের বাইরে বিএনপির নেতারা বারবার মুক্তিযুদ্ধের পুরোনো বিতর্ক সামনে এনে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। কিছুদিন পরপরই বিএনপির মহাসচিবসহ তাদের মন্ত্রী-এমপিরা ৫০-৬০ বছর আগের মীমাংসিত ৭১-এর ইস্যু পার্লামেন্টে নিয়ে এসে নতুন বিতর্ক তৈরি করছেন। তারা প্রশ্ন তোলেন, একাত্তরে কার কী ভূমিকা ছিল? আমরাও পাল্টা প্রশ্ন করতে চাই, বিএনপি যখন ক্ষমতায় এসেছিল, তখন স্বাধীন বাংলাদেশে অন্তত ১৪-১৫ জন অখণ্ড পাকিস্তানের সমর্থককে কেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী বানিয়েছিল? তার জবাব দিন।’

সাবেক জোট রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘বিএনপিই দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় জামায়াতের সঙ্গে জোটগত রাজনীতি করেছে। যদি ১৯৭১ সালের প্রশ্নই মূল বিষয় হয়, তাহলে এত বছর জোট করার সময় সেই প্রশ্ন কোথায় ছিল? রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গোলাম আযমের  মগবাজারের বাসায় বিএনপি নেতারা ধরনা দিয়েছিলেন। তখন কি একাত্তরের কথা মনে ছিল না? আমি তো মাঝে মাঝে বলে থাকি—সঙ্গে থাকলে সঙ্গী, না থাকলে জঙ্গি!’

সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের একটি অংশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কয়েকটি করপোরেট মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পরিবর্তে একটি রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিবেদন করছে। ফ্যাসিবাদের রেজিম চেঞ্জ হওয়ার আগে এই পত্রিকাগুলো নির্লজ্জভাবে ফ্যাসিবাদের দালালি করেছে, অর্থ খেয়েছে এবং জনতার রোষে পড়ে অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। হঠাৎ করে আপনারা রূপ পরিবর্তন করে ফেললেন। ইয়েলো জার্নালিজম বা হলুদ সাংবাদিকতা কোনো বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নয়। এটি দেশ ও সভ্যতাকে ধ্বংস করে।’ 

সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিভাজনের রাজনীতির কারণেই জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠেনি। দুঃখজনকভাবে বর্তমান সরকারও নেপথ্যে থেকে বিভিন্নভাবে বিভাজনের রাজনীতি উসকে দিচ্ছে। পত্রিকায় দেখেছি, বিএনপির মহাসচিব বলেছেন—স্বাধীনতাবিরোধিতার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ফ্যাসিবাদ যেভাবে কথা বলত, আজ একই সুরে কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে সেই রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ‘তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল বার্তাই ছিল—‘তুমি কে, আমি কে? আমরা সবাই বাংলাদেশি।’ তাই পুরোনো বিভাজনের রাজনীতি এখন ইতিহাসের অংশ। এসব পুরোনো কৌশলে আর কোনো লাভ হবে না। আগে আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখুন। আমরা কোনো অপরাধ করিনি, তাহলে ক্ষমা চাইব কেন? বরং যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক হওয়া উচিত।’

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করতে এবং শহিদদের স্মরণে মাসব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২ থেকে ৯ জুলাই রাজধানীতে জুলাইয়ের শহিদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়, স্মৃতিচারণা, আলোচনা সভা ও দোয়া। ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহিদ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকার দুই মহানগরীর উদ্যোগে হবে আলোচনা সভা। ১৮ থেকে ৩১ জুলাই সারা দেশে শহিদ, আহত ও পঙ্গু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং আলোচনা সভা। ১ আগস্ট দেশের সব মহানগরী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘গণমিছিল’। ২ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে বিভিন্ন বিশেষ কর্মসূচি। ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে ১১ দলের যৌথ উদ্যোগে রাজধানীসহ দেশব্যাপী সমাবেশ ও মিছিলে জামায়াতে ইসলামীর অংশগ্রহণ। এ ছাড়া নারী বিভাগ, ছাত্র সংগঠন এবং জুলাই যোদ্ধাদের ফোরামগুলোর পক্ষ থেকে পৃথক কর্মসূচি পালন করা হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় সহকারী প্রমুখ।

ইনুর রায়কে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ দাবি করে জাসদের বিক্ষোভ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
ইনুর রায়কে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ দাবি করে জাসদের বিক্ষোভ
ছবি: খবরের কাগজ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসামূলক দাবি করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। দলটির নেতারা রায় প্রত্যাখ্যান করে রাজধানীতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। এ রায়কে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছেন এবং দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংগঠন, সরকার ও বিবেকবান মানুষের প্রতি এর প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাসদ মহানগর কমিটির উদ্যোগে এক বিক্ষোভে দলটির নেতারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রেস ক্লাব, তোপখানা, পল্টন ও জিরো পয়েন্ট এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
  
সমাবেশে জাসদ নেতারা বলেন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ঘোষিত রায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচার পরিচালনার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। তাদের ভাষ্য, যে ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেখানে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও দীর্ঘদিনের রাজনীতিক হাসানুল হক ইনুর বিচার করাই বিচারব্যবস্থার অপব্যবহারের শামিল।

জাসদ নেতাদের দাবি, ইনুর বিরুদ্ধে মামলায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’সহ মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগ আদালতের রায়েও প্রমাণিত হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

বক্তাদের ভাষ্য, যে সময়ের ঘটনার দায় ইনুর ওপর আরোপ করা হয়েছে, সে সময় তিনি মন্ত্রী, সংসদ সদস্য কিংবা রাষ্ট্রের কোনো নির্বাহী, প্রশাসনিক বা সরকারি দায়িত্বে ছিলেন না। এমনকি পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর তার কোনো সাংগঠনিক বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণও ছিল না। ফলে তার বিরুদ্ধে 'সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি'র অভিযোগ আইনগত ও বাস্তবিক ভিত্তিহীন বলে তারা মন্তব্য করেন।

সমাবেশ থেকে জাসদ নেতারা হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া রায় প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংগঠন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিভিন্ন রাষ্ট্র, সরকার এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারে বিশ্বাসী সব মানুষের প্রতি এ ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

তারা বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ থেকে বিচারিক প্রক্রিয়াকে মুক্ত রাখতে হবে। অন্যথায় বিচারব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা আরও প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জাসদের মহানগর কমিটির সমন্বয়ক মীর হোসাইন আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন- দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন মোল্লা, স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুজ্জামান বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন খান জকি, শওকত রায়হান, নইমুল আহসান জুয়েল, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, মীর্জা মো. আনোয়ারুল হক, যুব জোটের সভাপতি শরিফুল কবির স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সুজন এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র) কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাশিদুল হক ননীসহ জাসদ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

রাজু/নাঈম

প্রার্থিতা বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মহাসড়কে গাছ কেটে ব্যারিকেড

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
প্রার্থিতা বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, মহাসড়কে গাছ কেটে ব্যারিকেড
ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাছ ফেলে ব্যারিকেড বিক্ষোভরত নেতাকর্মীরা।

চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তিনি শপথ নিতে পারবেন না তিনি। তবে তিনি জানিয়েছেন আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণ সবগুলো দেখে রিভিউ করবেন। জনগণকে পাশে নিয়ে এসব মোকাবিলা করে পজেটিভওয়েতে এগিয়ে যাবেন। ফাইনালি তিনিই জিতবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে রায়কে ঘিরে  উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একাধিকস্থানে গাছ কেটে ফেলে ব্যারিকেড ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির একাংশ ও আসলাম চৌধুরীর নেতাকর্মী- অনুসারীরা।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ মোরসালিন জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আসলাম চৌধুরী বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। আদালতের দেওয়া রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডের কুমিরা, সলিমপুর ও ভাটিয়ারী এলাকায় সড়ক গাছ ফেলে ব্যারিকেড ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে নেতা কর্মিরা। তবে বিক্ষিপ্ত-বিছিন্নভাবে করা ব্যারিকেড ও বিক্ষোভ মিছিল করতে নিষেধ করা হয়েছে। রাতে উপজেলা কমিটির দলীয় সিদ্ধান্তের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তবে গোলাবাড়িয়া এলাকার আসলাম চৌধুরীর অনুসারী সমর্থক মোহাম্মদ ইছহাক খান বলেন, মহাম্যান্য হাইকোর্টে ৩’শর অধিক নেতা কর্মি উপস্থিত ছিলো। রায়ে তারা হতাশ হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে এগিয়ে থাকা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘জনগণের আশা আঙ্খার প্রতিফল যেখানে হয় না সেখানে আমরা যারা রাজনীতি করি জনগণের মন খারাপ তো একটু থাকবেই। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তো কিছু বলা যায় না। আমরা আশা করছিলাম জনগণের রায়ে হাইকোর্টের বিচারপতিরা প্রতিফলন করবেন। যেহেতু আমরা মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় সব জায়গায় বৈধ ছিলাম। অবৈধ ছিলাম না। আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণ সবগুলো দেখে রিভিউ করবো। জনগণকে পাশে নিয়ে আমার এসব মোকাবিলা করে পজেটিভওয়েতে এগিয়ে যাবো। ফাইনালি আমরাই জিতবো। রায়কে কেন্দ্র করে নেতা কর্মীরা নানাভাবে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছিলো, আমি তাদের সবাইকে নিষেধ করে দিয়েছি।

মামলার নথি অনুযায়ী, ঋণখেলাপির অভিযোগের মুখে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিনে গত ১৮ জানুয়ারি বিএনপি নেতা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর আপিল বিভাগে আবেদন করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আসলাম চৌধুরীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। এর মধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে নির্বাচন কমিশন এখনো চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করেনি।
১৫ জুন সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে মামলার চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে আদালত নিযুক্ত দুই অ্যামিকাস কিউরি, সিনিয়র আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগী আদালতকে সহায়তা করেন। সব পক্ষের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ৩০ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা.কমল কদর বলেন, ওনি ঋণখেলাপি নন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার তাকে ঋণখেলাপি করেছে। এ বিষয়ে উপজেলা কমিটি বৈঠক করে কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানান তিনি। আসলাম চৌধুরী ছাড়া বিকল্প কোন প্রার্থী মেনে নেবেন না বলে দাবি করেন তিনি।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, আসলাম চৌধুরীর রায়ের বিষয়টি জানা ছিল না। তবে আমরা সজাগ আছি। আইনশৃঙ্খলা অবনতি করার কোন সুযোগ নেই। 

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাড়বকুণ্ড ও কুমিরা এলাকায় বিএনপি নেতা কর্মীরা ব্যারিকেড দিয়েছে। তবে কুমিরায় দেওয়া ব্যারিকেড তুলে নেওয়া হলেও বাড়বকুণ্ডে বিকেল পর্যন্ত ছিলো।

মুসলেহ উদ্দীন/এসএন

 

মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন প্যারোলে মুক্তি পাওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন প্যারোলে মুক্তি পাওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মায়ের জানাজা ও দাফন-কাফনের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন, শাহআলম খন্দকার। ছবি: খবরের কাগজ

মায়ের শেষ বিদায়ের মুহূর্তে সন্তানের পাশে থাকার আকুতি মেনে নিয়েছে আইন। তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের বন্দিজীবন থেকে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার জন্য মুক্তি মিলল আখাউড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলার নুরপুর গ্রামের শাহআলম খন্দকারের। এই স্বল্প সময়েই তিনি মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিলেন। শেষবারের মতো মাকে বিদায় জানিয়ে বিকেল গড়াতেই আবার ফিরে গেলেন কারাগারের নির্ধারিত জীবনে। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আদালতের অনুমোদনে তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মায়ের জানাজা ও দাফন-কাফনের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, আখাউড়া থানায় এক মামলায় গ্রেপ্তারের পর শাহ আলম খন্দকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে আটক ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে সীমিত সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।

প্যারোলের পুরো সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল একটি সশস্ত্র স্কর্ট দল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্স থেকে একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই), একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং ছয়জন কনস্টেবল তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। নির্ধারিত সময় শেষে তাকে আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

জুটন বণিক/নাঈম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে ছাত্রশক্তির কর্মসূচি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে ছাত্রশক্তির কর্মসূচি
ছবি: খবরের কাগজ

‘জুলাই থেকে জাগরণ, জাগরণ থেকে নির্মাণ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই কর্মসূচি ঘোষণা করে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান।

ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- রায়ের বাজার কবরস্থানে অজ্ঞাত শহীদদের কবর জিয়ারত; ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণে সংহতি সমাবেশ; বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে জুলাইয়ের গান, কবিতা, পথনাটক ও মূকাভিনয়ের সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন; দেশব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে জুলাইয়ের আলোকচিত্র এবং ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী; দেশব্যাপী জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ‘জুলাইয়ের গল্প, কবিতা, ছবি ও এনিমেশন’ প্রতিযোগিতা; জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে দেশের সর্বত্র আলোচনা সভা ও গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান; জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে কফিন মিছিল; জুলাই কনফারেন্স আয়োজন; জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কবর জিয়ারত; দেশব্যাপী শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল; শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন রকমের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন; অভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দানকারী নেতৃবৃন্দের ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্টেশন।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন