বিশ্বকাপ শেষ নেদারল্যান্ডসের। রাউন্ড ৩২-এ মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরেছে ডাচরা। এরপরই নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে ফুটবল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। অন্যদিকে মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় ভোর পর্যন্ত চলে উদযাপন।
নেদারল্যান্ডসে বড় একটি মরক্কান সম্প্রদায় বসবাস করে। তাই আটলাস লায়ন্সের জয়ের পর দেশজুড়ে উল্লাসের দৃশ্য দেখা গেলেও, কিছু এলাকায় সেই উদযাপন সহিংসতায় রূপ নেয়।
দ্য হেগ পুলিশ জানায়, শিল্ডার্সওয়াইক এলাকায় ‘ভারী আতশবাজি ফোটানো হয়েছিল’। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে আতশবাজি ও পাথর ছোড়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশ জনতার দিকে ধাওয়া করে এবং জলকামান ব্যবহার করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে। পুলিশ জানায়, প্রকাশ্যে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মরক্কোর বৃহত্তম শহর কাসাব্লাঙ্কায় সমর্থকে পরিপূর্ণ একটি কফিশপে টানটান নীরবতা মুহূর্তেই বজ্রধ্বনির মতো উল্লাসে রূপ নেয়, যখন ইসমাইল সাইবারি জয়সূচক পেনাল্টি থেকে গোল করে আটলাস লায়ন্সকে শেষ ষোলোয় তুলে দেন।
এরপরই উদযাপন ছড়িয়ে পড়ে শহরের রাস্তায়। ফ্লেয়ার ও আতশবাজির আলোয় রাতের আকাশ রঙিন হয়ে ওঠে। চারদিকে গাড়ির হর্ন বেজে ওঠে, ইঞ্জিনের গর্জনে মুখর হয়ে ওঠে শহর।
ম্যাচ গভীর রাতে শেষ হলেও এবং পরদিন কর্মদিবস থাকা সত্ত্বেও, স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৫টার দিকে কাসাব্লাঙ্কার একটি প্রধান সড়কে কয়েক ডজন উচ্ছ্বসিত সমর্থক জড়ো হন। তারা নেচেছেন, মরক্কোর পতাকা উড়িয়েছেন এবং স্লোগান দিয়েছেন, ‘কানাডা, আমরা আসছি।’
আগামী শনিবার শেষ ষোলোয় সহ-আয়োজক কানাডার মুখোমুখি হবে মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আটলাস লায়ন্স কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল। ২০২২ বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠার চার বছর পর, এবারও আরেকটি ঐতিহাসিক অভিযানের স্বপ্নে বিভোর মরক্কো। দেশজুড়ে সমর্থকদের প্রত্যাশাও এখন আকাশছোঁয়া।
অনিক/