মাত্র তিন দিন আগে হারিয়েছেন অনাগত সন্তান। সেই গভীর শোক বুকে নিয়েই নেদারল্যান্ডসের হয়ে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন কোডি গাকপো। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়েও জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি লিভারপুল তারকা। তবে দুর্দান্ত একটি গোল করেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে পারলেন না তিনি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে গাকপো ও তার সঙ্গী নোয়া ভ্যান ডার বিজ জানিয়েছিলেন, আগামী অক্টোবরে তাদের দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হওয়ার কথা। কিন্তু গর্ভাবস্থাতেই মারা যায় তাদের অনাগত পুত্রসন্তান। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নেদারল্যান্ডস দলের পক্ষ থেকে গাকপোকে ছুটির প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি দলের সঙ্গেই থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
গত শনিবার অনাগত সন্তানকে হারানোর পর মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোরে মরক্কোর বিপক্ষে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে মাঠে নামেন গাকপো। শোকের ছাপ তার খেলাতেও ছিল। ম্যাচের বড় একটা সময় নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। বরং শুরু থেকে ম্যাচে আধিপত্য ছিল মরক্কোর।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলায়। ৭২তম মিনিটে গাকপোর দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। গোল করার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। চোখের জলেই যেন প্রকাশ পায় সাম্প্রতিক সময়ের সব কষ্ট। সতীর্থরা এগিয়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন।
গাকপোর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ডাচ সমর্থকেরা পরের রাউন্ডের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। নির্ধারিত সময়ে সমতায় ফেরে মরক্কো। অতিরিক্ত সময়েও নিষ্পত্তি না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে আবারও হতাশা সঙ্গী হয় নেদারল্যান্ডসের। ২০১৪ ও ২০২২ সালের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও পেনাল্টি শুটআউটে বিদায় নিতে হয় কমলাবাহিনীকে। ইসমাইল সাইবারির সফল শেষ শটে জয়ের উল্লাসে মাতে মরক্কো, আর গাকপোদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায় রাউন্ড অব ৩২ থেকেই।
ব্যক্তিগত শোক আর দলের বিদায়- একই সপ্তাহে দুই কঠিন আঘাত বয়ে আনল কোডি গাকপোর জীবনে। তার আবেগঘন গোলও শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসকে পরের পর্বে তুলতে পারল না।