চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে নাটকীয় পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করেছে প্যারাগুয়ে। ঐতিহাসিক এই জয়ের পর দেশজুড়ে উচ্ছ্বাসের মধ্যে ৩০ জুন এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।
ম্যাচের নায়ক ছিলেন ২৬ বছর বয়সী গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসে তিনি পেনাল্টি শুটআউটে জার্মানির অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারকে ছাপিয়ে যান। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর টাইব্রেকারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শট ঠেকিয়ে দলকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন তিনি।
ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল জার্মানির। গোলমুখে ২১টি শট নেয় তারা, যেখানে প্যারাগুয়ের শট ছিল মাত্র ৭টি। তবু দৃঢ় রক্ষণ ও গিলের অসাধারণ গোলকিপিংয়ে ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।
টাইব্রেকারের শুরুতেই কাই হাভার্টজের শট রুখে দেন গিল। পরে নিক ভলটেমাডের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ করে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সাডেন ডেথে জার্মানির জোনাথান তাহের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে হোসে কানাল গোল করে প্যারাগুয়ের স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন।
ম্যাচ শেষে গিল বলেন, ‘এই জয় প্রমাণ করে, খেলা শুরুর আগে কোনো দলকে ছোট করে দেখা উচিত নয়। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, প্যারাগুয়েও বড় কিছু অর্জন করতে পারে।” জার্মানির প্রবল আক্রমণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ম্যাচটা যেন একটি হরর মুভির মতো ছিল। মাঠের চারদিকে শুধু জার্মান ফুটবলারদেরই দেখছিলাম।’
প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারের প্রশংসা করে গিল বলেন, ‘নয়ার বিশ্বমানের গোলরক্ষক। তাঁর মতো একজন কিংবদন্তির বিপক্ষে খেলতে পারা আমার জন্য গর্বের।’
জয়ের পর প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা এক রাষ্ট্রীয় ডিক্রির মাধ্যমে ৩০ জুন দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। ডিক্রিতে তিনি বলেন, ‘জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ে জাতীয় ফুটবল দলের ঐতিহাসিক জয়কে স্বীকৃতি জানিয়ে আজ দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।’
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারাগুয়ে এখন ফ্রান্স অথবা সুইডেনের মুখোমুখি হবে।