প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে দেশে তিনটি নতুন উপজেলা ও একটি নতুন থানা গঠন করা হচ্ছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ১৬টি মৌজা ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার সীমানা পুনর্গঠন করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে বগুড়ায় নতুন সড়ক জোন প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই তিন বিষয়সহ ছয়টি প্রস্তাব উঠছে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায়।
আগামী ১ জুলাই (বুধবার) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এ সভায় মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এদিন বেলা ১১টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে নিকার সভাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘আদর্শনগর’ নামে তিনটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে এসব নতুন উপজেলা গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
একই সভায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, উত্তর মাদার্শা, চিকনদণ্ডী, দক্ষিণ মাদার্শা, শিকারপুর ও বুড়িশ্চর এই পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন থানা গঠন করা হবে। নতুন থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৮৯টি নতুন পদ সৃষ্টি এবং ৩০টি যানবাহন টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করার প্রস্তাবও নথিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, হাটহাজারীর বিস্তীর্ণ এলাকা ও জনসংখ্যার চাপ কমাতে নতুন থানা গঠন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার দুটি এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ১৪টি মৌজাসহ মোট ১৬টি মৌজা ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার সীমানা পুনর্গঠনের প্রস্তাবও নিকারে উঠছে। সরকারের মতে, প্রকল্প এলাকা বর্তমানে তিনটি জেলার মধ্যে বিভক্ত থাকায় নাগরিক সেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন সমন্বয় এবং অবকাঠামো নির্মাণে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে পূর্বাচলকে একক প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা আরও সহজ ও সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
সভার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্যসূচি হলো, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পুনর্গঠন। এ প্রস্তাব অনুযায়ী, বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও সিরাজগঞ্জ, এই পাঁচটি সড়ক বিভাগ নিয়ে বগুড়ায় একটি স্বতন্ত্র সড়ক জোন প্রতিষ্ঠা করা হবে। একই সঙ্গে নওগাঁ সড়ক সার্কেল গঠনেরও প্রস্তাব রয়েছে। সরকারের মতে, উত্তরাঞ্চলের মহাসড়ক উন্নয়ন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম দ্রুত, কার্যকর এবং বিকেন্দ্রীকৃতভাবে পরিচালনা করতে এ পুনর্গঠন প্রয়োজন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য নিকারের ১২১তম সভায় এসব প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় প্রশাসন, সেবা প্রদান এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে।