ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সাতকানিয়ায় ব্রাজিলের খেলা দেখে ফেরার পথে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে জখম মাদারীপুর পৌরসভার ১১০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা টাইব্রেকার রোমাঞ্চে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ১৬-তে মরক্কো কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতার মোবারক রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড ঘাটতি নতুন তিন উপজেলা, ১ থানা ও  ঢাকার সীমানা পুনর্গঠন প্রস্তাব ফেনীতে জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তি, যুবক আটক ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগাল সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান ফেলিক্সের ‘গলদে ভরা’ প্রকল্প ভিএআর বিতর্ক: জার্মানির বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের নেপথ্য কাহিনী দুই লেনে আটকে পদ্মা সেতুর সুফল শিল্প ও টেলিভিশনের এক অনন্য কারিগর মুস্তাফা মনোয়ার আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ: অনিশ্চয়তায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা আমার তো বিশ্বকাপেই থাকার কথা ছিল না: লুকাকু চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে যাত্রী ছাউনির অভাবে ভোগান্তি তিস্তা প্রকল্প নিয়ে তৃতীয় পক্ষের নাক গলানো উচিত নয়: ভারতকে উদ্দেশ্য করে চীন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার আমাদের জন্মই হয়েছে ডিফেন্স করার জন্য: আলফারো চীন-রাশিয়ার যৌথ বিমান টহল রংপুরে এমপির প্রকল্পের সভাপতি ভাগনে-ভগ্নিপতি! অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্নীতি অনুসন্ধানে প্রস্তুত দুদক নড়াইলে অনুদানের তালিকায় এমপির ৮ আত্মীয়! পাল্টাপাল্টি হামলায় পুনরায় আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এক পাশে দানব, অপর পাশে দ্য এলিফ্যান্ট ৩০ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল বিআরটিসিতে লোকসান-চুরির লঙ্কাকাণ্ড ৩০ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল রাম মন্দির ঘিরে দুর্নীতি, ভারতে তীব্র বিতর্ক অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সের সামনে আত্মবিশ্বাসী সুইডেন গ্রুপপর্বেই ৪৬ লাখ দর্শক, গ্যালারিতে বিশ্বকাপ জ্বর

নড়াইলে অনুদানের তালিকায় এমপির ৮ আত্মীয়!

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
নড়াইলে অনুদানের তালিকায় এমপির ৮ আত্মীয়!
ছবি: আতাউর রহমান

নড়াইল-২ (লোহাগড়া ও সদর উপজেলার একাংশ) আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য (এমপি) আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান মঞ্জুরের তালিকাযুক্ত সংসদ সচিবালয়ের একটি পত্র ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। গত ২৭ জুন ভাইরাল হওয়া ওই তালিকার ২১ জনের মধ্যে ৮ জনই এমপির নিজ ও শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজন। ওই ৮ জনের মধ্যে আবার এমপির এক মেয়ের নাম দুটি ক্রমিক নম্বরে দুই বার লেখা রয়েছে। এ নিয়ে নড়াইল জেলার পাশাপাশি জাতীয় সংসদেও সমালোচনা হয়েছে। 

আতাউর রহমান বাচ্চু জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে তালিকা ভাইরাল হওয়ার পর এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করেন। গত ২৮ জুন বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে সংসদ সদস্য নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পোস্ট করেছেন। সেই চিঠিতে এমপির সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে। 

সেই চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আমার ব্যক্তিগত সহকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে বরখাস্ত করা হলো। আদেশটি ২৮/০৬/২০২৬ ইং তারিখ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’ 
তবে কোন দায়িত্ব পালনে অবহেলা, তা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি।

তালিকায় ২১ জনের ৮ জনই এমপি পরিবারের

ভাইরাল হওয়া সংসদ সচিবালয়ের অর্থ শাখা-২ থেকে ইস্যু করা ওই পত্রে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য নড়াইল-২ আসনের এমপির ঐচ্ছিক তহবিল থেকে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা মোট ২১ জনের নামে অনুদান মঞ্জুরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নড়াইল সদরের ১০ জন এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জন রয়েছেন। সদরের ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই এমপির নিজ ইউনিয়ন হবখালীর বাসিন্দা। আর লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে ৭ জনই এমপির শ্বশুরবাড়ির ইউনিয়ন লাহুড়িয়ার বাসিন্দা। 

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অনুদানপ্রাপ্তির জন্য তালিকাভুক্ত হওয়া ২১ জনের মধ্যে ৮ জনই এমপির নিজ ও শ্বশুরের পরিবারের সদস্য। 

তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১ ও ৮ নম্বরে এমপির মেয়ে ফাইজার নাম রয়েছে। তালিকায় ১ নম্বরে হবখালী ইউনিয়নের ফাইজা, পিতা মো. বাচ্চুর নামে ১০ হাজার টাকা এবং ৮ নম্বরে ফাইজা, পিতা মো. আতাউরের নামে ১০ হাজার টাকা অনুদানের উল্লেখ রয়েছে। পিতার নাম দুই ভাগে বিভক্ত করে একই মেয়ের নামে দুই বার আবেদন করে তালিকাভুক্ত করা হয়। এ ছাড়া ২ নম্বরে থাকা মো. আশিকুজ্জামান এমপি আতাউর রহমান বাচ্চুর চাচাতো ভাই এবং নড়াইল জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি। ৬ নম্বরে থাকা মো. ফরহাদ হোসেন এমপির ব্যক্তিগত ক্যামেরাম্যান, তালিকার ১১ নম্বরে থাকা লাবিবা এমপির শ্যালক মৃত আলী আহম্মেদের মেয়ে ও ১৪ নম্বরে থাকা মেজবা এমপি বাচ্চুর ছেলে (যদিও তালিকায় তার পিতার নাম সুলতান আহম্মেদ লেখা হয়েছে), ১৭ নম্বরে থাকা নুসাইবা এমপি বাচ্চুর আরেক মেয়ে এবং সদর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্বাস আলীর স্ত্রী, আর তালিকার ৫ নম্বরে থাকা মো. আল আমিন খালাসীও আব্বাস আলীর ভাই, ১২ নম্বরে থাকা আলী আহসান এমপির আরেক শ্যালক। এ ছাড়া তালিকার ১৩ নম্বরে থাকা খালিদ আহম্মদ, ১৫ নম্বরে থাকা মিশকাত ও ২১ নম্বরে থাকা বুলবুল জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, এরা এমপির ঘনিষ্ঠ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।  

কঠোর সমালোচনা 

এ ঘটনার পর এলাকার লোকজন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনকি সংসদেও সমালোচনা ও নানা বিতর্ক চলছে। সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানের দায় পুরাটাই কি– এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।  

এ বিষয়ে এমপির শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া ইউনিয়নের অসহায় বাসিন্দা রবিউল মোল্লা জানান, এমপি প্রকৃত অসহায়দের সহায়তা না দিয়ে মেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনদের দিয়েছেন। জামায়াতের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এটা ইনসাফ হয়নি। ওরা মুখে বলে ইনসাফ কিন্তু বাস্তবের সঙ্গে এর মিল নেই। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লাহুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা বলেন, পিএস সর্বোচ্চ এমপির মেয়ের নামটা দিতে পারে। কিন্তু এমপির একাধিক শ্যালকের মেয়ে, ছেলে ও শ্বশুরকুলের আত্মীয়দের নাম-ঠিকানা পিএস কীভাবে পেল? এমপি বা এমপি পরিবারের কেউ যদি নাম ও তথ্য দিয়ে সহায়তা না করে, পিএসের একার পক্ষে তাদের তালিকা করা সম্ভব না। 

এ বিষয়ে নড়াইল-২ আসনে সংসদ সির্বাচনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় নড়াইলের মান-ইজ্জত গেছে। পিএসের দায় কখনোই তিনি এড়িয়ে যেতে পারেন না। তা ছাড়া পিএস কীভাবে অনুমতি ছাড়া তার আত্মীয়-স্বজন, এমনকি শ্বশুরবাড়ির লোকদের নাম তালিকায় দেয়? আমি দেখতে চাই, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এই বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেন।

এমপি ও ইউএনওর বক্তব্য

তালিকার বিষয়ে এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না, আমার পিএস একদিন বলল যে, এ বিষয়ে তালিকা দিতে হবে। আমি তাকে জানাই, সংসদীয় আসনের সব ইউনিয়ন থেকে নামের তালিকা দিতে। তখন আমার স্বাক্ষরিত প্যাড পিএস এর কাছে ছিল। কিন্তু পিএস আমার পরিবার বা এলাকার লোক বেশি দিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এটা আমি চাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনুদানের টাকা যে আসছে, তাও আমি জানতাম না। অনুদানপত্র শুক্রবার ফেসবুকে প্রচারের পর আমি ইউএনওকে বললাম, টাকা আসছে কি না। ইউএনও আমাকে জানিয়েছেন, স্যার টাকা তো আসছে। আমি বললাম, আমাকে তো জানাননি। তালিকায় যেটা দেওয়া আছে, আমি তো সেটা দিতে পারব না। আমি তো এমন না যে, আমার সন্তানের নাম দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিতে হবে।’

নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির বলেন, ‘এমপি স্যারের ডিও লেটার অনুযায়ী তালিকায় থাকা নামে এই অনুদান সচিবালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, সচিবালয় থেকে যাদের নামে বরাদ্দ এসেছে, তাদেরই দিতে হবে। এর বাইরে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্যে যদি কেউ না আসেন, তার টাকা ফেরত যাবে। কিন্তু এখান থেকে নতুন তালিকা দেওয়ার সুযোগ নেই। তালিকা সংশোধন করতে হলে সচিবালয় থেকেই করতে হবে।’ 

মাদারীপুর পৌরসভার ১১০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:০৯ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:১৩ এএম
মাদারীপুর পৌরসভার ১১০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
বাজেট ঘোষণা

মাদারীপুর পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১১০ কোটি ৬৭ লাখ ১৬ হাজার ৩৬০ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে পৌরসভার হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাজেট ঘোষণা করেন পৌর প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু।

ঘোষিত বাজেটে একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও নান্দনিক পৌরসভা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বনায়ন, ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনার জন্য ডাম্পিং জোন স্থাপন, শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসমত হোসেন, সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি খান মো. শহীদ, সনাক সদস্য এনায়েত হোসেন নান্নু ও শাহানা নাসরীন রুবি, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার আবু আহম্মেদ ফিরোজ ইলিয়াস, মাদারীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি অলিউর রহমান কাজল, সাধারণ সম্পাদক বেলাল রিজভী, সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদারীপুর পৌরসভার আয়তন ১৪ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার। ৯টি ওয়ার্ড ও ৩৪টি মৌজা নিয়ে গঠিত এ পৌরসভায় প্রায় ২৮ হাজার পরিবারের বসবাস এবং মোট জনসংখ্যা প্রায় সোয়া দুই লাখ।

রফিকুল ইসলাম/তামান্না রুপা/ 

ফেনীতে জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তি, যুবক আটক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:০২ এএম
ফেনীতে জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তি, যুবক আটক
মোসলে উদ্দিন জনি

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় জাইমা রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে মোসলে উদ্দিন জনি (২৩) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।

সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের পূর্ব জয় নারায়ণপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। জনি ওই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে জনি তার ফেসবুক আইডিতে জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যযুক্ত একটি পোস্ট দেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে ঘেরাও করে আটক করেন।

খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীমের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

দাগনভূঞা থানার ওসি বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

তোফায়েল নিলয়/খাদিজা রুমি/

দুই লেনে আটকে পদ্মা সেতুর সুফল

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
দুই লেনে আটকে পদ্মা সেতুর সুফল
ছবি: খবরের কাগজ

পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা ছিল রাজধানীর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ, শিল্পায়নের গতি বৃদ্ধি ও পর্যটন খাতের প্রসার। কিন্তু চার বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ১৯৫ কিলোমিটার মহাসড়ক এখনো দুই লেনেই আটকে আছে। যানবাহনের সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়লেও সড়কের সক্ষমতা বাড়েনি। ফলে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, বাড়ছে দুর্ঘটনা, দীর্ঘ হচ্ছে যাত্রার সময়। এ অবস্থায় ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার কিংবা ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিতে নতুন করে সোচ্চার হয়েছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।

সাম্প্রতিক সময়ে দাবি আদায়ে বরিশাল ও ঢাকায় মানববন্ধন, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক নেতারা এক কণ্ঠে বলছেন, পদ্মা সেতুর পূর্ণ সুফল পেতে এই সড়ক সম্প্রসারণের বিকল্প নেই।

দক্ষিণাঞ্চলবাসীর অভিযোগ, পদ্মা সেতু চালুর পর মহাসড়কটিতে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু দুই লেনের সড়ক সেই চাপ সামাল দিতে পারছে না। ফলে প্রায়ই দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে, পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং বাড়ছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

সংসদেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বরিশাল-৫ আসনের এমপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরওয়ার সম্প্রতি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের পাশাপাশি ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেনের মহাসড়ক নির্মাণের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা দূর না হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে না।’ পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার সংসদ সদস্যরাও একই দাবি তুলেছেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৮ সালে একনেক সভায় ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকার এই প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় তা এগোয়নি। পরে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকায়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুমোদনের ঠিক আগে পুনর্মূল্যায়নের জন্য এটি প্রত্যাহার করা হলে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে পরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আওতায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে চলতি বছরের ১৮ মার্চ গোমা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর চাপ বাড়ায় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক কাজও শুরু হয়েছে। এতে কুয়াকাটার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি উপকৃত হবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘোষণার পরও মাঠে কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।

রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ঐকমত্য দেখা গেছে। বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন বলেন, ‘সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ও যানজট হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পদ্মা সেতু চালুর পরও ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পৌঁছাতে চার ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।’

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দুই লেনের সড়কে বিপুল যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। প্রকল্প নিয়ে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এস এ মহিউদ্দিন মানিক (বীরপ্রতীক) বলেন, ‘ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেনের মহাসড়ক যত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে, তত দ্রুত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ পদ্মা সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ের পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে কৃষি, পর্যটন ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডও নতুন গতি পাবে।’

রংপুরে এমপির প্রকল্পের সভাপতি ভাগনে-ভগ্নিপতি!

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
রংপুরে এমপির প্রকল্পের সভাপতি ভাগনে-ভগ্নিপতি!
ছবি: মো. নুরুল আমীন

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ উপজেলা) আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য (এমপি) মো. নুরুল আমীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।

তার অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া টিআর, কাবিখা ও কাবিটার কয়েকটি প্রকল্পে ভাগনে-ভগ্নিপতিসহ অন্য আত্মীয়স্বজনের সভাপতি করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এমপি মো. নুরুল আমীন চলতি অর্থবছরে টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পে ৩০ লাখ টাকা, কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পে ২৫ লাখ টাকা ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ৪০ টন খাদ্যশস্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছেন। তিনি তার সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকায় টিআরের ১৪টি, কাবিটার ১১, কাবিখার ৫টিসহ মোট ৩০টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ বিভাজন করে প্রকল্প দাখিল করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৯ নম্বর সদর ইউনিয়নের তুলারামপুর গ্রামে এমপির বিশেষ বরাদ্দের দুটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ইয়াকুব আলীর বাড়ির সামনে ওয়াক্তিয়া নামাজঘর উন্নয়ন ও মাঠে মাটি ভরাটকরণে কাবিখা প্রকল্পের ১০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্যের অনুকূলে একটি প্রকল্প রয়েছে। এই প্রকল্পের এমপি মো. নুরুল আমীনের চাচাতো বোনের স্বামী ইয়াকুব আলীকে সভাপতি করা হয়েছে। অপর প্রকল্পটি একই গ্রামের ইয়াকুব আলীর বাড়ি থেকে মশফিকের বাড়িগামী রাস্তা সলিংকরণ, ইয়াকুব আলীর পুকুরপাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটকরণ। এ প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে আগের প্রকল্পের সভাপতি ইয়াকুব আলীর ছেলে সালমান শরিফ শাওনকে। অর্থাৎ এই দুই প্রকল্পের সভাপতি বাবা ও ছেলে। আর তারা সম্পর্কে এমপির ভাগনে ও ভগ্নিপতি। এ ছাড়া অন্যান্য প্রকল্পে এমপির নিকটাত্মীয়, দলীয় বিভিন্ন পদের নেতা-কর্মীদের সভাপতি করা হয়েছে। এসব নিয়ে উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে সর্বত্র।

এ বিষয়ে তুলারামপুর গ্রামের বাসিন্দা মুকুল মিয়া জানান, একাধিক প্রকল্পে এমপি তার বোনজামাই, ভাগনেকে প্রকল্প সভাপতি করেছেন। এসব প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন কতটুকু হবে?

একই গ্রামের মঞ্জু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তুলারামপুর গ্রামে পুরাতন জামে মসজিদ রয়েছে। যেখানে নিয়মিত শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। মসজিদটির উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হলেও সেখানে কোনো বরাদ্দ না দিয়ে স্বজনপ্রীতি করে এমপি তার আত্মীয়স্বজনের প্রকল্প দিয়েছেন।

প্রকল্প সভাপতি ইয়াকুব আলী বলেন, ‘প্রকল্পে কত টাকা বা কী বরাদ্দ আছে, সেটা আমি জানি না। অফিস থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে, তাই কাজ করছি।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ বলেন, ‘এমপি মহোদয় ভাগিনা নাকি ছেলেকে কাকে কাজ দেবেন, তা আমাদের জানার কথা না। আমাদের দেখার দায়িত্ব হলো কাজ। কাজ চলমান রয়েছে। তবে কাজ না হলে বিল পাবে না, এটি নিশ্চিত।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, একটা হলো পলিটিক্যাল বিষয়, আরেকটা প্রশাসনিক বিষয়। এমপি কোনটাকে অগ্রাধিকার দেবেন, সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে প্রকল্পে অনিয়ম আছে কি না, কাজ না করে কেউ টাকা তুলেছে–যদি এ রকম কিছু হয়ে থাকে, তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

এসব বিষয়ে এমপি নুরুল আমীন বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণরূপে একটা অপপ্রচার। মসজিদের সামনে পানি জমে থাকে, ওখানে মাটি কাটার জন্য একটা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই মসজিদে যাতায়াতের রাস্তাটার খুবই দৈন্যদশা, তাই সেটা সলিং করার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পীরগঞ্জের প্রত্যেকটা এলাকায় আমার আত্মীয়স্বজন আছে। আমরা ২১টা প্রকল্পের কমিটি করে দিয়েছি। তবে সভাপতি যেই হোক, তিনিও বাংলাদেশের মানুষ। কোথাও আমার আত্মীয়স্বজন প্রকল্পের সভাপতি হলে দেখতে হবে ওই জায়গায় কোনো দুর্নীতি হচ্ছে কি না। ওইখান থেকে কিছু নেওয়ার জন্য কয়েকজন কয়েকবার গিয়েছিল। তারা কিছু না পেয়ে বিরুদ্ধে লেখা শুরু করেছে। এই প্রকল্পগুলোর কাজ এনসিপি এবং বিএনপির নেতাদেরও দেওয়া হয়েছে।’

চাঁদপুরে দীর্ঘ ৩৯ বছরের শিক্ষাসেবা শেষে সম্মানজনক বিদায় শিক্ষকের

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম
চাঁদপুরে দীর্ঘ ৩৯ বছরের শিক্ষাসেবা শেষে সম্মানজনক বিদায় শিক্ষকের
ছবি: খবরের কাগজ

দীর্ঘ ৩৮ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ১২৪ নং নন্দলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুখ রঞ্জন বিশ্বাস।

কর্মজীবনের শেষ দিনে তাকে দেওয়া হলো এক ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় বিদায়। ফুলে সজ্জিত প্রাইভেটকারে করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী তাকে নিজ বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন।

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক সুখ রঞ্জন বিশ্বাসকে ফুলেল শুভেচ্ছা, উত্তরীয় ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বক্তব্যে তাদের প্রিয় শিক্ষকের কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন।

বিদায়ী বক্তব্যে সুখ রঞ্জন বিশ্বাসও শিক্ষকতা জীবনের সুখ-দুঃখের নানা স্মৃতি স্মরণ করেন এবং সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আলোচনা সভায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আনিছুর রহমান, চরপাথালীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী কৃষ্ণ পাল, সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন, উপজেলা স্কাউট কমিশনার শাহজাহান, স্কাউট সম্পাদক আক্তার হোসেন, উপজেলা প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশিকুজ্জামান, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সুমন খান, ডা. মোহন মিয়া, সহকারী শিক্ষক পারুল রানী বিশ্বাস, সালেহা আক্তার, বিল্লাল হোসেন, হাসনেয়ারা আক্তার ও ঝুমুর আক্তারসহ অনেকে।

অনুষ্ঠান শেষে ফুল দিয়ে সুসজ্জিত একটি প্রাইভেটকারে প্রধান শিক্ষক সুখ রঞ্জন বিশ্বাসকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। পথজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী হাত নেড়ে এবং ফুল ছিটিয়ে তাকে বিদায় জানান।

সুখ রঞ্জন বিশ্বাস ১৯৮৭ সালের ১০ অক্টোবর সাদুল্ল্যাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। পরে ১৯৮৮ সালের ১০ অক্টোবর দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ১৯৯৬ সালের ১০ জানুয়ারি নন্দলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের ২৯ জুন অবসরে যান।

সহকর্মীরা বলেন, সুখ রঞ্জন বিশ্বাস শুধু একজন দক্ষ প্রধান শিক্ষকই নন, তিনি ছিলেন বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক, পরামর্শদাতা ও আদর্শ মানুষ। তার সততা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা এবং শিক্ষার প্রতি নিবেদন আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

বিদায়ের শেষ মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের অশ্রুসিক্ত চোখ যেন একটি কথাই মনে করিয়ে দেয় একজন প্রকৃত শিক্ষকের সবচেয়ে বড় অর্জন পদ বা পুরস্কার নয়, বরং শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকা।

সাহাদাত/এএফ