রাউন্ড ৩২-এ আজ মুখোমুখি হবে নরওয়ে এবং আইভরি কোস্ট। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে ম্যাচ
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ খেলছে নরওয়ে। তাদের বিশ্বমঞ্চে ফিরিয়েছেন আর্লিং হালান্ড। তার কাঁধে চেপেই ইউরোপের দলটি এখন নকআউট পর্বে। শারীরিক উচ্চতা এবং ফুটবলীয় মেধায় মাঠে এক ‘দানব’ তিনি। বিশ্রামে চাঙ্গা হয়ে আজ আবারও মাঠে ফিরছেন তিনি। আর ফুটবলের দানবকে ঠেকাতে মাঠের অপর পাশে থাকবে ‘দ্য এলিফ্যান্ট’।
আজ রাতে ডালাসে মুখোমুখি হবে নরওয়ে এবং আইভরি কোস্ট। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আইভরি কোস্ট। স্বাভাবিকভাবে ‘দ্য এলিফ্যান্ট’দের কাছে এটি গর্বের মুহূর্ত এবং একই সঙ্গে আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। তাদের শক্তি ও সামর্থ্যের ছাপ পড়েছে গ্রুপপর্বে। শুরুটা ছিল ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়ে। যদিও দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানির কাছে হেরে যায় লড়াইয়ের পর, ২-১ ব্যবধানে। গ্রুপপর্বের শেষটায় তারা হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় ‘পুচকে’ কুরাসাওকে ২-০ গোলে হারিয়ে।
নরওয়ে তাদের প্রত্যাবর্তন রাঙানোর অপেক্ষায়, যাদের ভরসার কেন্দ্রে হালান্ড। গ্রুপপর্বেই চার গোল করে তিনি প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জন্য আতঙ্ক হয়ে উঠেছেন। প্রথম ম্যাচে ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল, এর পর সেনেগালের বিরুদ্ধেও জোড়া গোল করেন। তৃতীয় ম্যাচে খেলেননি। দুই ম্যাচের দুই জোড়া গোল প্রতিপক্ষের জন্য স্পষ্ট হুমকি। প্রমাণ করেছেন একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৫২ ম্যাচে ৫৯ গোল হালান্ডের। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় তার দক্ষতার পরিমাপ। কেন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর স্ট্রাইকারদের একজন ধরা হয়, তার প্রমাণও উঠে আসে এই দক্ষতায়। তবে নরওয়ের সবচেয়ে বড় দুর্বলতাও গ্রুপপর্বেই স্পষ্ট হয়েছে– হালান্ড নির্ভরতা। ফ্রান্সের বিপক্ষে তিনি বিশ্রামে থাকতেই নরওয়ে ভেঙে পড়ে ৪-১ ব্যবধানে। আক্রমণে ধারহীনতা, মিডফিল্ডে সৃজনশীলতার অভাব– সবই চোখে পড়েছে।
এই ম্যাচের বড় লড়াই হতে পারে মাঝমাঠে। মার্টিন ওডেগার্ডের সৃজনশীলতা এবং স্যান্ডের বার্গের শারীরিক উপস্থিতি নরওয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে আইভরি কোস্ট চাইবে দ্রুত ট্রানজিশন আর উইং ব্যবহার করে নরওয়ের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে।
চোটও ম্যাচের আগে বড় ফ্যাক্টর। আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডার উইলফ্রেড সিঙ্গোর খেলা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে নরওয়ের রাইট-ব্যাক হুলিয়ান রেয়ারসন পুরোপুরি ফিট নন। তাকে নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ম্যাচের চাবিকাঠি সম্ভবত একটি জায়গায় সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। সেটি আর্লিং হালান্ড। তাকে থামাতে না পারলে আইভরি কোস্টের বিশ্বকাপ মিশন থেমে যেতে পারে। হালান্ডকে থামাতে পারলে আফ্রিকান দলটির জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়বে। আর যদি হালান্ড নিজের স্বভাবসুলভ ফিনিশিং দেখান, তবে নরওয়েই এগিয়ে থাকবে। থামতে হবে আইভরি কোস্টকে।
দুই দল অতীতে কখনো মুখোমুখি হয়নি। প্রতিযোগিতামূল ম্যাচেও নয়, প্রীতি ম্যাচেও নয়। ফলে একে অপরের বিষয়ে ধারণা খুবই কম। সে কারণে নরওয়ের কোচ স্টেল সোলবাকেন একটু বেশি সতর্ক। তিনি বলেন, ‘এটা নকআউট পর্ব। এখানে যোগ্যতা দেখিয়ে দলগুলো উঠে এসেছে। এখানে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সামনে এগোতে হলো আমাদের ভালো খেলা উপহার দিতে হবে।’
নরওয়ের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড বলেন, ‘২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছি। আমরা নতুন ইতিহাস লিখতে চাই। দলে হালান্ড আছে। যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে জিততে হলে পুরো দলকে দায়িত্ব নিতে হবে।’
আইভরি কোস্টের কোচ ইমার্সে বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ইতিহাস গড়েছি, তবে এখানে থামতে চাই না। নরওয়ে শক্তিশালী দল, তবে নিজেদের ওপর আমাদের আস্থা আছে।’ দলটির অধিনায়কের ফ্রাঙ্ক কেসির ভাষ্য এমন, ‘এটি শুধু নকআউটের একটি ম্যাচ নয়। পুরো দেশের স্বপ্নের প্রতিনিধিত্ব করছে। খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ফল আমাদের পক্ষে আসতে পারে।’
গ্রুপপর্বে আইভরি কোস্ট
ম্যাচ: ৩
গোল: ৪
গোল হজম: ২
শট: ৩১
অন-শট: ৯
কর্নার: ১২
ফাউল: ২৩
হলুদ কার্ড: ৪
লাল কার্ড: ০
গ্রুপপর্বে নরওয়ে
ম্যাচ: ৩
গোল: ৮
গোল হজম: ৭
শট: ৩৫
অন-শট: ১৬
কর্নার: ১৪
ফাউল: ৩৫
হলুদ কার্ড: ১
লাল কার্ড: ০