টেকনাফ থেকে মাছ ধরতে গিয়ে মায়ানমারের জলসীমায় প্রবেশের সময় একটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ৫ জন রোহিঙ্গা মাঝিমাল্লাকে আটক করেছে আরাকান আর্মি। আটকরা টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেল ৩টায় ফিশিং ট্রলারের মালিক আলী আহম্মদ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, গত ২৭ জুন টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী বোটঘাট থেকে একটি কাঠের ট্রলার নিয়ে তারা মাছ ধরতে বঙ্গোপসাগরে যান। পরবর্তীতে মাছ ধরার সময় ট্রলারটি মায়ানমারের জলসীমায় চলে গেলে আরাকান আর্মি সেটি আটক করে। ট্রলারে থাকা ৫ জন রোহিঙ্গা মাঝিমাল্লাকে ও আটক করে।
ট্রলারের মালিক সাবরাং ইউনিয়নের ডেইল এলাকার বাসিন্দা আলী আহম্মদ বলেন, ২৭ জুন ট্রলারটি কায়ুকখালী বোটঘাট থেকে মাছ ধরতে যায়। পরদিন মাঝিমাল্লারা মোবাইল ফোনে জানায়, তারা মাছ পাচ্ছে না, তাই আরও দক্ষিণ দিকে যাচ্ছে। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা যায়নি। পরে ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ছবিতে তাদের শনাক্ত করি। বিষয়টি বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডকে (বিজিবি) জানানো হয়েছে।
মায়ানমারভিত্তিক গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্কের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুন বিকেলে আরাকান উপকূলরক্ষী বাহিনী আরাকানের জলসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে মাছ ধরার অভিযোগে ৫ জন বাংলাদেশি জেলেকে আটক করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মংডো টাউনশিপের কিয়াউক পান্ডু ও গিন তাও গ্রামের মধ্যবর্তী সমুদ্রে একটি সন্দেহজনক মোটরচালিত মাছ ধরার নৌকা দেখতে পেয়ে উপকূলরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা সেটিতে তল্লাশির চেষ্টা করেন। তবে তল্লাশি এড়িয়ে নৌকাটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা ধাওয়া করে। আজ (২৯ জুন) দুপুর প্রায় ১টা ৪০ মিনিটে গিন তাও খাঁড়ির মোহনার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল থেকে প্রায় ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার দূরে নৌকাটি আটক করা হয়।
কায়ুকখালী বোট মালিক সমিতির সভাপতি সাজেদ আহমদ বলেন, আলী আহম্মদের মালিকানাধীন ট্রলারটি ৫ জন রোহিঙ্গা মাঝিমাল্লাকে নিয়ে মাছ ধরতে সাগরে যায়। এরপর তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে জানতে পারি, ট্রলারসহ মাঝিমাল্লাদের আরাকান আর্মি আটক করেছে। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, ’আরাকান আর্মি একটি মাছ ধরার ট্রলারসহ ৫ জন মাঝিমাল্লাকে আটক করেছে বলে আমরা জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, গত ৯ মে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়কের নেতৃত্বে নাফ নদীর জিরো লাইনে মায়ানমারের আরাকান আর্মির হেফাজতে থাকা ১৪ জন বাংলাদেশি জেলেকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। জেলেরা বিভিন্ন সময় সাগরে মাছ ধরার সময় আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছিলেন। পরে পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে বিজিবি তাদের পরিবারের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করে।
শাহীন/খাদিজা রুমি/