ঢাকা ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে চায় বাংলাদেশ পুলিশ ধামরাইয়ে মহাসড়কে ডিম ভেঙে খামারিদের প্রতিবাদ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি অর্থমন্ত্রীর A King and Astrologer বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ৫ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিট পরিদর্শনে রেড ক্রিসেন্ট চেয়ারম্যান একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১২৪ হাসপাতালে ভর্তি মিল্টন খন্দকার, দ্রুত অস্ত্রোপচার টাইব্রেকার হলে শুটার বাছবেন জাপান কোচ লালমনিরহাটে পানিবন্দি হাজারো মানুষ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত মরক্কো সাবেক এমপি আশিকা আবারও রিমান্ডে, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নবী নেওয়াজ শিক্ষা খাতে বাজেট: বিনিয়োগ নাকি দুর্নীতির নতুন সুযোগ? জাপান ম্যাচের আগে ভিনির চোখে জল সিংগাইরে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা কুমিল্লায় স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধের ঘটনায় আরও তিনজন আটক সুমেক হাসপাতাল চালুর দাবিতে ক্লাস বর্জনের অষ্টম দিন, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন: মহাবিপর্যয়ের হাতছানি নির্মাতার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুললেন পারসা ইভানা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও র‍্যাংগস ইলেকট্রনিক্সের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি চট্টগ্রামে শরিয়াহভিত্তিক ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের স্মারকলিপি চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিত্যপণ্যে ছাড় উত্তরায় ইবিয়ানদের প্রথম মতবিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত শ্যামনগরে দোকান থেকে অজগর সাপ উদ্ধার জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে শিবিরের ৩৬ দিনের কর্মসূচি বিশ্বকাপের ফ্যান জোনে গোলাগুলি, নিহত ১ বাগদান নিয়ে যা বললেন নীহা স্মার্টফোনের ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর হওয়ার সুযোগ বিরোধী দলের এমপিদের জন্য বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা: মির্জা ফখরুল ফুলগাজীতে গৃহবধূ কাজল হত্যা মামলার প্রধান আসামি  গ্রেপ্তার আরাকান আর্মির হাতে আটক ৫ রোহিঙ্গা মাঝিমাল্লা

চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিত্যপণ্যে ছাড়

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিত্যপণ্যে ছাড়
ছবি: খবরের কাগজ

ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। তবে এবার পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। 

‘উৎসবে কমবে দাম, বাড়বে আনন্দ’ শীর্ষক এই উদ্যোগের ফলে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় নিত্যপণ্যে বিশেষ মূল্যছাড় দিয়েছেন। বাজার ব্যবস্থাপনার এই নতুন মডেলে সাধারণ মানুষের মাঝে ফিরেছে স্বস্তি।

উন্নত বিশ্বে ব্ল্যাক ফ্রাইডে, ক্রিসমাস বা রমজান উপলক্ষে পণ্যের দামে ছাড় দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও আমাদের দেশে চিত্রটি সাধারণত উল্টো। উৎসবকে কেন্দ্র করে দাম বাড়ানোর এই প্রচলিত প্রথা ভাঙতেই উদ্যোগী হন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। 

এর আগে গত ঈদুল ফিতরে তিনি প্রথম এই ধারণার প্রবর্তন করেছিলেন। চট্টগ্রামে যোগ দেওয়ার পর খাতুনগঞ্জ ও রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে তিনি ‘ফেস্টিভ সেল’ বা উৎসবকালীন ছাড়ের এই কার্যক্রম শুরু করেন।

উদ্যোগটি বাস্তবায়নে পুলিশ, র‍্যাব, ডিজিএফআই, এনএসআই, কৃষি বিপণন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠন করা হয় বিশেষ ‘বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্স’। মহানগরসহ ১৫টি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সম্প্রতি আদার দাম কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছালে প্রশাসন বন্দরে আটকে থাকা কনটেইনারের বিষয়টি শনাক্ত করে। পরে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় দ্রুততম সময়ে ৩৭ কনটেইনার আদা খালাস করা হয়। এতে খাতুনগঞ্জসহ পাইকারি বাজারগুলোতে আদার দাম দ্রুত কমে আসে, যার সুফল পায় সারা দেশ।

প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে উৎসবকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যে বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। খাতুনগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ মহানগর ও উপজেলার বাজারগুলোতে আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন মসলার দামে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়।

চট্টগ্রামের বড় চারটি সুপারশপ- স্বপ্ন, আগোরা, শপিং ব্যাগ ও বাস্কেট-এর ৩৩টি শাখায় ২৫ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত আলু, পেঁয়াজ, চাল, চিনি, আটা ও মসলাসহ ৩৯টি পণ্যে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি দেখা গেছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আমদানিকৃত পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে কোনো অস্থিরতা তৈরি হয়নি।

উদ্যোগটি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলেও প্রশংসিত হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম সফরে এসে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমার জানামতে, এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য বাড়েনি, বরং কিছুটা কমেছে। আমরা এই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।’

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ‘উৎসবে কমবে দাম, বাড়বে আনন্দ’ কর্মসূচি প্রমাণ করেছে, সমন্বিত উদ্যোগ ও সঠিক তদারকি থাকলে উৎসবের সময়ও বাজার পরিস্থিতি ক্রেতাদের অনুকূলে রাখা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের উৎসবগুলোতে দেশের প্রতিটি জেলায় এ ধরনের মডেল অনুসরণ করা হলে তা জনকল্যাণমুখী প্রশাসন নিশ্চিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে চায় বাংলাদেশ পুলিশ

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে চায় বাংলাদেশ পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অপরাধের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি কোঅপারেশন, ইনফরমেশন শেয়ারিং অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব বাংলাদেশ পুলিশ’ শীর্ষক সমন্বয় সভায় এমন মন্তব্য করেন ঊর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা।

পুলিশ সদর দপ্তরের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে কূটনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, কার্যকর তথ্য বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। সভায় ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সমন্বয়, তথ্য বিনিময় এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রায় কঠিন।’

দেশের বাইরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাইবার ক্রাইম, ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম, ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমসহ বৈশ্বিক অপরাধ মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তুলতেও পুলিশ কাজ করছে।’

অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার এবং বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা বাড়াতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি ডিভিশন কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় প্রশংসনীয় অবদান রাখছে। 
সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, বর্তমান বিশ্বে কার্যকর পুলিশিং নির্ভর করে ফলপ্রসূ সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ওপর। 

তিনি সব দূতাবাস এবং বিদেশি সংস্থাকে বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও সেবাদানকারী ইউনিটগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে এ আয়োজন উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি একটি কার্যকর যোগাযোগ, দ্রুত সমন্বয় এবং উন্নত অপারেশনাল সহায়তা নিশ্চিত করবে। তিনি কার্যকরভাবে তথ্য বিনিময়, সুসমন্বয় এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি বেলাল উদ্দিন। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি মো. কামরুল আহসান ও ডিআইজি তাপতুন নাসরীন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর অতিরিক্ত ডিআইজি মহিউল ইসলাম অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। 
 
আলমগীর হোসেন/রিফাত/

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি অর্থমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি অর্থমন্ত্রীর
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থের সংস্থান নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সংস্কার এবং ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।’

সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতি বর্তমানে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। সরকার এটিকে শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক দায়িত্ব হিসেবেও দেখছে। এ জন্য মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির সমন্বয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, ৬০টি নিত্যপণ্যে উৎসে কর কমানো, সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়ন এবং বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে মূল্যস্ফীতি কমে জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।’

প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগে সরকারের আস্থা
প্রস্তাবিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ও সেবাখাত সম্প্রসারণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করা হবে। তিনি জানান, সরকার ‘রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রেস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন’ এই ‘থ্রিআর’ কৌশল বাস্তবায়ন করছে, যার মাধ্যমে অর্থনীতিকে টেকসই পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নেওয়া হবে।’

করভিত্তি বাড়বে, করহার নয়
রাজস্ব আহরণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার করের হার বৃদ্ধি নয়, বরং করভিত্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়াতে চায়। এজন্য রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন, কর ব্যবস্থার অটোমেশন, কর ফাঁকি রোধ এবং ব্যবসা সহজীকরণে ডিরেগুলেশন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সরকারের চার মাসের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আদায় চার লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে।’

উন্নয়ন ব্যয়ে গুরুত্ব, কমবে পরিচালন ব্যয়
সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর নীতির কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো এবং পরিচালন ব্যয়ের অংশ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সময়ে অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতার কারণে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে আগামী অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা, বন্ড মার্কেট উন্নয়ন, ইক্যুইটি ফাইন্যান্সিং এবং বিদেশভিত্তিক বিনিয়োগ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

ব্যাংক সংস্কার ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর উদ্যোগ
ব্যাংক খাতের সংস্কারের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ ফেরাতে সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি উদ্যোগ জোরদার করেছে। চলতি বছরের মে পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ বা ফ্রিজ করা হয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে একাধিক দেশের সঙ্গে আইনি সহযোগিতা কার্যক্রমও চলছে।

একীভূত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সাধারণ আমানতকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন এবং অবশিষ্ট অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে। ক্যানসার, কিডনি ডায়ালাইসিস রোগী ও হজ সঞ্চয়কারীদের জন্য বিশেষ সুবিধাও থাকবে।

পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগে প্রণোদনা
পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে জিরো কুপন বন্ডের আয় করমুক্ত করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করহার কমানো, শেয়ার অফলোডে অতিরিক্ত কর সুবিধা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ কর ছাড়ের প্রস্তাব তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের কর রেয়াতের সীমাও তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
বাজেটের সফলতা ঘোষণায় নয়, বাস্তবায়নে নিহিত এ কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তন, রাজস্ব আহরণ, আর্থিক খাতের সংস্কার ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দক্ষ প্রশাসন, ফলাফলভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং কার্যকর জবাবদিহিতার মাধ্যমে সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাজেট বাস্তবায়নে সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এলিস/রিফাত/

একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১২৪

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১২৪
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুইজন পুরুষ, তিনজন নারী। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে ৩৭, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২ জন, খুলনা বিভাগে ১৪ জন, ময়মনসিংহে ২ এবং রাজশাহী বিভাগে ৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এছাড়াও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৬ এবং দক্ষিণ সিটিতে ১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৫ হাজার ৯২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এবং ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫ হাজার ৪৫৫ জন।

রিফাত/

চট্টগ্রামে শরিয়াহভিত্তিক ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের স্মারকলিপি

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
চট্টগ্রামে শরিয়াহভিত্তিক ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের স্মারকলিপি
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানতের সুরক্ষা ও গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ‘সম্মিলিত পাঁচ ইসলামিক ব্যাংক ডিপোজিটরস অ্যাসোসিয়েশন’। 

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয় সম্মিলিত পাঁচ ইসলামিক ব্যাংক ডিপোজিটরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে নগরীর নিউমার্কেট মোড়ে সমবেত হতে থাকেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা। সেখান থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। মিছিল শেষে আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভ চলাকালে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে আমানতকারীদের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো-

১) গ্রাহকদের ওপর আরোপিত অবৈধ ‘হেয়ার কাট’ (টাকা কর্তন) অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করা।
২) ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।
৩) ব্যাংকে রক্ষিত গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান আমানতকারীদের দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এবং এটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো হবে বলে আশ্বাস দেন।

এছাড়া উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে তিনি ইতিবাচক সুপারিশ করবেন বলেও প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন।

প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা পুনরায় নিউমার্কেট মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম, সহসভাপতি শারমিন আক্তার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, অর্থ সম্পাদক আলাউদ্দিন আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল, প্রচার সম্পাদক ইমরান হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক সোহেল ও শান চৌধুরী প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানিয়েছি। তবে আগামীতে যদি আমাদের এই ন্যায্য দাবির বিষয়ে কোনো ইতিবাচক ফলাফল না আসে, তাহলে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

রিফাত/অমিয়/

চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিত্যপণ্যে ছাড়

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিত্যপণ্যে ছাড়
ছবি: খবরের কাগজ

ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। তবে এবার পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। 

‘উৎসবে কমবে দাম, বাড়বে আনন্দ’ শীর্ষক এই উদ্যোগের ফলে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় নিত্যপণ্যে বিশেষ মূল্যছাড় দিয়েছেন। বাজার ব্যবস্থাপনার এই নতুন মডেলে সাধারণ মানুষের মাঝে ফিরেছে স্বস্তি।

উন্নত বিশ্বে ব্ল্যাক ফ্রাইডে, ক্রিসমাস বা রমজান উপলক্ষে পণ্যের দামে ছাড় দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও আমাদের দেশে চিত্রটি সাধারণত উল্টো। উৎসবকে কেন্দ্র করে দাম বাড়ানোর এই প্রচলিত প্রথা ভাঙতেই উদ্যোগী হন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। 

এর আগে গত ঈদুল ফিতরে তিনি প্রথম এই ধারণার প্রবর্তন করেছিলেন। চট্টগ্রামে যোগ দেওয়ার পর খাতুনগঞ্জ ও রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে তিনি ‘ফেস্টিভ সেল’ বা উৎসবকালীন ছাড়ের এই কার্যক্রম শুরু করেন।

উদ্যোগটি বাস্তবায়নে পুলিশ, র‍্যাব, ডিজিএফআই, এনএসআই, কৃষি বিপণন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠন করা হয় বিশেষ ‘বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্স’। মহানগরসহ ১৫টি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সম্প্রতি আদার দাম কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছালে প্রশাসন বন্দরে আটকে থাকা কনটেইনারের বিষয়টি শনাক্ত করে। পরে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় দ্রুততম সময়ে ৩৭ কনটেইনার আদা খালাস করা হয়। এতে খাতুনগঞ্জসহ পাইকারি বাজারগুলোতে আদার দাম দ্রুত কমে আসে, যার সুফল পায় সারা দেশ।

প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে উৎসবকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যে বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। খাতুনগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ মহানগর ও উপজেলার বাজারগুলোতে আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন মসলার দামে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়।

চট্টগ্রামের বড় চারটি সুপারশপ- স্বপ্ন, আগোরা, শপিং ব্যাগ ও বাস্কেট-এর ৩৩টি শাখায় ২৫ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত আলু, পেঁয়াজ, চাল, চিনি, আটা ও মসলাসহ ৩৯টি পণ্যে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি দেখা গেছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আমদানিকৃত পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে কোনো অস্থিরতা তৈরি হয়নি।

উদ্যোগটি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলেও প্রশংসিত হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম সফরে এসে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমার জানামতে, এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য বাড়েনি, বরং কিছুটা কমেছে। আমরা এই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।’

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ‘উৎসবে কমবে দাম, বাড়বে আনন্দ’ কর্মসূচি প্রমাণ করেছে, সমন্বিত উদ্যোগ ও সঠিক তদারকি থাকলে উৎসবের সময়ও বাজার পরিস্থিতি ক্রেতাদের অনুকূলে রাখা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের উৎসবগুলোতে দেশের প্রতিটি জেলায় এ ধরনের মডেল অনুসরণ করা হলে তা জনকল্যাণমুখী প্রশাসন নিশ্চিতে বড় ভূমিকা রাখবে।