ঢাকা ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
টাইব্রেকার হলে শুটার বাছবেন জাপান কোচ লালমনিরহাটে পানিবন্দি হাজারো মানুষ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত মরক্কো সাবেক এমপি আশিকা আবারও রিমান্ডে, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নবী নেওয়াজ শিক্ষা খাতে বাজেট: বিনিয়োগ নাকি দুর্নীতির নতুন সুযোগ? জাপান ম্যাচের আগে ভিনির চোখে জল সিংগাইরে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা কুমিল্লায় স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধের ঘটনায় আরও তিনজন আটক সুমেক হাসপাতাল চালুর দাবিতে ক্লাস বর্জনের অষ্টম দিন, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন: মহাবিপর্যয়ের হাতছানি নির্মাতার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুললেন পারসা ইভানা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও র‍্যাংগস ইলেকট্রনিক্সের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি চট্টগ্রামে শরিয়াহভিত্তিক ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের স্মারকলিপি চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিত্যপণ্যে ছাড় উত্তরায় ইবিয়ানদের প্রথম মতবিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত শ্যামনগরে দোকান থেকে অজগর সাপ উদ্ধার জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে শিবিরের ৩৬ দিনের কর্মসূচি বিশ্বকাপের ফ্যান জোনে গোলাগুলি, নিহত ১ বাগদান নিয়ে যা বললেন নীহা স্মার্টফোনের ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর হওয়ার সুযোগ বিরোধী দলের এমপিদের জন্য বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা: মির্জা ফখরুল ফুলগাজীতে গৃহবধূ কাজল হত্যা মামলার প্রধান আসামি  গ্রেপ্তার আরাকান আর্মির হাতে আটক ৫ রোহিঙ্গা মাঝিমাল্লা বটমলী হোম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত বেরোবিতে আবারও অবস্থান কর্মসূচি করছেন পদোন্নতি বঞ্চিতরা স্যুটকেসে কিশোরীর মরদেহ, অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক গ্রেপ্তার কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন খাতে সংশোধনী প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিতেই ভরসা জাপান কোচ মোরিয়াসুর ভূমিরূপ পরিবর্তন অধ্যায়ের ২টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র রাবিপ্রবিতে নতুন ৩ মিনিবাস

কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন খাতে সংশোধনী প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন খাতে সংশোধনী প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে

প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের করভার কমানো, কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার এবং দেশীয় শিল্প ও শিক্ষার বিকাশে একাধিক জনবান্ধব সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করের বোঝা না বাড়িয়ে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং হয়রানিমুক্ত রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে ৪ লাখ টাকা, পরবর্তী দুই বছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেন।

জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে—এমন জনমতের কথা উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট বিধান সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন ও সম্পত্তি নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন দাখিলের বাধ্যবাধকতাও প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়ে তিনি গবেষণা, ভাষা শিক্ষা এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

দেশীয় শিল্পের বিকাশে চিংড়ি চাষ, ওষুধ, এলইডি, পিভিসি, কপার, কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপনের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করারও সুপারিশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন ও অর্থনৈতিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এলিস/অন্তরা/

চট্টগ্রামে শরিয়াহভিত্তিক ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের স্মারকলিপি

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম
চট্টগ্রামে শরিয়াহভিত্তিক ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের স্মারকলিপি
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানতের সুরক্ষা ও গ্রাহকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে ‘সম্মিলিত পাঁচ ইসলামিক ব্যাংক ডিপোজিটরস অ্যাসোসিয়েশন’। 

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয় সম্মিলিত পাঁচ ইসলামিক ব্যাংক ডিপোজিটরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে নগরীর নিউমার্কেট মোড়ে সমবেত হতে থাকেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা। সেখান থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। মিছিল শেষে আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভ চলাকালে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে আমানতকারীদের পক্ষ থেকে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো-

১) গ্রাহকদের ওপর আরোপিত অবৈধ ‘হেয়ার কাট’ (টাকা কর্তন) অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করা।
২) ব্যাংকিং লেনদেন দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।
৩) ব্যাংকে রক্ষিত গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান আমানতকারীদের দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এবং এটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো হবে বলে আশ্বাস দেন।

এছাড়া উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে তিনি ইতিবাচক সুপারিশ করবেন বলেও প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন।

প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা পুনরায় নিউমার্কেট মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম, সহসভাপতি শারমিন আক্তার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, অর্থ সম্পাদক আলাউদ্দিন আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল, প্রচার সম্পাদক ইমরান হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক সোহেল ও শান চৌধুরী প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবি জানিয়েছি। তবে আগামীতে যদি আমাদের এই ন্যায্য দাবির বিষয়ে কোনো ইতিবাচক ফলাফল না আসে, তাহলে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

রিফাত/অমিয়/

চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিত্যপণ্যে ছাড়

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিত্যপণ্যে ছাড়
ছবি: খবরের কাগজ

ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। তবে এবার পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। 

‘উৎসবে কমবে দাম, বাড়বে আনন্দ’ শীর্ষক এই উদ্যোগের ফলে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় নিত্যপণ্যে বিশেষ মূল্যছাড় দিয়েছেন। বাজার ব্যবস্থাপনার এই নতুন মডেলে সাধারণ মানুষের মাঝে ফিরেছে স্বস্তি।

উন্নত বিশ্বে ব্ল্যাক ফ্রাইডে, ক্রিসমাস বা রমজান উপলক্ষে পণ্যের দামে ছাড় দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও আমাদের দেশে চিত্রটি সাধারণত উল্টো। উৎসবকে কেন্দ্র করে দাম বাড়ানোর এই প্রচলিত প্রথা ভাঙতেই উদ্যোগী হন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। 

এর আগে গত ঈদুল ফিতরে তিনি প্রথম এই ধারণার প্রবর্তন করেছিলেন। চট্টগ্রামে যোগ দেওয়ার পর খাতুনগঞ্জ ও রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে তিনি ‘ফেস্টিভ সেল’ বা উৎসবকালীন ছাড়ের এই কার্যক্রম শুরু করেন।

উদ্যোগটি বাস্তবায়নে পুলিশ, র‍্যাব, ডিজিএফআই, এনএসআই, কৃষি বিপণন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে গঠন করা হয় বিশেষ ‘বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্স’। মহানগরসহ ১৫টি উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সম্প্রতি আদার দাম কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছালে প্রশাসন বন্দরে আটকে থাকা কনটেইনারের বিষয়টি শনাক্ত করে। পরে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় দ্রুততম সময়ে ৩৭ কনটেইনার আদা খালাস করা হয়। এতে খাতুনগঞ্জসহ পাইকারি বাজারগুলোতে আদার দাম দ্রুত কমে আসে, যার সুফল পায় সারা দেশ।

প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে উৎসবকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যে বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। খাতুনগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ মহানগর ও উপজেলার বাজারগুলোতে আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন মসলার দামে ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়।

চট্টগ্রামের বড় চারটি সুপারশপ- স্বপ্ন, আগোরা, শপিং ব্যাগ ও বাস্কেট-এর ৩৩টি শাখায় ২৫ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত আলু, পেঁয়াজ, চাল, চিনি, আটা ও মসলাসহ ৩৯টি পণ্যে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি দেখা গেছে। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা জানান, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আমদানিকৃত পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বাজারে কোনো অস্থিরতা তৈরি হয়নি।

উদ্যোগটি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলেও প্রশংসিত হয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম সফরে এসে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমার জানামতে, এবার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য বাড়েনি, বরং কিছুটা কমেছে। আমরা এই ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।’

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ‘উৎসবে কমবে দাম, বাড়বে আনন্দ’ কর্মসূচি প্রমাণ করেছে, সমন্বিত উদ্যোগ ও সঠিক তদারকি থাকলে উৎসবের সময়ও বাজার পরিস্থিতি ক্রেতাদের অনুকূলে রাখা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের উৎসবগুলোতে দেশের প্রতিটি জেলায় এ ধরনের মডেল অনুসরণ করা হলে তা জনকল্যাণমুখী প্রশাসন নিশ্চিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

উত্তরায় ইবিয়ানদের প্রথম মতবিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
উত্তরায় ইবিয়ানদের প্রথম মতবিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

রাজধানীর উত্তরায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইবিয়ান ক্লাব লিমিটেড’-এর মতবিনিময় সভা ও নৈশভোজ। 

শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের লোটাস হলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শতাধিক ইবিয়ান সদস্য অংশ নেন।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সূচিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইবিয়ান ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি ড. আশরাফুর রহমান। 

তিনি ক্লাবের মেমোরেন্ডাম ও গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিশেষ করে, ক্লাবটি একটি ‘হালাল ক্লাব’ হিসেবে পরিচালিত হবে, এমন ঘোষণা উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে।

স্বাগত বক্তব্যের পর উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নেন বাসসের সাংবাদিক এম এম রাশিদুল ইসলাম, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ হাসনাত আলী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক আব্দুল হাই এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আজগর আলী। 

তারা ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিভিন্ন গঠনমূলক দিক নিয়ে আলোকপাত করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এম এম জাহাঙ্গীর আলম যোগ দেন। তিনি ইবিয়ান ক্লাবের সভাপতি ও সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং কুশল বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে ক্লাবের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. মঞ্জুরুল হকের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। 

অনুষ্ঠানের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন বিশিষ্ট ইবিয়ান উদ্যোক্তা ও তরুণ শিল্পপতি মো. মাসুদ রানা এবং মো. জালাল উদ্দীন (তুহিন), চলচ্চিত্র নির্মাতা শিহাব শাহীন, নাট্যনির্মাতা ও ব্যবসায়ী এহসানুল হক সেলিম প্রমুখ।

বিরোধী দলের এমপিদের জন্য বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
বিরোধী দলের এমপিদের জন্য বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আসন প্রতি ২০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকা বাদ দিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি আসনে মসজিদ, গোরস্থান ও ঈদগাহের উন্নয়নকাজে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে এ অর্থ মঞ্জুর করা হয়েছে, যাতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকার জনগণও সমানভাবে উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল পায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক অবকাঠামোর উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।

মন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বিষয়টি নিয়ে নিজের দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রায় চার দশকের সংসদীয় জীবনে তিনি সরকারি ও বিরোধী উভয় ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বিরোধী দলের সদস্য থাকাকালে এ ধরনের কোনো বরাদ্দ কখনও পাননি।

স্পিকার বলেন, ‘৪০ বছর আমি এই সংসদে কাটিয়েছি। বিরোধী দলের সদস্যও ছিলাম। একটি কানাকড়িও কোনোদিন পাইনি। পাঁচবার গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গিয়েছি। এটুকুই পেয়েছি, অন্য কোনো প্রাপ্তিযোগ হয়নি।’

সংসদে মির্জা ফখরুলের ঘোষণাকে বিরোধী দলের নির্বাচনি এলাকাগুলোর উন্নয়নে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বরাদ্দ বাস্তবায়িত হলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক স্থাপনার উন্নয়নে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকাগুলোও সমান গুরুত্ব পাবে।

এলিস/অন্তরা/

কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন খাতে সংশোধনী প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন খাতে সংশোধনী প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে

প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের করভার কমানো, কালো টাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার এবং দেশীয় শিল্প ও শিক্ষার বিকাশে একাধিক জনবান্ধব সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করের বোঝা না বাড়িয়ে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং হয়রানিমুক্ত রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষে ৪ লাখ টাকা, পরবর্তী দুই বছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার এবং ২০৩০-৩১ করবর্ষে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেন।

জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে—এমন জনমতের কথা উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট বিধান সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন ও সম্পত্তি নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন দাখিলের বাধ্যবাধকতাও প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়ে তিনি গবেষণা, ভাষা শিক্ষা এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

দেশীয় শিল্পের বিকাশে চিংড়ি চাষ, ওষুধ, এলইডি, পিভিসি, কপার, কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে বিজ্ঞাপনের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করারও সুপারিশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন ও অর্থনৈতিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এলিস/অন্তরা/