আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ থাকায় প্রায় ৭৫০ মেডিকেল ও সমসংখ্যক নার্সিং শিক্ষার্থীর একাডেমিক জীবন অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে হাসপাতালটির দুর্বলতা থাকলে তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় দ্রুত হাসপাতালটি চালুর আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কেবল বই পড়ে কেউ দক্ষ ডাক্তার বা নার্স হতে পারে না; ব্যবহারিক শিক্ষা ও রোগীর সংস্পর্শ চিকিৎসা শিক্ষার অপরিহার্য অংশ। তাই কোনো বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই হাসপাতাল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত শত শত শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ারকে অন্ধকারের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালের কোনো অনিয়ম থাকলে তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি দেওয়া হোক, তবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মাঝপথে হাসপাতাল বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়তে আসার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।
বাজেট আলোচনায় ডা. শফিকুর রহমান স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমানভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট ভাঙা, বিচারহীনতার অবসান, মিরপুরের পানি সংকট নিরসন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করা, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, ভোলা সেতু নির্মাণ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়েও সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এলিস/অন্তরা/