বাংলাদেশ থেকে মায়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক করিডর করার প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। গত শুক্রবার বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। চীনের এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছে বিএনপি সরকার। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সে দেশের কুনমিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি বাণিজ্যিক রুট তৈরি হবে। এই করিডরের প্রধান রুটটি হবে মায়ানমারের রাখাইনের ওপর দিয়ে। এ ছাড়া বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মাধ্যমে জলপথেও এই করিডর কার্যকর হবে।
এদিকে চীনের সঙ্গে ত্রিদেশীয় এই করিডর নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ডালপালা মেলতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন বিষয়টি নিয়ে এখনো পর্যালোচনা করছে। এতে কোনো কোনো পক্ষ নিরাপত্তা ঝুঁকির কথাও বলছে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, চীনের এই প্রস্তাবটি ইতিবাচক এবং এটি এখনো আলোচনার পর্যায়ে আছে। এ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাই করে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত অন্তর্বর্তী সরকারও এই বাংলাদেশ থেকে রাখাইনে একটি মানবিক করিডরের চেষ্টা করেছিল জাতিসংঘকে সঙ্গে নিয়ে। সেখানে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের মতামত নেওয়া হয়নি। এমনকি মায়ানমারের সরকার বা রাখাইনের দখলে থাকা আরাকান আর্মিরও কোনো মতামত সেখানে নেওয়া হয়নি। এই করিডর নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। পরে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানও এই করিডরের বিপক্ষে বক্তব্য দেন।
যদিও এই মানবিক করিডরের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্মতি দিয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের কারণে এ বিষয়ে একটি জনমত তৈরি হওয়ায় তথাকথিত করিডর নিয়ে আর বেশি দূর এগোয়নি অন্তবর্তী সরকার। জানা যায়, এই মানবিক করিডরের মাধ্যমে পশ্চিমা একটি দেশ রাখাইনে প্রক্সি যুদ্ধ চালানোর জন্য ত্রাণের নামে যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠানোর পরিকল্পনা করছিল।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সেই মানবিক করিডরের সঙ্গে চীনের করিডরের সম্পর্ক নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের মানবিক করিডরের উদ্দেশ্য ছিল রাখাইনে ত্রাণ পাঠানোর নামে সেখানকার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার পেছনের কৌশল। বাংলাদেশের পাশের এই রাজ্যটি উত্তপ্ত হলে সীমান্ত এলাকাও যে উত্তপ্ত হবে, সেটি বিবেচনা করেই ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। কিন্তু চীনের প্রস্তাবিত করিডরের মাধ্যমে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, রাষ্ট্রদূত ও সম্পর্ক বিশ্লেষকও কথা বলেছেন খবরের কাগজকের সঙ্গে।