ঢাকা ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দলের ব্যর্থতায় সৌদির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির পদত্যাগ চাকরি দেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে সরকার নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে : মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী পড়ে পাওয়া গল্পের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা জাতীয় সংসদে সময় নির্ধারণে বৈষম্যের অভিযোগ জামায়াতের রাজবাড়ীতে রেললাইনে ট্রাক, ট্রেনের সি‌ডিউল উলটপালট জাপানের বিপক্ষে নেইমার খেলবেন কি? যা জানালেন আনচেলত্তি জাপান ম্যাচের আগে সতর্ক ব্রাজিল অর্থবছর পরিবর্তনের প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার দিনাজপুর বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখুন করিডর : বিশিষ্টজনের অভিমত ভাঙ্গায় স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দিলেন স্ত্রী, জোড়া লাগার সম্ভাবনা নেই সোনারগাঁয় রাস্তা দখল করে ঘর তৈরির অভিযোগ, ১০ পরিবার অবরুদ্ধ করিডর নিয়ে আলোচনা ঢল ও বৃষ্টিতে ফুঁসছে তিস্তা, প্লাবিত হচ্ছে নীলফামারীর নিচু এলাকা সারাদেশে কালেমার পতাকা: নানা প্রশ্ন বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই পার্কিং ভাড়া দিলে ভবনের হোল্ডিং নম্বর জব্দ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হবে: কুসিক প্রশাসক ট্রাকের ধাক্কায় পড়ে যাওয়ে যুবকের বাসচাপায় মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন রেকর্ড গড়া মেসির সামনে কেপ ভার্দের হুঙ্কার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাক খাদে পড়ে ২ শ্রমিক নিহত বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, কৃষকদল নেতা কারাগারে কুড়িগ্রামে বাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকছে পানি ‘কেপ ভার্দের কাছেই হারবে মেসিরা’, নকআউট নিয়ে ঘানার ওঝার ভবিষ্যদ্বাণী সাতকানিয়ায় অপহরণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়া যুবকের মৃত্যু রাসুল (সা.) কিভাবে জুতা পরতেন? শতবর্ষের ঐতিহ্য বনাম নতুন পরাশক্তি আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের অভিযানে ২৯ জঙ্গি নিহত

করিডর নিয়ে আলোচনা

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১১:১০ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
করিডর নিয়ে আলোচনা
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ থেকে মায়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক করিডর করার প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। গত শুক্রবার বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। চীনের এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছে বিএনপি সরকার। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সে দেশের কুনমিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি বাণিজ্যিক রুট তৈরি হবে। এই করিডরের প্রধান রুটটি হবে মায়ানমারের রাখাইনের ওপর দিয়ে। এ ছাড়া বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মাধ্যমে জলপথেও এই করিডর কার্যকর হবে। 

এদিকে চীনের সঙ্গে ত্রিদেশীয় এই করিডর নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ডালপালা মেলতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন বিষয়টি নিয়ে এখনো পর্যালোচনা করছে। এতে কোনো কোনো পক্ষ নিরাপত্তা ঝুঁকির কথাও বলছে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, চীনের এই প্রস্তাবটি ইতিবাচক এবং এটি এখনো আলোচনার পর্যায়ে আছে। এ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাই করে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

গত অন্তর্বর্তী সরকারও এই বাংলাদেশ থেকে রাখাইনে একটি মানবিক করিডরের চেষ্টা করেছিল জাতিসংঘকে সঙ্গে নিয়ে। সেখানে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের মতামত নেওয়া হয়নি। এমনকি মায়ানমারের সরকার বা রাখাইনের দখলে থাকা আরাকান আর্মিরও কোনো মতামত সেখানে নেওয়া হয়নি। এই করিডর নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। পরে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানও এই করিডরের বিপক্ষে বক্তব্য দেন।

যদিও এই মানবিক করিডরের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্মতি দিয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের কারণে এ বিষয়ে একটি জনমত তৈরি হওয়ায় তথাকথিত করিডর নিয়ে আর বেশি দূর এগোয়নি অন্তবর্তী সরকার। জানা যায়, এই মানবিক করিডরের মাধ্যমে পশ্চিমা একটি দেশ রাখাইনে প্রক্সি যুদ্ধ চালানোর জন্য ত্রাণের নামে যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠানোর পরিকল্পনা করছিল। 

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সেই মানবিক করিডরের সঙ্গে চীনের করিডরের সম্পর্ক নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের মানবিক করিডরের উদ্দেশ্য ছিল রাখাইনে ত্রাণ পাঠানোর নামে সেখানকার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার পেছনের কৌশল। বাংলাদেশের পাশের এই রাজ্যটি উত্তপ্ত হলে সীমান্ত এলাকাও যে উত্তপ্ত হবে, সেটি বিবেচনা করেই ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। কিন্তু চীনের প্রস্তাবিত করিডরের মাধ্যমে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, রাষ্ট্রদূত ও সম্পর্ক বিশ্লেষকও কথা বলেছেন খবরের কাগজকের সঙ্গে। 

গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে সরকার নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে : মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:১০ পিএম
গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে সরকার নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে : মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

গ্রামীণ দুস্থ নারীদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের সর্বস্তরে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

মন্ত্রী জানান, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির আওতায় ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের ৪৯৩টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৮৩টি ইউনিয়নের ১০ লাখ ৪০ হাজার দরিদ্র ও অসচ্ছল নারীকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি প্যাকেটজাত পুষ্টি চাল দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এনজিওর মাধ্যমে আয়বর্ধক কার্যক্রম, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, মা ও শিশু সহায়তা তহবিল কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র পরিবারের ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী গর্ভবতী মায়েদের প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত মাসিক ৮৫০ টাকা ভাতা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এ কর্মসূচির আওতায় ১৭ লাখ ৭১ হাজার ২০০ জন উপকারভোগী রয়েছেন।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ২৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত একক এবং দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হচ্ছে। ২০০৩-০৪ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার ২২ জন নারীর মধ্যে ২০৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় মহিলা সংস্থার মাধ্যমে আরও ৭৪ হাজার ৭৮ জন নারীকে প্রায় ৯৯ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক পাঁচটি ট্রেডে তিন মাস মেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণও চলমান রয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৯ হাজার ২০০ নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১১ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা বিতরণ করা হয়েছে।

এলিস/অন্তরা/

অর্থবছর পরিবর্তনের প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
অর্থবছর পরিবর্তনের প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে অর্থবছর (জুলাই-জুন) পরিবর্তন করে 'জানুয়ারি-ডিসেম্বর' করার প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। 

সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এ প্রস্তাব দেন। 

এর আগে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ‘জনমুখী বাজেট ২০২৬-২৭ প্রস্তাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শফিকুর রহমান অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার ইয়ারের (১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর) সঙ্গে মিলিয়ে করার প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করবেন বলে জানিয়েছিলেন।

জামায়াতের আমিরের বক্তব্য, ‘আমাদের ফিসক্যাল ইয়ার (অর্থবছর) হচ্ছে জুলাই টু জুন। জুন মাস বর্ষা, খরা, দুর্যোগ, সাইক্লোন- এগুলোতে সাধারণত আমাদের দেশ আক্রান্ত হয়। আমরা লক্ষ করি, এডিপির একটা বিশাল অংশ শেষের দুই মাসে তাড়াহুড়া করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। এটি বাস্তবায়ন নয়, এটি হচ্ছে গণলুটপাট, এর সুফল জনগণ পায় না, কিছু অসৎ সুবিধাভোগীর পকেটে সুফল চলে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সংসদে প্রস্তাব দেব, আমাদের ফিসক্যাল ইয়ারটি ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে করা হবে। তাহলে বর্ষার পানিতে আমাদের টাকাগুলো ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাবে না। এই টাকাগুলোর খবর পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।’

খাদিজা রুমি/

করিডর নিয়ে আলোচনা

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১১:১০ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
করিডর নিয়ে আলোচনা
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ থেকে মায়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক করিডর করার প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। গত শুক্রবার বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। চীনের এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছে বিএনপি সরকার। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সে দেশের কুনমিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি বাণিজ্যিক রুট তৈরি হবে। এই করিডরের প্রধান রুটটি হবে মায়ানমারের রাখাইনের ওপর দিয়ে। এ ছাড়া বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মাধ্যমে জলপথেও এই করিডর কার্যকর হবে। 

এদিকে চীনের সঙ্গে ত্রিদেশীয় এই করিডর নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ডালপালা মেলতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন বিষয়টি নিয়ে এখনো পর্যালোচনা করছে। এতে কোনো কোনো পক্ষ নিরাপত্তা ঝুঁকির কথাও বলছে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, চীনের এই প্রস্তাবটি ইতিবাচক এবং এটি এখনো আলোচনার পর্যায়ে আছে। এ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাই করে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

গত অন্তর্বর্তী সরকারও এই বাংলাদেশ থেকে রাখাইনে একটি মানবিক করিডরের চেষ্টা করেছিল জাতিসংঘকে সঙ্গে নিয়ে। সেখানে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের মতামত নেওয়া হয়নি। এমনকি মায়ানমারের সরকার বা রাখাইনের দখলে থাকা আরাকান আর্মিরও কোনো মতামত সেখানে নেওয়া হয়নি। এই করিডর নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। পরে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানও এই করিডরের বিপক্ষে বক্তব্য দেন।

যদিও এই মানবিক করিডরের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্মতি দিয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের কারণে এ বিষয়ে একটি জনমত তৈরি হওয়ায় তথাকথিত করিডর নিয়ে আর বেশি দূর এগোয়নি অন্তবর্তী সরকার। জানা যায়, এই মানবিক করিডরের মাধ্যমে পশ্চিমা একটি দেশ রাখাইনে প্রক্সি যুদ্ধ চালানোর জন্য ত্রাণের নামে যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠানোর পরিকল্পনা করছিল। 

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সেই মানবিক করিডরের সঙ্গে চীনের করিডরের সম্পর্ক নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের মানবিক করিডরের উদ্দেশ্য ছিল রাখাইনে ত্রাণ পাঠানোর নামে সেখানকার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার পেছনের কৌশল। বাংলাদেশের পাশের এই রাজ্যটি উত্তপ্ত হলে সীমান্ত এলাকাও যে উত্তপ্ত হবে, সেটি বিবেচনা করেই ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। কিন্তু চীনের প্রস্তাবিত করিডরের মাধ্যমে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, রাষ্ট্রদূত ও সম্পর্ক বিশ্লেষকও কথা বলেছেন খবরের কাগজকের সঙ্গে। 

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:৫২ এএম
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই
মুস্তাফা মনোয়ার

দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, টেলিভিশন নির্মাতা এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে নেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়ায় আশার সঞ্চার হলেও পরে অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাকে ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানিয়েছিলেন, ফুসফুসে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন ছিলেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রথম দিকের শিক্ষার্থীদের একজন হিসেবে তিনি চিত্রকলায় উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং পরবর্তী সময়ে দেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

চিত্রকলার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘মনোয়ারের আসর’-এর মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। 

শিল্প, সংস্কৃতি ও শিশু বিকাশে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

অমিয়/

জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের নায়ক বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ কে–এ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সরকারি দল বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তুমুল তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে জুলাই আন্দোলনের প্রধান নায়ক হিসেবে দাবি করা হয়। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ আন্দোলনের কোনো একক মাস্টারমাইন্ড নেই; এর প্রকৃত শক্তি ছিল বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ এবং তরুণ প্রজন্ম।

গতকাল রবিবার (২৮ জুন) সংসদে বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনের সাধারণ আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে দুই দফা বিতর্ক হয়। প্রথমে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দূরে অবস্থান করেও তারেক রহমান বুদ্ধিবৃত্তিক ও কৌশলগত নেতৃত্ব দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে সফল করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা অতীতে তারেক রহমানকে আন্দোলনের প্রধান নায়ক হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তার বক্তব্যের সময়কাল সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। তিনি জানান, ওই মন্তব্য তিনি ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে করেছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়। গণ-অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পর যাদের নেতৃত্বে আন্দোলন বিজয়ে পৌঁছেছে, তাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুপুরে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক বিষয়টি আবারও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা নিজেই একসময় প্রকাশ্যে তারেক রহমানকে জুলাই আন্দোলনের মহানায়ক ও প্রধান নায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তাই এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের বক্তব্য সঠিক এবং তা সংসদের কার্যবিবরণীতে সংরক্ষণ করা উচিত।

পাল্টা বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের বক্তব্য তিনি অস্বীকার করছেন না। তবে সেটি ছিল ভিন্ন সময় ও ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেওয়া। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আন্দোলনের চরিত্র ও বাস্তবতা নতুন মাত্রা পায়। তাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা নেতৃত্বের নয়; এটি গণমানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশ সফরের সময় একজনকে (মাহফুজ আলম) জুলাই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তখন তিনিই প্রথম এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের গণ-অভ্যুত্থানকে কোনো একক ব্যক্তির কৃতিত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যুবসমাজকে কৃতিত্ব দিতে চাই। এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ। একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না, আগেও বলেছি, এখনো বলছি।’