ঢাকা ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
জাপানের বিপক্ষে নেইমার খেলবেন কি? যা জানালেন আনচেলত্তি জাপান ম্যাচের আগে সতর্ক ব্রাজিল অর্থবছর পরিবর্তনের প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখুন করিডর : বিশিষ্টজনের অভিমত ভাঙ্গায় স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দিলেন স্ত্রী, জোড়া লাগার সম্ভাবনা নেই সোনারগাঁয় রাস্তা দখল করে ঘর তৈরির অভিযোগ, ১০ পরিবার অবরুদ্ধ করিডর নিয়ে আলোচনা ঢল ও বৃষ্টিতে ফুঁসছে তিস্তা, প্লাবিত হচ্ছে নীলফামারীর নিচু এলাকা সারাদেশে কালেমার পতাকা: নানা প্রশ্ন বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই পার্কিং ভাড়া দিলে ভবনের হোল্ডিং নম্বর জব্দ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হবে: কুসিক প্রশাসক ট্রাকের ধাক্কায় পড়ে যাওয়ে যুবকের বাসচাপায় মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন রেকর্ড গড়া মেসির সামনে কেপ ভার্দের হুঙ্কার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাক খাদে পড়ে ২ শ্রমিক নিহত বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, কৃষকদল নেতা কারাগারে কুড়িগ্রামে বাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকছে পানি ‘কেপ ভার্দের কাছেই হারবে মেসিরা’, নকআউট নিয়ে ঘানার ওঝার ভবিষ্যদ্বাণী সাতকানিয়ায় অপহরণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়া যুবকের মৃত্যু রাসুল (সা.) কিভাবে জুতা পরতেন? শতবর্ষের ঐতিহ্য বনাম নতুন পরাশক্তি আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের অভিযানে ২৯ জঙ্গি নিহত ঢাবিতে খেলা দেখতে এসে নারীসহ সাবেক শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগ টঙ্গীতে পুকুরে ডুবে যুবকের মৃত্যু গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে মেসি: এমবাপ্পে-হালান্ডদের পেছনে ফেলে একক রাজত্ব ফ্রান্সে অতিরিক্ত ১০০০ জনের মৃত্যু জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক হিজবুল্লাহর ড্রোন রুখতে ব্যর্থ ইসরায়েল আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পথ সহজ, শুরুতেই মহাযুদ্ধ ইউরোপীয় পরাশক্তিদের

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:৫২ এএম
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই
মুস্তাফা মনোয়ার

দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, টেলিভিশন নির্মাতা এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে নেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়ায় আশার সঞ্চার হলেও পরে অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাকে ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানিয়েছিলেন, ফুসফুসে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন ছিলেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রথম দিকের শিক্ষার্থীদের একজন হিসেবে তিনি চিত্রকলায় উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং পরবর্তী সময়ে দেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

চিত্রকলার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘মনোয়ারের আসর’-এর মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। 

শিল্প, সংস্কৃতি ও শিশু বিকাশে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

অমিয়/

অর্থবছর পরিবর্তনের প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
অর্থবছর পরিবর্তনের প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে অর্থবছর (জুলাই-জুন) পরিবর্তন করে 'জানুয়ারি-ডিসেম্বর' করার প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। 

সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এ প্রস্তাব দেন। 

এর আগে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ‘জনমুখী বাজেট ২০২৬-২৭ প্রস্তাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শফিকুর রহমান অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার ইয়ারের (১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর) সঙ্গে মিলিয়ে করার প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করবেন বলে জানিয়েছিলেন।

জামায়াতের আমিরের বক্তব্য, ‘আমাদের ফিসক্যাল ইয়ার (অর্থবছর) হচ্ছে জুলাই টু জুন। জুন মাস বর্ষা, খরা, দুর্যোগ, সাইক্লোন- এগুলোতে সাধারণত আমাদের দেশ আক্রান্ত হয়। আমরা লক্ষ করি, এডিপির একটা বিশাল অংশ শেষের দুই মাসে তাড়াহুড়া করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। এটি বাস্তবায়ন নয়, এটি হচ্ছে গণলুটপাট, এর সুফল জনগণ পায় না, কিছু অসৎ সুবিধাভোগীর পকেটে সুফল চলে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সংসদে প্রস্তাব দেব, আমাদের ফিসক্যাল ইয়ারটি ক্যালেন্ডার ইয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে করা হবে। তাহলে বর্ষার পানিতে আমাদের টাকাগুলো ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাবে না। এই টাকাগুলোর খবর পাওয়া যাবে, ইনশাআল্লাহ।’

খাদিজা রুমি/

করিডর নিয়ে আলোচনা

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১১:১০ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
করিডর নিয়ে আলোচনা
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ থেকে মায়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক করিডর করার প্রস্তাব দিয়েছে বেইজিং। গত শুক্রবার বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। চীনের এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছে বিএনপি সরকার। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সে দেশের কুনমিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি বাণিজ্যিক রুট তৈরি হবে। এই করিডরের প্রধান রুটটি হবে মায়ানমারের রাখাইনের ওপর দিয়ে। এ ছাড়া বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মাধ্যমে জলপথেও এই করিডর কার্যকর হবে। 

এদিকে চীনের সঙ্গে ত্রিদেশীয় এই করিডর নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ডালপালা মেলতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন বিষয়টি নিয়ে এখনো পর্যালোচনা করছে। এতে কোনো কোনো পক্ষ নিরাপত্তা ঝুঁকির কথাও বলছে। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, চীনের এই প্রস্তাবটি ইতিবাচক এবং এটি এখনো আলোচনার পর্যায়ে আছে। এ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাই করে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

গত অন্তর্বর্তী সরকারও এই বাংলাদেশ থেকে রাখাইনে একটি মানবিক করিডরের চেষ্টা করেছিল জাতিসংঘকে সঙ্গে নিয়ে। সেখানে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের মতামত নেওয়া হয়নি। এমনকি মায়ানমারের সরকার বা রাখাইনের দখলে থাকা আরাকান আর্মিরও কোনো মতামত সেখানে নেওয়া হয়নি। এই করিডর নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। পরে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানও এই করিডরের বিপক্ষে বক্তব্য দেন।

যদিও এই মানবিক করিডরের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্মতি দিয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের কারণে এ বিষয়ে একটি জনমত তৈরি হওয়ায় তথাকথিত করিডর নিয়ে আর বেশি দূর এগোয়নি অন্তবর্তী সরকার। জানা যায়, এই মানবিক করিডরের মাধ্যমে পশ্চিমা একটি দেশ রাখাইনে প্রক্সি যুদ্ধ চালানোর জন্য ত্রাণের নামে যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠানোর পরিকল্পনা করছিল। 

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সেই মানবিক করিডরের সঙ্গে চীনের করিডরের সম্পর্ক নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের মানবিক করিডরের উদ্দেশ্য ছিল রাখাইনে ত্রাণ পাঠানোর নামে সেখানকার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার পেছনের কৌশল। বাংলাদেশের পাশের এই রাজ্যটি উত্তপ্ত হলে সীমান্ত এলাকাও যে উত্তপ্ত হবে, সেটি বিবেচনা করেই ব্যাপক প্রতিবাদ হয়। কিন্তু চীনের প্রস্তাবিত করিডরের মাধ্যমে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, রাষ্ট্রদূত ও সম্পর্ক বিশ্লেষকও কথা বলেছেন খবরের কাগজকের সঙ্গে। 

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:৫২ এএম
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই
মুস্তাফা মনোয়ার

দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, টেলিভিশন নির্মাতা এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে নেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়ায় আশার সঞ্চার হলেও পরে অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাকে ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানিয়েছিলেন, ফুসফুসে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন ছিলেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের প্রথম দিকের শিক্ষার্থীদের একজন হিসেবে তিনি চিত্রকলায় উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং পরবর্তী সময়ে দেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

চিত্রকলার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘মনোয়ারের আসর’-এর মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। 

শিল্প, সংস্কৃতি ও শিশু বিকাশে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

অমিয়/

জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম
জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের নায়ক বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ কে–এ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সরকারি দল বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তুমুল তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে জুলাই আন্দোলনের প্রধান নায়ক হিসেবে দাবি করা হয়। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ আন্দোলনের কোনো একক মাস্টারমাইন্ড নেই; এর প্রকৃত শক্তি ছিল বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ এবং তরুণ প্রজন্ম।

গতকাল রবিবার (২৮ জুন) সংসদে বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনের সাধারণ আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে দুই দফা বিতর্ক হয়। প্রথমে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দূরে অবস্থান করেও তারেক রহমান বুদ্ধিবৃত্তিক ও কৌশলগত নেতৃত্ব দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে সফল করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা অতীতে তারেক রহমানকে আন্দোলনের প্রধান নায়ক হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তার বক্তব্যের সময়কাল সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। তিনি জানান, ওই মন্তব্য তিনি ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে করেছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়। গণ-অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পর যাদের নেতৃত্বে আন্দোলন বিজয়ে পৌঁছেছে, তাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দুপুরে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক বিষয়টি আবারও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা নিজেই একসময় প্রকাশ্যে তারেক রহমানকে জুলাই আন্দোলনের মহানায়ক ও প্রধান নায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তাই এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের বক্তব্য সঠিক এবং তা সংসদের কার্যবিবরণীতে সংরক্ষণ করা উচিত।

পাল্টা বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের বক্তব্য তিনি অস্বীকার করছেন না। তবে সেটি ছিল ভিন্ন সময় ও ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেওয়া। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আন্দোলনের চরিত্র ও বাস্তবতা নতুন মাত্রা পায়। তাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা নেতৃত্বের নয়; এটি গণমানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশ সফরের সময় একজনকে (মাহফুজ আলম) জুলাই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তখন তিনিই প্রথম এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের গণ-অভ্যুত্থানকে কোনো একক ব্যক্তির কৃতিত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যুবসমাজকে কৃতিত্ব দিতে চাই। এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ। একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না, আগেও বলেছি, এখনো বলছি।’

২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করবে সরকার

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করবে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

দেশব্যাপী শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী আগামী জুলাই মাসেই মাদরাসাশিক্ষকদের সব বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিক্ষককে ট্যাব দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম গড়ে তোলা হবে, যেখানে শিক্ষকরা পাঠদান, পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে আরও ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

মাদরাসাশিক্ষকদের বেতন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষকের বেতন দিতে প্রতি মাসে ৫০১ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও অর্থের সংস্থান না থাকায় চলতি মাসে বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অর্থমন্ত্রী ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন এবং জুলাই মাসে বাকি অর্থ ছাড়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফলে আগামী মাসেই সব বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।

বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসর সুবিধার ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন

শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে প্রায় ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রায় ৮ হাজার ৭১০ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও অবসর তহবিলে বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ফলে প্রায় ৭ হাজার ৪১০ কোটি টাকার অর্থ ঘাটতি রয়েছে।

গতকাল রবিবার প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় তিনি এসব তথ্য জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা দ্রুত প্রদানে সরকার আন্তরিক। বর্তমানে একজন শিক্ষক বা কর্মচারী গড়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকা অবসর ভাতা পান। তবে অর্থসংকটের কারণে আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে আগস্ট ২০২৩ থেকে ২১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য এককালীন প্রায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থিক সংকট নিরসনে সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি সফটওয়্যার পুনরায় চালু, জনবল বৃদ্ধি, অনলাইন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আইবাসের মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।