প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের নবম বা দশম গ্রেডে উন্নীত করার কাজ চলছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বছরে অতিরিক্ত প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে এবং সেই অর্থের সংস্থান ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাখা হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে ৪৬ হাজার ৭২৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। এই বাজেটের মাধ্যমে শিক্ষকদের মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী পাঁচ বছর ধারাবাহিকভাবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রশংসা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং চীনের সঙ্গে তিস্তা প্রকল্পে অগ্রগতি দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
এ সময় তিনি আগের দিন বাজেট প্রসঙ্গে সংসদে এক এমপির বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। ববি হাজ্জাজ বলেন, ’প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘ফ্যাসিস্টদের বাজেট’ আখ্যায়িত করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। যারা ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন করেছে, মামলা-হামলা ও কারাবরণ করেছে, তাদের দেওয়া প্রথম বাজেটকে এভাবে খাটো করা উচিত নয়।’
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না; বরং সব গণতান্ত্রিক শক্তির সম্মিলিত সংগ্রাম। তিনি জানান, আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে দলীয় পরিচয় সামনে আনা হয়নি, যাতে আন্দোলন দলীয় রূপ না পায়। সংসদেও সেই ঐক্যের চেতনা ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ’নিখুঁত বাজেট বলে কিছু নেই, তবে বর্তমান বাস্তবতায় এটি একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত বাজেট।’
এলিস/এসএন