প্লাস্টিকের ব্যাগের অতিরিক্ত ব্যবহার বর্তমানে মানবস্বাস্থ্য, প্রাণিকুল এবং পরিবেশের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সহজলভ্যতা ও কম খরচের কারণে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করা হলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব দিন দিন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
পরিবেশবিদদের মতে, প্লাস্টিকের ব্যাগ মাটিতে সহজে পচে না। একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ সম্পূর্ণভাবে মিশে যেতে কয়েক শ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে মাটির উর্বরতা কমে যায় এবং কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ছাড়া ড্রেন ও নালা-নর্দমায় প্লাস্টিক জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে, যা নগরজীবনে নানা ধরনের দুর্ভোগ ডেকে আনে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্লাস্টিকের বর্জ্য নদী, খাল ও সমুদ্রে গিয়ে জলজ প্রাণীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হচ্ছে। মাছ, কচ্ছপ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণী খাবার ভেবে প্লাস্টিক গিলে ফেলায় অনেক সময় তাদের মৃত্যু ঘটছে। এর ফলে জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
মানবস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব উদ্বেগজনক। প্লাস্টিকের ব্যাগ ও অন্যান্য প্লাস্টিকজাতসামগ্রী থেকে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্য ও পানির মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। গবেষকদের মতে, এসব কণা দীর্ঘ মেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এ ছাড়াপ্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়, যা শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের রোগ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
পরিবেশ রক্ষায় সচেতন মহল প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করছে এবং বিকল্প হিসেবে কাপড়, পাট বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে প্লাস্টিকদূষণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্য রক্ষায় এখনই প্লাস্টিকের ব্যাগের ব্যবহার কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও বড় পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।
আতিয়া সুলতানা/