ঢাকা ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই পার্কিং ভাড়া দিলে ভবনের হোল্ডিং নম্বর জব্দ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হবে: কুসিক প্রশাসক চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন রেকর্ড গড়া মেসির সামনে কেপ ভার্দের হুঙ্কার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাক খাদে পড়ে ২ শ্রমিক নিহত বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গে মাগুরায় কৃষকদল নেতা কারাগারে কুড়িগ্রামে বাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকছে পানি ‘কেপ ভার্দের কাছেই হারবে মেসিরা’, নকআউট নিয়ে ঘানার ওঝার ভবিষ্যদ্বাণী সাতকানিয়ায় অপহরণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়া যুবকের মৃত্যু রাসুল (সা.) কিভাবে জুতা পরতেন? শতবর্ষের ঐতিহ্য বনাম নতুন পরাশক্তি আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের অভিযানে ২৯ জঙ্গি নিহত ঢাবিতে খেলা দেখতে এসে নারীসহ সাবেক শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগ টঙ্গীতে পুকুরে ডুবে যুবকের মৃত্যু গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে মেসি: এমবাপ্পে-হালান্ডদের পেছনে ফেলে একক রাজত্ব ফ্রান্সে অতিরিক্ত ১০০০ জনের মৃত্যু জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক হিজবুল্লাহর ড্রোন রুখতে ব্যর্থ ইসরায়েল আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পথ সহজ, শুরুতেই মহাযুদ্ধ ইউরোপীয় পরাশক্তিদের নকআউটেও ভেল্কি দেখাবেন ভিনি? বেইজিংয়ে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তদন্ত ভ্যাটে ছাড় পেতে পারেন ছোট দোকানিরা বেক্সিমকোয় ভর করে বাড়ল সূচক ও লেনদেন ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করবে সরকার দেশে আয়বৈষম্য বেড়েছে ২৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সঞ্চয়পত্রে কর রেয়াত সুবিধা কমায় মধ্যবিত্তের চাপ বাড়বে কুড়িগ্রামে দুধকুমারের পানি বিপৎসীমার ওপরে সাম্বার ছন্দ বনাম সামুরাই শৃঙ্খলা

ঢাবিতে খেলা দেখতে এসে নারীসহ সাবেক শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগ

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
ঢাবিতে খেলা দেখতে এসে নারীসহ সাবেক শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে বিশ্বকাপ খেলা দেখতে এসে সাবেক শিক্ষার্থীসহ এক নারীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্ত শিবির সমর্থক হল সংসদের নেতা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে বেশ কয়েকটি ছাত্রসংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে দল বেঁধে ছাত্র হলের মাঠে এসে খেলা দেখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল নারী শিক্ষার্থী। তারা অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। 

গতকাল রবিবার সকালে নারী শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে এসে ফুটবল বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচ দেখেন। এ সময় সব নারী শিক্ষার্থীকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান ওই হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১৯টি আবাসিক হল রয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রদের জন্য ১৪টি এবং ছাত্রীদের জন্য রয়েছে ৫টি হল। শহীদুল্লাহ্ হলটি ছাত্রদের হল।

জানা গেছে, গত ২৬ জুন নরওয়ে-ফ্রান্স ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলে ২০১৭-১৮ সেশনের মার্কেটিং বিভাগের শাওন-নুসরাত দম্পতিসহ ২০১৬-১৭ ও ২০১৮-১৯ সেশনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় সাবেক শিক্ষার্থী হয়রানি ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মো. সাজু মিয়াসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী সাবেক ওই শিক্ষার্থীদের জোর করে হল থেকে বের করে দেন। 

যদিও নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাজু মিয়া। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ছাড়া তিনি ছাত্রশিবিরের কোনো পদে না থাকলেও সমর্থক বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মহিউদ্দিন খান।

অভিযুক্ত সাজুর ভাষ্য, তিনি কোনো নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তা করেননি। যারা হেনস্তার অভিযোগ তুলছেন, তাদের তিনি ভদ্রভাবে যেতে বলেছেন। তারাই ‘উল্টো চোটপাট’ দেখিয়েছেন বলে তার দাবি।

শহীদুল্লাহ্ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এভাবে কাউকে বের করে দেওয়ার ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার তাদের নেই। বিষয়টি তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব হল প্রশাসনের’।

এ ঘটনায় গত শনিবার হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে হল শাখা ছাত্রদল। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। রবিবার নারী হেনস্তা এবং নারীদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার প্রতিবাদ জানিয়ে বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেছে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদ। এ ছাড়া দুপুরে পাঁচ দফা দাবিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র মৈত্রী। এ ছাড়া নারী শিক্ষার্থীরা খেলা দেখা শেষে তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দেন।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের ভিপি সানজানা চৌধুরী রাত্রি বলেন, ‘আমরা মনে করছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন আর নারীবান্ধব নেই। নারীদের বিচরণ ও চলাফেরাকে সীমাবদ্ধ করার জন্য এবং তাদের অংশগ্রহণ সংকুচিত করার জন্য একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন পাঁয়তারা চালাচ্ছে। প্রক্টর স্যার আমাদের কাছে কিছু সময় চেয়েছেন এবং বলেছেন তিনি বিষয়টি দেখবেন। আমরাও বলেছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা দাবিগুলো হলো–নারী হেনস্তার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা; ক্যাম্পাসে নারী হয়রানি বন্ধ, অনলাইন হেনস্তা, গোপনে ভিডিও ধারণ এবং মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক ও আবাসিক পরিসরে এমন কোনো আচরণ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না, যা নারীদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে বা তাদের চলাচল ও অংশগ্রহণকে অযৌক্তিকভাবে সীমাবদ্ধ করে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে একজন সহকারী প্রক্টরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।’

গোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করল প্রশাসন

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
গোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করল প্রশাসন
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়/ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদান না করায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিভিন্ন বিভাগের ১৬ জন শিক্ষককে এবং সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনসহ নৈতিক স্খলনের অভিযোগে আরও একজনসহ ১৭ জন শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এছাড়া গোবিপ্রবির উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. মাহবুবুল আলমের দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও এসব তথ্য জানা গেছে।

চাকরিচ্যুত হওয়ায় শিক্ষকরা হলেন, ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আমিরুল ইসলাম, আশরাফুল হোসেন হাওলাদার, সহকারী অধ্যাপক পান্থ প্রতিম সরকার, একই বিভাগের প্রভাষক মো. আহসানউল্লাহ, মো. খায়রুল বাশার ও উপমা দাস, পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাকলী খাতুন, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ময়মুনা বেগম কলি, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. দেবব্রত পাল, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ রুবাইয়াৎ রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান, ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিয়া নাহিয়ান জুলফিকার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক অধরা তাহসিন, অ্যাপ্লাইড কেমিস্টি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা ইয়াসমিন, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. উজ্জল হুসাইন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাবিয়া খাতুন।

অফিস আদেশের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম রিজেন্ট বোর্ড সভার ৪৩/১০ নং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অননুমোদিতভাবে শিক্ষাছুটিতে বিদেশে অবস্থান করা এবং এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলেও কর্মস্থলে যোগদান না করায় তাদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চাকরিচ্যুত শিক্ষকগণের শিক্ষাছুটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তাদের বারবার লিখিতভাবে জানানো হয়। কিন্তু তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া না দেয়ায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়।

অফিস আদেশে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটিকালীন আহরিত সমুদয় অর্থ বিধি মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়াও ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনকে সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনসহ নতিক স্খলনজনিত কারণে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বাদল/এএফ

ক্লিন ক্যাম্পাস গড়তে সবার সহযোগিতা চাইলেন ইবি ভিসি

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:২০ পিএম
ক্লিন ক্যাম্পাস গড়তে সবার সহযোগিতা চাইলেন ইবি ভিসি
ছবি: খবরের কাগজ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী যদি ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগকে নিজেদের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রকৃত অর্থেই একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নান্দনিক ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।

রবিবার (২৮ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে ‘বৃক্ষরোপণ ২০২৬’ ও ক্লিন ক্যাম্পাস কর্মসূচির উদ্বোধন করার সময় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আজকের এই উদ্যোগ কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি সবাই নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলি এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখি, তাহলে ক্যাম্পাস স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।’

এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমগাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন মাইলফলক চত্বরে গিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এরপর ঝাল চত্বরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ‘ক্লিন ক্যাম্পাস’ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম, ‘ক্লিন কুষ্টিয়া, গ্রিন কুষ্টিয়া’র উপদেষ্টা জাকির হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীসহ অন্যরা।

‘ক্লিন কুষ্টিয়া, গ্রিন কুষ্টিয়া’র উপদেষ্টা জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘এই কর্মসূচিতে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করব এবং শিক্ষার্থীরাও যদি সহযোগিতা করে তাহলে আমরা শিক্ষক, ছাত্র, এলাকাবাসী সবাই মিলে আমরা চাই এই ক্যাম্পাসটা একটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং একটা সুন্দর ক্যাম্পাস হোক। ​এই ক্যাম্পাস আমাদের, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের। আমরা যদি একটু সচেতন হই ছাত্ররা, শিক্ষকরা, এলাকাবাসী তাহলেই কিন্তু এই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের বাংলাদেশের মধ্যে একটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সবুজ, সুন্দর ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে উঠবে।

নেয়ামতউল্লাহ/রিফাত/

জাবির ৩৪৮ কোটি টাকার বাজেট পাস, গবেষণায় বরাদ্দ নেই

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
জাবির ৩৪৮ কোটি টাকার বাজেট পাস, গবেষণায় বরাদ্দ নেই
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ ৫ হাজার টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট। বাজেটের প্রায় ৯১ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বেতন-ভাতা, পেনশন ও সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয়ে।

অন্যদিকে, গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে রাখা হয়নি কোনো বরাদ্দ। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় চার বছরের ব্যবধানে অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। রাজস্ব তহবিলের ক্রমপুঞ্জিত ঘাটতি বেড়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

শনিবার (২৭ জুন) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট হলে অনুষ্ঠিত ৪৩তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বাজেটটি পাস হয়।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব বাজেট উপস্থাপন করেন। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ছিল ৩৪৮ কোটি ২৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। সে হিসাবে নতুন বাজেট বেড়েছে মাত্র ৪৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা।

বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট বরাদ্দের ২০১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বা ৫৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ রাখা হয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে। পণ্য ও সেবা (সাধারণ আনুষাঙ্গিক) খাতে বরাদ্দ ৭৮ কোটি ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বা ২২ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং পেনশন ও অবসর-সুবিধা খাতে ৩৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে এ তিন খাতেই ব্যয় হবে মোট বাজেটের প্রায় ৯১ শতাংশ।

অন্যদিকে যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ১১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে ৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে ২ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যানবাহন ক্রয়ে ২ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা খাতে ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে ৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল।

গবেষণা খাতে বরাদ্দ না রাখার বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘আগামী অর্থবছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমে সরাসরি অর্থায়ন করবে। সে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব বাজেটে এ খাতে আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়নি।

চার বছরে অর্ধেকে নেমেছে নিজস্ব আয়

বাজেটের রাজস্ব আয়ের হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উৎস থেকে আয় ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে প্রকৃত আয় ছিল ৭৪ কোটি ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৪৬ কোটি ১৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে নিজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩২ কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরেও একই পরিমাণ আয় ধরা হয়েছে। চার বছরের ব্যবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের পরিমাণ প্রায় ৫৭ শতাংশ কমেছে।

চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ, ঘাটতি প্রায় ১০০ কোটি
কোষাধ্যক্ষের লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৪১ কোটি ১ লাখ ৬১ হাজার টাকার বাজেট চেয়ে ইউজিসিতে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। তবে ইউজিসি অনুমোদন দিয়েছে ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯২ কোটি ৩২ লাখ টাকা কম বরাদ্দ পেয়েছে।

একই সঙ্গে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব তহবিলের ক্রমপুঞ্জিত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৯ কোটি ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা। কোষাধ্যক্ষ বলেন, প্রকৃত চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় একটি কল্যাণমুখী বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে। সরকারি বিধির বাইরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা, গবেষণা ভাতা, নৈশ ভাতা, গার্ড বোনাস, স্বাস্থ্য ও গোষ্ঠী বীমায় ভর্তুকি এবং ডাইনিং হলের অস্থায়ী কর্মচারীদের বেতন বহন করাও এ ঘাটতির অন্যতম কারণ।

জাকসুর পরিচালন বাজেট কমানোয় আপত্তি

বাজেটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদগুলোর পরিচালন ব্যয় কমানো নিয়ে সিনেটে আপত্তি জানান শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সদস্যরা। সংশোধিত বাজেটে জাকসুর পরিচালন ব্যয় ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা করা হয়েছে। একইভাবে ২১টি হল সংসদের পরিচালন বরাদ্দ ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা করা হয়েছে।

শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সদস্যরা বলেন, ’একদিকে জাকসু ভবন সংস্কারের জন্য ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, অন্যদিকে ছাত্র সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার বরাদ্দ প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। এতে নিয়মিত জাকসু পরিচালনা নিরুৎসাহিত হবে এবং এটি ছাত্র সংসদকে কার্যত অকার্যকর করার ইঙ্গিত দেয়।’

নতুন ইনস্টিটিউট নিয়ে বিতর্ক

সিনেটে প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড থিওলজির সংবিধি অনুমোদনের বিষয়েও আলোচনা ও বিতর্ক হয়। কয়েকজন সিনেট সদস্য অভিযোগ করেন, একাডেমিক কাউন্সিলে কোরাম সংকটের মধ্যে সম্পূরক এজেন্ডা হিসেবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছিল। পরে আলোচনা শেষে বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেট হয়ে একাডেমিক কাউন্সিলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

উপাচার্য তার ভাষণে বিশ্ববিদ্যালয়ে 'জাবিয়ান ট্র্যাক' নামে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দ পাওয়ার তথ্য জানান। তিনি বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ উচ্চশিক্ষা কমিশনে রূপান্তরের দাবিও জানান।

আমানউল্লাহ খান/খাদিজা রুমি/

দৌড়েই সেরে উঠলেন ওয়াসিম

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
দৌড়েই সেরে উঠলেন ওয়াসিম
ওয়াসিম।

গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াসিম। একসময় মার্শাল আর্ট ও ঢাকা ডিভিশন লেভেলে কাবাডি খেলা এই সাবেক অ্যাথলেটের জীবন ২০২৪ সালে হঠাৎ বদলে যায়। ফ্যাটি লিভার গ্রেড-২ এবং পাকস্থলীর ক্ষতের কারণে তার ওজন বেড়ে দাঁড়ায় ৯১ কেজিতে। শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি এটি ছিল তার জন্য এক গভীর মানসিক আঘাত।
সুস্থ জীবনে ফেরার তীব্র তাগিদ থেকে জিম ট্রেইনার রনি রাজের হাত ধরে ম্যারাথনের দুনিয়ায় পা রাখেন ওয়াসিম। আগারগাঁওয়ে লায়নস ক্লাবের ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটারের দৌড় ৭০ মিনিটে শেষ করার মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে দম ফুরিয়ে যাওয়া ও পায়ে টানের মতো তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা হলেও তিনি হাল ছাড়েননি।
মাত্র তিন মাসের নিয়মিত অনুশীলনে তার ওজন ৯১ কেজি থেকে ৭৭ কেজিতে নেমে আসে এবং লিভার ও পাকস্থলীর ক্ষত পুরোপুরি সেরে যায়। বর্তমানে তিনি ৬০ মিনিটের কম সময়ে এই দৌড় সম্পন্ন করতে পারেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের সুবিধাজনক সময়ে (সাধারণত সন্ধ্যায়) দৌড়ান ওয়াসিম।
ইতোমধ্যেই তিনি ‘ইন্সপায়ারিং বাংলাদেশ ইন্ডিপেন্ডেন্স রান’, ‘ঢাকা রান ২১কে’সহ প্রায় ৩৫টি ম্যারাথনে অংশ নিয়ে অসংখ্য মেডেল ও সার্টিফিকেট জিতেছেন। পেশাদার রানার হওয়ার লক্ষ্য না থাকলেও সুস্থ থাকার অটুট সংকল্প নিয়ে তরুণদের নিয়মিত দৌড় ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনে অনুপ্রাণিত করছেন ওয়াসিম।

স্মৃতির ক্যানভাসে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:১০ পিএম
স্মৃতির ক্যানভাসে সাগরকন্যা কুয়াকাটা
কুয়াকাটায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (খুবিসাস) সদস্যরা।

ক্যাম্পাসের চেনা অ্যাসাইনমেন্ট আর খবরের পেছনে ছোটাছুটির যান্ত্রিক ব্যস্ততাকে ছুটি দিয়ে ২৩ এপ্রিল গভীর রাতে শুরু হয়েছিল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (খুবিসাস) বার্ষিক ট্যুর। রাতের অন্ধকার চিরে আমাদের গাড়ি ছুটে চলল সাগরকন্যা কুয়াকাটার উদ্দেশে। ২৪ এপ্রিল ভোরে যখন পৌঁছালাম, সমুদ্রের নোনা হাওয়া নিমেষেই দূর করে দিল দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি।

 


হালকা কুয়াশা আর মেঘের আড়ালে লুকানো সূর্যের মায়াবী রক্তিম আভা উপভোগ করতে আমরা প্রথমে ছুটে গেলাম গঙ্গামতির বাঁকে। সূর্যোদয়ের পর ঘুরে দেখলাম গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন ও লাল কাঁকড়ার চর। দূর থেকে মনে হচ্ছিল বালুর বুকে যেন লাল ফুল ছড়িয়ে আছে। এরপর মেতে উঠলাম কাঙ্ক্ষিত সমুদ্র স্নানে। সাগরের নীল জলরাশি আর বিশাল ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালীতে সমিতির বর্তমান, সাবেক ও অনুজ সদস্যরা যেন শৈশবে ফিরে গিয়েছিলাম।
দুপুরের ভূরিভোজ ও বিশ্রামের পর বিকেলের নরম আলোয় আমরা রওনা হলাম লেবুর চর, ঝাউবন ও তিন নদীর মোহনার উদ্দেশে। একদিকে ঝাউবনের সাঁই সাঁই শব্দ, অন্যদিকে নদীর মোহনায় আছড়ে পড়া ঢেউয়ের মাঝে লাল সূর্যের ডুবে যাওয়ার দৃশ্য এক মায়াবী প্রশান্তি ছড়িয়ে দিয়েছিল। আর রাত নামতেই সমুদ্রের গর্জনকে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বানিয়ে আকাশের নিচে শুরু হলো ফিশ বার্বিকিউ পার্টি। কয়লার আগুনে পোড়া মাছের সুবাস, গান আর আড্ডায় রাতটি উৎসবে পরিণত হয়। পরদিন ২৫ এপ্রিল আমরা গেলাম রাখাইন পল্লীতে। 
কুয়াকাটা নামের উৎপত্তির পেছনে থাকা কেরানীপাড়ার সেই ঐতিহাসিক প্রাচীন কুয়া এবং মিশ্রিপাড়ার উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় (৩৫ ফুট উচ্চতার) বৌদ্ধ মূর্তিটি ঘুরে দেখলাম। রাখাইন নারীদের নিপুণ হাতের তাঁত বোনা ও তাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের ভ্রমণকে দারুণভাবে সমৃদ্ধ করে।
সব সুন্দর গল্পেরই শেষ থাকে। ২৫ এপ্রিল বিকেলে সাগরের বিশালতাকে বিদায় জানিয়ে আমাদের গাড়ি আবার খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়। যান্ত্রিক জীবনে ফিরলেও গঙ্গামতির মেঘলা সকাল, ঝাউবনের হাওয়া আর রাতের বার্বিকিউয়ের স্মৃতি খুবিসাসের সবার মনে জমা থাকবে দীর্ঘকাল।