টানা ১৩ কার্যদিবস ক্রেতাসংকটে থাকার পর গতকাল রবিবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বেক্সিমকো। ক্রেতা ফেরায় কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে। সেই সঙ্গে সার্বিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে বেড়েছে মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে লেনদেন বেড়ে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। বেড়েছে মূল্যসূচক। তবে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। এর মাধ্যমে টানা চার কার্যদিবস উভয় বাজারে মূল্যসূচক বাড়ল।
এর আগে টানা ১৩ কার্যদিবস ক্রেতাসংকটে পড়ে বেক্সিমকোর শেয়ার। গতকাল লেনদেনের শুরুতে বেক্সিমকোর শেয়ারের ক্রেতাসংকট দেখা দেয়। এতে টানা ক্রেতাসংকটে পড়ে বেক্সিমকোর শেয়ারের দাম ১১০ টাকা ১০ পয়সা থেকে ২৫ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে যায়। তবে গতকাল ক্রেতা ফেরায় দাম কমার সর্বনিম্ন সীমা থেকে দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমায় উঠেছে বেক্সিমকো।
বেক্সিমকোর এমন ঘুরে দাঁড়ানোর দিনে সার্বিক বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। দাম কমেছে ১৩৩টির এবং ৪৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। ৭০টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৩৩টির এবং ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৩০টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৪টির দাম বেড়েছে। ৬টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স তার আগের দিনের তুলনায় ৬৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে। বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তার আগের দিনের তুলনায় ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৬২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৭১ কোটি ৩ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ১১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। লেনদেন বেড়েছে ২৬০ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১০৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার। ৪০ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইটি কনসালট্যান্ট।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ড্যাফোডিল কম্পিউটারস। কোম্পানিটির শেয়ার দর তার আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৬ টাকা ৫ পয়সা বা ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমেছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স পিএলসির শেয়ার দর ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো ন্যাশনাল ফিড মিল, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, এসকে ট্রিমস, তুং হাই নিটিং, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস লিমিটেড ও রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২০৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৮টির দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৬১টির এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, গত ১৫ বছরে দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার ছিল অত্যন্ত কম। গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে শিল্পকারখানাগুলো পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারেনি। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। দেশে আয়বৈষম্য বেড়েছে। দেশের কলকারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে। অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটাতে গ্যাসসংকট সমাধানে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
গতকাল রবিবার আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) মিলনায়তনে এসএমই ফাউন্ডেশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উইমেন এন্টারপ্রেনিউর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব) এর প্রেসিডেন্ট নাসরিন ফাতেমা আউয়াল ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বাংলাদেশের প্রধান ম্যাক্স টুনন। এতে অংশগ্রহণ করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন প্রতিনিধি ও সরকারি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের নাজিম আহমেদ সাত্তার ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে এমএসএমই খাতের অবদান ৩৪ শতাংশ। অর্থনীতির প্রাণ হিসেবে পরিচিত এই খাত যত বেশি গতিশীল হবে, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিও তত বেশি ত্বরান্বিত হবে। এই খাতের টেকসই সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) বিদ্যমান শিল্পনগরীগুলোর পাশাপাশি আরও নতুন নতুন আধুনিক শিল্প পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি সুদূরপ্রসারী প্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছি। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে। বিসিকের মাধ্যমে পাবনা, সিলেট ও নীলফামারীর সৈয়দপুরে নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব শিল্প পার্কে প্লট শেষ হয়ে গেছে, সেখানে নতুন করে ফিজিবিলিটি স্টাডি করে আরও পার্ক করা হবে।’
নাসরিন ফাতেমা উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তির সঙ্গে আরও বেশি সংযুক্ত থাকতে হবে। আমদের উদ্যোক্তারা প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবসায় অবদান রাখে। তারা ৭০ ভাগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। আমাদের দেশের সমগ্র শিল্পের প্রায় ৯৮ শতাংশ এমএসএমই। ইকোনমিক সেন্সাস ২০২৪ অনুযায়ী বাংলাদেশে এক কোটি ১৮ লাখ উদ্যোক্তা রয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখই এসএমই উদ্যোক্তা। দেশে প্রায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা যারা প্রায় ৫০ শতাংস কর্মসংস্থান তৈরি করছে এবং সেখানে মোট এসএমইর প্রায় ৮৭ শতাংশ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। এসএমই উদ্যোক্তারা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।’
শিল্পসচিব আব্দুন নাসের বলেন, “এই খাতের সবচেয়ে বড় শক্তি আমাদের ফ্যাশন হস্তশিল্প ইন্ডাস্ট্রিতে বিপুলসংখ্যক নারী উদ্যোক্তা ও নারীকর্মী কাজ করছেন। তারা শুধু পণ্য উৎপাদন করেন না, এটি আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেন। আজ বিশ্বজুড়ে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক খাত হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের এই খাতে অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে। জামদানি, টাঙ্গাইল শাড়ি, রাজশাহী সিল, নকি পাখা, শীতল পাটি, বাস ও বেতের পণ্য কিংবা আমাদের অসংখ্য দেশীয় এসব পণ্য বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিচয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। বর্তমান সরকারের নির্বাচন ইশতেহারে ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন দেশীয় শিল্পের বিকাশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং দেশীয় ব্রান্ডকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার আমরা বিশ্বাস করছি। এই অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন বাংলাদেশের এসএমই ও ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”
এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসএমই ফাউন্ডেশন প্রায় ২২ লক্ষাধিক উদ্যোক্তাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সেবা প্রদান করেছে। যাদের মধ্যে আড়াই লক্ষাধিক সরাসরি সুবিধাভোগী উদ্যোক্তা এবং ৬০ শতাংশ নারী-উদ্যোক্তা। এসএমই ফাউন্ডেশন ২০০৯ সাল থেকে ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির মাধ্যমে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা প্রায় ১৫ হাজার উদ্যোক্তার মাঝে বিতরণ করেছে। যাদের অন্তত ২৫ শতাংশ নারী-উদ্যোক্তা। এসএমই ফাউন্ডেশন সারা দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করছে, উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে, উদ্যোক্তাদের ব্যবসাকে প্রযুক্তি ও আইসিটি-বান্ধব করে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে, উদ্যোক্তাদের পণ্যের বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ, প্রচার-প্রসারে কাজ করছে, উদ্যোক্তাদের নীতিগত-সহায়তা প্রদান করছে, বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের সঙ্গে অ্যাডভোকেসি করছে। তবে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার কারণে সারা দেশে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। এমতাবস্থায়, এসএমই ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের সদয় মনোযোগ ও সহায়তা দরকার।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের জামানতবিহীন ঋণনীতি থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোর জটিল প্রক্রিয়ার কারণে অধিকাংশ নারী উদ্যোক্তা প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের মোট ঋণের একটি বড় অংশ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কাগজপত্রের জটিলতায় তা উচ্চপর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না। নারী উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে স্বল্প সুদে এবং অত্যন্ত সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক ঋণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পণ্য বাজারজাতকরণে কাজ করা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তির এই যুগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়াতে হবে। ই-কমার্সের মাধ্যমে দেশীয় পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। এসএমই খাতের পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সরকার শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং নতুন নতুন বাজার খোঁজার চেষ্টা করছে। আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমাদের এসএমই খাত তৈরি পোশাক খাতের মতোই বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২৭ জুন পর্যন্ত দেশে ৩৫ দশমিক ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৩০ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ থেকে ২৭ জুন এই তিন দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ১৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।
চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম ২৭ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক ৪৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ২ দশমিক ৪৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে ২৭ জুন পর্যন্ত জুন মাসের রেমিট্যান্স প্রবাহে বছরওয়ারি হিসাবে ১ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
তবে, জুন মাসে সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছর জুড়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য অবদানের ফলে আগের অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
রিফাত/
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৮২ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৪১ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪০ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।
অন্তরা/
দিন দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়াও পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে আমাদের দেশের মুদ্রা বিনিময় করতে হয়।
একটা বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। আমরা প্রতিদিন সর্বশেষ বিনিময় হার তুলে ধরছি। আরও বিস্তারিত জানতে স্থানীয় ব্যাংক বা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা বা তাদের ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।
| মুদ্রা | ক্রয় (টাকা) | বিক্রয় (টাকা) | বাড়ল/কমল |
| ইউএস ডলার | 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত | 122.75 (ব্যাংক নির্ধারিত | -- |
| ইউরো | 139.40 | 139.44 | -0.3 |
| ব্রিটেন পাউন্ড | 161.60 | 161.66 | -0.46 |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | 84.68 | 84.73 | -0.18 |
| জাপানি ইয়েন | 0.75 | 0.75 | -- |
| কানাডিয়ান ডলার | 86.23 | 86.24 | -0.12 |
| সুইস ক্রোনা | 12.57 | 12.61 | -0.03 |
| সিঙ্গাপুর ডলার | 94.58 | 94.67 | -0.06 |
| চায়না ইউয়ান | 18.01 | 18.0186 | -0.05 |
| ইন্ডিয়ান রুপি | 1.29 | 1.29 | -- |
| সৌদি রিয়াল | 32.58 | 32.89 | -- |
| আরব আমিরাত দিরহাম | 33.32 | 33.60 | -- |
সূত্র: (বাংলাদেশ ব্যাংক)
নাঈম/