এক সময় বিশ্বকাপে ইউরোপের বড় দলগুলোর বিপক্ষে আফ্রিকার সাফল্যকে বলা হতো অঘটন। এখন সেই ধারণা বদলে গেছে। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া মরক্কো ২০২৬ আসরেও প্রমাণ করেছে, তাদের উত্থান ক্ষণিকের নয়। আর এবার রাউন্ড ৩২-এ তাদের সামনে ইউরোপের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শক্তি নেদারল্যান্ডস। একদিকে শতবর্ষের ফুটবল ঐতিহ্য, অন্যদিকে নতুন এক পরাশক্তির আত্মপ্রকাশ– দুই মহাদেশের শক্তির এই লড়াই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে যাচ্ছে। আগামীকাল (৩০ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় মন্টেরেতে গড়াবে ম্যাচটি।
গ্রুপপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে নকআউটে এসেছে নেদারল্যান্ডস। তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট ডাচদের। শুরুটা হয়েছিল জাপানের সঙ্গে ২-২ ড্র দিয়ে। এর পর সুইডেন ও তিউনিসিয়াকে টানা হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় শেষ করেছে প্রথম পর্ব। রোনাল্ড কোম্যানের দল গ্রুপপর্বে ১০ গোল করেছে। আর ‘সি’ গ্রুপে সাত পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে উঠেছে মরক্কো। পয়েন্ট সমান, শুধু গোল ব্যবধানে ব্রাজিলের পেছনে ছিল অ্যাটলাস লায়ন্সরা। টুর্নামেন্টের শুরুতেই ব্রাজিলের সঙ্গে ১-১ ড্র করে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয় তারা। পরে স্কটল্যান্ডকে ১-০ এবং হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দাপটের সঙ্গে জায়গা করে নেয় নকআউটে।
দুই শিবিরে চোটের থাবা পড়েনি। বরং ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন ডেঞ্জেল ডামফ্রাইস ও ব্রায়ান ব্রবে। দুজন ফেরায় শক্তি বেড়েছে ডাচদের। ফলস্বরূপ শক্তিশালী একাদশ নিয়েই মাঠে নামতে পারবে নেদারল্যান্ডস। মিকি ফন ডি ভেনের ফেরা ডাচদের রক্ষণে আরও ভারসাম্য দেবে। মরক্কোর জার্সিতে আলো ছড়াচ্ছেন ইসমায়েল সাইবারি। এবারের বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে তিন গোল করে দারুণ ফর্মে আছেন তিনি। তার সঙ্গে আক্রমণে থাকবেন আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজ। মাঝমাঠে আজেদিনের উপস্থিতি ম্যাচের গতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
দুই ভিন্ন মহাদেশের দল হওয়ায় বিশ্ব ফুটবলে দুই দলের শক্তি পরীক্ষার সুযোগ খুব একটা হয়নি। তার পরও তিনবার মুখোমুখি হয়েছে তারা। দুবার প্রীতি ম্যাচে, একবার বিশ্বকাপে। ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপের লড়াইয়ে মরক্কোকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। পাঁচ বছর পর প্রীতি ম্যাচে একই ব্যবধানে জয় পেয়েছিল মরক্কো। ১৮ বছর পর ২০১৭ সালে নেদারল্যান্ডস প্রীতি ম্যাচে হারের প্রতিশোধ নেয় ২-১ গোলে হারিয়ে।
ইতিহাস এবং গ্রুপপর্ব পেছনে ফেলে এখন উভয় দলের এগিয়ে যাওয়ার পালা। শিষ্যদের এটাই মনে করিয়ে দিয়েছেন ডাচ কোচ কোম্যান, ‘মরক্কোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট তারা। চমৎকার ফুটবল খেলছে দলটি।’ নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক ভার্জিল ফন দাইক বলেন, ‘ক আউট মানেই ভিন্ন চাপ। মরক্কো বিপজ্জনক দল। আমাদের প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকতে হবে।’
অপরদিকে মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওহবি বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস শীর্ষ দলগুলোর একটি। তাদের বিপক্ষে খেলতে বিশেষ পরিকল্পনা দরকার। কিন্তু আমরা ভয় পাচ্ছি না। ব্রাজিলের বিপক্ষে আমরা প্রমাণ করেছি, যে কোনো দলের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য আমাদের রয়েছে।’
অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস শক্তিশালী। কিন্তু আমরা আত্মবিশ্বাসী। আফ্রিকার কোটি সমর্থক আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা তাদের গর্বিত করতে চাই।’