ঢাকা ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তিন মাসের সন্তানকে নিয়ে ইইউর বৈঠকে সুইডিশ মন্ত্রী যুগ্ম সচিবে পদোন্নতি শিগগির এইচএসসি পরীক্ষার জন্য এসএমপির গণবিজ্ঞপ্তি ‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পে রেকর্ড গড়ল চীনের সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়-বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা সিরাজদীখানে অগ্নিকাণ্ডে ২ দোকান পুড়ে ছাই হাসপাতালে ভর্তি দীপু মনি ওমেরা এলপিজির ব্যতিক্রমী রিটেইলার ক্যাম্পেইনের গ্র্যান্ড উইনার্স নাইট অনুষ্ঠিত সংসদে দুটি বিল উত্থাপন, যাচাই-বাছাইয়ে কমিটিতে প্রেরণ মাইক্রোবাসে গরু চুরির চেষ্টা, অটোচালকের বুদ্ধিতে ধরা ২ চোর দলের ব্যর্থতায় সৌদির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির পদত্যাগ চাকরি দেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গ্রামীণ নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে কর্মসূচি নিয়েছে সরকার: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী পড়ে পাওয়া গল্পের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের ডাবল ট্যাপ হামলা, শিশুসহ নিহত বেড়ে ৩৫ জাতীয় সংসদে সময় নির্ধারণে বৈষম্যের অভিযোগ জামায়াতের রাজবাড়ীতে রেললাইনে ট্রাক, ট্রেনের সি‌ডিউল উলটপালট জাপানের বিপক্ষে নেইমার খেলবেন কি? যা জানালেন আনচেলত্তি জাপান ম্যাচের আগে সতর্ক ব্রাজিল অর্থবছর পরিবর্তনের প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার দিনাজপুর বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখুন করিডর : বিশিষ্টজনের অভিমত ভাঙ্গায় স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দিলেন স্ত্রী, জোড়া লাগার সম্ভাবনা নেই সোনারগাঁয় রাস্তা দখল করে ঘর তৈরির অভিযোগ, ১০ পরিবার অবরুদ্ধ করিডর নিয়ে আলোচনা ঢল ও বৃষ্টিতে ফুঁসছে তিস্তা, প্লাবিত হচ্ছে নীলফামারীর নিচু এলাকা সারাদেশে কালেমার পতাকা: নানা প্রশ্ন বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই পার্কিং ভাড়া দিলে ভবনের হোল্ডিং নম্বর জব্দ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হবে: কুসিক প্রশাসক

ত্রিদেশীয় অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখুন

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১১:৪১ এএম
দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি নতুন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কৌশলগত সম্পর্কের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ সফরে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের যৌথ ঘোষণায় দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতে ‘টু প্লাস টু’ কৌশলগত সংলাপ চালুর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও বাড়বে।  তবে এই সফরের সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় বেইজিংয়ের ডিরেক্ট কানেকটিভিটি বা সরাসরি সংযোগের প্রস্তাব। বাংলাদেশ থেকে মায়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তুলতে চায় বেইজিং। এই করিডরের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ব্যাপ্তি বাড়ানো এবং বহুমুখী পরিবহনব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও কার্যকর করা। এটি সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় ও সময় কমবে।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতাও রয়েছে। এই সফরের ফলে সেই সহযোগিতাগুলো নতুন মাত্রা পাবে। নতুন নতুন ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতার সম্ভাবনা বাড়বে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এবং সামরিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ উদ্যোগের আওতায় দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার আলোচনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে মায়ানমারকে আলোচনায় আনতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। মায়ানমারের ওপর দিয়ে এই সংযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ সরাসরি যুক্ত হবে চীনের মূল অর্থনীতি এবং আসিয়ান জোটের শক্তিশালী বাজারগুলোর সঙ্গে।

চীন-মায়ানমার-বাংলাদেশ ইকোনমিক করিডর প্রস্তাবের বিষয়ে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এক বৃহৎ কানেকটিভিটি। অর্থনৈতিক কানেকটিভিটিকে কাজে লাগানোর উপায় নিয়ে আগে থেকে ভাবতে হবে। এর সঙ্গে মায়ানমারের রাখাইনের অর্থনৈতিক উন্নয়নও জড়িত। এটি হলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সহজ হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, সফরে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, সেগুলো যদি বাস্তবায়ন করতে পারে সরকার, তাহলে সফরকে ইতিবাচক বলা যাবে। আর যদি অন্য পরাশক্তির চাপে বাস্তবায়ন না করতে পারে, তাহলে সফরকে ইতিবাচক বলার সুযোগ নেই। এখানে চীন দেখার চেষ্টা করছে, বাংলাদেশ সরকার এসব চুক্তি বাস্তবায়ন করতে কতটা সক্ষম। বাংলাদেশ সরকার যদি সেই সক্ষমতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, তাহলে ঢাকা-বেইজিং সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক এই সফর কতটা সফল বা ব্যর্থ, তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে; তেমনি বিশেষজ্ঞ পর্যায়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই সফরে ঢাকা-বেইজিং কতটা কাছাকাছি এল বা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের জন্য কতটা চিন্তার কারণ হলো, তা নিয়েও চলছে নানা জল্পনাকল্পনা। বাংলাদেশকে এ নিয়ে নেতৃত্বের দক্ষতা ও সক্ষমতার পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে হবে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে ত্রিদেশীয় অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা চলতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, কূটনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ কাজে লাগানো যেতে পারে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গেও অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে আলোচনা করতে পারে সরকার। ইতোপূর্বে ভারতের করিডর ব্যবহার করে নেপালে পণ্য পরিবহনের ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে তাদের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও দৃঢ় হোক, সেটিই প্রত্যাশা।

ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত পদক্ষেপ কাম্য

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১২:০১ পিএম
আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত পদক্ষেপ কাম্য

বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে, সেই সঙ্গে বেড়েছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। চলতি বছর দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিষয়টি খুবই শঙ্কার। আগাম প্রস্তুতি না নিলে সারা দেশে এর প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে। প্রকৃতিতে রোদ-বৃষ্টি আর উষ্ণায়নের কারণেই দীর্ঘ হচ্ছে ডেঙ্গুর প্রজননের সময়। এ সময়টাতে বৃষ্টি বেশি হওয়ায় এডিসের লার্ভা জন্মায় এবং এডিস মশায় আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ডেঙ্গু প্রতিরোধের ওপর কাজ শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠান বা বাড়ি পরিদর্শন করে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করার জন্য সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করেছে। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ‘ফিল্ড হাসপাতাল’ তৈরি রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রয়োজনে কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সিডিসি, আইইডিসিআর, এমআইএস ও হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের নিয়ে একটি সেল গঠন করা হয়েছে।

সাধারণত এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই মাসগুলোতে ডেঙ্গু রোগী বেশি হয়। অক্টোবরের দিকে এসে এটি কমতে থাকে। তবে এখন ডেঙ্গু শুধু মৌসুমের রোগ নয়, এটি সারা বছরের একটি রোগ। জনস্বাস্থ্যবিদদের ধারণা, বর্ষা শেষ হওয়ার এক-দেড় মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু বাড়তে পারে। সাধারণত জুলাই-আগস্ট মাসে ডেঙ্গু ‘পিকে’ থাকে বা সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা দেয়। তবে সরকার জোরালো কোনো কর্মসূচি না নিলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অক্টোবরের পরও প্রলম্বিত হতে পারে। এডিস মশার ডিম পাড়ার জায়গাগুলো ধ্বংস করতে হবে। ডেঙ্গু এখন শুধু শহরে সীমাবদ্ধ নয়, গ্রাম পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে ডেঙ্গু রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে। একসময় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হতো শুধু রাজধানী ঢাকাতেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ সংক্রমণের দেশব্যাপী বিস্তার ঘটেছে। 
জুনের প্রথম সপ্তাহের তথ্যে বলা হচ্ছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতেই এডিস মশার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি ছিল। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর জন্য ‘চরম ঝুঁকিপূর্ণ’।

মশা বৃদ্ধির উপযুক্ত পরিবেশ মশার ভাইরাস বিস্তারের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। তাই মশার বংশবিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। ডেঙ্গুর চিকিৎসা দেরিতে হলেও প্লাটিলেট কমে যায় এবং মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। তাই ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুঝুঁকি কমানোর একমাত্র উপায় মশার বংশবিস্তার রোধ করা। এ ক্ষেত্রে কীটতত্ত্ববিদদের পরামর্শ কাজে লাগাতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে নাগরিকদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে। জেলা বা গ্রাম পর্যায় থেকে যারা রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গু চিকিৎসা নিতে আসেন, অনেক সময় চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে পরিবারগুলোকে হিমশিম খেতে হয়। বেশি সংক্রমণ এলাকায় জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখতে হবে; যাতে রাজধানীর হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ না পড়ে। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসায় সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকারগুলোর জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ও কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

পণ্যের মান ও বৈচিত্র্যকরণে পদক্ষেপ নিন বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যঘাটতি

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যঘাটতি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীন সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ সফরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহুমাত্রিক। এর মাধ্যমে বিএনপি সরকার একরৌখিক পররাষ্ট্রনীতি থেকে বের হয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির পথে চলতে শুরু করেছে। ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতির নতুন সমীকরণে সরকারের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশ চীনের সরাসরি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর জোর দিচ্ছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে চীনে তাদের প্রথম বৈদেশিক অফিস খোলার ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, রপ্তানিকারক, প্রবাসী বাংলাদেশি, অর্থনীতির বিশ্লেষকসহ অনেকে এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সবাই চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে কাজ করতে চায়। বাংলাদেশ যদি একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে, তাহলে বড় ধরনের চীনা বিনিয়োগ এ দেশে আনা সম্ভব হবে। 

চীন সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে চীন ৯৮ শতাংশেরও বেশি বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে। এ সুবিধার আওতায় এসব পণ্য চীনে রপ্তানির পরিমাণ বহু গুণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকারীদের কারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করতে হবে। চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে উৎপাদিত পণ্য চীনে রপ্তানি করে ঘাটতি কমানো সম্ভব। 

শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যে চীন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্র। বাংলাদেশের সঙ্গেও দেশটির বহুমুখী বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিবাচক হলেও বাংলাদেশের বাণিজ্যঘাটতি থেমে নেই। এ ঘাটতি প্রতিনিয়তই বাড়ছে। তাই সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘাটতি কমাতে চীন থেকে আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বাড়াতে হবে। তথ্য মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে চীনের রপ্তানি প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের, বিপরীতে চীন থেকে আমদানি ১৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এই বিশাল বাণিজ্যঘাটতি কমাতে চীনের বাজারে যথাযথ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। 

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, চীন-বাংলাদেশ বাণিজ্যঘাটতি কমাতে হলে চীনে রপ্তানি বাড়াতে হবে। এজন্য বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। চীনের বাজারে পণ্যের চাহিদা বাড়াতে হলে পণ্যের গুণগত মান, পণ্য বৈচিত্র্যকরণে মনোযোগ বাড়াতে হবে। বিশ্ববাণিজ্যে শীর্ষ এই দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি কমানো যথেষ্ট কঠিন। 

বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যঘাটতি বেড়েই চলেছে। এ ঘাটতি দূরীকরণে স্থানীয় পণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। 

আন্তর্জাতিক মানের পণ্য রপ্তানি করতে হবে অর্থাৎ পণ্যের মাননিয়ন্ত্রণ, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং বিপণন নেটওয়ার্ক বাড়াতে হবে। যাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনা যায়। এ ছাড়া শিল্প খাতে যেসব কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে সেগুলো কাটিয়ে উঠতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। রপ্তানিমুখী শিল্পকে গতিশীল করতে গবেষণা বাড়াতে হবে। আমরা আশা করছি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যঘাটতি এবং অর্থনৈতিকসংকট দূরীকরণে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১২:৩২ পিএম
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি

চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ১৭তম বার্ষিক সভা (২৩-২৫ জুন) ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ এই সভার শেষ দিন। গত পরশু এই ফোরামেরই ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন আ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক সংহতি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরেন। 
জলবায়ু সংকট বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান সমস্যা। মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আবহাওয়া ও প্রকৃতিতে ঘটে চলেছে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর পরিবর্তন। ভৌগোলিক অবস্থান, নিচু বদ্বীপ অঞ্চল এবং ঘনবসতির কারণে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। জলবায়ু সংকট এখানে দূরবর্তী আশঙ্কা নয়, প্রতিদিনের বাস্তব সংকট। প্রায় এক দশক ধরে এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে। জলবায়ু মোকাবিলায় বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগ ও নেতৃত্ব প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ কেবল সাহায্যপ্রার্থী নয়, বরং জলবায়ু অভিযোজনে নিজের সক্ষমতা ও টিকে থাকার লড়াইয়ের কারণে গ্লোবাল লিডার হিসেবে স্বীকৃত।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও উপকূল প্লাবন (দক্ষিণাঞ্চল), উপকূলীয় এলাকার স্থায়ী ভূখণ্ডের বিলুপ্তি, জলবায়ু উদ্বাস্তু, লবণাক্ততা ও সুপেয় পানির সংকট, কৃষিতে ধস, স্বাস্থ্যঝুঁকি, আকস্মিক বন্যা ও নদীভাঙন, হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা, তীব্র খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস, মরুকরণ ও শস্যহানি, তীব্র তাপপ্রবাহ ও শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, রোগব্যাধির বিস্তার ইত্যাদি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। দালিয়ানে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করা হবে, আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এ সময় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন-পুনর্খনন, পদ্মা ও তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ, সবুজ শিল্পের বিকাশে পাটশিল্প ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক ভেহিকেল চালু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথা জানান।
এই সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, অধিকতর বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে সংযুক্ত করা। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি আস্থাশীল ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তারেক রহমান এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করলেন। বাংলাদেশ জলবায়ু সমস্যাসংক্রান্ত যে লক্ষ্যের কথা তিনি এই সামার দাভোসে তুলে ধরেছেন, আশা করা যায়, সেই লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে অর্জিত হবে। দালিয়ান সম্মেলনে প্রযুক্তি উদ্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বৈশ্বিক এই ফোরাম। বৈঠকে এশিয়ার উদ্ভাবনীর কেন্দ্রে থাকবে ‘ইকোসিস্টেম’ বা প্রকৃতিকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়। এশিয়ার অগ্রগতি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তির নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভুক্তভোগী দেশগুলোর নেতারা।

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই সময়ে বৈঠকটি বাস্তবসম্মত সমাধানের ওপর আলোকপাত করার যে সুযোগ সৃষ্টি করেছে, বাংলাদেশকে তা গ্রহণ করতে হবে। জলবায়ু সংকট একদিনে যেমন সৃষ্টি হয়নি, তেমনি দু-তিন বছরে এসব সংকটের সমাধান হবে না। পূর্বর্বতী সরকারের যেসব উদ্যোগ ইতিবাচক ছিল, সেসবও লক্ষ্য হিসেবে বর্তমান সরকার নিজের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। ঐক্যবদ্ধ বৈশ্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও সমগ্র জাতিকে এই সংকট দূর করার বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও দালিয়ানে বলেছেন, সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য সবাই মিলে সবুজ, নিরাপদ, টেকসই এবং আরও ন্যায়সংগত ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে। জাতি হিসেবে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের এ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তবে একক কোনো দেশ নয়, যারা প্রধানত দায়ী, সেই ধনী দেশগুলোকে উন্নত প্রযুক্তি ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেই আমাদের পৃথিবী রক্ষা পেতে পারে।

ইরান যুদ্ধ ও শান্তিচুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ হোক

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ হোক

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে বড় রকমের অগ্রগতি হয়েছে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হলো। স্থায়ীভাবে যদি না-ও হয়, আপাতত যে বড় রকমের সংঘাতের সম্ভাবনা নেই, সেটা নিশ্চিত করে বলা যায়। এর কারণ দেশ দুটি প্রাথমিকভাবে এমন একটি চুক্তিতে সই করেছে, যার প্রভাবে আপাতত যুদ্ধের দামামা বাজবে না মধ্যপ্রাচ্যে।

চুক্তির বিষয়টি যদিও পূর্ণাঙ্গ রূপে কোনো পক্ষই প্রকাশ করেনি, তবে যেটুকু গণমাধ্যমে এসেছে, তাতে প্রাথমিক এই চুক্তির লক্ষ্য হচ্ছে আপাতত যুদ্ধ বন্ধ করা এবং স্থায়ী কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া। বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনার পর ১৭ জুন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে দেশ দুটি এই চুক্তিতে সই করে। চুক্তির শর্ত অনুসারে যুদ্ধ শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে বন্ধ থাকবে না, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হয়েছে তারা। চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিন ধরে আলোচনা করবে। তবে সেই স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর আগেই এমন কিছু সিদ্ধান্তের কথা জানা যাচ্ছে, যা আগে কখনো ঘটেনি।

 যুদ্ধ, তা যে ধরনেরই হোক, তাতে ক্ষয়ক্ষতি হবেই। এই যুদ্ধেও তা-ই হয়েছে। উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪০ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরান সরকারের হিসাবেই দেখা যাচ্ছে, তাদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার। আল-জাজিরা গত মার্চে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে ৩ হাজার ৫১৯ জন নিহত হন। আহত হন ২৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় হাজার হাজার মানুষ নিহত ও লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

একইভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো ও ইসরায়েল। ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় অন্তত এক ডজন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং মিত্র দেশগুলোর অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ছিল সবচেয়ে বড় ঘটনা। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বিশ্ববাজারকে কাঁপিয়ে দিলে তেলের দাম বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে সেভাবে কাবু করতে পারেনি, যেমনটা তারা চেয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের পত্রপত্রিকাতেই স্বীকার করা হচ্ছে, ইরানে যুদ্ধ বাধিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চরম ভুল করেছেন। এই যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর অভিঘাত আগামী বহু বছর যুক্তরাষ্ট্রকে ভোগাবে। যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জন করবে এবং ইরানকে ‘শর্তহীন আত্মসমর্পণ’ করতে হবে। তিনি ইরানে সরকার পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু এর কোনোটিই ঘটেনি। ইরানে কট্টরপন্থি সরকার বহাল আছে। পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আগামী দুই মাস আলোচনা হবে।

সব মিলিয়ে চার মাসের এই যুদ্ধে ইরানের বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হলেও দেশটি কৌশলগত বিজয় অর্জন করেছে। ইরানের জব্দ হওয়া সম্পদ ছেড়ে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সম্পদ অবমুক্ত হলে ইরান সেই সম্পদ দিয়ে পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হবে। একইভাবে ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বিক্রির ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। এতে ইরানের বিপর্যস্ত অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। 
পরিস্থিতি এমন যে অবিশ্বাস থাকলেও উভয় পক্ষই খুশি। তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠবে আমাদের মতো পৃথিবীর অবশিষ্ট দেশগুলোর জন্য। এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আবারও স্বাভাবিক হবে। তেলের দাম যেভাবে বেড়ে গিয়েছিল, তাতে আকস্মিকভাবে আমাদের জ্বালানি পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বাংলাদেশের কয়েক লাখ মানুষ কাজ করেন। তারা জীবন ও কাজের অনিশ্চয়তায় ছিলেন। এখন যুদ্ধের আশঙ্কা না থাকায় তারা আবার স্বাভাবিকভাবে কাজ করে যেতে পারবেন। শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হওয়ারও সম্ভাবনা বাড়বে। আমাদের অর্থনীতির যে ধমনি রেমিট্যান্স, তার প্রবাহও স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা যায়।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাময়িক’ চুক্তি ‘স্থায়ী’ চুক্তিতে পরিণত হোক। এ জন্য যা যা করণীয় তা এই দেশ দুটি করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। বিশ্বের মানুষ প্রকৃতপক্ষে শান্তি চায়। শান্তিতেই সমৃদ্ধি।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর বহুমাত্রিক সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:০০ পিএম
বহুমাত্রিক সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করেন। গতকাল সোমবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রথমে তিনি একান্ত বৈঠক করেন, এরপর তাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠকের পর উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ-সংক্রান্ত  দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দলিল দুটি বিনিময় করেন। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতবিনিময় হয়। আলোচনায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য শ্রমবাজার আবার উন্মুক্তকরণ, বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিতকরণ ও ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন, বাংলাদেশের আম, ফলমূল ও শাকসবজির জন্য মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদন, রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে  শ্রমবাজারের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমি-কন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের বিশ্বস্ত সহযোগী ও অংশীদার। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ফের মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার প্রত্যাশা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, রপ্তানিকারক, প্রবাসী বাংলাদেশি, অর্থনীতির বিশ্লেষকসহ অনেকে।

 অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দূর করতে হলে দেশটিতে রপ্তানি বাড়াতে হবে। বিশেষভাবে শ্রমশক্তি রপ্তানিতে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। বহুদিনের আলোচিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর সফল হলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়বে বলে আশা করছেন তারা। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে বিদ্যমান সব বাধা দূর করতে হবে। হালাল অর্থনীতিতে বৈশ্বিক বাজারে অন্যতম রাষ্ট্র হিসেবে মালয়েশিয়ার অবস্থান রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার বাজারে হালাল খাদ্য, মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে। এসব সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে মালয়েশিয়ায় বিশাল হালাল বাজারের অংশীদার হওয়ার সুযোগ আছে। মালয়েশিয়া খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে দেশটির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক কর্মী মালয়েশিয়ায় কর্মরত। তাদের পাঠানো আয় এ দেশের অর্থনীতিতে  ইতিবাচক অবদান রাখছে। নতুন সরকারের কাছে শ্রমবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। তাই মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার উন্মুক্ত হবে। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং আমদানি-রপ্তানিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।