ঢাকা ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
এনসিসি ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি প্রোগ্রামে জনবল নিয়োগ আইফোন ১৮ প্রোর ফিচার ফাঁস: ডিজাইন, ক্যামেরা ও ডিসপ্লেতে যা থাকছে সাধারণ এলইডির চেয়ে স্মার্ট বাল্ব কি ব্যয়বহুল? সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আহ্বান শেরপুর সীমান্তে অবৈধ পথে ফেরা ২ বাংলাদেশিকে পুশব্যাক কচুয়ায় সিঁদ কেটে বৃদ্ধাকে গলাকেটে হত্যা আদ-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধে শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার অন্ধকারে, দ্রুত চালুর দাবি জামায়াতের নিখোঁজের দুই দিন পর পুকুরে মিলল বৃদ্ধের মরদেহ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ৬টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র শৈলকুপায় পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা মঙ্গলবার, নেওয়া হবে বিটিভি ও শহীদ মিনারে এই গরমে শিশুর যত্ন নেবেন যেভাবে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী শেরপুর সীমান্তে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক ১ ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে আর্জেন্টিনার ফুটবলারের স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃত্যু আলোচনায় মিম আফ্রিকান ফুটবলের অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কাফ সভাপতি মোতসেপে প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড রাজশাহীতে ছাদ থেকে পড়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৪ দিন পর জীবিত উদ্ধার বাবা-ছেলে বিয়ে না করায় যুবককে হত্যার অভিযোগ প্রেমিকার বিরুদ্ধে, আটক ২ ইউক্রেনের কস্তিয়ানতিনিভকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে রুশ সেনা তিন মাসের সন্তানকে নিয়ে ইইউর বৈঠকে সুইডিশ মন্ত্রী যুগ্ম সচিবে পদোন্নতি শিগগির এইচএসসি পরীক্ষার জন্য এসএমপির গণবিজ্ঞপ্তি ‘কৃত্রিম সূর্য’ প্রকল্পে রেকর্ড গড়ল চীনের সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেট দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়-বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা সিরাজদীখানে অগ্নিকাণ্ডে ২ দোকান পুড়ে ছাই হাসপাতালে ভর্তি দীপু মনি ওমেরা এলপিজির ব্যতিক্রমী রিটেইলার ক্যাম্পেইনের গ্র্যান্ড উইনার্স নাইট অনুষ্ঠিত

আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের ডাবল ট্যাপ হামলা, শিশুসহ নিহত বেড়ে ৩৫

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:০২ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের ডাবল ট্যাপ হামলা, শিশুসহ নিহত বেড়ে ৩৫
তালেবান সরকারের দাবি, এই বিমান হামলায় বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ছবি: এএফপি

আফগানিস্তানের সন্ত্রাসীগোষ্ঠী জামাতুল আহরার ও ফিতনা আল খাওয়ারিজের আস্তানা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল লক্ষ্য করে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর ডাবল-ট্যাপ (একই স্থানে পরপর দুবার) বিমান হামলায় শিশুসহ ৩৫ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম দফার হামলার পর যখন স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন, ঠিক তখনই দ্বিতীয় দফায় বোমাবর্ষণে উদ্ধারকারীদের শরীর ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আফগানিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই হামলাকে একটি ‘নৃশংস যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, কোনো স্থানে প্রথম হামলার পর সেখানে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত বেসামরিক নাগরিক বা চিকিৎসাকর্মীদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি গুরুতর অপরাধ।

ঘরের ভেতর ও মসজিদে নির্মম আঘাত

আফগানিস্তানের স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান থেকে আবাসিক বাড়িঘর এবং একটি মসজিদ লক্ষ্য করে এই আকস্মিক হামলা চালানো হয়। প্রথম বোমাবর্ষণে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ধসে পড়ে এবং ভেতরে থাকা নারী ও শিশুসহ অসংখ্য মানুষ আটকা পড়েন।

ভয়াবহ এই বিস্ফোরণের শব্দে প্রতিবেশী ও স্থানীয় উদ্ধারকারীরা যখন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রক্তাক্ত মানুষদের টেনে বের করছিলেন, ঠিক তার কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একই স্থানে দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার এই বিস্ফোরণটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী, যার ফলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত উদ্ধারকারীদের অনেকের দেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

তীব্র নিন্দা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ

আফগান সরকারের মুখপাত্র এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তারা জানান, পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনা, হাসপাতাল ও মসজিদগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, যার মূল উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই সুনির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলের উত্তেজনা এবং দফায় দফায় চলা আকাশপথের এই লড়াই সামগ্রিক দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

এ ধরনের ডাবল-ট্যাপ কৌশল ব্যবহারের ফলে চিকিৎসাকর্মী এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোও এখন উপদ্রুত এলাকায় উদ্ধারকাজ চালাতে আতঙ্ক বোধ করছে। সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/অমিয়/

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৪ দিন পর জীবিত উদ্ধার বাবা-ছেলে

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০১:২০ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৪ দিন পর জীবিত উদ্ধার বাবা-ছেলে
ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরা রাজ্যে একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে লাশের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে আর্জেন্টিনার সন্ধান ও উদ্ধারকারী দল। ছবি: রয়টার্স

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর এক আবেগঘন উদ্ধার অভিযানের সাক্ষী হলো বিশ্ব। ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে দীর্ঘ চার দিন আটকে থাকার পর অবশেষে এক বাবা ও তার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষের সন্ধানে যখন উদ্ধারকারীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ছেন, তখন এই উদ্ধার অভিযান আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর মধ্যে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।

উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরার ধ্বংসাবশেষের মধ্য থেকে ওই বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করেন ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।

দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার এক নিবিড় ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের পর তাদের বের করে আনতে সক্ষম হন তারা।

উদ্ধারকারীরা যখন স্ট্রেচারে করে জীর্ণ ও রক্তাক্ত বাবা-ছেলেকে ধূলিমলিন রাস্তা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত আবেগাপ্লুত স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমে যায়।

উদ্ধারকারী দলগুলো জানায়, ধসে পড়া ভবনের বিপজ্জনক ও নড়বড়ে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবনের সন্ধান পেতে তারা বিশেষ সার্চ ক্যামেরা এবং অত্যাধুনিক শনাক্তকরণ সরঞ্জাম ব্যবহার করেছিলেন। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কংক্রিটের চাঁই সরিয়ে চার দিন ধরে আটকে থাকা এই দুই ভুক্তভোগীর কাছে পৌঁছান তারা।

ফরাসি সিভিল সিকিউরিটির এক সদস্য জানান, 'চার দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার কারণে তারা প্রচণ্ড দুর্বল এবং পানিশূন্যতায় ভুগছিলেন। উদ্ধার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীরগতির ছিল। আমরা তাদের বের করে আনার সময়েই শরীর রিহাইড্রেট করার জন্য স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা করি।'

এই যৌথ উদ্ধারকারী দলটিতে ফরাসি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ‘ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম’-এর সদস্যরাও যুক্ত ছিলেন।

এর আগেরদিন একই দল আরেকটি ধসেপড়া ভবন থেকে এক মা এবং তার ৯ মাস বয়সী শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে।

বুধবার (২৪ জুন) ভেনেজুয়েলার উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৫০ জন নিহত এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ বা আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যদিও সরকারি হিসাব অনুযায়ী সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে যাওয়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে কাউকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। সেই 'ক্রিটিক্যাল উইন্ডো' পার হওয়ার পরও বাবা-ছেলের এই বেঁচে ফেরা দুর্যোগকবলিত ভেনেজুয়েলায় এখন সবচেয়ে বড় আশার প্রতীক। সূত্র: রয়টার্স

আজহার/অমিয়/

ইউক্রেনের কস্তিয়ানতিনিভকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে রুশ সেনা

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
ইউক্রেনের কস্তিয়ানতিনিভকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে রুশ সেনা
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বলয়ের অন্যতম প্রধান শহর কোস্তিয়ান্তিনিভকা দখলের লক্ষ্যে রুশ বাহিনী তাদের অভিযান আরও জোরদার করেছে। ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, রুশ সেনাদের ছোট ছোট দল ইতোমধ্যে শহরের উপকণ্ঠে প্রবেশের চেষ্টা করছে। এতে শহরটিতে নিকটবর্তী সংঘর্ষের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।

দোনেৎস্ক অঞ্চলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক শহরের একটি কোস্তিয়ান্তিনিভকা। কোস্তিয়ান্তিনিভকা দখল করতে পারলে রুশ বাহিনীর জন্য উত্তর দিকে স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্ক অভিমুখে অগ্রসরে পথ আরও সহজ হবে।

যদিও ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলছে, শহরের ভেতরে ঢুকে পড়া রুশ সেনাদের প্রতিহত করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শহরটি দখলের দাবি অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।

ইউক্রেনীয় বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অপারেশন কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল ভিক্টর নিকোলিউক বলেছেন, বর্তমান জনবল ও রসদের ভিত্তিতে কোস্তিয়ান্তিনিভকা এখনও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার এর মূল্যায়নে বলা হয়, রুশ অনুপ্রবেশ বাড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কৌশলগত সাফল্যের সম্ভাবনা এখনও সীমিত।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, শহরটিকে ঘিরে রাশিয়ার ধীরগতির অগ্রযাত্রা ইউক্রেনের ওপর প্রতিরক্ষা বজায় রাখার চাপ বাড়িয়ে তুলছে।

ইউক্রেনীয় বিশ্লেষক রুসলান মাইকুলার বলেন, ‘কিয়েভকে শিগগিরই প্রতিরক্ষা জোরদার করা অথবা কৌশলগতভাবে পিছু হটার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।’

কোস্তিয়ান্তিনিভকার সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়কগুলোতে রুশ ড্রোন, আর্টিলারি হামলা ও নির্দেশিত বোমা হামলা অব্যাহত রয়েছে। ড্রোনের ঝুঁকি এড়াতে খাদ্য, পানি ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহে এখন স্থলচালিত রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে আশেপাশের এলাকাগুলো থেকেও সাধারণ মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

অন্যদিকে ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলায় রাশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি খাতে চাপ বাড়লেও, ক্রেমলিন জানায়, দোনেৎস্ক অঞ্চলে আরও এলাকা দখলের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সূত্র: রয়টার্স

খাদিজা রুমি/অমিয়/

আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের অভিযানে ২৯ জঙ্গি নিহত

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের অভিযানে ২৯ জঙ্গি নিহত
ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় এক সুপরিকল্পিত স্থল অভিযান ও বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ২৯ জন সশস্ত্র জঙ্গিকে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। নিহতরা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ (টিটিপি), যার সরকারি নাম ‘ফিতনা আল খারিজি’ এবং ‘জামায়াতুল আহরার’ এর সদস্য বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

রবিবার (২৮ জুন) রাতে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এ অভিযানের কথা নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সম্প্রতি খাইবার পাখতুনখোয়া, বেলুচিস্তান এবং করাচির সিন্ধ রেঞ্জার্স ক্যাম্পে একাধিক সন্ত্রাসী হামলার জবাবে এই ‘ইন্টেলিজেন্স বেসড’ (গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক) অভিযান চালানো হয়।

শনিবার রাতে করাচির গুলিস্থান-ই-জহুর এলাকায় পাকিস্তান রেঞ্জার্সের স্থানীয় সদর দপ্তরে এক আত্মঘাতী হামলায় তিন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হন।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, হামলাটি ভারতের মদদপুষ্ট প্রক্সি সংগঠন ‘জামায়াতুল আহরার’ চালিয়েছিল। পাল্টা জবাবে তিন সন্ত্রাসী নিহত এবং উসমান আলী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে উসমান জানান, সে মাত্র এক সপ্তাহ আগে আফগানিস্তানের জালালাবাদ থেকে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছেন।

তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা এক্সে জানান, ২৮ জুন খাইবার পাখতুনখোয়ার বাজোড় জেলায় আফগান সীমান্তের কাছে স্থল অভিযানে জামায়াতুল আহরারের হাই-ভ্যালু কমান্ডার খান ফারোশ ওরফে জাবলসহ তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ ও ২৯ জুনের মধ্যবর্তী রাতে ‘অপারেশন গজব লিল-হক’ এর অধীনে আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন পাক্তিয়া, পাক্তিকা এবং কুনার অঞ্চলের তিনটি সন্ত্রাসী আস্তানায় বিমান হামলা চালানো হয়। এতে আরও ২৫ সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং তাদের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস করা হয়।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকেও একই ধরনের অভিযানে ২৬ সন্ত্রাসীকে হত্যার দাবি করেছিল পাকিস্তান।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহের রেকর্ড ফ্রান্সে অতিরিক্ত ১০০০ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
ফ্রান্সে অতিরিক্ত ১০০০ জনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপজুড়ে জেঁকে বসেছে এক তীব্র ও প্রাণঘাতী দাবদাহ। স্ক্যান্ডিনেভিয়া থেকে শুরু করে আল্পস পর্বতমালা–সর্বত্রই এখন প্রচণ্ড গরম। গত শনিবার এই দাবদাহ আরও পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ভেঙে গেছে আগের সব রেকর্ড। কিছু কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। তীব্র এই গরমের কারণে ইতোমধ্যে অনেক  মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

গত শনিবার জার্মানি, ডেনমার্ক ও চেক প্রজাতন্ত্রে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার প্রাথমিক রেকর্ড তৈরি হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে জুন মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফ্রান্স ও ব্রিটেনেও একই ধরনের রেকর্ড ভেঙেছিল। রেকর্ড-ভাঙা এই তাপপ্রবাহের কারণে ফ্রান্সে অতিরিক্ত এক হাজার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অন্য বছরগুলোতে এই সময়ে দেশটিতে স্বাভাবিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান কমপক্ষে এক হাজার কম ছিল। ফরাসি জনস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, তাপজনিত মৃত্যুর বেশিরভাগই বয়স্ক মানুষ। সংস্থাটি আশঙ্কা করেছে, আবাসিক পরিচর্যা কেন্দ্র ও ব্যক্তিগত বাড়িতে মৃত্যুর বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেলে এই সংখ্যা বাড়বে।

বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এই তীব্র দাবদাহ সৃষ্টি হওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। ২০ বছর আগের তুলনায় এই সপ্তাহের রাতের তাপমাত্রা সম্ভাব্য ১০০ গুণ বেশি হয়ে উঠেছে।

জার্মানির ফেডারেল আইনপ্রণেতা ও গ্রিন পার্টির সাবেক সংসদীয় নেতা কাটরিন গোয়েরিং-একার্ড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘এই গরম কোনো মনোরম গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া নয়। এটি একটি স্বাস্থ্য সংকট।’

বার্লিনে শনিবার তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। শহরটিতে মানুষকে কিছুটা শীতল করতে পুলিশ দুটি জলকামান ব্যবহার করে পানি স্প্রে করেছে। জার্মানির আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার দেশটির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের মোয়েকার্ন-ড্রেউইটজে সর্বোচ্চ ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মাত্র এক দিন আগে ফ্রান্স সীমান্তের কাছে ৪১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের রেকর্ড হয়েছিল।

অন্য দিকে ডেনমার্কের আবহাওয়া ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, শনিবার আরহুস শহরের উত্তরে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ১৮৭৪ সালে পরিমাপ শুরু হওয়ার পর এটিই সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। চেক হাইড্রমেটিওরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট জানায়, প্রাগের উত্তরে রেকর্ড ৪০.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মাপা হয়েছে। স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় শুক্রবার ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ রাত রেকর্ড করা হয়েছে।

মানুষকে পানি বাঁচানোর তাগিদ

শনিবার জার্মানির কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে চরম তাপমাত্রার সতর্কতা জারি করেছে। দাবদাহ পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ায় পোল্যান্ডের প্রায় সব অঞ্চলেই তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে চলে গেছে। ডানিউব নদীর পানি অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ায় হাঙ্গেরির পাকস পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তাদের একটি রিয়াক্টরের উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। এর আগে সুইজারল্যান্ডের বেজনৌ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আরে নদীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সাময়িকভাবে রিয়াক্টর বন্ধ করে দেয়।

ফ্রান্সে এই তীব্র গরমে তরুণ ও বৃদ্ধসহ কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরের এই তাপমাত্রা রেল ভ্রমণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। সেখানে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, স্কুল-কলেজের ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে এবং বাইরের অনুষ্ঠানগুলো পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে বিক্রি কম হওয়ায় ফ্রান্স সরকার গ্রীষ্মকালীন কেনাকাটার ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শনিবার ও রবিবারের জন্য মিলান, রোম, তুরিন, ভেনিস, জেনোয়া, ফ্লোরেন্স এবং বোলোনিয়াসহ ১৮টি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করে। পো নদীর পানির স্তর নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। এর ফলে সমুদ্রের পানি স্থলভাগের ভেতরের দিকে চলে আসছে। এটি স্থানীয় কৃষিকাজ এবং ইতালির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই নদীটির বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

রাতের বেলাতেও আল্পস পর্বতমালা এলাকায় কোনো স্বস্তি মিলছে না। ইতালির দক্ষিণ টাইরলের বলজানো শহরে রাতের তাপমাত্রা ২৫.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি। আবহাওয়াবিদ ডিটার পিটারলিন জানান, এটি জুন মাসের একটি নতুন রেকর্ড। পরিবেশবাদীরা ইউরোপের হিমবাহগুলো নিয়ে এখন বড় ধরনের আশঙ্কা করছেন।

রেল ভ্রমণ কমাতে বিনামূল্যে টিকিট বাতিলের সুযোগ

রাস্তা ফেটে যাওয়া ও ট্রেনের লাইন বেঁকে যাওয়ার মতো অবকাঠামোগত ক্ষতির আশঙ্কায় কিছু রেল কোম্পানি যোগাযোগ সীমিত করার চেষ্টা করছে। জার্মানির জাতীয় রেল অপারেটর ডয়চে বান গ্রাহকদের আগামী সপ্তাহের শুরুর দিক পর্যন্ত দূরপাল্লার ভ্রমণের টিকিট বিনামূল্যে বাতিলের সুযোগ দিয়েছে। অন্য একটি অপারেটর ন্যাশনাল এক্সপ্রেস শনিবার বিকেলে জার্মানির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়াতে সতর্কতা হিসেবে কিছু ট্রেন চলাচল স্থগিত করে। হামবার্গের কাছে জার্মানির অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়কের প্রধান লেনটি আংশিক বন্ধ করে দেওয়া হয়, কারণ গরমে সেখানকার পিচ গলে ফেটে গিয়েছিল।

সুইজারল্যান্ডে লাউসান প্রাইড মার্চে অতিরিক্ত পানির ফোয়ারা এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল রাখা হয়েছিল। অন্য দিকে মিলানের প্রাইড মার্চ গরমের প্রভাব এড়াতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়। ফ্রাঙ্কফুর্টে রবিবারে অনুষ্ঠিতব্য আয়রনম্যান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ লং-ডিস্ট্যান্স ট্রায়াথলনের সাইক্লিং এবং রানিং কোর্স গরমের কারণে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।

ওমেগা ব্লক অবয়বের কারণে রেকর্ড তাপমাত্রা

চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে এই চরম গরম কিছুটা কমতে শুরু করবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রবিবার ভারী বজ্রঝড় হওয়ার সম্ভাবনা আছে। প্যারিস জানিয়েছে, ঝড়ের পূর্বাভাসের কারণে তারা শনিবারেই পার্ক, বাগান এবং খাল এলাকার সুইমিং জোনগুলো আগেভাগে বন্ধ করে দেবে। পুরো ইউরোপজুড়ে সাংস্কৃতিক দর্শনীয় স্থানগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছে, কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু হাসপাতাল পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

রয়টার্স ক্লাইমেট মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, এই দাবদাহের কারণে তাপমাত্রা স্বাভাবিক গড় মৌসুমের চেয়ে অনেক ওপরে চলে গেছে। এই গরমের পেছনে মূল কারণ হলো আবহাওয়ার একটি বিশেষ অবস্থা, যা ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত। গ্রিক অক্ষরের মতো দেখতে হওয়ায় এর এমন নাম দেওয়া হয়েছে। এই আবহাওয়া বিন্যাসটি একটি বিশাল গরম বাতাসের কুণ্ডলীকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কোনো অঞ্চলের ওপর আটকে রাখে এবং এর চারপাশে শীতল বাতাস অবস্থান করে।

সূত্র: রয়টার্স

হিজবুল্লাহর ড্রোন রুখতে ব্যর্থ ইসরায়েল

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
হিজবুল্লাহর ড্রোন রুখতে ব্যর্থ ইসরায়েল
হিজবুল্লাহর এফপিভি ড্রোন প্রতিরোধে সামরিক অবস্থান ও যানবাহনের ওপর মেশ নেট স্থাপন ইসরায়েলের। ফাইল ছবি

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নতুন প্রযুক্তির ড্রোন এখন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের একটি কৌশল কাজে লাগিয়ে হিজবুল্লাহ এমন কিছু সস্তা ও নিখুঁত ড্রোন ব্যবহার করছে, যা ইসরায়েলের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকেও ফাঁকি দিচ্ছে। ফাইবার-অপটিক প্রযুক্তির এই ড্রোনগুলো শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হওয়ায় একের পর এক ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানছে। মারা যাচ্ছেন সেনারা। এই নতুন প্রযুক্তিগত হুমকি রুখতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ও বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবানন ও উত্তর ইসরায়েলের আকাশে এখন একধরনের ছোট ছোট ড্রোন উড়তে দেখা যায়। এগুলো কোনো রাডারে ধরা পড়ে না। ড্রোনগুলোর ক্যামেরায় দেখা গেছে, এগুলো উড়ে এসে খুব নিখুঁতভাবে ইসরায়েলের মারকাভা ট্যাংকের দুর্বল জায়গায়, আয়রন ডোম প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় কিংবা অসতর্ক সেনাদের ওপর গিয়ে আছড়ে পড়ছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হিজবুল্লাহর এই বিশেষ এফপিভি (ফার্স্ট-পারসন ভিউ) ড্রোনগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছে। গত মার্চ মাসে সংঘাত নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে হিজবুল্লাহর ড্রোনে অন্তত ১২ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে, যা লেবাননে মোট ইসরায়েলি সেনা নিহতের এক-তৃতীয়াংশ। 

এই ড্রোনগুলো আকারে একটা ডিনারের প্লেটের চেয়ে বড় নয়। কিন্তু এর কার্যকারিতা মারাত্মক। এগুলো চালকের সঙ্গে কোনো রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে যুক্ত থাকে না, বরং ড্রোনের পেছনে থাকা একটি রিল থেকে মাইলের পর মাইল লম্বা চিকন ফাইবার-অপটিক তারের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। ড্রোনগুলো কোনো রেডিও সিগনাল ছড়ায় না। এ কারণে এগুলো শনাক্ত করা যেমন কঠিন, তেমনি ইলেকট্রনিক যুদ্ধপদ্ধতি ব্যবহার করে জ্যাম করাও অসম্ভব।

বিপদ সামলাতে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এখন যুদ্ধক্ষেত্রে লাখ লাখ বর্গমিটারের বিশেষ জাল ব্যবহার করছে, যেন ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার আগেই জালে আটকে যায়। পাশাপাশি সেনাদের শটগান ও বিশেষ ধরনের গুলি দেওয়া হয়েছে, যেন খুব কাছ থেকে ড্রোনগুলোকে গুলি করে নামানো যায়। কিন্তু সমস্যা হলো, ড্রোনগুলো ধেয়ে আসার খবর সেনারা আগে থেকে জানতে পারছেন না।

আইডিএফ এই ড্রোন শনাক্ত করার কোনো প্রযুক্তি বানাতে পেরেছে কি না, তা এখনো জানায়নি। তবে তারা দেশের নামকরা প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর কাছে সাহায্য চেয়েছে। গত মাসে এ নিয়ে সামরিক কর্মকর্তা ও প্রযুক্তিবিদদের একটি জরুরি বৈঠকও হয়েছে। সেখানে এমন কিছু সেন্সর ও সফটওয়্যার নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা রেডিও তরঙ্গ ছাড়াই ড্রোন শনাক্ত করতে পারবে এবং আঘাত হানার আগেই সেগুলোকে ধ্বংস করতে পারবে।

এই বৈঠকে ছিল ‘এয়ারওয়েজ’ নামের একটি ড্রোন সফটওয়্যার কোম্পানি। কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা শাই কুরিয়ানস্কি জানান, তাদের তৈরি একটি বিশেষ সফটওয়্যার কম উচ্চতায় উড়তে থাকা ড্রোন শনাক্ত করতে পারে। এই প্রযুক্তিটি কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি পুলিশ ফুটবল বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম সুরক্ষায় ব্যবহার করেছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অদৃশ্য ড্রোনগুলো ধরতে হলে একসঙ্গে আলো, শব্দ, রাডার ও লেজার প্রযুক্তির একাধিক সেন্সর ব্যবহার করতে হবে।

শাই কুরিয়ানস্কি বলেন, ‘এখন সেনারা ড্রোন আসার খবর পায় মাত্র ৩-৪ সেকেন্ড আগে। কিন্তু আমরা যদি তাদের ২০ বা ৩০ সেকেন্ড আগেও সতর্ক করতে পারি, তবে ক্ষয়ক্ষতির চিত্রটা পুরো বদলে যাবে।’ তিনি আরও জানান, ইসরায়েলের প্রযুক্তি খাত এখন অনেক চাপের মুখে আছে, কারণ লেবাননে থাকা তাদের তরুণ সেনারা এই বিস্ফোরক ড্রোনের মুখে পুরোপুরি অরক্ষিত অবস্থায় আছে।

তবে এই সংকটের মাঝে অনেক ইসরায়েলি নাগরিকদের মনে ক্ষোভও জমছে। কারণ দুই বছর আগেই ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে এই ফাইবার-অপটিক ড্রোন প্রথম দেখা গিয়েছিল। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ইসরায়েলকে এই সস্তা ড্রোনের বিপদ সম্পর্কে আগেই সতর্ক করেছিলেন। প্রতিটির দাম মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ ডলারের এই ড্রোনগুলো যে এক দিন তাদের শত্রুদের হাতে পৌঁছাবে, সেই ইঙ্গিত দিয়ে তারা ইসরায়েলকে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন।

ইসরায়েলে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ইয়েভগেন কর্নিচুক গত মে মাসে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’-কে বলেন, ‘আমরা এই বিষয়ে ইসরায়েলি নেতাদের তেমন কোনো আগ্রহ দেখিনি। এর পেছনের কারণ নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। তবে ইসরায়েল যে তাদের সেনাদের জীবন বাঁচানোর একটা বড় সুযোগ হাতছাড়া করেছে, তা এখন স্পষ্ট।’

সূত্র: সিএনএন