প্রযুক্তি বিশ্বে অ্যাপলের আসন্ন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ‘আইফোন ১৮ প্রো’ নিয়ে গুঞ্জন এখন তুঙ্গে। সাধারণত প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে অ্যাপল তাদের নতুন আইফোন বাজারে ছাড়ে। তবে ২৬ এর পণ্য প্রদর্শনীতে অ্যাপলের মূল আকর্ষণ হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘আইফোন ফোল্ড’ বা ভাঁজযোগ্য আইফোন। তাই স্ট্যান্ডার্ড বা সাধারণ আইফোন১৮-এর বাজারে আসতে ২০২৭ সালের বসন্ত পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তবে এই ভাঁজযোগ্য ফোনের পাশাপাশি অ্যাপল বাজারে আনবে ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চির আইফোন১৮ প্রো এবং ৬ দশমিক ৯ ইঞ্চির আইফোন১৮ প্রো ম্যাক্স।
ফোল্ডেবল ফোনটি সংবাদ শিরোনাম কেড়ে নিলেও, ‘প্রো’ মডেলগুলোতেও থাকছে বেশ কিছু যুগান্তকারী হার্ডওয়্যার পরিবর্তন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো অ্যাপলের তৈরি প্রথম ২ ন্যানোমিটারের চিপসেট। যা ফোনের গতি ও শক্তি সাশ্রয়ের ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
সম্প্রতি লিক হওয়া বিভিন্ন তথ্য থেকে আইফোন ১৮ প্রো সম্পর্কে যা জানা গেছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
ডিজাইন: চেনা রূপেই বড় চমক
ডিজাইনের ক্ষেত্রে অ্যাপল আইফোন ১৮ প্রো মডেলে খুব বড় কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আনছে না বলে জানা গেছে। এটি চিরচেনা ডিজাইন ধরে রাখবে। যেখানে পেছনে থাকবে তিনটি লেন্স বিশিষ্ট একটি বড় ক্যামেরা মডিউল।
প্রখ্যাত টিপস্টার ‘ডিজিটাল চ্যাট স্টেশন’ জানিয়েছেন, ফোনটির পেছনের ম্যাগসেফ চার্জিং এলাকার চারপাশের সিরামিক শিল্ড অংশটি ‘সামান্য স্বচ্ছ’ বা ট্রান্সপারেন্ট হতে পারে, যদিও এর আসল কাজ বা সৌন্দর্য কেমন হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।
অন্যদিকে, বিখ্যাত লিকার ‘আইস ইউনিভার্স’ এর তথ্যমতে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের পুরুত্ব সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ৮ দশমিক ৭৫ মিলিমিটার থেকে ৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার হতে পারে। এই সামান্য পার্থক্যের কারণে ফোনটির ওজন বেড়ে ২৪০ গ্রাম পার হতে পারে (যেখানে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের ওজন ২৩৩ গ্রাম)।
ক্যামেরা: এত বছরের সবচেয়ে বড় আপগ্রেড
গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্যামেরা আপগ্রেড যুক্ত হতে যাচ্ছে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে।
অ্যাপল সাপ্লাই চেইনের খ্যাতনামা বিশ্লেষক মিং চি কুও এর মতে, ফোনটির প্রধান ক্যামেরায় প্রথমবারের মতো ‘ভেরিয়েবল অ্যাপারচার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীরা লেন্সের ভেতর কতটুকু আলো প্রবেশ করবে তা ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এই ফিচারটি অতিরিক্ত আলোতে ছবি জ্বলে যাওয়া রোধ করবে এবং ছবির ‘ডেপথ অব ফিল্ড’ ও সামগ্রিক নান্দনিকতার ওপর দারুণ নিয়ন্ত্রণ দিবে।
এ ছাড়াও, অ্যাপল অন্তত একটি প্রো ভ্যারিয়েন্টে স্যামসাংয়ের তৈরি উন্নত থ্রি লেয়ার স্ট্যাকড ইমেজ সেন্সর ব্যবহার করার কথা ভাবছে। এই নতুন সেন্সরটি ছবির রেসপন্স টাইম বাড়াবে, ছবির নয়েজ কমাবে এবং ডায়নামিক রেঞ্জ উন্নত করবে। একই সঙ্গে কম আলোতে নিখুঁত ছবি তোলার জন্য মেইন ও টেলিফটো লেন্সে আরও বড় অ্যাপারচার যুক্ত করা হচ্ছে।
ডিসপ্লে এবং ডায়নামিক আইল্যান্ড
শোনা যাচ্ছিল যে, আইফোন ১৮ প্রো তে ফেস আইডি উপাদানগুলো পুরোপুরি ডিসপ্লের নিচে লুকিয়ে ফেলা হবে। ফলে স্ক্রিনে কোনো দৃশ্যমান কাট-আউট বা নচ থাকবে না। তবে নতুন লিক অনুযায়ী, অ্যাপল এখনও এই প্রযুক্তিটি পুরোপুরি নিখুঁত করতে পারেনি, তাই এর ব্যবহার আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
আন্ডার-স্ক্রিন ফেস আইডির বদলে অ্যাপল এবার আরও ছোট বা কমপ্যাক্ট ‘ডায়নামিক আইল্যান্ড’ নিয়ে আসছে, যা স্ক্রিনে বাড়তি জায়গা তৈরি করবে। টিপস্টার আইস ইউনিভার্সের শেয়ার করা একটি মক আপ অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো এর ডায়নামিক আইল্যান্ডটি আইফোন ১৭ সিরিজের চেয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ ছোট বা সরু হবে; যা লম্বায় ২০ দশমিক ৭ মিলিমিটার থেকে কমে ১৩ দশমিক ৫ মিলিমিটারে নেমে আসতে পারে।
এ ২০ চিপ: পারফরম্যান্সের নতুন যুগ
আইফোন ১৮ প্রো মডেল এবং অ্যাপলের ফোল্ডেবল হ্যান্ডসেটে ব্যবহার করা হবে নেক্সট জেনারেশনের ‘এ ২০’ চিপসেট। টিএসএমসির ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি এই প্রসেসরটি ফোনের গতিতে এক বিশাল লাফ দিবে এবং ব্যাটারির খরচ নাটকীয়ভাবে কমিয়ে আনবে। ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির কারণে এই চিপে আগের চেয়ে অনেক বেশি ট্রানজিস্টর যুক্ত করা সম্ভব হবে।
তবে প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এটি পূর্বের ‘এ ১৯’ চিপের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি কার্যক্ষমতা এবং প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি শক্তি সাশ্রয় করতে সক্ষম হবে।
থিওটোনিয়াস/






