হাসপাতাল দ্রুত চালু, একাডেমিক কার্যক্রম যথাযথভাবে নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবিতে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের (সুমেক) শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অষ্টম দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে।
এ দাবিতে সোমবার (২৯ জুন) শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
শিক্ষার্থীরা প্রথমে ক্লাস বর্জন করে শহরের আলফাত স্কয়ারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি ইয়াকুব বখত বহলুল, বিএনপি নেতা মুনাজ্জির হোসেন সুজন, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ কান্তি দে, আইনজীবী খলিলুর রহমান, হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন এবং সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী পিয়াস চন্দ্র দাস, নুরী রায়হান, তানভীর আহমেদ ও ফয়সাল বাদশাসহ আরও অনেকে।
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মুস্তাক আহমেদ ভূঁইয়া জানান, মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষকদের শূন্যপদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। শিগগিরই প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। হাসপাতাল চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় দুই বছর পর, ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়। জেলা শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে মদনপুর এলাকায় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটির অবস্থান।
ডিজিসি/অমিয়/
রাজধানীর বটমলী হোম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১০টায় ট্রফি উন্মোচন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
টুর্নামেন্টে বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় নবম শ্রেণির ড্রিমার্স গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং দশম শ্রেণির রেঞ্জার্স গ্রুপ রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুলশান থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অমিদুর রহমান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সংঘ প্রধান সিস্টার মেরী শুভ্রা (এসএমআরএ) এবং বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ফাদার জয়ন্ত গমেজ।
এ ছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্ট উপভোগ করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিস্টার মেরী সুপ্রীতি (এসএমআরএ) স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘খেলাধুলা আমাদের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি বাড়ায়। খেলার আসল সৌন্দর্য শুধু জয়ে নয়, বরং নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ নিহিত। খেলাধুলা আমাদের শৃঙ্খলা, পরিশ্রম ও দলগত মানসিকতার শিক্ষা দেয়, যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।’
সভাপতির বক্তব্যে ফাদার জয়ন্ত গমেজ বলেন, ‘বিশ্বকাপের উন্মাদনা এখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই উচ্ছ্বাসের ছোঁয়া আজ বটমলী হোম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়েও লেগেছে। খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ, উদ্দীপনা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।’
সুস্থ প্রতিযোগিতা, খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব এবং শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের সফল সমাপ্তি ঘটে।
অমিয়/
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন তিনটি মিনিবাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রতিটি ৩০ সিটের তিনটি বাস রাবিপ্রবি পরিবহন পুলে সংযুক্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের সংখ্যা এখন সাত।
এর ফলে রাঙামাটি শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবেন।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল-সংলগ্ন রাস্তায় এর উদ্বোধন করেন রাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী।
শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধা বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যবস্থাকে গতিশীল করতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট থেকে তিনটি মিনিবাস কেনা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে রাঙামাটি শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতে পারবেন।
কর্তৃপক্ষ বলছেন- এর ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক মানোন্নয়নে ও শিক্ষা সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে বর্তমান ভাইস-চ্যান্সেলর ও তার নেতৃত্বে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ নতুন বাস সংযোজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের পরিবহন সংকট কিছুটা হলেও নিরসন হওয়ায় স্বস্তি মিলবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ড. তৌহিদুল আলম দোয়া পরিচালনা করেন।
এ সময় রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ কবির, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, প্রক্টর, শিক্ষার্থী, হলের প্রভোস্ট, পরিচালক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও পরিবহন দপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল অ্যান্ড মেইনট্যানেন্স) মো. জনিসহ বাসচালক ও হেলপাররা উপস্থিত ছিলেন।
জিয়াউর জুয়েল/খাদিজা রুমি/
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলোতে শাখা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সিট দখলের অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে শাখা ছাত্রশিবির।
সোমবার (২৯ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা ‘প্রভোস্ট ও ছাত্রদলের যৌথ প্রযোজনার সিট দখল রুখে দাও’, ‘দলীয় বিবেচনায় সিট বণ্টন বন্ধ করো’, ‘আদু ভাইয়েরা হল ছাড়বে কবে?’ ইত্যাদি লেখা সংবলিত বিভিন্ন প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন।
কর্মসূচিতে আবাসিক হলের সিট বণ্টন নিয়ে প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি জানায় সংগঠনটি। দাবিগুলো হলো- অনতিবিলম্বে যেসব শিক্ষার্থী অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারীদের সিট বাতিল করা, পুনরায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিদ্যমান নিয়ম অনুসারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিট প্রদান করা। হলের সিট বণ্টন নিয়ে একটি স্বচ্ছ ওয়েবসাইট তৈরি করা যাতে কোন হলে কতজন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং ফাঁকা সিটের সংখ্যা শিক্ষার্থীদের জানানো হয়।
মানববন্ধনে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ২৪ পরবর্তী সময়ে হল দখল ও সিট বাণিজ্যের কবর রচিত হয়েছিল। কিন্তু ছাত্রদল আবারও হলগুলো দখলের পাঁয়তারা করছে। শুধুমাত্র দলীয় বিবেচনায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে সিট দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এই হল দখলের পাঁয়তারা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় চব্বিশ পরবর্তী সময়ে যে লাঞ্ছনার মাধ্যমে পূর্বের প্রশাসনকে বিতাড়িত করা হয়েছিল তার জন্য আপনারা প্রস্তুত থাকুন।’
শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব ছাত্রদলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ’আপনারা রাজনীতির নামে ছাত্রলীগের কায়দায় সিট বাণিজ্যের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবেন না। ছাত্রশিবির যতদিন আছে হলগুলোতে সিট দখলের রাজনীতি ফিরতে দিবে না।’
মানবন্ধন কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন হল ও অনুষদের নেতাকর্মীরা।
শাকিবুল/খাদিজা রুমি/