সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে করা মামলায় নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোছা. আশিকা সুলতানাকে আবারও তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সাবেক এমপি নবী নেওয়াজকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আদাবরে পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) ঢাকার পৃথক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ-সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক শুনানি শেষে আশিকা সুলতানার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অপরদিকে, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে নবী নেওয়াজকে ওই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
শুনানির আগে সাবেক দুই এমপিকে আদালতে হাজির করা হয়।
প্রথম দফায় মঞ্জুর হওয়া তিন দিনের রিমান্ড শেষে আশিকা সুলতানাকে আদালতে হাজির করা হয়। অন্যদিকে, নবী নেওয়াজকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।
মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলার তদন্তের স্বার্থে আশিকা সুলতানাকে পুনরায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আল মামুন হোসাইন।
আবেদনে বলা হয়, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষ রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন চেয়ে আবেদন করে। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করলে শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার উদ্দেশ্যে জড়ো হন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি সাদা রঙের পিভিসি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ- গৌরব ও ঐতিহ্যের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ঢাকা মহানগর উত্তর’।
অভিযোগে বলা হয়, আশিকা সুলতানা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করাসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তার নেতৃত্বে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল করে বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে জনমনে ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর এলাকার একটি বাসা থেকে পুলিশ আশিকা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, নবী নেওয়াজকে গ্রেপ্তার দেখানোর মামলার বিবরণে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শেষ দিন, অর্থাৎ ৫ আগস্ট, রুবেলসহ কয়েকশ শিক্ষার্থী-জনতা বেলা ১১টার দিকে আদাবরের রিং রোড এলাকায় একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের নেতা-কর্মীরা গুলি চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হন। তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গত বছরের ২২ আগস্ট রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
জলিল উজ্জ্বল/রিফাত/