ঢাকা ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কালিমার পতাকা নিয়ে বিতর্ক ও আমাদের উদ্বেগ উত্তর মেরু অভিযানে যাচ্ছে বাংলাদেশি স্কুলশিক্ষার্থী ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ প্রসঙ্গে কিছু কথা ইউসিবির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে পদোন্নতি পেলেন মোহাম্মদ শফিকুর রহমান ও মো. রীদওয়ানুল হক সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে চায় বাংলাদেশ পুলিশ ধামরাইয়ে মহাসড়কে ডিম ভেঙে খামারিদের প্রতিবাদ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি অর্থমন্ত্রীর A King and Astrologer বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ৫ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিট পরিদর্শনে রেড ক্রিসেন্ট চেয়ারম্যান একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১২৪ হাসপাতালে ভর্তি মিল্টন খন্দকার, দ্রুত অস্ত্রোপচার টাইব্রেকার হলে শুটার বাছবেন জাপান কোচ লালমনিরহাটে পানিবন্দি হাজারো মানুষ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত মরক্কো সাবেক এমপি আশিকা আবারও রিমান্ডে, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নবী নেওয়াজ শিক্ষা খাতে বাজেট: বিনিয়োগ নাকি দুর্নীতির নতুন সুযোগ? জাপান ম্যাচের আগে ভিনির চোখে জল সিংগাইরে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা কুমিল্লায় স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধের ঘটনায় আরও তিনজন আটক সুমেক হাসপাতাল চালুর দাবিতে ক্লাস বর্জনের অষ্টম দিন, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন: মহাবিপর্যয়ের হাতছানি নির্মাতার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুললেন পারসা ইভানা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও র‍্যাংগস ইলেকট্রনিক্সের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি চট্টগ্রামে শরিয়াহভিত্তিক ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের স্মারকলিপি চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিত্যপণ্যে ছাড় উত্তরায় ইবিয়ানদের প্রথম মতবিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত শ্যামনগরে দোকান থেকে অজগর সাপ উদ্ধার জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি ঘিরে শিবিরের ৩৬ দিনের কর্মসূচি বিশ্বকাপের ফ্যান জোনে গোলাগুলি, নিহত ১ বাগদান নিয়ে যা বললেন নীহা

সাবেক এমপি আশিকা আবারও রিমান্ডে, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নবী নেওয়াজ

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
সাবেক এমপি আশিকা আবারও রিমান্ডে, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নবী নেওয়াজ
ছবি: সংগৃহীত

সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগে করা মামলায় নীলফামারী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোছা. আশিকা সুলতানাকে আবারও তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সাবেক এমপি নবী নেওয়াজকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আদাবরে পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) ঢাকার পৃথক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ-সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক শুনানি শেষে আশিকা সুলতানার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অপরদিকে, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে নবী নেওয়াজকে ওই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

শুনানির আগে সাবেক দুই এমপিকে আদালতে হাজির করা হয়।

প্রথম দফায় মঞ্জুর হওয়া তিন দিনের রিমান্ড শেষে আশিকা সুলতানাকে আদালতে হাজির করা হয়। অন্যদিকে, নবী নেওয়াজকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।

মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলার তদন্তের স্বার্থে আশিকা সুলতানাকে পুনরায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আল মামুন হোসাইন।

আবেদনে বলা হয়, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষ রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিন চেয়ে আবেদন করে। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করলে শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ জুন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর টেকনিক্যাল মোড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার উদ্দেশ্যে জড়ো হন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি সাদা রঙের পিভিসি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ- গৌরব ও ঐতিহ্যের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ঢাকা মহানগর উত্তর’।

অভিযোগে বলা হয়, আশিকা সুলতানা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করাসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তার নেতৃত্বে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল করে বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে জনমনে ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর এলাকার একটি বাসা থেকে পুলিশ আশিকা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করে।

অন্যদিকে, নবী নেওয়াজকে গ্রেপ্তার দেখানোর মামলার বিবরণে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শেষ দিন, অর্থাৎ ৫ আগস্ট, রুবেলসহ কয়েকশ শিক্ষার্থী-জনতা বেলা ১১টার দিকে আদাবরের রিং রোড এলাকায় একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, কৃষক লীগ ও মৎস্যজীবী লীগের নেতা-কর্মীরা গুলি চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হন। তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় গত বছরের ২২ আগস্ট রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

জলিল উজ্জ্বল/রিফাত/

ডেইলি স্টার হামলা মামলায় এনসিপির আনোয়ার রিমান্ডে

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
ডেইলি স্টার হামলা মামলায় এনসিপির আনোয়ার রিমান্ডে
এনসিপির শ্রমিকশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক আনোয়ার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

দ্য ডেইলি স্টার অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় গ্রেপ্তার এনসিপির শ্রমিকশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক আনোয়ার হোসেনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (২৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুনানির আগে আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। 

আদালতে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন খারিজ করে জামিন চাওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষ এ আবেদনের বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আসামির বিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। 

গত ২২ জুন দৈনিক প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়। 

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৩৫ মিনিটে লাঠিসোঁটা ও দাহ্য পদার্থ নিয়ে একদল হামলাকারী উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে ডেইলি স্টার ভবনে প্রবেশ করে। এ সময় তারা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ওপর শারীরিকভাবে আক্রমণ করে। এ সময় তারা নগদ অর্থ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করাসহ ভবনের একাধিক তলায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও সিসিটিভিসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নষ্ট করে ফেলে। এতে পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের ২০০টির বেশি ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং ৩৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ লুট করা হয়। এতে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। 

এ ঘটনায় ডেইলি স্টারের হেড অব অপারেশনস মিজানুর রহমান ২২ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানায় গত ৩১ মে আনোয়ারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন সোনাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিঝি। 

আনোয়ার ছাড়াও তার ভাই ইমন হোসেন, রুবেল হোসেন ও দিপুর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪ জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা ও দণ্ডবিধি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। 

শনিবার (৩০ মে) রাতে উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাড়ি থেকে আটক করে স্থানীয়রা তাকে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে ওই মামলায় তাকে  প্রথম গ্রেপ্তার দেখানো হয়। 

জলিল উজ্জ্বল/রিফাত/

সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ রিমান্ডে

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ রিমান্ডে
জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ। ছবি: সংগৃহীত

জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদকে রিমান্ডে নিয়ে তিনদিন জিজ্ঞাসাবাদ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। 

রবিবার (২৮ জুন)  ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। 

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুনানির আগে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল সরকার দশ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। 

আবেদনে বলা হয়, গত ১৮ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণিতে ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের  নেতা-কর্মীরা সরকার বিরোধী শ্লোগান দিয়ে মিছিল করে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা নেতা-কর্মীদের হেফাজত থেকে বিভিন্ন পোস্টার, ব্যানার, একটি প্রেস কার্ড, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম এবং ভিলেওন ব্র্যান্ডের একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততা যাচাই, নাশকতার অর্থদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করাসহ ককটেল তৈরির উৎস উদ্ঘাটনের জন্য গ্রেপ্তার আসামিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

শনিবার (২৭ জুন) রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

জলিল উজ্জ্বল/রিফাত/

রংপুরে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় মেডিকেল-শিক্ষার্থীর রিমান্ড

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
রংপুরে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় মেডিকেল-শিক্ষার্থীর রিমান্ড
ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরে কলেজশিক্ষার্থী নুজশাত জাহান আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় অভিযুক্ত মেডিকেল-শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রবিবার (২৮ জুন) সকালে কারাগার থেকে সাকিনকে আদালতে নেওয়া হয়। রংপুর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ড. মুহাম্মদ রাশেদ হোসাইনের কাছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম রফিক সাকিনের তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

অন্যদিকে, সাকিনের আইনজীবীরা তার জামিনের আবেদন করেন। এ সময় আদালতে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র উপস্থাপন করলে বিচারক এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং জামিন আবেদন নাকচ করেন। পরে সাকিনকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাদী পক্ষের আইনজীবী আবু হায়দার মো. আব্দুল মুবিন খবরের কাগজকে বলেন, ’তদন্ত কর্মকর্তা মামলার উপাদান, মোবাইলের তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ডের আবেদন করেন।’

গত ১৬ জুন সাকিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে নুজশাতকে মোবাইলে ফোন করে দীর্ঘ ৫০ মিনিট ১২ সেকেন্ড কথা বলে। গত তিন মাসে ১১৮ বার তাদের মোবাইল ফোনে কথা এবং ম্যাসেজ আদান-প্রদান হয়েছে।

বিবাদীর আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম মন্ডল খবরের কাগজকে বলেন, ’৩০৬ ও ১০৯ ধারায় মামলা করার জন্য এজাহারে যে উপাদান থাকতে হয়, তার কিছুই নেই। পুলিশের কাছে দুটি মোবাইল ফোনই ছিল। তারা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সব তথ্য বের করতে পারবে। এর জন্য রিমান্ডের প্রয়োজন পড়ে না। আমরা সাকিনের জামিন আবেদন করেছিলাম। আদালত যেহেতু একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে, তাই আমাদের আবেদন নাকচ করেছে। রিমান্ড শেষে পুনরায় জামিনের আবেদন করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুন বিকেলে নগরীর নর্থভিউ হোটেলের ছাদ থেকে পড়ে মারা যান এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুজশাত জাহান। এ ঘটনার পরের দিন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা করেন নুজশাতের বাবা নজরুল ইসলাম। এ ঘটনায় ওই দিনই অভিযুক্ত রংপুর মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র ও নুজশাতের প্রাইভেট শিক্ষক শাহরিয়ার আহমেদ সাকিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সেলিম সরকার/থিওটোনিয়াস/

জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলা: সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলা: সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর রামপুরায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা যুবক আমির হোসেনকে গুলিসহ দুজনকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে, গ্রেপ্তার রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান। 

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি হলেন- রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

রবিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিট থেকে রায় পড়া শুরু হয়। প্রথমে রায়ের কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচারের জন্য অনুমতি চান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এরপর অনুমতিসাপেক্ষে এ কার্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি দেখানো হয়।

শুরুতে এ মামলার আসামিদের রায় পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা। এরপর চার্জ পড়েন বিচারক মোহিতুল হক এনাম। শেষে রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ।

এর আগে বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে এজলাসে তোলা হয়। মামলার অপর চার আসামি বর্তমানে পলাতক।
 
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরায় সংঘর্ষের সময় পুলিশি অভিযানের মুখে আমির হোসেন একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন। পরে তাকে নিচে লাফ দিতে বাধ্য করা হয়। একই সঙ্গে, কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকা অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়, যাতে তার দুই পায়ে গুলি লাগে। একই দিনে রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন।

অমিয়/

ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদরাসা পরিচালকের ১০ বছরের সাজা

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদরাসা পরিচালকের ১০ বছরের সাজা
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে হেফজখানায় মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মাদরাসার পরিচালককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। এই জরিমানার টাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার জন্য ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর দুইটার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মাদরাসা পরিচালকের নাম মো. আশরাফ আলী (৪৬)। তিনি ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ গোয়ালচামট মহল্লায় অবস্থিত রওজাতুন-নেছা মহিলা মাদরাসার পরিচালক এবং ওই মহল্লারই বাসিন্দা। তিনি ওই মাদরাসার একটি কক্ষে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ গোয়ালচামট মহল্লার রওজাতুন-নেছা মহিলা মাদরাসার আবাসিক ছাত্রী হিসেবে পড়াশোনা করত। সে হেফজখানার শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মাদরাসার হেফজখানার শ্রেণিকক্ষ থেকে নিজের থাকার কক্ষে ছাত্রীকে ডেকে নেন পরিচালক আশরাফ আলী। ওই দিন আশরাফের স্ত্রী-সন্তান বাসায় ছিল না। বাসা ফাঁকা থাকার এই সুযোগে ওই মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন আশরাফ। পরে দৌড়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যায় ওই ছাত্রী। এরপর বাড়িতে এসে সে বাবা-মাকে এসব কথা জানায়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ঘটনার ১৭ দিন পর ৯ এপ্রিল মাদরাসা পরিচালক আশরাফ আলীকে একমাত্র আসামি করে ফরিদপুর কোতয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ওই ছাত্রীর বাবা। তখন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও পরে তিনি ছাড়া পান। এরপর মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

মামলাটি তদন্ত করে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নূর হোসেন মাদরাসা পরিচালক আশরাফ আলীকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, আদালত জরিমানার ৭০ হাজার টাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আদালত ওই আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছেন। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষ বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।

এন কে বি নয়ন/এসএন