ঢাকা ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
করিডর নিয়ে আলোচনা সারাদেশে কালেমার পতাকা: নানা প্রশ্ন বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই পার্কিং ভাড়া দিলে ভবনের হোল্ডিং নম্বর জব্দ ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হবে: কুসিক প্রশাসক ট্রাকের ধাক্কায় পড়ে যাওয়ে যুবকের বাসচাপায় মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন রেকর্ড গড়া মেসির সামনে কেপ ভার্দের হুঙ্কার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাক খাদে পড়ে ২ শ্রমিক নিহত বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, কৃষকদল নেতা কারাগারে কুড়িগ্রামে বাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকছে পানি ‘কেপ ভার্দের কাছেই হারবে মেসিরা’, নকআউট নিয়ে ঘানার ওঝার ভবিষ্যদ্বাণী সাতকানিয়ায় অপহরণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়া যুবকের মৃত্যু রাসুল (সা.) কিভাবে জুতা পরতেন? শতবর্ষের ঐতিহ্য বনাম নতুন পরাশক্তি আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের অভিযানে ২৯ জঙ্গি নিহত ঢাবিতে খেলা দেখতে এসে নারীসহ সাবেক শিক্ষার্থী হেনস্তার অভিযোগ টঙ্গীতে পুকুরে ডুবে যুবকের মৃত্যু গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে মেসি: এমবাপ্পে-হালান্ডদের পেছনে ফেলে একক রাজত্ব ফ্রান্সে অতিরিক্ত ১০০০ জনের মৃত্যু জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক হিজবুল্লাহর ড্রোন রুখতে ব্যর্থ ইসরায়েল আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পথ সহজ, শুরুতেই মহাযুদ্ধ ইউরোপীয় পরাশক্তিদের নকআউটেও ভেল্কি দেখাবেন ভিনি? বেইজিংয়ে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তদন্ত ভ্যাটে ছাড় পেতে পারেন ছোট দোকানিরা বেক্সিমকোয় ভর করে বাড়ল সূচক ও লেনদেন ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করবে সরকার দেশে আয়বৈষম্য বেড়েছে ২৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল

রাসুল (সা.) কিভাবে জুতা পরতেন?

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
রাসুল (সা.) কিভাবে জুতা পরতেন?
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিনের খুব সাধারণ একটি কাজ জুতা পরা এবং খোলা। অথচ চৌদ্দ শত বছর আগে এই সামান্য অভ্যাসটির মধ্যেও এক চমৎকার শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচার ফুটিয়ে তুলেছেন রাসুল (সা.)। আজ আমরা জানব জুতা ব্যবহারের সেই অনন্য নববি নির্দেশনা এবং ইসলামের ইতিহাসে জুতার ফ্যাশনে আসা একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের কথা।

আমরা অনেকেই হয়তো খেয়াল না করেই যেকোনো পায়ে আগে জুতা গলিয়ে দিই। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ আমাদের প্রতিটি কাজে ইতিবাচক ও সুশৃঙ্খল হওয়ার শিক্ষা দেয়। জুতা পরা ও খোলার ক্ষেত্রে তিনি একটি চিরন্তন নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ জুতা পরিধান করে, তখন সে যেন ডান দিক থেকে আরম্ভ করে। আর যখন খোলে, তখন যেন বাম দিক থেকে আরম্ভ করে। অর্থাৎ পরিধানের সময় ডান পা প্রথমে থাকবে এবং খোলার সময় বাম পা প্রথমে থাকবে।’ (সহিহ বুখারি, ৫৮৫৫; মুয়াত্তা মালিক,১৬৩৪)

উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, এটি কেবল জুতার ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভালো কাজের প্রতি নবিজি (সা.)-এর এক চিরন্তন ভালোবাসা ছিল। তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর চুল আঁচড়ানো, জুতা পরিধান করা এবং পবিত্রতা অর্জনের মতো (সব ভালো) কাজের ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন।’ ( বুখারি, ৪২৬; ইবনে হিব্বান, ১০৯১)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতার গঠন কেমন ছিল, তা আমরা জানি। কিন্তু খেলাফতের যুগে এসে জুতার এই নকশায় যে একটি ঐতিহাসিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছিল, তা অনেকেরই অজানা। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.), আবু বকর (রা.) এবং উমর (রা.) প্রমুখের জুতায় দুটি করে ফিতা ছিল। অতঃপর (আমিরুল মুমিনিন) উসমান (রা.)ই সর্বপ্রথম এক ফিতাবিশিষ্ট জুতো পরিধান করেন।’ (আল-মুজামুল কাবীর, ১২৮)

এই তথ্যটি আমাদের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। জুতায় দুটি ফিতা থাকা কোনো অলঙ্ঘনীয় ধর্মীয় নিয়ম ছিল না, বরং তা ছিল তৎকালীন আরবের সংস্কৃতি। তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.) যখন এক ফিতার জুতা পরা শুরু করলেন, তখন মুসলিম সমাজ বুনেছিল প্রগতি ও ব্যবহারের সহজীকরণের এক নতুন পাঠ।

ডান পা দিয়ে জুতা পরা আর বাম পা দিয়ে খোলা বাইরে থেকে দেখতে সাধারণ মনে হলেও এটি একজন মুমিনের মনস্তাত্ত্বিক শৃঙ্খলা তৈরি করে। আর উসমান (রা.)-এর একক ফিতার জুতার ইতিহাস প্রমাণ করে, ইসলাম সংস্কৃতির সুন্দর ও সুবিধাজনক পরিবর্তনকে কতটা উদারভাবে গ্রহণ করে। বৈচিত্র্যময় এই নববি সিরিজটি বইয়ের পাতায় বা পত্রিকার কলামে আধুনিক পাঠককে প্রাত্যহিক জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়েও সচেতন হতে অনুপ্রাণিত করবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

রাসুল (সা.) কিভাবে জুতা পরতেন?

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
রাসুল (সা.) কিভাবে জুতা পরতেন?
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিনের খুব সাধারণ একটি কাজ জুতা পরা এবং খোলা। অথচ চৌদ্দ শত বছর আগে এই সামান্য অভ্যাসটির মধ্যেও এক চমৎকার শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচার ফুটিয়ে তুলেছেন রাসুল (সা.)। আজ আমরা জানব জুতা ব্যবহারের সেই অনন্য নববি নির্দেশনা এবং ইসলামের ইতিহাসে জুতার ফ্যাশনে আসা একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের কথা।

আমরা অনেকেই হয়তো খেয়াল না করেই যেকোনো পায়ে আগে জুতা গলিয়ে দিই। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ আমাদের প্রতিটি কাজে ইতিবাচক ও সুশৃঙ্খল হওয়ার শিক্ষা দেয়। জুতা পরা ও খোলার ক্ষেত্রে তিনি একটি চিরন্তন নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ জুতা পরিধান করে, তখন সে যেন ডান দিক থেকে আরম্ভ করে। আর যখন খোলে, তখন যেন বাম দিক থেকে আরম্ভ করে। অর্থাৎ পরিধানের সময় ডান পা প্রথমে থাকবে এবং খোলার সময় বাম পা প্রথমে থাকবে।’ (সহিহ বুখারি, ৫৮৫৫; মুয়াত্তা মালিক,১৬৩৪)

উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, এটি কেবল জুতার ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভালো কাজের প্রতি নবিজি (সা.)-এর এক চিরন্তন ভালোবাসা ছিল। তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর চুল আঁচড়ানো, জুতা পরিধান করা এবং পবিত্রতা অর্জনের মতো (সব ভালো) কাজের ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন।’ ( বুখারি, ৪২৬; ইবনে হিব্বান, ১০৯১)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতার গঠন কেমন ছিল, তা আমরা জানি। কিন্তু খেলাফতের যুগে এসে জুতার এই নকশায় যে একটি ঐতিহাসিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছিল, তা অনেকেরই অজানা। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.), আবু বকর (রা.) এবং উমর (রা.) প্রমুখের জুতায় দুটি করে ফিতা ছিল। অতঃপর (আমিরুল মুমিনিন) উসমান (রা.)ই সর্বপ্রথম এক ফিতাবিশিষ্ট জুতো পরিধান করেন।’ (আল-মুজামুল কাবীর, ১২৮)

এই তথ্যটি আমাদের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। জুতায় দুটি ফিতা থাকা কোনো অলঙ্ঘনীয় ধর্মীয় নিয়ম ছিল না, বরং তা ছিল তৎকালীন আরবের সংস্কৃতি। তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.) যখন এক ফিতার জুতা পরা শুরু করলেন, তখন মুসলিম সমাজ বুনেছিল প্রগতি ও ব্যবহারের সহজীকরণের এক নতুন পাঠ।

ডান পা দিয়ে জুতা পরা আর বাম পা দিয়ে খোলা বাইরে থেকে দেখতে সাধারণ মনে হলেও এটি একজন মুমিনের মনস্তাত্ত্বিক শৃঙ্খলা তৈরি করে। আর উসমান (রা.)-এর একক ফিতার জুতার ইতিহাস প্রমাণ করে, ইসলাম সংস্কৃতির সুন্দর ও সুবিধাজনক পরিবর্তনকে কতটা উদারভাবে গ্রহণ করে। বৈচিত্র্যময় এই নববি সিরিজটি বইয়ের পাতায় বা পত্রিকার কলামে আধুনিক পাঠককে প্রাত্যহিক জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়েও সচেতন হতে অনুপ্রাণিত করবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

২৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
২৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

আজ ২৯ জুন ২০২৬, শুক্রবার । ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৪ মিনিট

আসর

৪.৪০ মিনিট

মাগরিব

৬.৫৩ মিনিট

এশা

৮.১৯ মিনিট

 

ফজর (২৫ জুন)

.৪৫মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কোনো বিষয়ে ভয় অনুভব করলে যে আমলটি করবেন

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
কোনো বিষয়ে ভয় অনুভব করলে যে আমলটি করবেন
ছবি: সংগৃহীত


মানুষের যখন সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়, তখনও হতাশাগ্রস্ত মানুষের জন্য রবের দ্বার উন্মুক্ত রয়। রবের সেই উন্মুক্ত দ্বার থেকে প্রাপ্তির মাধ্যম হলো দোয়া। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টিই করেছেন অতি দুর্বল ভাবে। আর সেই দুর্বলতার প্রকাশ ঘটে, কোনো বিষয় গ্রহণ ও ত্যাগ করতে ভয় অনুভব করা মাধ্যমে। আর জীবনের এই পথকে সহজ করতে রাসুল (সা.) আমাদেরকে কিছু দোয়া শিখিয়েছেন যা আমলে সহজ আর প্রতিদানে ব্যাপক। তাই কোনো কাজে ভয় পেলে রাসুল (সা.) এর আমলকৃত এই দোয়াটি আমাদের পাথেয় হতে পারে। 

হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কিছু দেখে ভয় অনুভব করতেন, তখন তিনি এ দোয়া পড়তেন-
দোয়াটির আরবি উচ্চারণ : هُوَ اللَّهُ، اللَّهُ رَبِّي لَا شَرِيكَ لَهُ

বাংলা উচ্চারণ: হুয়াল্লাহু, আল্লাহু রাব্বি লা-শারিকালাহ।
অর্থ: তিনিই আল্লাহ, তিনি আমার প্রভু, তাঁর কোন শরিক নেই।

ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলে ইসলামের বিধান কী?

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলে ইসলামের বিধান কী?
ছবি: সংগৃহীত

জীবন বাঁচানোর তাগিদে আমরা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হই কিন্তু কখনো কখনো সেই জীবনদাতার অনিচ্ছাকৃত ভুলেই নিভে যায় রোগীর জীবনপ্রদীপ ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর এমন ঘটনা হরহামেশাই খবরের শিরোনাম হয় কিন্তু আপনি কি জানেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের ব্যাপারে ইসলামি শরিয়াহর অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট আধুনিক আইনি কাঠামো রয়েছে? চিকিৎসকের দক্ষতা, অভিভাবকের অনুমতি এবং প্রেসক্রিপশনের ধরনের ওপর ভিত্তি করে এখানে নির্ধারিত হয় অপরাধ দণ্ড

ইসলামি ফিকাহর বিধান অনুযায়ী, একজন চিকিৎসক যদি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রাপ্ত, দক্ষ অভিজ্ঞ হন, তবেই তার জন্য চিকিৎসা করা বৈধ এই ধরনের স্বীকৃত চিকিৎসক যদি রোগীর অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের সমস্ত স্বীকৃত নীতিমালা (Medical Protocol) মেনে চিকিৎসা করেন, আর এর পরও দুর্ভাগ্যবশত রোগীর মৃত্যু হয়–তবে সেই চিকিৎসকের ওপর কোনো ধরনের আইনি বা আর্থিক দায় বর্তাবে না একে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হবে

তবে দক্ষ চিকিৎসকও যদি রোগীর অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া কিংবা স্বীকৃত নীতিমালার বাইরে গিয়ে খামখেয়ালিপূর্ণ চিকিৎসা করেন, তবে তাকে অবশ্যই দায় নিতে হবে এক্ষেত্রে:

সম্পূর্ণ ভুল পদ্ধতি হলে: তাকে পূর্ণদিয়তবা রক্তপণ (ক্ষতিপূরণ) দিতে হবে

আংশিক ভুল পদ্ধতি হলে: তাকে অর্ধেক দিয়ত দিতে হবে

বর্তমানে দেশে ভুয়া এবং অদক্ষ চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে ইসলামি আইনের দৃষ্টিভঙ্গি এক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর যিনি চিকিৎসার উপযুক্ত নন বা অদক্ষ, তার জন্য চিকিৎসা পেশায় আসাই সম্পূর্ণ নাজায়েজ বা হারাম

রাসুলুল্লাহ (সা.) সুনানে আবু দাউদের ৪৫৮৬ নম্বর হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, যে ব্যক্তি চিকিৎসাবিদ্যা না জেনে (অনভিজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও) কারও চিকিৎসা করে, (আর এতে রোগীর কোনো ক্ষতি হলে) তবে তাকেই এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

তাই কোনো অদক্ষ ব্যক্তির চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হলে, রোগীর অভিভাবকের অনুমতি থাকুক বা না থাকুক এবং তিনি নীতিমালা মানুন বা না মানুন–তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করেপূর্ণ দিয়তবা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

ইসলামি আইনে অপরাধের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে সাজার ভিন্নতা রয়েছে এই বিধানটি তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন চিকিৎসায় ডাক্তারের হাত সরাসরি ব্যবহৃত হয়েছে; যেমন- সার্জারি বা অপারেশন করা, ইনজেকশন পুশ করা কিংবা নিজ হাতে রোগীকে ভুল ওষুধ খাওয়ানো

কিন্তু ডাক্তার যদি শুধু কাগজে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন এবং পরে রোগী নিজে বা তার অভিভাবক বাজার থেকে এনে সেই ওষুধ সেবন করেন–তবে সেই ভুল ওষুধের কারণে মৃত্যু হলেও ডাক্তারের ওপর সরাসরিযামানবা দিয়ত ওয়াজিব হয় না তবে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী অবহেলার জন্য তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে

চিকিৎসার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ইসলামের এই সুষম ভারসাম্যপূর্ণ আইনি রূপরেখা একদিকে যেমন দক্ষ চিকিৎসকদের সুরক্ষা দেয়, অন্যদিকে রোগীদের অধিকার নিশ্চিত করে অদক্ষদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করে

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

পবিত্র আশুরা আজ

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
পবিত্র আশুরা আজ
ছবি: সংগৃহীত

আজ শুক্রবার পবিত্র আশুরা। সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শোকের আবহে দিনটি পালিত হচ্ছে। হিজরি মুহাররম মাসের দশম দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে এক অনন্য এবং তাৎপর্যপূর্ণ দিন। সৃষ্টির শুরু থেকে নানা ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক এই দিনটি। তবে সব ছাড়িয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.) এর সপরিবারে শাহাদতবরণ বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কাছে এক চিরন্তন শোক ও ত্যাগের মহিমামর অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত। 

বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও আজ নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার ও রোজা পালনের মধ্য দিয়ে দিনটি অতিবাহিত করছেন। হাদিস শরিফে এসেছে, রমজানের পর মুহাররমের রোজাই সবচেয়ে উত্তম এবং আশুরার একটি রোজা পালনে বিগত এক বছরের গুনাহ মাফ হয়। এই পবিত্র দিনে শিয়া সম্প্রদায় রাজধানীর পুরাণ ঢাকার হোসেনি দালান থেকে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের করে থাকে। 

ইসলামি ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তায়ালা এই ১০ মুহাররমের দিনেই আরশ, কুরসি, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। এই দিনেই প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয় এবং পরে দুনিয়ায় প্রেরণের পর এই দিনেই তার তাওবা কবুল করা হয়। এ ছাড়াও হজরত নূহ (আ.)-এর যুগের মহাপ্লাবনের পর তার কিস্তি জুদি পাহাড়ে ভেড়ে এবং হজরত মূসা (আ.)-এর নেতৃত্বে বনি ইসরাইলদের অত্যাচারী ফেরাউনের কবল থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি পাওয়ার মতো মহান সব ঘটনার সাক্ষী এই পবিত্র আশুরা।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত তাজিয়া মিছিলসহ বিভিন্ন শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন বিভাগের ২৮টি ইমামবাড়া কর্তৃক মুহাররমের ১ তারিখ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি মিছিলের জন্য নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ পুলিশি পাহারা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আতশবাজি বা যেকোনো ধরনের পটকা ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির বাণী: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কারবালার প্রান্তরে শাহাদতবরণকারী সব শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী মানুষকে অন্যায়-অবিচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় এবং সত্য, সুন্দর ও আলোর পথ দেখায়। তিনি একটি সাম্য, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর সংহতি কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আপসহীন সংগ্রামকে স্মরণ করে বলেন, ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তিনি আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনা মানবজাতিকে শিখিয়েছে কীভাবে জুলুম, অন্যায় ও স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত না করে সত্য ও ন্যায়ের আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হয়। এই অবিনাশী শিক্ষা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস ধারণ করে আছে।