জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের নায়ক বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ কে–এ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সরকারি দল বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তুমুল তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে জুলাই আন্দোলনের প্রধান নায়ক হিসেবে দাবি করা হয়। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ আন্দোলনের কোনো একক মাস্টারমাইন্ড নেই; এর প্রকৃত শক্তি ছিল বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ এবং তরুণ প্রজন্ম।
গতকাল রবিবার (২৮ জুন) সংসদে বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনের সাধারণ আলোচনায় বিষয়টি নিয়ে দুই দফা বিতর্ক হয়। প্রথমে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দূরে অবস্থান করেও তারেক রহমান বুদ্ধিবৃত্তিক ও কৌশলগত নেতৃত্ব দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে সফল করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা অতীতে তারেক রহমানকে আন্দোলনের প্রধান নায়ক হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তার বক্তব্যের সময়কাল সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। তিনি জানান, ওই মন্তব্য তিনি ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে করেছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়। গণ-অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পর যাদের নেতৃত্বে আন্দোলন বিজয়ে পৌঁছেছে, তাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুপুরে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক বিষয়টি আবারও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা নিজেই একসময় প্রকাশ্যে তারেক রহমানকে জুলাই আন্দোলনের মহানায়ক ও প্রধান নায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তাই এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের বক্তব্য সঠিক এবং তা সংসদের কার্যবিবরণীতে সংরক্ষণ করা উচিত।
পাল্টা বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের বক্তব্য তিনি অস্বীকার করছেন না। তবে সেটি ছিল ভিন্ন সময় ও ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেওয়া। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আন্দোলনের চরিত্র ও বাস্তবতা নতুন মাত্রা পায়। তাই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা নেতৃত্বের নয়; এটি গণমানুষের সম্মিলিত সংগ্রামের ফল।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশ সফরের সময় একজনকে (মাহফুজ আলম) জুলাই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তখন তিনিই প্রথম এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের গণ-অভ্যুত্থানকে কোনো একক ব্যক্তির কৃতিত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যুবসমাজকে কৃতিত্ব দিতে চাই। এই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ। একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না, আগেও বলেছি, এখনো বলছি।’