দেশব্যাপী শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী আগামী জুলাই মাসেই মাদরাসাশিক্ষকদের সব বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিক্ষককে ট্যাব দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম গড়ে তোলা হবে, যেখানে শিক্ষকরা পাঠদান, পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে আরও ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
মাদরাসাশিক্ষকদের বেতন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষকের বেতন দিতে প্রতি মাসে ৫০১ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও অর্থের সংস্থান না থাকায় চলতি মাসে বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অর্থমন্ত্রী ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন এবং জুলাই মাসে বাকি অর্থ ছাড়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফলে আগামী মাসেই সব বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।
বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসর সুবিধার ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন
শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডে প্রায় ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রায় ৮ হাজার ৭১০ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও অবসর তহবিলে বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ফলে প্রায় ৭ হাজার ৪১০ কোটি টাকার অর্থ ঘাটতি রয়েছে।
গতকাল রবিবার প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় তিনি এসব তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা দ্রুত প্রদানে সরকার আন্তরিক। বর্তমানে একজন শিক্ষক বা কর্মচারী গড়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকা অবসর ভাতা পান। তবে অর্থসংকটের কারণে আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে আগস্ট ২০২৩ থেকে ২১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য এককালীন প্রায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থিক সংকট নিরসনে সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি সফটওয়্যার পুনরায় চালু, জনবল বৃদ্ধি, অনলাইন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আইবাসের মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।