উজানের ঢল ও টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি রবিবার (২৮ জুন) বিপৎসীমা অতিক্রম করার পর সোমবার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে।
তবে টানা প্রায় ২৪ ঘণ্টা পানি বিপদসীমার আশপাশে অবস্থান করায় জেলার নিম্নাঞ্চল, চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার পাঁচটি উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে দুপুর ১২টায় তা বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার এবং বিকেল ৩টায় ১৭ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। যদিও পানি কমতে শুরু করেছে, তবুও তিস্তা তীরবর্তী অনেক এলাকায় এখনো বন্যার পানি আটকে রয়েছে।
জেলার হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী, সদর ও পাটগ্রাম উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বহু বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উঁচু স্থানে সরে গেছে। বন্যার কারণে বিভিন্ন এলাকায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
এদিকে নদীতীরবর্তী এলাকার বিস্তীর্ণ চারণভূমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় গবাদিপশুর খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও বন্যার প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় জেলার অন্তত ছয়টি স্কুলে পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
বন্যার পানিতে অনেক গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে তিস্তার পানি আবারও বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে অথবা এর কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর ডান তীরকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, ‘দেশে ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি কিংবা তার ওপরে থাকতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানি বৃদ্ধি বা হ্রাসের পর নদীভাঙনের ঝুঁকিও থাকে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে।’
বকুল/রিফাত/