ভেনেজুয়েলার লা গুয়াইরা রাজ্যে একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে লাশের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে আর্জেন্টিনার সন্ধান ও উদ্ধারকারী দল। ছবি: রয়টার্স
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর এক আবেগঘন উদ্ধার অভিযানের সাক্ষী হলো বিশ্ব। ধসে পড়া একটি ভবনের নিচে দীর্ঘ চার দিন আটকে থাকার পর অবশেষে এক বাবা ও তার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজ হাজার হাজার মানুষের সন্ধানে যখন উদ্ধারকারীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ছেন, তখন এই উদ্ধার অভিযান আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর মধ্যে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।
উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরার ধ্বংসাবশেষের মধ্য থেকে ওই বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করেন ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।
দীর্ঘ ১২ ঘণ্টার এক নিবিড় ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের পর তাদের বের করে আনতে সক্ষম হন তারা।
উদ্ধারকারীরা যখন স্ট্রেচারে করে জীর্ণ ও রক্তাক্ত বাবা-ছেলেকে ধূলিমলিন রাস্তা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত আবেগাপ্লুত স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় জমে যায়।
উদ্ধারকারী দলগুলো জানায়, ধসে পড়া ভবনের বিপজ্জনক ও নড়বড়ে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবনের সন্ধান পেতে তারা বিশেষ সার্চ ক্যামেরা এবং অত্যাধুনিক শনাক্তকরণ সরঞ্জাম ব্যবহার করেছিলেন। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কংক্রিটের চাঁই সরিয়ে চার দিন ধরে আটকে থাকা এই দুই ভুক্তভোগীর কাছে পৌঁছান তারা।
ফরাসি সিভিল সিকিউরিটির এক সদস্য জানান, 'চার দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার কারণে তারা প্রচণ্ড দুর্বল এবং পানিশূন্যতায় ভুগছিলেন। উদ্ধার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীরগতির ছিল। আমরা তাদের বের করে আনার সময়েই শরীর রিহাইড্রেট করার জন্য স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থা করি।'
এই যৌথ উদ্ধারকারী দলটিতে ফরাসি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ‘ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিম’-এর সদস্যরাও যুক্ত ছিলেন।
এর আগেরদিন একই দল আরেকটি ধসেপড়া ভবন থেকে এক মা এবং তার ৯ মাস বয়সী শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে।
বুধবার (২৪ জুন) ভেনেজুয়েলার উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৫০ জন নিহত এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ বা আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যদিও সরকারি হিসাব অনুযায়ী সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে যাওয়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে কাউকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। সেই 'ক্রিটিক্যাল উইন্ডো' পার হওয়ার পরও বাবা-ছেলের এই বেঁচে ফেরা দুর্যোগকবলিত ভেনেজুয়েলায় এখন সবচেয়ে বড় আশার প্রতীক। সূত্র: রয়টার্স
আজহার/অমিয়/