ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানার চার দিনের বেশি সময় পরও উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
এদিকে অন্তত ১৪৫০ জনের প্রাণহানির এ দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
রবিবার (২৮ জুন) কারাবালেদা শহরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তি ও তার কিশোর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে ফরাসি ও মার্কিন উদ্ধারকারী দল। শহরটি রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এই উদ্ধার অভিযানে কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও, দেশটি এখনো গভীর মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ভেনেজুয়েলায় এ ভূমিকম্প নতুন বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাই জীবিতদের উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এরপর সাধারণত উদ্ধার অভিযান লাশ উদ্ধারে রূপ নেয়। আটকা পড়াদের উদ্ধারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পার হলেও এখনো কয়েক হাজার মানুষের সন্ধান মেলেনি।
সন্ধান পেতে কারাকাসের আরেক এলাকায় চাকাওয়ে সাধারণত বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহৃত একটি ভবনের বড় বড় ইলেকট্রনিক পর্দায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া ২৭ বছর বয়সী লুইস সালাস বলেন, ‘সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত ছিল, যখন আমরা সুড়ঙ্গের ভেতরে আশার আলো দেখেছি। হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়েছি, ধ্বংসস্তূপ সরিয়েছি, সর্বশক্তি ও বিশ্বাস নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে তাদের মৃত অবস্থায় পেয়েছি।’
এই পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৫০ পৌঁছেছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এছাড়াক আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিন হাজারের ও বেশি।
তুকাকাসের স্বেচ্ছাসেবক এডুয়ার্ডো কার্ডোজো বলেন, সময়মতো তল্লাশি চালানো হলে, কিছু মানুষকে বাঁচানো যেত।
তবে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তি সেনাদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের আপনাদের দরকার। অস্ত্র নামিয়ে কোদাল-শাবল হাতে নিন।’
এএফ/