বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নরওয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে শান্তি, সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের পক্ষে তার দেশের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে।’
সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে রোটারি শান্তি সম্মেলন-২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ নরওয়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে গত মার্চে নরওয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংস্কারের লক্ষ্যে একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশ এবং নরওয়ে একে অপরের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী। বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত গুলব্রান্ডসেন।’
সম্মেলনে বাংলাদেশে রোটারি ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ইশতিয়াক এ জামান বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ৬ হাজার রোটারিয়ান রয়েছেন। তারা দেশের জরুরি ভ্যাকসিনেশন, খাদ্য, চিকিৎসার মত কাজে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধের কারণে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের পাশেও দাঁড়াতে পারে। এছাড়া রোটারি ক্লাবের কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করার সুযোগ আছে বলে জানান তিনি।’
সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. মো. জুলফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের সেনাবাহিনী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেখানে রোটারি ক্লাবের কিছু কাজ করার সুযোগ আছে।’
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্যে রোটারি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর একেএম শামসুল হুদা বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রের পিছনে ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়। এই অস্ত্র প্রতিযোগিতায় যেসব দেশ বাণিজ্য করে তাদের কারণে যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। এই যুদ্ধের কারণে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ অমানবিক ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তেমন অর্থ খরচ করা হয় না। এসব যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং আহত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় রোটারিয়ানরা।’
রোটারি শান্তি সম্মেলনে বাংলাদেশ রোটারি ক্লাবের নেতা ও সদস্যরা অংশ নেন। সম্মেলনে তারা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে যৌথভাবে অঙ্গীকার করেন।
রবিউল/রিফাত/