ঢাকা ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তামিম ইকবাল এমসিসির আজীবন সদস্যপদ পাওয়ায় বেঙ্গল টাইগার্সের অভিনন্দন ভেনেজুয়েলায় জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ, তল্লাশি অব্যাহত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি, তবে কিছুদিন থাকবে লোডশেডিং: বিদ্যুৎমন্ত্রী চীন সফরে প্রাপ্তি-প্রতিশ্রুতি কী মিললো, স্পষ্ট করুন: রুমিন ফারহানা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা চলবে, আপাতত হামলা বন্ধে সম্মত দুই পক্ষ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১৯৮ কোটি টাকা কর আদায় চসিকের নওগাঁয় কর্মবিরতিতে ডাক কর্মচারীরা গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু কালিমার পতাকা নিয়ে বিতর্ক ও আমাদের উদ্বেগ উত্তর মেরু অভিযানে যাচ্ছে বাংলাদেশি স্কুলশিক্ষার্থী ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ প্রসঙ্গে কিছু কথা ইউসিবির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে পদোন্নতি পেলেন মোহাম্মদ শফিকুর রহমান ও মো. রীদওয়ানুল হক সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে চায় বাংলাদেশ পুলিশ ধামরাইয়ে মহাসড়কে ডিম ভেঙে খামারিদের প্রতিবাদ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি অর্থমন্ত্রীর A King and Astrologer বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ৫ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিট পরিদর্শনে রেড ক্রিসেন্ট চেয়ারম্যান একদিনে ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১২৪ হাসপাতালে ভর্তি মিল্টন খন্দকার, দ্রুত অস্ত্রোপচার টাইব্রেকার হলে শুটার বাছবেন জাপান কোচ লালমনিরহাটে পানিবন্দি হাজারো মানুষ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত মরক্কো সাবেক এমপি আশিকা আবারও রিমান্ডে, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নবী নেওয়াজ শিক্ষা খাতে বাজেট: বিনিয়োগ নাকি দুর্নীতির নতুন সুযোগ? জাপান ম্যাচের আগে ভিনির চোখে জল সিংগাইরে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা কুমিল্লায় স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধের ঘটনায় আরও তিনজন আটক সুমেক হাসপাতাল চালুর দাবিতে ক্লাস বর্জনের অষ্টম দিন, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন: মহাবিপর্যয়ের হাতছানি নির্মাতার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুললেন পারসা ইভানা

বিরোধী দলের এমপিদের জন্য বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
বিরোধী দলের এমপিদের জন্য বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আসন প্রতি ২০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এলাকা বাদ দিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি আসনে মসজিদ, গোরস্থান ও ঈদগাহের উন্নয়নকাজে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে এ অর্থ মঞ্জুর করা হয়েছে, যাতে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকার জনগণও সমানভাবে উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল পায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক অবকাঠামোর উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।

মন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বিষয়টি নিয়ে নিজের দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রায় চার দশকের সংসদীয় জীবনে তিনি সরকারি ও বিরোধী উভয় ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বিরোধী দলের সদস্য থাকাকালে এ ধরনের কোনো বরাদ্দ কখনও পাননি।

স্পিকার বলেন, ‘৪০ বছর আমি এই সংসদে কাটিয়েছি। বিরোধী দলের সদস্যও ছিলাম। একটি কানাকড়িও কোনোদিন পাইনি। পাঁচবার গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গিয়েছি। এটুকুই পেয়েছি, অন্য কোনো প্রাপ্তিযোগ হয়নি।’

সংসদে মির্জা ফখরুলের ঘোষণাকে বিরোধী দলের নির্বাচনি এলাকাগুলোর উন্নয়নে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বরাদ্দ বাস্তবায়িত হলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক স্থাপনার উন্নয়নে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বকারী এলাকাগুলোও সমান গুরুত্ব পাবে।

এলিস/অন্তরা/

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি, তবে কিছুদিন থাকবে লোডশেডিং: বিদ্যুৎমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি, তবে কিছুদিন থাকবে লোডশেডিং: বিদ্যুৎমন্ত্রী
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র পুনরায় চালু হওয়ায় লোডশেডিং অনেকটাই কমে এসেছে বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তবে উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে এখনও সামান্য ঘাটতি থাকায় কিছু এলাকায় সীমিত আকারে লোডশেডিং অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আগের দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দিতে হয়েছিল। তবে দ্রুত মেরামত শেষে কেন্দ্র দুটি পুনরায় চালু হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে, যেখানে মোট চাহিদা রয়েছে ১৪ হাজার ৮৩৯ মেগাওয়াট। ফলে বিদ্যুতের ঘাটতি কমে ৩৩৯ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার অবশিষ্ট ঘাটতিও দ্রুত কমিয়ে আনতে কাজ করছে। কিছু এলাকায় এখনও সীমিত আকারে লোডশেডিং থাকতে পারে, তবে তা সম্পূর্ণভাবে দূর করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রবিবারের তুলনায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’

বিদ্যুৎমন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বয়লারের টিউবে লিকেজ দেখা দেওয়ায় সেটি জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করতে হয়েছিল। একই সময়ে বঙ্গোপসাগরের বৈরী আবহাওয়ার কারণে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা খালাস ব্যাহত হওয়ায় ওই কেন্দ্রের একটি ইউনিটও উৎপাদন বন্ধ রাখে। এসব কারণেই সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি অবশিষ্ট লোডশেডিংও দ্রুত কমিয়ে আনার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

এলিস/রিফাত/

চীন সফরে প্রাপ্তি-প্রতিশ্রুতি কী মিললো, স্পষ্ট করুন: রুমিন ফারহানা

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
চীন সফরে প্রাপ্তি-প্রতিশ্রুতি কী মিললো, স্পষ্ট করুন: রুমিন ফারহানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাংলাদেশ কোনো ঋণের আশ্বাস বা নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সরকারকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

একই সঙ্গে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘প্রতি বছর বাজেটে বড় বড় প্রত্যাশা তৈরি হলেও পরে তার বাস্তবতার ভার জনগণকেই বহন করতে হয়।’

সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিনে অর্থবিলের সংশোধনীর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ঘোষিত বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাস্তবে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় প্রকৃত ঘাটতি আরও বাড়ে এবং দেশকে দেশি-বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করতে হয়।’

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানতে চান, ওই সফরে চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশ কোনো ঋণের আশ্বাস পেয়েছে কি না। পেয়ে থাকলে তার পরিমাণ কত এবং নতুন কোনো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এসেছে কি না, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করার আহ্বান জানান তিনি।

রুমিন বলেন, ‘এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি উত্তর না দিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কি কেবল ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে গেছি?’ এমন মন্তব্য কেউ প্রত্যাশা করে না। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার আলোকে ঋণ ও বিনিয়োগ নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত চার বছর ধরে দেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মন্থর গতি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতার মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে। এসব সংকট মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।’

এলিস/রিফাত/

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৪৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে।

সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে হামের উপসর্গে একজন করে মোট ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৭১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ১ হাজার ৪ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২১১ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১১ হাজার ৮৫১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৩ হাজার ৮০৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৮০ হাজার ১৯৩ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

রিফাত/

সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে চায় বাংলাদেশ পুলিশ

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়তে চায় বাংলাদেশ পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অপরাধের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি কোঅপারেশন, ইনফরমেশন শেয়ারিং অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব বাংলাদেশ পুলিশ’ শীর্ষক সমন্বয় সভায় এমন মন্তব্য করেন ঊর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা।

পুলিশ সদর দপ্তরের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে কূটনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি, কার্যকর তথ্য বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। সভায় ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের সমন্বয়, তথ্য বিনিময় এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রায় কঠিন।’

দেশের বাইরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাইবার ক্রাইম, ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম, ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমসহ বৈশ্বিক অপরাধ মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তুলতেও পুলিশ কাজ করছে।’

অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার এবং বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা বাড়াতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি ডিভিশন কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় প্রশংসনীয় অবদান রাখছে। 
সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, বর্তমান বিশ্বে কার্যকর পুলিশিং নির্ভর করে ফলপ্রসূ সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ওপর। 

তিনি সব দূতাবাস এবং বিদেশি সংস্থাকে বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও সেবাদানকারী ইউনিটগুলোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে এ আয়োজন উল্লেখ করে বলেন, ‘এটি একটি কার্যকর যোগাযোগ, দ্রুত সমন্বয় এবং উন্নত অপারেশনাল সহায়তা নিশ্চিত করবে। তিনি কার্যকরভাবে তথ্য বিনিময়, সুসমন্বয় এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি বেলাল উদ্দিন। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি মো. কামরুল আহসান ও ডিআইজি তাপতুন নাসরীন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর অতিরিক্ত ডিআইজি মহিউল ইসলাম অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। 
 
আলমগীর হোসেন/রিফাত/

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি অর্থমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি অর্থমন্ত্রীর
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থের সংস্থান নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সংস্কার এবং ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।’

সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পদক্ষেপ
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘উচ্চ মূল্যস্ফীতি বর্তমানে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। সরকার এটিকে শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক দায়িত্ব হিসেবেও দেখছে। এ জন্য মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির সমন্বয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, ৬০টি নিত্যপণ্যে উৎসে কর কমানো, সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়ন এবং বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে মূল্যস্ফীতি কমে জনজীবনে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।’

প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগে সরকারের আস্থা
প্রস্তাবিত ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি ও সেবাখাত সম্প্রসারণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করা হবে। তিনি জানান, সরকার ‘রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রেস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন’ এই ‘থ্রিআর’ কৌশল বাস্তবায়ন করছে, যার মাধ্যমে অর্থনীতিকে টেকসই পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নেওয়া হবে।’

করভিত্তি বাড়বে, করহার নয়
রাজস্ব আহরণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার করের হার বৃদ্ধি নয়, বরং করভিত্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়াতে চায়। এজন্য রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকায়ন, কর ব্যবস্থার অটোমেশন, কর ফাঁকি রোধ এবং ব্যবসা সহজীকরণে ডিরেগুলেশন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সরকারের চার মাসের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আদায় চার লাখ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে।’

উন্নয়ন ব্যয়ে গুরুত্ব, কমবে পরিচালন ব্যয়
সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর নীতির কথা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো এবং পরিচালন ব্যয়ের অংশ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সময়ে অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতার কারণে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে আগামী অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা, বন্ড মার্কেট উন্নয়ন, ইক্যুইটি ফাইন্যান্সিং এবং বিদেশভিত্তিক বিনিয়োগ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

ব্যাংক সংস্কার ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর উদ্যোগ
ব্যাংক খাতের সংস্কারের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ ফেরাতে সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি উদ্যোগ জোরদার করেছে। চলতি বছরের মে পর্যন্ত ১১টি অগ্রাধিকার মামলায় প্রায় ৭২ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ বা ফ্রিজ করা হয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে একাধিক দেশের সঙ্গে আইনি সহযোগিতা কার্যক্রমও চলছে।

একীভূত পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সাধারণ আমানতকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন এবং অবশিষ্ট অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে। ক্যানসার, কিডনি ডায়ালাইসিস রোগী ও হজ সঞ্চয়কারীদের জন্য বিশেষ সুবিধাও থাকবে।

পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগে প্রণোদনা
পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে জিরো কুপন বন্ডের আয় করমুক্ত করা, তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করহার কমানো, শেয়ার অফলোডে অতিরিক্ত কর সুবিধা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ কর ছাড়ের প্রস্তাব তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের কর রেয়াতের সীমাও তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
বাজেটের সফলতা ঘোষণায় নয়, বাস্তবায়নে নিহিত এ কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তন, রাজস্ব আহরণ, আর্থিক খাতের সংস্কার ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দক্ষ প্রশাসন, ফলাফলভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং কার্যকর জবাবদিহিতার মাধ্যমে সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাজেট বাস্তবায়নে সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এলিস/রিফাত/