গ্রামীণ দুস্থ নারীদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের সর্বস্তরে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
মন্ত্রী জানান, দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির আওতায় ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের ৪৯৩টি উপজেলার ৪ হাজার ৫৮৩টি ইউনিয়নের ১০ লাখ ৪০ হাজার দরিদ্র ও অসচ্ছল নারীকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি প্যাকেটজাত পুষ্টি চাল দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এনজিওর মাধ্যমে আয়বর্ধক কার্যক্রম, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, মা ও শিশু সহায়তা তহবিল কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র পরিবারের ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী গর্ভবতী মায়েদের প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত মাসিক ৮৫০ টাকা ভাতা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এ কর্মসূচির আওতায় ১৭ লাখ ৭১ হাজার ২০০ জন উপকারভোগী রয়েছেন।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ২৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত একক এবং দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হচ্ছে। ২০০৩-০৪ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার ২২ জন নারীর মধ্যে ২০৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় মহিলা সংস্থার মাধ্যমে আরও ৭৪ হাজার ৭৮ জন নারীকে প্রায় ৯৯ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক পাঁচটি ট্রেডে তিন মাস মেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণও চলমান রয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৯ হাজার ২০০ নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের মধ্যে ১১ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা বিতরণ করা হয়েছে।
এলিস/অন্তরা/