কুমিল্লা নগরীর কাটাবিলে মাদক ব্যবসায়ীদের গুলিতে স্কুলছাত্র আহত হওয়ার ঘটনায় আরও তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- ওই এলাকার আসিফ, আশিক ও ইমন।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্র ইথানের বাবা ইউনুস মিয়ার করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনে ওসি জানান, এর আগে এ মামলায় শ্রাবণ নামে আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৬ রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, ‘শ্রাবণ সব্বির গ্রুপের সদস্য এবং আসিফ, আশিক ও ইমন অপু গ্রুপের সদস্য। অপু ও সব্বির গ্রুপের সংঘর্ষের জেরেই কাটাবিলে ইথান গুলিবিদ্ধ হয়।’
জানা গেছে, মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কাটাবিল এলাকায় গত ২৪ জুন রাতে অপু গ্রুপ ও সব্বির গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে পরদিন সকালে কাটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লোকজন জানান, দুপুরে হঠাৎ অস্ত্রধারী একদল ব্যক্তি মানববন্ধনের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় তারা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করলে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ইথান আহমেদ প্রেম গুলিবিদ্ধসহ অন্তত সাতজন আহত হন। ইথান বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার ফুসফুসে গুলি লেগেছে।
গুলিবিদ্ধ ইথান কাটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভাষ্য, টিফিনের বিরতিতে ইথান বাসায় যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়। তার বাবা ইউনুস মিয়া নগরীর সিটি পার্কের একটি রাইডে কর্মরত।
জহির শান্ত/রিফাত/