গ্রুপ পর্বে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে দেখে মনে হচ্ছিল, শরীর যেন আর সাড়া দিচ্ছে না। ফ্লোরিডার প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতায় গোলশূন্য ড্রয়ের শেষ বাঁশি পর্যন্ত মাঠে ছিলেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা। ম্যাচ গোলশূন্য ড্র। আর সেখান থেকেই উঠছে প্রশ্ন; বিশ্বকাপে কি রোনালদোকে অতিরিক্ত খেলিয়ে ঝুঁকি নিচ্ছে পর্তুগাল?
ম্যাচের শেষ আধাঘণ্টায় রোনালদো কার্যত আক্রমণে প্রভাব ফেলতে পারেননি। তার সম্ভাব্য গোলের মান ছিল মাত্র ০.১৭, সম্ভাব্য সহায়তাকারী পাস ০.০৩। অথচ বদলি না হয়ে পুরো ম্যাচ খেলেছেন তিনি। গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের তিন ম্যাচের ২৭০ মিনিটই খেলেছেন রোনালদো। অতিরিক্ত সময় যোগ করলে সংখ্যাটা প্রায় ৩০০ মিনিট। সামনে আবার শেষ ৩২-এর ম্যাচে প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া।
রোনালদোর ফিটনেস নিয়ে সন্দেহ নেই। বয়স চল্লিশ পার হলেও কঠোর অনুশীলন, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক যত্ন তাকে এখনো প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে রেখেছে। কিন্তু বয়সের বাস্তবতাও আছে। তাই ম্যাচের সময় বণ্টন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তবে পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেস এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তার মতে, রোনালদো মানসিক ও শারীরিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী এবং নব্বই মিনিট খেলা তার জন্য সমস্যা নয়।
বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছিলেন রোনালদো। কলম্বিয়ার বিপক্ষেও প্রথমার্ধে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ক্লান্ত দেখানোর পরও তাকে মাঠে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যখন ২৫ বছর বয়সী গনসালো রামোস পুরো ম্যাচ বেঞ্চেই ছিলেন।
অন্যদিকে বিশ্বকাপের অন্য বড় দলগুলো তারকাদের সময় বণ্টনে বেশ সতর্ক। নরওয়ে শেষ ৩২-এর কথা ভেবে আর্লিং হালান্ডকে বিশ্রাম দিয়েছে। আর্জেন্টিনাও জর্ডানের বিপক্ষে লিওনেল মেসিকে শুরুর একাদশে রাখেনি।
মার্তিনেস অবশ্য বলেন, ‘অন্য দলের সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়।’ কিন্তু প্রশ্নটা রোনালদো খেলবেন কিনা, সেটা নয়; বরং কতক্ষণ খেলবেন। কারণ অতিরিক্ত চাপের মূল্য শেষ পর্যন্ত শুধু রোনালদো নয়, দিতে হতে পারে পুরো পর্তুগালকে। সামনে ক্রোয়েশিয়া, আর এরপর সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। সেখানে সতেজ রোনালদো আর ক্লান্ত রোনালদোর পার্থক্যই হয়তো গড়ে দিতে পারে ভাগ্য।