এক সময় বিশ্বকাপ মানেই ছিল এশিয়া ও আফ্রিকার দলগুলোর জন্য মাঝে মধ্যে অঘটন ঘটানোর মঞ্চ। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষে চিত্রটা বদলেছে। আফ্রিকা নিজেদের সামর্থ্যের দারুণ প্রমাণ দিলেও এশিয়ার জন্য এবারের অভিযান ছিল অনেকটাই হতাশার। বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত আসরে অংশ নেওয়া আফ্রিকার ১০ দলের মধ্যে রেকর্ড ৯টি দলই জায়গা করে নিয়েছে নকআউট পর্বে। বিপরীতে এশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে মাত্র দুটি দল রাউন্ড ৩২-এ উঠতে পেরেছে।
আফ্রিকা অঞ্চল থেকে নকআউট নিশ্চিত করেছে আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, ডিআর কঙ্গো, মিসর, ঘানা, আইভরি কোস্ট, মরক্কো, সেনেগাল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। বাদ পড়েছে তিউনিসিয়া। এশিয়া অঞ্চল থেকে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করতে পেরেছে জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া। বাদ পড়েছে ৭ দল– ইরান, ইরাক, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া এবং উজবেকিস্তান। অভিষেক রাঙাতে পারেনি দুই অভিষিক্ত দল–জর্ডান এবং উজবেকিস্তান।
সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে নবাগত কেপ ভার্দে। প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই তারা স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছে, উরুগুয়েকেও ভুগিয়েছে এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নকআউট নিশ্চিত করেছে। বলা বাহুল্য, আফ্রিকা উপভোগ করছে তাদের ইতিহাসের সেরা সম্মিলিত বিশ্বকাপ, যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে ২০১৪ ও ২০২২–উভয় বিশ্বকাপেই আফ্রিকার সর্বোচ্চ দুটি দল নকআউট পর্বে উঠতে পেরেছিল।
এবারের আসরে কনকাকাফ অঞ্চলের ৬টি দল অংশ নিয়েছিল। যার মধ্যে ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে তিন সহ-আয়োজক– কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বার এই অঞ্চলের তিনটি দল এক সঙ্গে নকআউট পর্বে পা রাখল। কানাডা তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপে এসে ৮ গোল করে নতুন সম্ভাবনার জানান দেয়। মেক্সিকো ৩ ম্যাচের সব ক’টি জিতে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। হজম করেনি কোনো গোল।
যুক্তরাষ্ট্রও নতুন কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে। চার দলের গ্রুপে তারা সর্বোচ্চ ৮ গোল করে আক্রমণভাগের সক্ষমতা প্রমাণ করে।