ঢাকা ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তাপপ্রবাহে ইউরোপে অতিরিক্ত ১৩০০ জনের বেশি মৃত্যুর রেকর্ড : ডব্লিউএইচও আফ্রিকার জয়জয়কার, হতাশ এশিয়া খবরের কাগজের মহিউদ্দিন পলাশ রানারআপ ঘুষ ছাড়া মিলছে না ধান বিক্রির সুযোগ, বিপাকে কৃষকরা স্বাধীনতা যুদ্ধ আর জুলাই আন্দোলনকে এক কাতারে দেখার সুযোগ নেই: ত্রাণমন্ত্রী নক্ষত্রের পতন হয়নি জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিধ্বস্ত রোনালদোকে নিয়ে বেশি ঝুঁকি নিচ্ছে পর্তুগাল? নাঈম হাসানকে থানায় হেনস্তা: তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: পানিসম্পদ মন্ত্রী হোন্ডার নতুন সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক হ্যাচব্যাক গাড়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্বোধন প্রাণী কি মৃত্যু বুঝতে পারে? যেভাবে তৈরি হয়েছিল গিজার গ্রেট পিরামিড ২৭ জুন পর্যন্ত রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭.৩ শতাংশ আঁতুড়ঘর থেকে বিশ্বমঞ্চে তরুণ ফুটবলার গোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করল প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে লক্ষ্য পূরণ হলো না জ্যোতিদের অতিরিক্ত আইজি, ডিআইজি ও এসপিসহ ২১ কর্মকর্তার নতুন দায়িত্ব ডেইলি স্টার হামলা মামলায় এনসিপির আনোয়ার রিমান্ডে প্রাথমিক শিক্ষকদের পদমর্যাদা বাড়ানোর ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর ইন্টেল কোর আল্ট্রা প্রসেসরের শক্তি নিয়ে বাজারে এলো লেনোভো আইডিয়াপ্যাড স্লিম ৫ সিরিজ দেশব্যাপী ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর একক কোনো মাস্টারমাইন্ড আমরা মানি না: বিরোধীদলীয় নেতা আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বাণিজ্যিক আকাঙ্ক্ষা ছিল পুরোপুরি অনৈতিক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুধকুমার নদীতে ৩ ঘণ্টায় ৫৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি, নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ অপতথ্যের ভিড়ে ‘খবরের ভেতরের খবর’ খুঁজে বের করুন: তথ্য সচিব শ্রীমঙ্গলে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, নিহত ২ ক্রীড়া কার্ডের সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০০ করা হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

প্রাণী কি মৃত্যু বুঝতে পারে?

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
প্রাণী কি মৃত্যু বুঝতে পারে?
ছবি: সংগৃহীত

পোষা প্রাণীর মৃত্যু সব সময় কষ্টদায়ক। অনেকে মনে করেন,  মৃত্যু সম্পর্কে কেবল মানুষের সুস্পষ্ট ধারণা রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীববিজ্ঞানে মৃত্যু একটি সর্বজনীন বিষয়। অনেক প্রাণী তাদের সঙ্গীর মৃত্যুতে নানারকম প্রতিক্রিয়া দেখায়। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের নটিংহাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির প্রাণীবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক জ্যাকুলিন বয়েড তার পোষা কুকুর ববির মৃত্যুর পর প্রাণীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। ওরাল মেলানোমায় আক্রান্ত হয়ে কুকুরটির মৃত্যুর পর তিনি অন্য কুকুরদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন।

মৃত্যুর সবচেয়ে প্রাথমিক ধারণা হলো একটি প্রাণী বুঝতে পারে যে, অন্য প্রাণীর জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে এবং সে আর ফিরে আসবে না। প্রাণিজগতে সঙ্গীর মৃত্যুতে বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিছু প্রাণী বেঁচে থাকার কৌশল হিসেবে মরার ভান করে। যেমন–ওপোসাম নামের প্রাণী শিকারির হাত থেকে বাঁচতে এই কৌশল নেয়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় থ্যানাটোসিস বলা হয়। কিছু পাখি, সাপ ও কীটপতঙ্গের মধ্যেও এই আচরণ দেখা যায়।

গৃহপালিত প্রাণীদের মধ্যেও শোক প্রকাশের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, কাছের সঙ্গী কুকুর বা বিড়ালের মৃত্যুতে অনেক সময় বিড়াল খাওয়া, ঘুমানো বা বিচরণ কমিয়ে দেয়। ডলফিনের মতো সামুদ্রিক প্রাণীরা মৃত শাবকের প্রতি গভীর মনোযোগ দেখায় এবং দিনের পর দিন তাদের বহন করে। ২০১৮ সালে একটি স্ত্রী অর্কা তার মৃত শাবককে ১৭ দিন ধরে বহন করেছিল। এছাড়া হাতি, প্রাইমেট এবং পাখিদের মধ্যেও মৃত সঙ্গীর প্রতি মানুষের মতো শোক প্রকাশের আচরণ করতে দেখা গেছে।

সব প্রাণীর প্রতিক্রিয়া আবেগতাড়িত নয়। কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি কেবলই বেঁচে থাকার তাগিদ। যেমন–মৌমাছিরা মৃত সঙ্গীর গন্ধ বা মরদেহ থাকা ফুল এড়িয়ে চলে। মূলত শিকারির হাত থেকে বাঁচতে তারা এমন আচরণ করে। আবার লাল পিঁপড়ারা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি এড়াতে মৃত সঙ্গীদের বাসা থেকে দূরে সরিয়ে ফেলে। এগুলো তাদের সম্পূর্ণ সহজাত আচরণ। অন্যদিকে শিম্পাঞ্জিদের মতো উন্নত বুদ্ধিমত্তার প্রাণীর আচরণ অনেকটা মানুষের শোকের কাছাকাছি। তারা মৃত সঙ্গীর শরীর পরিষ্কার করে ও শাবকের মরদেহ দীর্ঘ সময় আগলে রাখে।

গবেষক জ্যাকুলিন বয়েড তার পোষা কুকুর ববির মৃত্যুর পর নিজের অন্য কুকুরদের আচরণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি মৃত কুকুরটিকে ঘাসের ওপর রাখার পর দেখেন, অন্য কুকুরগুলো সেটিকে শুঁকে দেখে চলে গেলেও বার্টি নামের একটি কুকুর প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে মৃত সঙ্গীর পাশে বসে ছিল। সে তার বন্ধুকে শুঁকে ও চেটে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করে। এ ঘটনা প্রমাণ করে, প্রাণীরাও নিজেদের মতো করে মৃত্যু উপলব্ধি করতে পারে। মানুষের মতো হয়তো তাদের শোক প্রকাশের ভাষা নেই, তবে সঙ্গীর মৃত্যুতে তাদের সামাজিক ও মানসিক আচরণে পরিবর্তন আসে।

যেভাবে তৈরি হয়েছিল গিজার গ্রেট পিরামিড

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
যেভাবে তৈরি হয়েছিল গিজার গ্রেট পিরামিড
ছবি: সংগৃহীত

প্রাচীন মিসরীয়দের তৈরি গিজার গ্রেট পিরামিড আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির অভাব সত্ত্বেও কীভাবে নির্মিত হয়েছিল, তা কয়েক দশক ধরে গবেষকদের বিস্মিত করেছে। তবে সম্প্রতি এই রহস্যের সমাধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন গবেষক ভিসেন্তে লুইস রোসেল রোইগ। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় তিনি গাণিতিক প্রমাণসহ দেখিয়েছেন যে, পিরামিডটি তৈরিতে একটি বিশেষ সর্পিল ও খাঁজকাটা র‍্যাম্প বা ঢালু পথ ব্যবহার করা হয়েছিল।

বিশাল এই কাঠামোটি খ্রিষ্টপূর্ব ২৫৬০ অব্দে মিসরের ফারাও খুফুর সমাধি হিসেবে নির্মিত হয়েছিল। এটি মিসরের সবচেয়ে বড় পিরামিড। এতে আনুমানিক ২৩ লাখ পাথরের ব্লক রয়েছে, যার প্রতিটির ওজন আড়াই থেকে ১৫ টন। ফারাও খুফুর ২৭ বছরের শাসনকালের মধ্যে এই স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজ শেষ করতে হলে গড়ে প্রতি তিন মিনিটে একটি করে পাথর স্থাপন করতে হতো। এই অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে এত বড় কাঠামো তৈরি সম্ভব হলো, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে।

কিছু গবেষকের মতে, পাথর ওপরে তোলার জন্য পিরামিডের বাইরে ঢালু পথ ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এ ধরনের পথ তৈরি করতে প্রচুর পরিমাণ উপকরণের প্রয়োজন হতো এবং এর কোনো স্পষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণও পাওয়া যায়নি। অন্য একটি তত্ত্ব অনুযায়ী, পিরামিডের ভেতরে একটি সর্পিল পথ তৈরি করা হয়েছিল, যা নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ওপর থেকে নিচে ভরাট করে দেওয়া হয়। কিন্তু রোইগের গাণিতিক মডেল বলছে, মাত্র একটি পথ ব্যবহার করে পিরামিডটি সম্পূর্ণ করতে প্রায় অর্ধশতক সময় লেগে যাওয়ার কথা।

এর পরিবর্তে রোইগ দাবি করেন, পিরামিডের চারপাশজুড়ে একই সঙ্গে চারটি খাঁজকাটা সর্পিল পথ ব্যবহার করা হয়েছিল। এগুলোর প্রতিটি পিরামিডের ভিত্তির কাছাকাছি ভিন্ন ভিন্ন বিন্দু থেকে শুরু হয়েছিল। মূল কাঠামোটি তৈরি হয়ে যাওয়ার পর এই পথগুলো ভরাট করে দেওয়া হয়। তার কম্পিউটার-জেনারেটেড মডেল অনুযায়ী, এই পদ্ধতিতে কাজ করায় মাত্র ২৭ বছরের মধ্যে পিরামিডটির নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছিল।

লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইজিপ্টোলজির রিডার ড. রোল্যান্ড এনমার্চ বলেন, ‘পিরামিড নির্মাণের এটি একটি অত্যন্ত চমৎকার ব্যাখ্যা। তবে এই তত্ত্ব প্রমাণের জন্য আরও প্রমাণের প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে কোণের অংশগুলোয় স্ক্যান করে দেখতে হবে, যেখানে ঢালু পথগুলো হঠাৎ দিক পরিবর্তন করেছিল।’ তিনি আরও বলেন, এই ব্যাখ্যা খুব যুক্তিযুক্ত মনে হচ্ছে। গিজার গ্রেট পিরামিডটি একমাত্র পিরামিড নয়, তাই এই তত্ত্ব অন্যান্য পিরামিড কীভাবে নির্মিত হয়েছিল, সে সম্পর্কেও ধারণা দিতে পারে।

মহাবিশ্বে আমাদের গতি কত?

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১০:০২ পিএম
মহাবিশ্বে আমাদের গতি কত?
ছবি: সংগৃহীত

মহাবিশ্বে আমরা কত দ্রুত চলছি, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। কারণ, বিজ্ঞানের নিয়মানুযায়ী গতি সব সময় আপেক্ষিক। একটি বস্তুর গতি অন্য একটি বস্তুর সাপেক্ষে পরিমাপ করা হয়। তাই মহাশূন্যে আমরা ঠিক কত বেগে ভ্রমণ করছি, তা সরাসরি বোঝা সম্ভব নয়। তবে পৃথিবীর অবস্থান ও ঘূর্ণনের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞানীরা এই গতির একটি ধারণা দিয়েছেন।

পৃথিবী নিজের অক্ষের ওপর প্রতিনিয়ত ঘুরছে। এই ঘূর্ণনের কারণে ভূপৃষ্ঠের যেকোনো স্থানের গতি তার অক্ষাংশের ওপর নির্ভর করে। তবে পৃথিবীর কেন্দ্রের সাপেক্ষে এই গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। আবার পৃথিবী যখন সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করে, তখন তার গতি আরও বেড়ে যায়। সূর্যের কক্ষপথে পৃথিবীর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার কিলোমিটার।

আমাদের সৌরজগৎ আবার স্থির নয়। এটি সেকেন্ডে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার বেগে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের কেন্দ্রকে প্রদক্ষিণ করছে। এই হিসেবে সৌরজগতের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৮ লাখ ২৮ হাজার কিলোমিটার। যেহেতু এসব গতি ভিন্ন ভিন্ন অভিমুখে কাজ করে, তাই সাধারণ নিয়মে যোগ করে মানুষের মোট গতি বের করা সম্ভব নয়।

তবে মহাবিশ্বের ‘কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড’ (সিএমবি)-এর সাপেক্ষে এই গতি পরিমাপ করা সম্ভব। সিএমবি হলো বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের পর অবশিষ্ট থাকা বিকিরণ। এই বিকিরণের সাপেক্ষে আমাদের বর্তমান গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৩ লাখ ৩২ হাজার কিলোমিটার। এই গতিতে আমরা মহাকাশের ‘লিও’ নক্ষত্রমণ্ডলীর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

আবার ছায়াপথের কেন্দ্রের চারদিকে সূর্যের ঘূর্ণন এবং মহাবিশ্বে ছায়াপথের নিজস্ব গতির দিক প্রায় বিপরীত। ফলে সিএমবির সাপেক্ষে আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথটি ঘণ্টায় প্রায় ২২ লাখ ৫৭ হাজার ২০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলেছে।

গতিটি আপাতদৃষ্টিতে অনেক বেশি মনে হলেও এটি আলোর গতির তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। সিএমবির সাপেক্ষে আমাদের এই গতি আলোর গতির মাত্র শূন্য দশমিক ২১ শতাংশের কাছাকাছি। বিজ্ঞানের টাইম ডাইলেশন তত্ত্ব অনুযায়ী, এই গতির কারণে সিএমবির সাপেক্ষে আমাদের সময় কিছুটা ধীরগতির হয়। হিসাব অনুযায়ী, সিএমবি কাঠামোর তুলনায় আমাদের পৃথিবীতে সময় প্রতি বছরে প্রায় ৭ সেকেন্ড ধীরগতিতে চলে।

অ্যানিমেশনের ক্যানভাসে পাহাড় জয়ের গল্প

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
অ্যানিমেশনের ক্যানভাসে পাহাড় জয়ের গল্প
ছবি: খবরের কাগজ

রূপকথার গল্পের মতো কল্পনা আর বাস্তবতার মিশেলে তৈরি অ্যানিমেশনের জগতটা কেমন হয়। সেই জগতের খোঁজ দিতেই রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায় শুরু হলো এক দারুণ প্রদর্শনী।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় ‘দ্য সেকেন্ড স্টুডিও’ নামে এক তরুণ শিল্পগোষ্ঠীর আয়োজনে লা গ্যালারিতে পর্দা উঠল ‘দ্য সেকেন্ড স্টুডিও ফিচারিং বেস্ট শো এভারেস্ট’-এর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসেছিলেন অনেক শিল্পী, শিক্ষার্থী আর অ্যানিমেশন ভালোবাসেন এমন সব মানুষ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নন্দিত কার্টুনিস্ট আহসান হাবিব এবং বাংলাদেশে ফ্রান্স দূতাবাসের সাংস্কৃতিক অ্যাটাশে মঁসিয়ে বাতিস্ত ল্যব্রে।

প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে শিল্পী ঐশিক জাওয়াদ, জুনায়েদ ইকবাল ইশমাম এবং রাকিব রাজ্জাকের নানা সৃজনশীল কাজ। অ্যানিমেটেড সিরিজের গল্প, ভিডিও গেম, স্কেচ আর ছবি- কীভাবে একটি আইডিয়া থেকে দারুণ সব কাজ তৈরি হয়, তা এখানে সরাসরি দেখা যাচ্ছে।

প্রদর্শনীর অন্যতম মূল আকর্ষণ ‘বেস্ট শো এভারেস্ট’। মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণের বাস্তব অভিজ্ঞতায় অনুপ্রাণিত এই অ্যানিমেটেড মিনিসিরিজটির পাইলট পর্ব প্রদর্শনের মাধ্যমেই সূচনা হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বন্ধুত্ব, সাহস আর অ্যাডভেঞ্চারের মিশেলে নির্মিত এই প্রজেক্টের কনসেপ্ট আর্ট ও সেট ডিজাইন দর্শকদের নিয়ে যাচ্ছে কল্পনার এক উচ্চতায়।

পাশাপাশি ঢাকা শহরের নারীদের দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে তৈরি ইনফিনিট রানার ভিডিও গেম ‘ঢাকা সারভাইভার’ সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ইন্টারঅ্যাকটিভ মিডিয়ার সক্ষমতাকে নতুন করে জানান দিচ্ছে। এছাড়াও ‘ইএমকে অ্যানিমেশন কার্নিভাল’-এর প্রমোশনাল কাজ এবং অসমাপ্ত প্রকল্প ‘আনটাইটেলড অ্যান্ড ক্যানসেলড প্রজেক্ট: কমিকস মেলা’-র স্কেচগুলো সৃজনশীল প্রক্রিয়ার বাস্তব সীমাবদ্ধতাকেও তুলে ধরেছে শিল্পীদের কণ্ঠে।

আগামীকাল শুক্রবার থাকছে ‘মিট দ্য সেকেন্ড স্টুডিও’; যেখানে শিল্পীদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সুযোগ পাবেন দর্শক। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন কার্টুনিস্ট সৈয়দ রাশাদ ইমাম তন্ময়। শনিবার (২৭ জুন) অনুষ্ঠিত হবে ‘সেকেন্ড স্টুডিও ব্যাকইয়ার্ড সেশন’। এটি মূলত শিল্পী ও অ্যানিমেশনপ্রেমীদের একটি মিলনমেলা। একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ফ্র্যাঙ্কলিনের গানের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই প্রদর্শনী।  শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই প্রদর্শনীর দুয়ার খোলা থাকবে সবার জন্য।

জয়ন্ত সাহা/ আমান

শনিবার পৃথিবীর পাশ দিয়ে যাবে বিশাল গ্রহাণু, দেখা যাবে দূরবীক্ষণ যন্ত্রে

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম
শনিবার পৃথিবীর পাশ দিয়ে যাবে বিশাল গ্রহাণু, দেখা যাবে দূরবীক্ষণ যন্ত্রে
পৃথিবীর কাছ দিয়ে যাওয়া গ্রহাণু। ছবি: সংগৃহীত

আগামী শনিবার পৃথিবীর পাশ দিয়ে নিরাপদ দূরত্বে একটি বিশাল গ্রহাণু অতিক্রম করবে। ছোট দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা শক্তিশালী বাইনোকুলার ব্যবহার করে আকাশপ্রেমীরা এটি দেখতে পারবেন বলে জানিয়েছে উউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার গ্রিনিচ সময় ১১টা ১৪ মিনিটে গ্রহাণুটি পৃথিবীর প্রায় ২৫ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করবে। এ দূরত্ব পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যকার দূরত্বের ছয় গুণেরও বেশি।

‘(১৫২৬৩৭) ১৯৯৭ এনসি১’ নামের এই গ্রহাণুটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ কিলোমিটার বেগে চলবে। তবে এটি পৃথিবীর জন্য কোনো হুমকি নয়, কারণ এর সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা হয়েছে।

১৯৯৭ সালে আবিষ্কৃত গ্রহাণুটির প্রস্থ আনুমানিক ৭৫০ মিটার থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিটারের মধ্যে হতে পারে। সূর্যালোক প্রতিফলনের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে এ হিসাব করা হয়েছে।

তবে অন্যান্য কিছু অনুমান অনুযায়ী এর আকার আরও ছোট হতে পারে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা।

ইএসএ’র প্ল্যানেটারি ডিফেন্স অফিসের কর্মকর্তা হুয়ান লুইস কানো বলেন, ‘এত বড় আকারের কোনো বস্তুর পৃথিবীর এত কাছে আসা সাধারণত কয়েক বছর পরপর একবার ঘটে। তবে এবার কাছাকাছি অবস্থানের সময় উজ্জ্বল চাঁদের আলো পর্যবেক্ষণে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করতে পারে।’

আকাশ পর্যবেক্ষকদের জন্য গ্রহাণুটি উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসার সময় দেখা যাবে। পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে এটি প্রায় বিশ্বের অধিকাংশ স্থান থেকেই পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। পরে দূরে সরে যাওয়ার সময় এটি মূলত দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে দেখা যাবে। তবে পর্যবেক্ষণ সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার আকাশ পর্যাপ্ত অন্ধকার থাকার ওপর। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

চীনের অপটিক্যাল যোগাযোগ প্রযুক্তির নতুন কেন্দ্র সুচৌ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
চীনের অপটিক্যাল যোগাযোগ প্রযুক্তির নতুন কেন্দ্র সুচৌ

গবেষণাগার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে চীনের চিয়াংসু প্রদেশের সুচৌ শহর এখন গবেষণা থেকে বাণিজ্যিক প্রয়োগ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভাবন শৃঙ্খল গড়ে তুলেছে।
সুচৌর উচিয়াং জেলার একটি প্রযুক্তি পার্কে সম্প্রতি অপটিক্যাল ফাইবার-সজ্জিত একটি স্বয়ংচালিত গাড়ির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। তামার তারের তুলনায় অপটিক্যাল ফাইবার হালকা, দ্রুত এবং উচ্চ ব্যান্ডউইথ ও কম লেটেন্সির সুবিধা দেয়। এতে ক্যামেরা ও লিডার সেন্সরের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করে নির্ভুলভাবে প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করতে পেরেছে স্মার্ট গাড়িগুলো।
অপটিক্যাল ফাইবার প্রযুক্তির নতুন ব্যবহার খুঁজে বের করতেও এখানকার শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে কাজ করছে।
চিয়াংশু হেংথোং অপটোইলেকট্রনিক্স-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক সুয়ান ছুয়ানউ বলেন, ‘আমরা নতুন প্রয়োগক্ষেত্র ও গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছি। বুদ্ধিমান যানবাহনের জন্য অপটিক্যাল ফাইবার প্রয়োজন, আবার যানবাহনে এর ব্যবহার বাড়লে প্রযুক্তিটির প্রয়োগ ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হয় এবং স্মার্ট ড্রাইভিং প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি বাড়ে।’

 


সুচৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা শিল্পখাতের অংশীদারদের সঙ্গে পারমাণবিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, সমুদ্রতলের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অগ্রসর প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গবেষকরা বলছেন, বিকিরণ-প্রতিরোধী অপটিক্যাল ফাইবার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্কুল অব ইলেকট্রনিক ইনফরমেশনের পরিচালক শ্যন কাংসিয়াং, ‘এই প্রযুক্তি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রয়োগের পরিকল্পনা করছি। এমন পরিবেশে অপটিক্যাল ফাইবারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর রয়েছে উচ্চ বিকিরণ-প্রতিরোধ ক্ষমতা।’
গত মাসে সুচৌর বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে একটি প্রযুক্তি রূপান্তর কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে, যার লক্ষ্য গবেষণার ফল দ্রুত বাজারে পৌঁছে দেওয়া।
স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে এখন পুরো শিল্পশৃঙ্খলকে যুক্ত করে বৃহৎ সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।
এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলও দৃশ্যমান। বর্তমানে সুচৌর অপটিক্যাল যোগাযোগ শিল্পের বাজারমূল্য শত বিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে এবং এখানে ৫০টিরও বেশি উদ্ভাবনী জোট গড়ে উঠেছে।
সুচৌ ছাংকুয়াং হুয়াসিন সেমিকন্ডাক্টর লেজার উদ্ভাবনী গবেষণা কেন্দ্রের উপপরিচালক লি শুনফেং জানালেন, ‘বাজারে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এজন্য আমরা অপটিক্যাল চিপ উৎপাদনে আরও বেশি সক্ষমতা যুক্ত করছি এবং গবেষণা ও উৎপাদন দল সম্প্রসারণ করছি।’
প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে সুপারকম্পিউটিং সেন্টারের জন্য ৮০০জি এবং ১ দশমিক ৬ টেরাবিট সক্ষমতার উন্নত অপটিক্যাল চিপের উন্নয়ন ও পরীক্ষামূলক ধাপ সম্পন্ন করেছে।
অপটিক্যাল যোগাযোগ খাতের পাশাপাশি এআই-নির্ভর অপটিক্যাল পরিদর্শন যন্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতেও চাহিদা বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। সেই সঙ্গে বেড়েছে ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য নতুন প্রজন্মের অপটিক্যাল ফাইবার পণ্যের চাহিদা। সূত্র: সিএমজি