নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচেই নাটকীয় লড়াই দেখল ফুটবল বিশ্ব। ইনজুরি টাইমে স্টিফেন ইউস্তাকিওর দুর্দান্ত গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে জায়গা করে নিল তারা।
রবিবার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সময় রাতে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দল ছিল আক্রমণাত্মক। তবে প্রথম সুযোগটি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের ৫ মিনিটে তেবোহো মোকোয়েনার দূরপাল্লার শট দারুণভাবে রুখে দেন কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপো।
এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় কানাডা। ১৬ মিনিটে স্টিফেন ইউস্তাকিওর কর্নার থেকে জনাথন ডেভিড ভালো সুযোগ পেলেও শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাইরে যায়। ২১ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে ডেরেক কর্নেলিয়াসের হেড সহজেই ধরে ফেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস। ফাঁকা জায়গায় বল পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি।
প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোল পায়নি কানাডা। ৩৪ মিনিটে তানি ওলুওয়াসেয়ির শট ঠেকান উইলিয়ামস, আর ৪০ মিনিটে তার আরেকটি হেড চলে যায় বারের ওপর দিয়ে। ৪৩ মিনিটে মোইজ বম্বিতোর হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে রক্ষা করেন অব্রি মোদিবা। বিরতির আগে রিচি লারিয়াকে ফাউল করার দাবিকে কেন্দ্র করে পেনাল্টির আবেদন করলেও ভিএআর তা নাকচ করে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধেও চাপ অব্যাহত রাখে কানাডা। ৬১ মিনিটে অসউইন আপোলিসের শট যায় বাইরে। কিছুক্ষণ পর জনাথন ডেভিডের জোরালো শট রুখে দেন উইলিয়ামস। কিন্তু এরপরও গোলের সুযোগ ছিল। তবে ম্বোকাজি অসাধারণ দক্ষতায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিপদমুক্ত করেন।
৭৫ মিনিটে মাঠে নামেন কানাডার অধিনায়ক আলফোনসো ডেভিস। তার উপস্থিতিতে আক্রমণে আরও গতি পায় দল। জোনাথন ডেভিড ডি-বক্সের আগে খুঁজে নেন প্রমিস ডেভিডকে। তবে তার জোরালো শট বাম পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে হতাশ হতে হয় কানাডাকে।
৮৪ মিনিটে অসউইন আপোলিসের বাঁকানো শটও আটকে দেন ক্রেপো। আক্রমণে ধার বাড়িতেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না কানাডা। ম্যাচ তখন ইনজুরি টাইমে। এমন সময়ে (৯২ মিনিট) গোল করে বসলেন স্টিফেন ইউস্তাকিও। বক্সের প্রান্তে বল পেয়ে জোরালো শটে জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। তাতেই সহ-আয়োজক কানাডা পেয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত গোল।
শেষ পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-তে পা রাখে কানাডা। নকআউটের পরের রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ হবে নেদারল্যান্ডস বনাম মরক্কোর ম্যাচের জয়ী দল।
পুরো ম্যাচজুড়ে ১৪টি শট নেয় কানাডা, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ৬টি শটের দুটি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে বল দখলে কানাডার চেয়ে এগিয়ে ছিল তারা।
এসজি/