ঢাকা ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কানাডার একের পর এক সুযোগ নষ্ট, প্রথমার্ধে গোলশূন্য লড়াই দেম্বেলের হ্যাটট্রিক আর জামার্নির হার বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষে সেরা একাদশে জায়গা পেলেন যারা যাদের নিয়ে নকআউটের প্রথম ম্যাচে নামছে কানাডা-দ.আফ্রিকা ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতে ইসলামী সবসময় ‘সুবিধাবাদী’, একাত্তরে তারা স্বাধীনতা চায়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অধিবেশনের শেষ সময়ে ওয়াকআউট বিরোধী দলের কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত ৭১-এর ভূমিকার জন্য জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল: মির্জা ফখরুল জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচ কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দক্ষিণ কোরিয়ার কোচের পদত্যাগ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুদের টাকা নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০ এনসিটি পরিচালনায় বিশ্বমানের অপারেটর 'ডিপি ওয়ার্ল্ড': কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন সমীকরণ তাপপ্রবাহে ইউরোপে অতিরিক্ত ১৩০০ জনের বেশি মৃত্যুর রেকর্ড : ডব্লিউএইচও আফ্রিকার জয়জয়কার, হতাশ এশিয়া খবরের কাগজের মহিউদ্দিন পলাশ রানারআপ ঘুষ ছাড়া মিলছে না ধান বিক্রির সুযোগ, বিপাকে কৃষকরা স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের তুলনার সুযোগ নেই: ত্রাণমন্ত্রী নক্ষত্রের পতন হয়নি জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিধ্বস্ত রোনালদোকে নিয়ে বেশি ঝুঁকি নিচ্ছে পর্তুগাল? নাঈম হাসানকে থানায় হেনস্তা: তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: পানিসম্পদ মন্ত্রী হোন্ডার নতুন সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক হ্যাচব্যাক গাড়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্বোধন প্রাণী কি মৃত্যু বুঝতে পারে? যেভাবে তৈরি হয়েছিল গিজার গ্রেট পিরামিড ২৭ জুন পর্যন্ত রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭.৩ শতাংশ আঁতুড়ঘর থেকে বিশ্বমঞ্চে তরুণ ফুটবলার গোবিপ্রবির ১৭ শিক্ষককে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করল প্রশাসন

গ্রুপ পর্বের তৃতীয় রাউন্ড দেম্বেলের হ্যাটট্রিক আর জামার্নির হার

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০১:৩০ এএম
দেম্বেলের হ্যাটট্রিক আর জামার্নির হার
ছবি: সংগৃহীত
যার শুরু আছে, তার শেষও আছে। চার বছর অপেক্ষার পর বিশ্বকাপ ফুটবলের যে মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছিল, সেখানে এখন বেলা শেষের গানের সুর বাজতে শুরু করেছে। ১০৪ ম্যাচের আসরের অর্ধেকেরও বেশি ৭২টি ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। এ ম্যাচগুলো ছিল গ্রুপ পর্বের। যেখানে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশ নিয়েছিল ১২ গ্রুপে। গ্রুপ পর্ব শেষে আছে আনন্দযাত্রা। আবার আছে বিদায়ের রাগিণী। ৩২ দল টিকে আছে। বিদায় ঘণ্টা বেজেছে ১৬ দলের।
 
১২ গ্রুপ থেকে সেরা দুইটি করে দল সরাসরি শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেয়। কিন্তু শেষ বত্রিশের বাকি ৮টি জায়গার জন্য ১২ গ্রুপের সেরা তৃতীয় দলকে বেছে নিতে হয়। গ্রুপ পর্বের ৭২টি ম্যাচ তাই ছিল আনন্দে-বেদনার মিশেল। যেমন ‘এইচ’ গ্রুপে নবাগত কেপ ভার্দে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। আবার ‘ডি’ গ্রুপে তুরস্ক ৩ পয়েন্ট নিয়ে লড়াইয়েই থাকতে পারেনি। গ্রুপে অবস্থান হয় চতুর্থ। আবার ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হয়েও শেষ বত্রিশে জায়গা করে নিতে পারেনি ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, স্কটল্যান্ড।
 
নকআউট পর্বে টিকে থাকার মন্ত্র একটিই ‘জয়’। এর কোনো বিকল্প নেই! আগের আসরগুলোতে নকআউট পর্বে আসার পথে অনেক অঘটন ঘটে। অনেক শিরোপাপ্রত্যাশী দলই গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি। যেমন গতবার সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। তারা গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়েছিল। কিন্তু এবার সে রকম বড় কোনো অঘটন ঘটেনি। প্রত্যাশিত দলগুলোই টিকিট পেয়েছ। দলগুলো হলো মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা (এ গ্রুপ) সুইজারল্যান্ড, কানাডা, বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা (বি গ্রুপ), ব্রাজিল, মরক্কো (সি গ্রুপ), যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে (ডি গ্রুপ), জামার্নি, আইভরিকোস্ট, ইকুয়েডর, (ই গ্রুপ), নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন (এফ গ্রুপ), বেলজিয়া, মিসর (জি গ্রুপ), স্পেন, কেপ ভার্দে (এইচ গ্রুপ), ফ্রান্স, নরওয়ে, সেনেগাল (আই গ্রুপ), আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া (জে গ্রুপ), কলম্বিয়া, পর্তুগাল, ডি আর কঙ্গো (কে গ্রুপ), ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, (এল গ্রুপ)।
 
বড় কোনো দল বাদ না পড়লেও নবাগত কেপ ভার্দের নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া ছিল সবচেয়ে বড় চমক। ৩টি ম্যাচই ড্র করে তারা ৩ পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপে রানার্সআপ হয়ে শেষ বত্রিশে উঠে আসে। কেপ ভার্দের উত্থানে তাদের গ্রুপ থেকে সাবেক দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে বাদ পড়ে। উরুগুয়ের বিদায়কে কিছুটা হলেও অঘটন বলা যায়। তৃতীয় রাউন্ডে ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে নেইমারের মাঠে নামার মধ্য দিয়ে। ৯১৮ দিন পর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামের নেইমার। 
 
তৃতীয় রাউন্ডে চমক ছিল জার্মানির হার। ‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে তারা ইকুয়েডরের কাছে ১-২ গোলে হেরে যায়। এই হারে জামার্নির গ্রুপসেরা হওয়ার পথে কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হলেও ৪ পয়েন্ট গ্রুপের তৃতীয় সেরা দল হিসেবে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেয় ইকুয়েডর। আবার ‘ডি’ গ্রুপে তুরস্কের কাছে ৩-২ গোলে যুক্তরাষ্ট্রের হারও ছিল অঘটনের শামিল। জার্মানির মতো যুক্তরাষ্ট্রেরও এই হারে তাদের গ্রুপসেরা হতে কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু তুরস্ক ম্যাচ জিতে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে সবার নিচেই অবস্থান করে বিদায় নেয়।
 
প্রথম রাউন্ডে সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছিল কোরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানি ৭-১ গোলে, দ্বিতীয় রাউন্ডে কাতারের বিপক্ষে কানাডার ৬-০ গোলে ছিল সবচেয়ে বড়। তৃতীয় রাউন্ডে বড় জয় ছিল সেনেগাল ও বেলজিয়ামের। সেনেগাল ৫-০ গোলে ইরাককে এবং বেলজিয়াম ৫-১ গোলে নিউজিল্যান্ডকে পরাজিত করে। এই রাউন্ডে জয়-পরাজয় নিষ্পত্তি হয়েছে ১৮ ম্যাচে। ড্র হয়েছে ৬টি ম্যাচ। প্রথম রাউন্ডে ১৬টি ও দ্বিতীয় রাউন্ডে ১৯টি ম্যাচ নিষ্পত্তি হয়েছিল। ইউরোপ আমেরিকার দাপুটের কাছে আফ্রিকা ও এশিয়ার দলগুলো খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি। আফ্রিকার ৯টি দেশ নকআউট পর্বে গেলেও এশিয়া থেকে শুধুমাত্র জাপান ও অস্ট্রেলিয়া টিকিট পেয়েছে।
 
এই রাউন্ডে এবারের আসরে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক দেখেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। নরওয়ের বিপক্ষে গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইয়ে ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে হ্যাটট্রিক করেন দলের প্রথম তিন গোল করে। ম্যাচে ফ্রান্স জয়ী হয় ৪-১ গোলে। প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার মেসি। প্রথম রাউন্ডই হ্যাটট্রিক করে গোলদাতার শীর্ষে চলে যাওয়া মেসি নিজের এই অবস্থান ধরে রেখেছেন ৬ গোল করে। শেষ রাউন্ডে তিনি জর্ডানের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে ফ্রি কিক থেকে বাম পায়ের জাদুতে একটি গোল করেন। তৃতীয় রাউন্ডে গোল হয়েছে ৭৪টি। সব মিলিয়ে গ্রুপ পর্বে গোলের সংখ্যা ২১৫টি। প্রথম রাউন্ডে ৭৫টি, দ্বিতীয় রাউন্ডে ৬৬টি গোল হয়েছিল। আত্মঘাতী গোল হয়েছে ১২টি। গ্রুপ পর্বে ৫৯তম ম্যাচেই বিশ্বকাপের এক আসরের সর্বোচ্চ গোল রেকর্ড ভেঙে যায়। এক আসরে সবচেয়ে বেশি গোল হয়েছিল ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে ৬৪ ম্যাচে ১৭২টি। এবারের আসরের গোল সংখ্যা আরও বাড়বে। কারণ এখনো খেলা অবশিষ্ট আছে ৩২টি।
 
সরাসরি লাল কার্ড দেখেছেন ১০ জন খেলোয়াড়। এর মাঝে দক্ষিণ আফ্রিকারই তিনজন। ইরাকের আছে দুইজন। এ ছাড়া ইরাক, উরুগুয়ে, মেক্সিকো, বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা, প্যারাগুয়ে, বেলজিয়ামের একজন করে। সবেচেয়ে বেশি দর্শক উপস্থিত হয়েছিলেন মেক্সিকো ও চেক রিপাবলিকের ম্যাচে। মেক্সিকোর এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতি ছিল ৮০,৮২৪ জন।
 
১২ গ্রুপের সেরা তৃতীয়
পজিশন গ্রুপ দেশ ম্যাচ জয় ড্র হার গোল ব্যবধান পয়েন্ট অবস্থান
১. কে ডিআর কঙ্গো ৩ ১ ১ ১ +১ ৪ নকআউট পর্ব
২. এফ সুইডেন ৩ ১ ১ ১ ০ ৪ নকআউট পর্ব
৩. এল ঘানা ৩ ১ ১ ১ ০ ৪ নকআউট পর্ব
৪. ই ইকুয়েডর ৩ ১ ১ ১ ০ ৪ নকআউট পর্ব
৫. বি বসনিয়া অ্যান্ড ৩ ১ ১ ১ -১ ৪ নকআউট পর্ব
হার্জেগোভিনা
৬. জে আলজেরিয়া ৩ ১ ১ ১ -২ ৪ নকআউট পর্ব
৭. ডি প্যারাগুয়ে ৩ ১ ১ ১ -২ ৪ নকআউট পর্ব
৮. আই সেনেগাল ৩ ১ ০ ২ +২ ৩ নকআউট পর্ব
৯. জি ইরান ৩ ০ ৩ ০ ০ ৩ যেতে পারেনি
১০. এ দ. কোরিয়া ৩ ১ ০ ২ -১ ৩ যেতে পারেনি
১১. সি স্কটল্যান্ড ৩ ১ ০ ২ -৩ ৩ যেতে পারেনি
১২. এইচ উরুগুয়ে ৩ ০ ২ ১ -১ ২ যেতে পারেনি

কানাডার একের পর এক সুযোগ নষ্ট, প্রথমার্ধে গোলশূন্য লড়াই

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০১:৫৯ এএম
কানাডার একের পর এক সুযোগ নষ্ট, প্রথমার্ধে গোলশূন্য লড়াই
ছবি: সংগৃহীত

বল দখলে এগিয়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, তবে আক্রমণাত্মক ফুটবলে পুরো প্রথমার্ধে দাপট দেখায় কানাডা। একাধিক পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা না পাওয়ায় ০-০ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

রবিবার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল।

ম্যাচের ৫ মিনিটেই প্রথম সুযোগ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তেবোহো মোকোয়েনার দূরপাল্লার শট দারুণ দক্ষতায় বামদিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপো। এরপর ১৬ মিনিটে স্টিফেন ইউস্তাকিওর কর্নার থেকে আসা বল ফাঁকায় পেয়ে যান জনাথন ডেভিড, কিন্তু তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ডান পোস্টের বাইরে চলে যায়।

২১ মিনিটে আরও বড় সুযোগ নষ্ট করে কানাডা। ইউস্তাকিওর ফ্রি-কিক থেকে বক্সে একদম ফাঁকায় থাকা ডেরেক কর্নেলিয়াস বল পান। কিন্তু তার নেওয়া দুর্বল হেড চলে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসের হাতে।

৩৪ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে তানি ওলুওয়াসেয়ির শট রুখে দেন উইলিয়ামস। চার মিনিট পর সেট-পিস থেকে তার হেডও চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।

কানাডার সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ৪৩ মিনিটে। কর্নার থেকে আসা বল বক্সে হেডে বিপদ তৈরি করেন মোইজ বম্বিতো, কিন্তু গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করেন অব্রি মোদিবা। এরপর রিবাউন্ডে ওলুওয়াসেই ও আলিস্টার জনস্টনের চেষ্টা ব্যর্থ হয় ঘন প্রতিরক্ষার কারণে।

বিরতির ঠিক আগে রিচি লারিয়াকে বক্সের ভেতর ফাউল করা হয়েছে বলে পেনাল্টির দাবি তোলে কানাডা। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় সেই আবেদন বাতিল করেন রেফারি। শেষ পর্যন্ত একাধিক সুযোগ নষ্টের হতাশায় প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবে।

এসজি/

বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষে সেরা একাদশে জায়গা পেলেন যারা

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৬ এএম
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষে সেরা একাদশে জায়গা পেলেন যারা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব শেষে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ বাছাই করেছে অপটা অ্যানালিস্ট। নকআউট পর্ব শুরুর আগে ঘোষিত এই দলে প্রত্যাশিতভাবেই জায়গা পেয়েছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো বিশ্বসেরা তারকারা। চমক হিসেবে আছেন কেপ ভার্দের দুই ফুটবলার।

গোলরক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ ভোজিনহা। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও দুটি ক্লিন শিটের হাত ধরে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশটি।

রক্ষণভাগে রয়েছেন ঘানার মারভিন সেনায়া, কেপ ভার্দের ডিনি বোর্হেস, স্পেনের তরুণ পাও কুবারসি এবং জাপানের কেইতো নাকামুরা। সেনায়া পুরো গ্রুপপর্বে সবচেয়ে বেশি ট্যাকলের চেষ্টা করে নজর কেড়েছেন। বোর্হেস ছিলেন কেপ ভার্দের রক্ষণপ্রাচীর, কুবারসি নিখুঁত পাসিং ও বল পুনরুদ্ধারে ছিলেন অনন্য, আর নাকামুরা এক গোল ও এক অ্যাসিস্টের পাশাপাশি আক্রমণে ধারাবাহিক প্রভাব রেখেছেন।

মধ্যমাঠে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টন ম্যাককেনি ও ইকুয়েডরের পেদ্রো ভিতে জায়গা পেয়েছেন। ম্যাককেনি ওপেন প্লে থেকে সাতটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন, আর ভিতে একদিকে যেমন আক্রমণে সৃজনশীল ছিলেন, তেমনি ট্যাকল, বল পুনরুদ্ধার ও পাসিংয়েও দারুণ ছাপ রেখেছেন।

আক্রমণভাগে রয়েছেন চার তারকা। তিন ম্যাচে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি। পাশাপাশি টানা সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার ইতিহাসও গড়েছেন তিনি। ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে দুর্দান্ত ধারাবাহিকতার পরিচয় দিয়েছেন। নরওয়ের আর্লিং হালান্ড মাত্র দুই ম্যাচ খেলেই চার গোল করেছেন, আর ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে চার গোলের সঙ্গে দুটি অ্যাসিস্ট করে দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

গ্রুপপর্বের সেরা একাদশ (৪-২-৪): ভোজিনহা (কেপ ভার্দে), মারভিন সেনায়া (ঘানা), ডিনি বোর্হেস (কেপ ভার্দে), পাও কুবারসি (স্পেন), কেইতো নাকামুরা (জাপান), ওয়েস্টন ম্যাককেনি (যুক্তরাষ্ট্র), পেদ্রো ভিতে (ইকুয়েডর), লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল), আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে), কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)।

এসজি/

যাদের নিয়ে নকআউটের প্রথম ম্যাচে নামছে কানাডা-দ.আফ্রিকা

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৩ এএম
যাদের নিয়ে নকআউটের প্রথম ম্যাচে নামছে কানাডা-দ.আফ্রিকা
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের (শেষ ৩২) প্রথম ম্যাচে মাঠে নামছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডা। প্রথমবারের মতো নকআউট নিশ্চিত করা দুই দলের সামনে সুযোগ রয়েছে ইতিহাস গড়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করার। 

রবিবার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে শুরু হবে ম্যাচটি।

কানাডার প্রধান কোচ জেসি মার্শ এই ম্যাচে একাদশে বড় পরিবর্তন এনেছেন। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে যাওয়া দলের তুলনায় তিনি চারটি পরিবর্তন করেছেন। আজকের ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছেন মোইজ বম্বিতো, স্টিফেন ইউস্তাকিও, টানি ওলুওয়াসেই ও লিয়াম মিলার। তাদের জায়গা করে দিতে বাদ পড়েছেন লুক ডি ফুজেরোলেস, সাইল লারিন, ম্যাথিউ শোয়নিয়ের এবং আলি আহমেদ।

অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস আগের ম্যাচের দলেই আস্থা রেখেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলা একাদশে মাত্র একটি পরিবর্তন এনেছেন তিনি। মিডফিল্ডে থালেন্তে এমবাথার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন তেবোহো মোকোয়েনা। বাকি ১০ জন খেলোয়াড় আগের ম্যাচের মতোই একাদশে থাকছেন।

কানাডা একাদশ: ম্যাক্সিম ক্রেপো (গোলরক্ষক), আলিস্টার জনস্টন, ডেরেক কর্নেলিয়াস, মোইজ বম্বিতো, রিচি লারিয়া, স্টিফেন ইউস্তাকিও, লিয়াম মিলার, নাথান সালিবা, জোনাথন ডেভিড, টানি ওলুওয়াসেই, তাজন বুকানান।

দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: রনওয়েন উইলিয়ামস (গোলরক্ষক), খুলিসো মুদাউ, ইমে ওকন, মবেকেজেলি ম্বোকাজি, অব্রি মোদিবা, ইয়াইয়া সিথোলে, তেবোহো মোকোয়েনা, থাপেলো মাসেকো, রেলেবোহিলে মোফোকেং, ওসউইন আপোলিস, এভিডেন্স মাকগোপা।

এসজি/

জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচ কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচ কে জিতবে, সুপারকম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াইয়ে সোমবার (২৯ জুন) রাতে বোস্টন স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে জার্মানি। ২০১৪ সালে শিরোপা জয়ের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ খেলতে নামছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

গ্রুপ ‘ই’-এর শীর্ষ দল হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করলেও পুরোপুরি ছন্দে ছিল না জুলিয়ান নাগেলসম্যানের শিষ্যরা। প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিলেও আইভরি কোস্টের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা। শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে ২-১ গোলে হারে জার্মানি। তবে ২০১৮ ও ২০২২ সালের মতো গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়নি।

জার্মানির সর্বশেষ নকআউট ম্যাচ ছিল ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল। সেই ম্যাচে মারিও গোটজের অতিরিক্ত সময়ের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা। এরপর এবারই প্রথম নকআউটে উঠেছে দলটি।

অন্যদিকে, সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্যারাগুয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও তুরস্ককে ১-০ গোলে হারায় তারা। শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করে।

ইতিহাস অবশ্য প্যারাগুয়ের পক্ষে কথা বলছে না। পাঁচবার নকআউটে উঠলেও মাত্র একবার পরের রাউন্ডে যেতে পেরেছে তারা। বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে পাঁচ ম্যাচ খেলেও কোনো গোল করতে পারেনি প্যারাগুয়ে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ গোলখরার রেকর্ড।

জার্মানি ও প্যারাগুয়ে এর আগে দুইবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ২০০২ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে অলিভার নয়ভিলের শেষ মুহূর্তের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল জার্মানি। তবে সর্বশেষ মুখোমুখিতে কেউ জেতেনি। ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচ শেষ হয়েছিল ৩-৩ সমতায়। 

এদিকে নকআউট ম্যাচে জার্মানিকেই এগিয়ে রাখছে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপ্টার সুপারকম্পিউটার।

সুপারকম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে জার্মানির জয়ের সম্ভাবনা ৫৪.৭ শতাংশ, প্যারাগুয়ের ২৩.১ শতাংশ এবং ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২২.৩ শতাংশ।

শুধু এই ম্যাচ নয়, বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনাতেও এগিয়ে জার্মানি। তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৪.৪ শতাংশ, যা অবশিষ্ট ৩২ দলের মধ্যে অষ্টম সর্বোচ্চ। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা ২১.৪ শতাংশ এবং বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ০.১ শতাংশ।

এসজি/

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দক্ষিণ কোরিয়ার কোচের পদত্যাগ

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দক্ষিণ কোরিয়ার কোচের পদত্যাগ
হং মিয়ং-বো। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার বিদায়ের পর পদত্যাগ করেছেন দলটির প্রধান কোচ হং মিয়ং-বো। শনিবার নকআউটে ওঠার শেষ সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যাওয়ার পরদিন রবিবার (২৮ জুন) দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি।

৫৭ বছর বয়সী সাবেক অধিনায়ক হং মিয়ং-বো দ্বিতীয় দফায় জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন। তবে ২০১৪ সালের পর এবারও তার অধীনেই বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিতে হলো দক্ষিণ কোরিয়াকে।

বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রজাতন্ত্রকে নিয়ে গঠিত ‘এ’ গ্রুপ থেকে দক্ষিণ কোরিয়া সহজেই পরের রাউন্ডে উঠবে বলে প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় তারা। গ্রুপের শেষ ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে তিন পয়েন্ট পেলেও সেটি নকআউট নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

গ্রুপে তৃতীয় হয়ে সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলের একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠার আশা ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার। তবে শনিবার অন্য ম্যাচগুলোর ফল তাদের সেই সম্ভাবনাও শেষ করে দেয়।

এরপর রবিবার দলের ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিয়ে পদত্যাগ করেন হং মিয়ং-বো। তবে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর আগেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। ২০২৪ সালে তাকে পুনরায় কোচ নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল ফুটবল মহলে। বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপেও হং মিয়ং-বোর অধীনে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া। সেই আসরেও গ্রুপপর্ব থেকে বিদায়ের পর পদত্যাগ করেছিলেন তিনি।

এসজি/