চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মধুশিয়া গর্জন বন রক্ষা এবং সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মানববন্ধন ও পাপেট শো অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার চত্বরে ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘মধুশিয়া গর্জন বন ধ্বংস হতে দেব না’, ‘সংরক্ষিত বনের ভেতর সড়ক নির্মাণ এখনই বন্ধ কর’, ‘মহাবিপন্ন এশীয় হাতির করিডর বাঁচান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সচেতনতামূলক পাপেট শো পরিবেশন করেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বন বিভাগের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) ছাড়াই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মধুশিয়া গর্জন বন কেটে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বন, জীববৈচিত্র্য ও এশীয় হাতির আন্তর্জাতিক করিডর মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
ডিপ ইকোলজি অ্যান্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া বলেন, ’সারা দেশে একযোগে চলা মানববন্ধনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আমরা এ কর্মসূচি করেছি। এলজিইডির এনওসি ছাড়া বন কেটে সড়ক নির্মাণ ভয়াবহ হুমকি। ষাটের দশকের এ গর্জন বন জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ধ্বংস হলে সাতকানিয়ার বৈতরণী বন ও হাতির করিডরও ঝুঁকিতে পড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ’আমরা সড়কের বিরোধী নই। কিন্তু বন ধ্বংস না করে বিকল্প পরিকল্পনায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।’
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় চেয়ারপার্সন মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ’বাংলাদেশের হাতি ইতিমধ্যে সংকটাপন্ন। তাদের আবাসস্থল রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুন সড়ক হলে বন আরও খণ্ডিত হবে, মানুষ-হাতি সংঘাত বাড়বে। যথাযথ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) ও অনুমোদন ছাড়া বনের ভেতর কোনো প্রকল্প গ্রহণযোগ্য নয়।”
কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা মধুশিয়া গর্জন বন রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ এবং বনাঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্পের আগে পরিবেশগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আমানউল্লাহ/খাদিজা রুমি/