সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আবারও ভারতের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মাসুদিক মালিক অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এ সময় তিনি বলেন, ‘যারা আমাদের পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে, আমরা তাদের হাত কেটে নেব।’
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মাসুদিক মালিক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও সরাসরি দায়ি করেন।
তার দাবি, মোদি আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে পাকিস্তানে ‘এক ফোঁটা পানিও’ যেতে দেবেন না। মালিক বলেন, ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান তার ন্যায্য হিস্যার পানি পাওয়ার অধিকারী এবং ভারত একতরফাভাবে পানির প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।
পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মালিকের এ বক্তব্য সম্প্রচারিত হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বক্তব্যটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে হামলার পর সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করে ভারত। সে সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘রক্ত ও পানি এক সঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না।’ এর পর থেকেই চুক্তি পুনর্বহালের দাবিতে আন্তর্জাতিক মহলে সক্রিয় রয়েছে পাকিস্তান।
১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী শতদ্রু, বিপাশা ও ইরাবতী নদীর পানি ব্যবহারের অধিকার ভারতের, আর সিন্ধু, ঝিলম (বিতস্তা) ও চেনাব (চন্দ্রভাগা) নদীর পানিতে পাকিস্তানেরও অধিকার রয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি ভারতের জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাটিল ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধু নদীর পানির প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর জবাবে চলতি মাসে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ বলেন, পানি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার অংশ। এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যদি পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা পানিসংকটের কারণে হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে ভারতকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের পথেও যেতে পারে ইসলামাবাদ।
সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সেই উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার
অমিয়/