ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
তিস্তা মহাপরিকল্পনায় অন্য কোনো দেশের কনসার্নের সুযোগ নেই : তথ্য উপদেষ্টা দেশের ১১ ভাগ মানুষ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে: মির্জা ফখরুল ফ্রান্সকে হারাতে জীবনের সেরা পারফরম্যান্স দরকার, বললেন সুইডেন কোচ পটার হলমার্কসহ ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন: এমপি আখতার হোসেন রাজধানীতে এআই ক্যামেরায় ১৫০০ মামলা: ডিএমপি কমিশনার বিচার বিভাগের বাজেট ১ টাকায় নামানোর প্রস্তাব, ‘পুলিশি রাষ্ট্র’ হওয়ার শঙ্কা আইনমন্ত্রীর ওয়াইফাই এক্সটেন্ডার নাকি মেশ নেটওয়ার্ক ভালো বিশ্বকাপ যুদ্ধে চার চ্যাম্পিয়ন বজলু ভাইয়ের দল বদলের রহস্য হিলিতে মাদরাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, আটক ১ অপরাধ থামাতে পুলিশকে কঠোর হতে হবে বিশ্ববাজারে তেলের বড় দরপতন শৈলকুপায় প্রতিপক্ষের হামলায় ভ্যানচালক নিহত কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে তিন পজিশনে অনিশ্চয়তা ড্রয়ারে লোকানো ছিল অ্যান্টার্কটিকার বিরল ডাইনোসর জীবাশ্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুদের টাকা নিয়ে তৃতীয় দিনের সংঘর্ষে আহত ২০ নিয়োগ দেবে ব্র্যাক ব্যাংক, বয়সসীমা নেই বরগুনায় বজ্রাঘাতে ৫০ ফুট উঁচু তালগাছে অগ্নিকাণ্ড আখাউড়ায় সিসি ক্যামেরা বসিয়ে মাদক ব্যবসা, গ্রেপ্তার ১ সমালোচনার জবাব দিলেন কোম্যান পঞ্চগড়ে যুব মহিলা লীগ নেত্রী কারাগারে কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন কাতারে দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের ৫ যুবক দুপুরের মধ্যে ৮ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস সিন্ধুর পানি না পেলে ‘হাত কেটে নেওয়া হবে’, ভারতকে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ ওরিয়েন্টেশন ও বার্ষিক পিকনিক অনুষ্ঠিত স্বর্ণের দাম আরও ৩৩২৪ টাকা কমল বেরোবিতে রাতেও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন পদোন্নতি বঞ্চিতরা সন্তান হারানোর শোক নিয়েই খেলেছিলেন গাকপো, শেষ পর্যন্ত ভাঙল বিশ্বকাপের স্বপ্ন টাইব্রেকারে মরক্কোর রেকর্ড ১৭ দিন পর বিদ্যালয়ে উত্তোলন হলো জাতীয় পতাকা

ভারতের বাঁধ নির্মাণ শেষে ১০টি মিসাইল মারব: পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৩৭ এএম
আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৫, ১০:৪৪ এএম
ভারতের বাঁধ নির্মাণ শেষে ১০টি মিসাইল মারব: পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির

মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। দেশটির রাজনৈতিক ব্যক্তি ও বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। এর মধ্যে ফ্লোরিডার টাম্পায় তার জন্য একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সেখানে ভারতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হুমকি দিয়েছেন পাক সেনাপ্রধান।

দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- অনুষ্ঠানে অসীম মুনির বলেন, ‘আমরা বাঁধ নির্মাণের জন্য অপেক্ষা করব। যখন বানানো শেষ হবে; ১০টি মিসাইল মেরে এটি ধ্বংস করে দেব। সিন্ধু নদ ভারতের পারিবারিক সম্পত্তি নয়। আমাদের মিসাইলের কোনো অভাব নেই।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘যদি পাকিস্তানের অস্তিত্ব হুমকির মুখোমুখি হয়, তাহলে পুরো বিশ্বের অর্ধেক ধসিয়ে দেব। এরপর নিজেরা ধ্বংস হবে।’ 

তিনি মূলত এই অঞ্চলে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন।

অসীম মুনির বলেন, ‘আমরা পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। যদি আমরা মনে করি আমরা ধ্বংস হচ্ছি। তাহলে আমাদের সঙ্গে বিশ্বের অর্ধেককে ধসিয়ে নিয়ে যাব।’

চলতি বছরের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘাত হয়। এর আগে গত এপ্রিলে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সশস্ত্র হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ওই হামলার জেরে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু নদ চুক্তি বাতিল করে ভারত। নয়াদিল্লি হুমকি দেয়, সিন্ধুর পানি আর পাকিস্তানকে দেওয়া হবে না। পাক সেনাপ্রধান যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বলেছেন, সিন্ধু নদে ভারতের বাঁধ নির্মাণ করার জন্য তারা অপেক্ষা করবেন। যখনই বাঁধটি বানানো শেষ হবে, তখনই মিসাইল মেরে এটি ধসিয়ে দেবেন।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ১৯৬০-এর দশকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু নদ চুক্তি হয়। এর মাধ্যমে সিন্ধুর অববাহিকা থেকে আসা তিনটি নদীর পানি পায় পাকিস্তান।

বিশ্ববাজারে তেলের বড় দরপতন

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
বিশ্ববাজারে তেলের বড় দরপতন
ছবি: সংগৃহীত

চার মাস ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর বর্তমানে একটি ভঙ্গুর অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চলছে মধ্যপ্রাচ্যে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই কাতারের দোহায় দুই পক্ষের সম্ভাব্য পরোক্ষ আলোচনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কমেছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতেই তেলের দামে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি দশমিক ৯ শতাংশ বা ৬৪ সেন্ট কমে ৭২ দশমিক ৫১ ডলারে নেমেছে, যা মে মাসের সমাপনী মূল্যের চেয়ে প্রায় ২০ ডলার বা ২২ শতাংশ কম।

এ ছাড়াও ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট জানায়, মার্কিন তেলের দাম দশমিক ৬ শতাংশ বা ৩৯ সেন্ট কমে ব্যারেল প্রতি ৭০ দশমিক ৩৬ ডলারে নেমে এসেছে, যা গত ২৯ মের তুলনায় প্রায় ১৭ ডলার বা ১৯ শতাংশ কম।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেন্ট এবং ডব্লিউটিআই উভয় তেলের দাম এখন গত ২৭ ফেব্রুয়ারির সংঘাত-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরে এসেছে।

থিওটোনিয়াস/

সিন্ধুর পানি না পেলে ‘হাত কেটে নেওয়া হবে’, ভারতকে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
সিন্ধুর পানি না পেলে ‘হাত কেটে নেওয়া হবে’, ভারতকে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের
ছবি: সংগৃহীত

সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আবারও ভারতের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মাসুদিক মালিক অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এ সময় তিনি বলেন, ‘যারা আমাদের পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে, আমরা তাদের হাত কেটে নেব।’

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মাসুদিক মালিক ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও সরাসরি দায়ি করেন।

তার দাবি, মোদি আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে পাকিস্তানে ‘এক ফোঁটা পানিও’ যেতে দেবেন না। মালিক বলেন, ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান তার ন্যায্য হিস্যার পানি পাওয়ার অধিকারী এবং ভারত একতরফাভাবে পানির প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।

পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মালিকের এ বক্তব্য সম্প্রচারিত হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বক্তব্যটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে হামলার পর সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করে ভারত। সে সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘রক্ত ও পানি এক সঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না।’ এর পর থেকেই চুক্তি পুনর্বহালের দাবিতে আন্তর্জাতিক মহলে সক্রিয় রয়েছে পাকিস্তান।

১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী শতদ্রু, বিপাশা ও ইরাবতী নদীর পানি ব্যবহারের অধিকার ভারতের, আর সিন্ধু, ঝিলম (বিতস্তা) ও চেনাব (চন্দ্রভাগা) নদীর পানিতে পাকিস্তানেরও অধিকার রয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি ভারতের জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাটিল ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধু নদীর পানির প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর জবাবে চলতি মাসে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ বলেন, পানি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার অংশ। এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যদি পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা পানিসংকটের কারণে হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে ভারতকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের পথেও যেতে পারে ইসলামাবাদ।

সিন্ধু পানি বণ্টন চুক্তি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সেই উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার

অমিয়/

ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১০

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৩২ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৪১ এএম
ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১০
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনে একাধিক হামলা করেছে রাশিয়া। এসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের ১০ জন নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হয়েছেন। 

সোমবার (২৯ জুন) ইউক্রেনের আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্ডার হানঝা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দনিপ্রোতে এ হামলা হয়।

তিনি বলেন, একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি স্কুল, ব্যক্তিগত বাড়ি এবং গাড়ি হামলার শিকার হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন, ‘রাশিয়া দনিপ্রোতে অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘ইউরোপের নিজস্ব অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নে যথাসম্ভব সক্রিয় থাকা অপরিহার্য।’

আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাপোরিঝিয়ায় একটি যাত্রীবাহী মিনিবাসে রুশ ড্রোন হামলায় দুই পুরুষ ও এক নারী নিহত এবং সাত বছর বয়সি এক বালকসহ আরও আটজন আহত হয়েছেন।

আঞ্চলিক গভর্নর ইভান ফেদোরভ টেলিগ্রামে একটি সাদা মিনিবাসের ভিডিও পোস্ট করেছেন, যার মেঝে রক্তাক্ত ও পেছনের দরজা ক্ষতিগ্রস্ত এবং ভেতরে এক পুরুষের মরদেহ পাওয়া গেছে।

ফেদোরভ বলেন, বিকেলে আরেকটি হামলায় একটি বেসামরিক ভ্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এতে আগুন লেগে গেলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এই হামলাগুলো নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

থিওটোনিয়াস/

জার্মানিতে এলোপাতাড়ি গুলিতে ৬ জন নিহত, গ্রেপ্তার ২

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৩১ এএম
জার্মানিতে এলোপাতাড়ি গুলিতে ৬ জন নিহত, গ্রেপ্তার ২
ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির স্টাডে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এতে জড়িত সন্দেহভাজন বন্দুকধারী এবং দ্বিতীয় এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৯ জুন) পুলিশের এক মুখপাত্র সংবাদসংস্থা এএফপিকে জানায়, একটি যুবকেন্দ্রের কাছে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় দূর্বৃত্তরা। বর্তমানে তারা শহরের বাইরে একটি বড় অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, ‘আমরা আপনাদের নিরাপত্তার জন্য এলাকাটি ছেড়ে যেতে এবং এর থেকে দূরে থাকতে অনুরোধ করছি।’

পুলিশের মুখপাত্র জানান, একজন পুরুষ অপরাধী এবং তার এক নারী সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যদিও পুলিশের একটি পৃথক বিবৃতিতে তৃতীয় এক সন্দেহভাজনকে আটক করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এটি কোনো নারীহত্যার ঘটনা নয়, বা এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা এ জাতীয় কিছু জড়িত নেই। বরং এটি একটি বৃহত্তর পারিবারিক ট্র্যাজেডি।

উল্লেখ্য, জার্মানিতে বন্দুক আইন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি কঠোর এবং এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর ঘটনাও কম ঘটে। ২৫ বছরের কম বয়সি যে কাউকে বন্দুকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার আগে একটি মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।

থিওটোনিয়াস/

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নজিরবিহীনভাবে ক্ষমতা বাড়ল ট্রাম্পের

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নজিরবিহীনভাবে ক্ষমতা বাড়ল ট্রাম্পের
ট্রাম্পের পূর্বে আর কোনো প্রেসিডেন্ট এই সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করেননি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা অভূতপূর্বভাবে বাড়িয়ে দিয়েছেন। দেশটির শীর্ষ আদালত রায় দিয়েছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন থেকে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ফেডারেল রিজার্ভ ছাড়া অন্য যেকোনো স্বাধীন সরকারি সংস্থার প্রধানকে যেকোনো সময় বরখাস্ত করতে পারবেন।

আদালতের এই রায়ের ফলে দীর্ঘ ৯১ বছরের পুরোনো এক আইনি নজির বাতিল হয়ে গেল, যা এতদিন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার স্বার্থে এই স্বাধীন সংস্থাগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দিয়ে আসছিল।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাধীন সংস্থাগুলোর ওপর নিজের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেও সুপ্রিম কোর্ট ফেডারেল রিজার্ভের ক্ষেত্রে একটি বড় ব্যতিক্রম রেখেছে। আদালত ৫-৪ ভোটে ট্রাম্প প্রশাসনের সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন, যার মাধ্যমে তারা ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে তাৎক্ষণিকভাবে পদ থেকে অপসারণ করতে চেয়েছিল। 

জো বাইডেন কর্তৃক মনোনীত এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী ফেড গভর্নর লিসা কুকের বিরুদ্ধে বন্ধকী জালিয়াতির অভিযোগ এনে ট্রাম্প তাকে বরখাস্ত করতে চেয়েছিলেন। যদিও কুক শুরু থেকেই এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

ফেড গভর্নর লিসা কুককে অপসারণের চেষ্টা রুখে দিয়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে লিখেছেন, প্রেসিডেন্টকে যদি যেকোনো সময়, যেকোনো কারণে, আগাম নোটিশ ছাড়া এবং কোনো আইনি তদারকি ছাড়াই ফেডারেল রিজার্ভের সদস্যকে অপসারণের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে তা এই পদের সুরক্ষাকে স্রেফ খেয়ালখুশি মতো চাকরিতে পরিণত করবে।

ট্রাম্পের সমালোচকদের মতে, লিসা কুককে সরানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন সুদের হার নীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। ট্রাম্প দ্রুত সুদের হার কমাতে চান, যাতে সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ কমে এবং সাধারণ মানুষ সস্তায় ঋণ পায়। কিন্তু ফেডারেল রিজার্ভ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখায় ট্রাম্প তাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।

ফেডারেল রিজার্ভ রক্ষা পেলেও অন্যান্য স্বাধীন সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের জন্য একচ্ছত্র ক্ষমতা অনুমোদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের ৬ রক্ষণশীল বিচারপতি। এর ফলে ১৯৩৫ সালের পর থেকে চলে আসা বিখ্যাত ‘হামফ্রিস এক্সিকিউটর’ মামলার রায় বাতিল হয়ে গেল, যে রায়ে বলা হয়েছিল রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে প্রেসিডেন্ট চাইলেই কারণ ছাড়া স্বাধীন সংস্থার প্রধানদের সরাতে পারবেন না।

প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠের পক্ষে রায়ে লেখেন যে, সংস্থার প্রধানদের বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে এই আইনি সুরক্ষা সংবিধানের ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির পরিপন্থি। এর ফলে ট্রাম্প ইতোপূর্বে ফেডারেল ট্রেড কমিশনের রেবেকা স্লটারসহ বিভিন্ন কমিশনের যেসব কর্মকর্তাদের কোনো কারণ ছাড়াই বরখাস্ত করেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তার আইনি বৈধতা নিশ্চিত হলো।

আদালতের এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণার পরপরই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি একে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ক্ষেত্রে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং নজিরবিহীন এক ঐতিহাসিক রায় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে, আদালতের তিন উদারপন্থি বিচারপতির পক্ষে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জাস্টিস সোনিয়া সোতোমেওর সতর্ক করে বলেন, এই রায়ের ফলে মার্কিন প্রশাসনে অস্থিরতা, বশ্যতা এবং এমনকি স্বৈরাচারী নিপীড়নের পথ সুগম হতে পারে।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, প্রেসিডেন্ট এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হলেন, তবে এই ক্ষমতা তাকে দেশের জনগণ বা সংবিধান দেয়নি, দিয়েছে এই আদালতের ছয়জন বিচারপতি। সূত্র: এনডিটিভি

আজহার/অমিয়/