দেশের ১১ ভাগ মানুষ এখনও আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন পানি নিষ্কাশন আউটলেট নির্মাণ, ১০৮টি হটস্পট চিহ্নিতকরণ এবং সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি সংসদকে জানান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৯তম দিনের বৈঠকে লিখিত ও তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য দেন মন্ত্রী।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ’বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের যৌথ Multiple Indicator Cluster Survey (MICS) 2019 অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে।’
তিনি জানান, নিরাপদ পানির আওতা বাড়াতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ১৫ হাজার ৯৪৮টি আর্সেনিকমুক্ত পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গভীর নলকূপ, পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পুকুর খনন ও পুনর্খনন এবং সৌরচালিত পন্ড স্যান্ড ফিল্টার। এসব উদ্যোগের ফলে আর্সেনিক ঝুঁকিতে থাকা মানুষের হার ৫ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত সমগ্র দেশে ৬ লাখ ১৫ হাজার ৪৯৭টি, উপকূলীয় এলাকায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৮৫টি, আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৬টি, পল্লী অঞ্চলে ৮৮ হাজার ২৩৫টি এবং অগ্রাধিকারমূলক গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্পে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫টি নিরাপদ পানির উৎস স্থাপন করা হয়েছে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ’রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ১০৮টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট চিহ্নিত করেছে এবং ১০টি অঞ্চলে ২১টি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করেছে। পাশাপাশি খাল পরিষ্কার, নর্দমা উন্নয়ন এবং অবৈধ দখল রোধে ২৯টি খালের সীমানা নির্ধারণ ও ১ হাজার ১৮১টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিদ্যমান তিনটি আউটলেটের পাশাপাশি আরও দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি বৃহৎ পানি নিষ্কাশন নর্দমা নির্মাণের উদ্যোগও রয়েছে। রাজধানীর জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে নতুন ড্রেনেজ অবকাঠামো, খাল পুনরুদ্ধার, বক্স কালভার্ট নির্মাণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
এলিস/আজহার/