ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপের আসল হিরো ২০ জনকে নিয়োগ দেবে সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি কাইলি জেনারের বিরুদ্ধে মামলা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইডকলের জয়জয়কার বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন সন হিয়াং-মিন রান্নাঘরের তেল চিটচিটে ভাব দূর করতে চট্টগ্রাম বোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী এক লাখ তিন মামলায় জামিন পেলেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ দেয়ালের রঙে ফুটুক ঘরের ব্যক্তিত্ব রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ: এনবিআর চেয়ারম্যান মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ‘নেক্সট জেন’ দলের সাফল্য কমিউনিটি ক্লিনিক হবে ‘হেলথ হাব’ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড উদ্যোক্তা গড়তে ১০ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ৬টি নতুন প্রকল্প হচ্ছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী খামেনির জানাজায় যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন স্পিকার সুইডেনের বিপক্ষেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে ফ্রান্স ফুটবল ও সাম্বার দেশ ব্রাজিলে ইসলামের অজানা অধ্যায় ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭১৯ জন সুনামগঞ্জে আবারও সড়ক অবরোধ মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে দৃঢ় হতে চাণক্যের নামে প্রচলিত ৮ নীতি ডাচদের বিদায়ে হেগে ভক্তদের হুলুস্থুল ‘আমরা সবার সম্মান অর্জন করেছি’ নরওয়ে ম্যাচের আগে সতর্ক আইভরি কোস্ট বুধবার ‘ব্যাংক হলিডে’, বন্ধ থাকবে লেনদেন মায়ানমারে পাথরের খনি ধসে ৫ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১৫ তেঁতুলিয়ায় ইউএনওর সম্মানহানির প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্ণফুলীতে পাথরবোঝাই লাইটার জাহাজ ডুবি, ১২ নাবিক উদ্ধার তিস্তা মহাপরিকল্পনায় অন্য কোনো দেশের কনসার্নের সুযোগ নেই: তথ্য উপদেষ্টা ভেনেজুয়েলায় ৫৮ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ১১ ভাগ মানুষ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে: মির্জা ফখরুল

ফুটবল ও সাম্বার দেশ ব্রাজিলে ইসলামের অজানা অধ্যায়

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
ফুটবল ও সাম্বার দেশ ব্রাজিলে ইসলামের অজানা অধ্যায়

ফুটবল, কার্নিভাল আর আমাজনের সবুজ অরণ্য—দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলকে বিশ্ব সাধারণত এভাবেই চেনে। কিন্তু জাঁকজমকপূর্ণ এই উৎসবের আড়ালে চাপা পড়ে আছে এক দীর্ঘ, বেদনাবিধুর এবং গৌরবময় ইতিহাস। যেখানে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার মুসলমানের শিকল ভাঙার গান, গায়ের রক্ত আর খাঁটি ইমানের অবিশ্বাস্য লড়াই। ক্রীড়া আর সংস্কৃতির এই চারণভূমিতে কীভাবে রোপিত হয়েছিল ইসলামের বীজ? দাসত্বের নির্মম অন্ধকার খাঁচা ভেঙে কীভাবে আজ সেখানে ডানা মেলছে এক আধুনিক মুসলিম সমাজ? ইতিহাস ও ত্যাগের সেই উপাখ্যান সত্যিই যেকোনো সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।

ব্রাজিলে ইসলামের আগমন কোনো স্বাভাবিক অভিবাসন ছিল না, এর পেছনে রয়েছে পর্তুগিজদের নির্মম ঔপনিবেশিক ইতিহাস। ষোড়শ শতকের শুরুতে নাবিক পেদ্রো আলভারেস কারব্যালের হাত ধরে যখন পর্তুগিজরা ব্রাজিল উপকূলে পৌঁছায়, তখন তাদের জাহাজে ছিলেন শিহাবুদ্দিন ইবনে মাজেদ ও মুসা ইবনে সাতির মতো দক্ষ মুসলিম নাবিক। তবে ব্রাজিলে ইসলামের মূল বিস্তার ঘটে আফ্রিকার লাখ লাখ কৃষ্ণবর্ণের মানুষকে দাস হিসেবে ধরে আনার পর। একই সময়ে স্পেন ও পর্তুগালে মুসলিম শাসনের পতনের পর অনেক মরিস্কো (জোরপূর্বক খ্রিষ্টান করা মুসলমান) ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে ব্রাজিলে আশ্রয় নেন।

ব্রাজিলের পর্তুগিজ শাসকেরা আফ্রিকান মুসলমানদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাত। কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তাদের নাম, ভাষা ও ধর্ম। কিন্তু লোহার শিকল মুসলিম দাসদের মন থেকে ইমানের আলো নিভিয়ে দিতে পারেনি। ব্রাজিলের জাতীয় জাদুঘরের নথিপত্র সাক্ষ্য দেয়, দিনে হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে রাতে গোপনে তারা আরবিতে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। প্রবীণ আলেমরা তরুণদের গোপনে ফিকহ ও আকিদার শিক্ষা দিতেন।

এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই এক ঐতিহাসিক বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৬০৫ সালে। ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলীয় আলমিরস এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার কৃষ্ণাঙ্গ মুসলমান একসঙ্গে দাসত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তরুণ নেতা জানজা জুম্বার নেতৃত্বে সেখানে গড়ে ওঠে এক স্বাধীন মুসলিম রাজ্য। প্রায় এক শতাব্দী পর, ১৬৯৪ সালে পর্তুগিজদের কামানের গোলার আঘাতে এই স্বাধীন রাজ্যের পতন ঘটলেও, এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম সেরা বীরত্বগাথা। ১৮৮৮ সালে দাসপ্রথা বিলুপ্তির আগে পর্যন্ত মুসলমানদের জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার এক অন্ধকার অধ্যায় চলেছিল।

উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে ব্রাজিলে ইসলামের এক নতুন যুগের সূচনা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা, লেবাননের গৃহযুদ্ধ এবং আরব-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিন, সিরিয়া, মিসর ও লেবানন থেকে বিপুলসংখ্যক আরব মুসলমান ব্রাজিলে আসতে শুরু করেন। তারা আর দাস হিসেবে নন, এসেছিলেন মুক্ত ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী হিসেবে।

বর্তমানে ব্রাজিলে প্রায় দেড় লাখ মুসলমান অত্যন্ত মর্যাদার সাথে বসবাস করছেন। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যেখানে মুসলমানদের কোনো নিজস্ব পরিচয় ছিল না, আজ সেখানে প্রায় ১৩০টি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ রয়েছে। রিও ডি জেনিরো, সাও পাওলো, পারানা ও রিও গ্রান্দে দো সুল অঞ্চলে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটি। গড়ে উঠেছে ইসলামি স্কুল ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যেখানে সরকারি সহযোগিতাও পাওয়া যায়।

ব্রাজিলের মুসলমানরা আজ কেবল একটি ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠী নয়, বরং দেশটির অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নেতৃত্বের অন্যতম চালিকাশক্তি। ব্রাজিলে ইসলামের এই পাঁচশত বছরের পথচলা প্রমাণ করে—জুলুমের অন্ধকার যত গভীরই হোক না কেন, ত্যাগ আর ইমানের আলো কখনো নিভে যায় না।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

মক্কা-মদিনায় স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
মক্কা-মদিনায় স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ
ছবি: সংগৃহীত

যারা প্রতি বছর ওমরাহ বা হজের উদ্দেশ্যে পবিত্র ভূমিতে যান, তাদের অনেকেরই মনে সুপ্ত ইচ্ছা থাকে—যদি মক্কা বা মদিনায় নিজের ছোট্ট একটা আবাসন থাকত! বহু শতাব্দীর সেই অধরা স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। ২৬ বছরের পুরোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা ভেঙে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। এখন থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মুসলিম নাগরিকরা মক্কা ও মদিনার পবিত্র ভূমিতে সরাসরি ফ্ল্যাট বা জমির স্থায়ী লাভ করতে পারবেন।

সম্প্রতি সৌদি মন্ত্রিসভায় এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হওয়ার পর 'সৌদি প্রপার্টিজ' পোর্টালের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আবেদন প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। ২০০০ সালের পুরোনো আইন অনুযায়ী অ-সৌদিদের জন্য এই দুই নগরীতে সম্পত্তি কেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেই নিয়মে বড় পরির্বতন এলো। তবে মক্কা ও মদিনার পবিত্রতা রক্ষায় অমুসলিমদের প্রবেশ এবং সম্পত্তি ক্রয়ের ওপর আগের মতোই কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।

নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার স্বার্থে পুরো শহর জুড়ে নয়, বরং রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি (REGA) কর্তৃক নির্ধারিত পবিত্র মসজিদগুলোর কাছাকাছি নির্দিষ্ট কিছু জোনে এই সম্পত্তি কেনা যাবে।

মক্কার উল্লেখযোগ্য জোন: জাবাল ওমর, আবরাজ মক্কা, আল-মানার, কিং সালমান গেট, মাসার এবং মক্কা জোন ১ ও ২।

মদিনার উল্লেখযোগ্য জোন: রুয়া আল-মদিনা, ডাউনটাউন মদিনা, দিয়ার আল-মাকার এবং মদিনা জোন ১ ও ২।

বিনিয়োগকারীদের জন্য সৌদি সরকার এক আকর্ষণীয় অফারও রেখেছে। কোনো মুসলিম ক্রেতা যদি মক্কায় সর্বনিম্ন ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল মূল্যের কোনো সম্পূর্ণ নির্মিত আবাসিক সম্পত্তি ব্যাংক লোন বা মর্টগেজ ছাড়া সম্পূর্ণ নগদ অর্থে ক্রয় করেন, তবে তিনি সরাসরি সৌদির মর্যাদাপূর্ণ 'প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি' বা স্থায়ী নাগরিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন।

আবেদনের সহজ প্রক্রিয়া হলো: আগ্রহী ক্রেতাদের saudiproperties.rega.gov.sa ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। সৌদি প্রবাসীরা তাঁদের নিজস্ব 'ইকামা' (Iqama) নম্বর দিয়ে সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন। আর সৌদির বাইরের ক্রেতাদের অনলাইনে আবেদনের আগে নিজ দেশে থাকা সৌদি দূতাবাস থেকে একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য খনিজ তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করা। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও তুরস্কের মতো মুসলিম প্রধান দেশগুলোর জন্য এটি এক অভূতপূর্ব সুযোগ। এখন আর শুধু হোটেল বা ভাড়াবাড়ি নয়, কোটি কোটি মুসলিম চাইলে পবিত্র ভূমিতে গড়ে তুলতে পারবেন নিজের স্থায়ী ঠিকানা।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতা মোবারক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতা মোবারক
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন যিনি, তাঁর পায়ের জুতাজোড়া কেমন ছিল? রাজকীয় কোনো পাদুকা, নাকি সোনা-রুপায় মোড়ানো চটি? ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম এই মানব ব্যবহার করতেন অত্যন্ত সাধারণ, লোমহীন চামড়ার এবং কখনো কখনো তালি দেওয়া জুতা! আসুন, নবিজি (সা.)-এর জুতার সেই অনন্য অবয়ব সম্পর্কে জেনে নিই। 

আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে আরব সমাজে পশম বা লোমযুক্ত চামড়া দিয়ে জুতা তৈরির একটি সাধারণ রেওয়াজ ছিল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতা ছিল পরিচ্ছন্ন ও আলাদা।

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত, ঈসা ইবনে তাহমান (রহ.) বলেন, আনাস (রা.) আমাদের সামনে দুটি লোমশূন্য জুতা নিয়ে আসেন, যে দুটিতে দুটি করে চামড়ার ফিতা ছিল। পরে সাবিত (রহ.) আমাকে জানান যে, জুতা দুটি ছিল স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩১২৭)।

একই বিষয়ে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) এবং হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিটি জুতার উপরিভাগে দুটি করে চামড়ার ফিতা বা বেল্ট যুক্ত থাকত, যা জুতাকে পায়ের সাথে মজবুত ও আরামদায়কভাবে ধরে রাখত। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৬১৪; আল-মুজামুস সাগীর, হাদিস:২৫৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) কেবল সাধারণ জুতাই পরতেন না, বরং জুতা ছিঁড়ে গেলে তা নিজে হাতে মেরামত করে বা তালি দিয়েও পরিধান করতেন। বর্তমানের ভোগবাদী সমাজে যেখানে সামান্য ত্রুটি হলেই আমরা জিনিসপত্র ফেলে দিই, সেখানে আল্লাহর রাসুলের এই আমল এক বিরাট শিক্ষা।

হযরত আমর ইবনে হুরায়ছ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তালিযুক্ত জুতা পরিধান করে সালাত (নামাজ) আদায় করতে দেখেছি।’ (সুনানে কুবরা লিন-নাসাঈ, হাদিস : ৯৭১৭; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস :১৪৬৫)

এই হাদিসটি থেকে আমরা নতুন একটি বিধান ও চমৎকার তথ্য জানতে পারি। তা হলো, পবিত্র ও তালিযুক্ত জুতা পায়ে দিয়েও নামাজ আদায় করা জায়েজ, যা স্বয়ং নবিজি (সা.) করে দেখিয়েছেন।

লোমহীন মসৃণ চামড়া, পায়ের খাঁজে আটকে থাকা দুটি সুদৃশ্য ফিতা আর প্রয়োজনের সময় তাতে লেগে থাকা তালি, এই ছিল বিশ্বনবির জুতার অবয়ব। এটি কেবল জুতার বিবরণ নয়, বরং তাঁর চরম বিনয়, মিতব্যয়িতা এবং অনাড়ম্বর জীবনদর্শনের এক জীবন্ত প্রতীক। বই বা পত্রিকার পাতায় নবিজি (সা.)-এর এই দৈহিক অবয়বের গল্প আধুনিক মানুষকে শেখাবে কীভাবে বিলাসিতা বর্জন করে পায়ের মাটির সঙ্গে মিশে থাকা যায়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

৩০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৩০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৩০ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৬ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৫৩ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৩১ জুন)

.৪৮মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বান্দার হৃদয়ে আল্লাহ কেন মোহর মারেন?

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
বান্দার হৃদয়ে আল্লাহ কেন মোহর মারেন?
ছবি: সংগৃহীত

সুরা বাকারার ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা সত্যকে অস্বীকারকারীদের চূড়ান্ত পরিণতির কথা বলেছেন। আল্লাহ তাদের অন্তরে ও কানে মোহর করে দিয়েছেন এবং তাদের চোখের ওপর পর্দা পড়ে গেছে; আর তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি। এই মোহর বা সীলগালা কেন এবং কীভাবে পড়ে, তা নিয়ে মুফাসসিরগণ গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন।

হযরত মুজাহিদ (র.) অন্তরের এই অবস্থাকে একটি চমৎকার উদাহরণের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষের অন্তর হলো হাতের তালুর মতো। যখন সে একটি পাপ করে, তখন একটি আঙুল বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে ক্রমাগত পাপ করতে করতে একসময় পুরো হাতটি মুষ্টিবদ্ধ হয়ে যায়। এই রুদ্ধ মুষ্টির ভেতরে যেমন কোনো কিছু প্রবেশ করতে পারে না, তেমনি নিরন্তর পাপের ফলে কালো পর্দায় ঢাকা অন্তরে হিদায়াতের আলো আর প্রবেশ করতে পারে না। একেই কুরআনের ভাষায় ‘খাতাম’ বা মোহর বলা হয়েছে।

হযরত কাতাদাহ (র.)-এর মতে, যখন শয়তান কোনো মানুষের ওপর পুরোপুরি জয়লাভ করে, তখন সে তার আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়। এর ফলে তার শ্রবণশক্তি ও অন্তর্দৃষ্টির ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে মোহর লেগে যায়। তারা সত্যের বাণী শুনলেও তা হৃদয়ে জায়গা দেয় না এবং চাক্ষুষ নিদর্শন দেখেও তা থেকে শিক্ষা নেয় না। এটি তাদের ইচ্ছাকৃত সত্যবিমুখতারই এক অনিবার্য প্রতিফল।

একটি প্রশ্ন জাগতে পারে—আল্লাহ কেন মোহর মারেন? তাফসিরকারকগণ এর উত্তরে বলেছেন, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো জুলুম নয়, বরং সরাসরি সুবিচার। মানুষ যখন বারবার সত্যকে তুচ্ছজ্ঞান করে এবং স্বেচ্ছায় মিথ্যার পথে পা বাড়ায়, তখন আল্লাহ তাদের সেই বক্র পথেই ছেড়ে দেন। হাদীস অনুযায়ী, প্রতিটি পাপের ফলে অন্তরে একটি করে কালো দাগ পড়ে। তওবা করলে তা মুছে যায়, কিন্তু পাপ চালিয়ে গেলে পুরো অন্তর মরিচা ধরা লোহার মতো কালো হয়ে যায়। এই অবস্থাকেই বলা হয় রীন বা মরিচা।

আয়াতের শব্দবিন্যাস লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মোহর মারা হয়েছে অন্তর ও কানের ওপর, আর চোখের ওপর দেওয়া হয়েছে পর্দা। এর অর্থ হলো, তাদের বোঝার ক্ষমতা এবং সত্য শোনার আগ্রহ শেষ হয়ে গেছে। আর চোখের সামনে সত্যের হাজারো প্রমাণ থাকলেও মোহের চাদর বা অহংকারের পর্দা তাদের দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। যেমন একটি পাত্রের মুখ মোহরবদ্ধ থাকলে তাতে কিছু ঢোকানো অসম্ভব, তেমনি এই মোহরবদ্ধ হৃদয়ে ঈমানের প্রবেশাধিকার রুদ্ধ হয়ে যায়।

জীবনের শুরুতে কেউ কাফির বা মোহরবদ্ধ হয়ে জন্মায় না। বরং ক্রমাগত অহংকার, সত্যের সাথে উপহাস এবং পাপের পথে অবিচল থাকাই মানুষকে এই দুর্ভাগ্যের দিকে ঠেলে দেয়। তাই আমাদের উচিত সামান্যতম পাপকেও তুচ্ছ না ভাবা এবং অন্তরে মরিচা পড়ার আগেই তওবার মাধ্যমে তা পরিষ্কার রাখা।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল রাসুল (সা.) কিভাবে জুতা পরতেন?

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
রাসুল (সা.) কিভাবে জুতা পরতেন?
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিনের খুব সাধারণ একটি কাজ জুতা পরা এবং খোলা। অথচ চৌদ্দ শত বছর আগে এই সামান্য অভ্যাসটির মধ্যেও এক চমৎকার শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচার ফুটিয়ে তুলেছেন রাসুল (সা.)। আজ আমরা জানব জুতা ব্যবহারের সেই অনন্য নববি নির্দেশনা এবং ইসলামের ইতিহাসে জুতার ফ্যাশনে আসা একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের কথা।

আমরা অনেকেই হয়তো খেয়াল না করেই যেকোনো পায়ে আগে জুতা গলিয়ে দিই। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ আমাদের প্রতিটি কাজে ইতিবাচক ও সুশৃঙ্খল হওয়ার শিক্ষা দেয়। জুতা পরা ও খোলার ক্ষেত্রে তিনি একটি চিরন্তন নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ জুতা পরিধান করে, তখন সে যেন ডান দিক থেকে আরম্ভ করে। আর যখন খোলে, তখন যেন বাম দিক থেকে আরম্ভ করে। অর্থাৎ পরিধানের সময় ডান পা প্রথমে থাকবে এবং খোলার সময় বাম পা প্রথমে থাকবে।’ (সহিহ বুখারি, ৫৮৫৫; মুয়াত্তা মালিক,১৬৩৪)

উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, এটি কেবল জুতার ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভালো কাজের প্রতি নবিজি (সা.)-এর এক চিরন্তন ভালোবাসা ছিল। তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর চুল আঁচড়ানো, জুতা পরিধান করা এবং পবিত্রতা অর্জনের মতো (সব ভালো) কাজের ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন।’ ( বুখারি, ৪২৬; ইবনে হিব্বান, ১০৯১)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতার গঠন কেমন ছিল, তা আমরা জানি। কিন্তু খেলাফতের যুগে এসে জুতার এই নকশায় যে একটি ঐতিহাসিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছিল, তা অনেকেরই অজানা। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.), আবু বকর (রা.) এবং উমর (রা.) প্রমুখের জুতায় দুটি করে ফিতা ছিল। অতঃপর (আমিরুল মুমিনিন) উসমান (রা.)ই সর্বপ্রথম এক ফিতাবিশিষ্ট জুতো পরিধান করেন।’ (আল-মুজামুল কাবীর, ১২৮)

এই তথ্যটি আমাদের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। জুতায় দুটি ফিতা থাকা কোনো অলঙ্ঘনীয় ধর্মীয় নিয়ম ছিল না, বরং তা ছিল তৎকালীন আরবের সংস্কৃতি। তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.) যখন এক ফিতার জুতা পরা শুরু করলেন, তখন মুসলিম সমাজ বুনেছিল প্রগতি ও ব্যবহারের সহজীকরণের এক নতুন পাঠ।

ডান পা দিয়ে জুতা পরা আর বাম পা দিয়ে খোলা বাইরে থেকে দেখতে সাধারণ মনে হলেও এটি একজন মুমিনের মনস্তাত্ত্বিক শৃঙ্খলা তৈরি করে। আর উসমান (রা.)-এর একক ফিতার জুতার ইতিহাস প্রমাণ করে, ইসলাম সংস্কৃতির সুন্দর ও সুবিধাজনক পরিবর্তনকে কতটা উদারভাবে গ্রহণ করে। বৈচিত্র্যময় এই নববি সিরিজটি বইয়ের পাতায় বা পত্রিকার কলামে আধুনিক পাঠককে প্রাত্যহিক জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়েও সচেতন হতে অনুপ্রাণিত করবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক