ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাজস্ব আদায়ের বাস্তবভিত্তিক টার্গেট নির্ধারণ জরুরি ডিবিএইচের সাধারণ সভায় ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন দুই পা নেই, তবুও স্বপ্নের পথে অদম্য জান্নাতুল বাজেটে ঘাটতি ঘাটতির বাজেট বিশ্বকাপের আসল হিরো ২০ জনকে নিয়োগ দেবে সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি কাইলি জেনারের বিরুদ্ধে মামলা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইডকলের জয়জয়কার বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন সন হিয়াং-মিন রান্নাঘরের তেল চিটচিটে ভাব দূর করতে চট্টগ্রাম বোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী এক লাখ তিন মামলায় জামিন পেলেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ দেয়ালের রঙে ফুটুক ঘরের ব্যক্তিত্ব রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ: এনবিআর চেয়ারম্যান মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ‘নেক্সট জেন’ দলের সাফল্য কমিউনিটি ক্লিনিক হবে ‘হেলথ হাব’ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড উদ্যোক্তা গড়তে ১০ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ৬টি নতুন প্রকল্প হচ্ছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী খামেনির জানাজায় যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন স্পিকার সুইডেনের বিপক্ষেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে ফ্রান্স ফুটবল ও সাম্বার দেশ ব্রাজিলে ইসলামের অজানা অধ্যায় ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭১৯ জন সুনামগঞ্জে আবারও সড়ক অবরোধ মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে দৃঢ় হতে চাণক্যের নামে প্রচলিত ৮ নীতি ডাচদের বিদায়ে হেগে ভক্তদের হুলুস্থুল ‘আমরা সবার সম্মান অর্জন করেছি’ নরওয়ে ম্যাচের আগে সতর্ক আইভরি কোস্ট বুধবার ‘ব্যাংক হলিডে’, বন্ধ থাকবে লেনদেন মায়ানমারে পাথরের খনি ধসে ৫ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১৫ তেঁতুলিয়ায় ইউএনওর সম্মানহানির প্রতিবাদে বিক্ষোভ

দেয়ালের রঙে ফুটুক ঘরের ব্যক্তিত্ব

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
দেয়ালের রঙে ফুটুক ঘরের ব্যক্তিত্ব
ঘর শুধু থাকার জায়গা নয়, এটি মানুষের স্বস্তি, রুচি ও ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন। ঘরের সাজসজ্জা, আসবাবপত্র কিংবা আলোকসজ্জার মতো দেয়ালের রংও পরিবেশ গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখে। অনেক সময় শুধু রং বদলালেই একটি সাধারণ ঘর হয়ে উঠতে পারে প্রাণবন্ত কিংবা আধুনিক। তাই দেয়ালের রং নির্বাচন শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি ঘরের চরিত্র প্রকাশেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লিখেছেন মুশফিরাত  
 
রঙের আছে নিজস্ব ভাষা
প্রতিটি রংই একেকটি অনুভূতির প্রতীক। সাদা রং পরিচ্ছন্নতা, শান্তি ও সরলতার বার্তা দেয়। নীল রং প্রশান্তি ও স্থিরতার প্রতীক, যা শোবার ঘর বা পড়ার ঘরের জন্য উপযোগী। সবুজ রং প্রকৃতির ছোঁয়া এনে দেয়, যা মনকে সতেজ রাখে। হলুদ রং উচ্ছ্বাস ও প্রাণশক্তির প্রতীক, তাই ডাইনিং স্পেস বা বসার ঘরে এটি ভালো মানায়। আবার ধূসর, বেইজ কিংবা অফ-হোয়াইট রং আধুনিক ও অভিজাত আবহ তৈরি করে। যারা মিনিমাল বা পরিমিত সাজ পছন্দ করেন, তাদের জন্য এসব রং হতে পারে আদর্শ পছন্দ। অন্যদিকে লাল, কমলা বা গাঢ় নীলের মতো রং সীমিত পরিসরে ব্যবহার করলে ঘরে আসে আলাদা ব্যক্তিত্ব ও নাটকীয়তা। 
 
ঘরভেদে আলাদা রঙের ভাবনা
সব ঘরে একই রং ব্যবহার না করে জায়গা অনুযায়ী রং নির্বাচন করাই ভালো। বসার ঘর হলো অতিথি আপ্যায়ন ও পারিবারিক আড্ডার জায়গা। তাই এখানে এমন রং ব্যবহার করা উচিত, যা উষ্ণ, আমন্ত্রণমূলক এবং পরিপাটি দেখায়। হালকা ধূসর, ক্রিম, প্যাস্টেল সবুজ কিংবা হালকা নীল হতে পারে ভালো পছন্দ। শোবার ঘরে চাই আরাম ও প্রশান্তি। তাই নরম নীল, ল্যাভেন্ডার, সাদা, হালকা গোলাপি বা মাটি রঙের শেড ভালো মানায়। এগুলো মনকে শান্ত করে এবং বিশ্রামের অনুভূতি দেয়। শিশুদের ঘরে রঙের ব্যবহার হতে পারে আরও প্রাণবন্ত। হালকা হলুদ, আকাশি, মিন্ট সবুজ কিংবা নরম কমলা শিশুদের জন্য আনন্দদায়ক পরিবেশ তৈরি করে। তবে খুব বেশি উজ্জ্বল বা চোখে লাগে এমন রং এড়িয়ে চলাই ভালো। রান্নাঘরে পরিচ্ছন্নতা ও উজ্জ্বলতার অনুভূতি জরুরি। তাই সাদা, হালকা সবুজ, ক্রিম বা হালকা ধূসর ব্যবহার করা যেতে পারে।
 
ছোট ঘর বড় দেখানোর কৌশল
অনেক বাসাতেই জায়গা সীমিত থাকে। সে ক্ষেত্রে দেয়ালের রং দিয়ে ঘরকে বড় ও খোলামেলা দেখানো সম্ভব। হালকা রং যেমন সাদা, অফ-হোয়াইট, হালকা ধূসর বা প্যাস্টেল টোন ঘরকে বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। কারণ এসব রং আলো প্রতিফলিত করে এবং জায়গাকে প্রশস্ত মনে হয়। অন্যদিকে গাঢ় রং ঘরকে ছোট ও ঘন মনে করাতে পারে। তবে নির্দিষ্ট একটি দেয়ালে গাঢ় রং ব্যবহার করলে সেটি ঘরের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করে এবং আলাদা সৌন্দর্য এনে দেয়।
 
ব্যক্তিত্ব প্রকাশে অ্যাকসেন্ট ওয়াল
বর্তমানে ঘর সাজানোর জনপ্রিয় ধারণা হলো অ্যাকসেন্ট ওয়াল বা বিশেষ দেয়াল। অর্থাৎ চারটি দেয়ালের মধ্যে একটি দেয়ালকে আলাদা রং বা নকশায় সাজানো। এতে ঘরে বৈচিত্র্য আসে এবং ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে। যেমন বসার ঘরে টিভির পেছনের দেয়াল, শোবার ঘরে বিছানার পেছনের দেয়াল কিংবা ডাইনিং স্পেসে একটি দেয়াল গাঢ় বা ভিন্ন রঙে করা যেতে পারে। এ ছাড়া ওয়ালপেপার, টেক্সচার পেইন্ট কিংবা জ্যামিতিক নকশাও এখন জনপ্রিয়। এগুলো ঘরের আধুনিকতা বাড়ায়।
 
আলো ও রঙের সম্পর্ক
দেয়ালের রং নির্বাচন করার সময় ঘরে কতটা প্রাকৃতিক আলো আসে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। যেসব ঘরে আলো কম আসে, সেখানে হালকা ও উজ্জ্বল রং ব্যবহার করলে ঘর উজ্জ্বল দেখায়। আর যেসব ঘরে প্রচুর আলো আসে, সেখানে মাঝারি বা গাঢ় টোনও সুন্দর লাগে। 
রাতে কৃত্রিম আলোতেও রঙের পরিবর্তন দেখা যায়। তাই রং করার আগে ছোট অংশে পরীক্ষা করে দেখা ভালো।  
 
সময়ের সঙ্গে বদলানো ট্রেন্ড
একসময় ঘরে শুধু সাদা রংই বেশি ব্যবহার হতো। কিন্তু এখন মাটি রং, টেরাকোটা, সবুজ, ধূসর-নীল, চারকোল কিংবা প্যাস্টেল শেড এখন বেশ জনপ্রিয়। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও কম গন্ধযুক্ত রঙের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে। 
কিছু জরুরি পরামর্শ
• রং কেনার আগে ছোট স্যাম্পল পরীক্ষা করুন
• ঘরের আসবাবপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে রং বেছে নিন
• খুব বেশি রঙের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
• দীর্ঘমেয়াদে ভালো লাগবে এমন শেড নির্বাচন করুন
• মানসম্মত রং ব্যবহার করুন, যাতে টেকসই হয়

 

রান্নাঘরের তেল চিটচিটে ভাব দূর করতে

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
রান্নাঘরের তেল চিটচিটে ভাব দূর করতে

রান্নাঘর বাসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিনের রান্নাবান্না, খাবার প্রস্তুত এবং নানা ব্যবহারের কারণে এ জায়গাটি দ্রুত নোংরা হয়ে যায়। সময়মতো পরিষ্কার না করলে এটি শুধু দেখতে খারাপ লাগে না, বরং দুর্গন্ধ, জীবাণু এবং পোকামাকড়ের সমস্যাও বাড়াতে পারে। তাই রান্নাঘর পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর রাখতে নিয়মিত তেল চিটচিটে ভাব দূর করা জরুরি। লিখেছেন রোদসী 

কেন জমে তেল চিটচিটে ভাব
রান্নার সময় তেল, মসলা ও বাষ্প বাতাসে ছড়িয়ে আশপাশের দেয়াল, তাক, চুলা কিংবা ক্যাবিনেটে জমে যায়। ধুলাবালির সঙ্গে মিশে তা আরও আঠালো হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভাজাপোড়া বেশি হলে এ সমস্যা দ্রুত দেখা দেয়। অনেক সময় শুধু শুকনো কাপড় দিয়ে মুছলে এটি ওঠে না, বরং আরও ছড়িয়ে যায়। 

গরম পানি ও সাবানের সহজ সমাধান
রান্নাঘরের হালকা তেলচিটে ভাব দূর করতে গরম পানির সঙ্গে লিকুইড সাবান মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। একটি কাপড়ে সেই পানি লাগিয়ে চুলা, টাইলস বা কাউন্টার মুছে নিন। গরম পানি তেল আলগা করতে সাহায্য করে এবং সাবান ময়লা সহজে তুলে ফেলে। পরে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে নিলে জায়গাটি ঝকঝকে দেখাবে।

বেকিং সোডা ও ভিনেগার
জেদি তেলচিটে দাগ দূর করতে বেকিং সোডা ও ভিনেগার কার্যকর উপায় হতে পারে। প্রথমে জায়গাটিতে বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিন, এরপর সামান্য ভিনেগার স্প্রে করুন। কয়েক মিনিট রেখে নরম স্পঞ্জ বা ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন। এতে জমে থাকা তেল ও দাগ সহজে উঠে আসে।

লেবুর ব্যবহার
লেবু প্রাকৃতিক ক্লিনার হিসেবে বেশ উপকারী। এর অ্যাসিডিক উপাদান তেল কাটতে সাহায্য করে এবং দুর্গন্ধও দূর করে। একটি লেবু কেটে সরাসরি তেলচিটে স্থানে ঘষতে পারেন অথবা লেবুর রস গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এতে রান্নাঘরে সতেজ ঘ্রাণও থাকবে।

ক্যাবিনেট ও কাঠের অংশ পরিষ্কার করবেন যেভাবে
কাঠের ক্যাবিনেট বা তাক পরিষ্কারে বেশি পানি ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে কাঠ নষ্ট হতে পারে। হালকা ভেজা কাপড়ে সাবান পানি লাগিয়ে মুছে নিন, তার পর সঙ্গে সঙ্গে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। চাইলে অল্প ভিনেগার মিশ্রিত পানি ব্যবহার করা যেতে পারেন।

চুলা ও এক্সহস্ট ফ্যান পরিষ্কার রাখুন
চুলার ওপর সবচেয়ে বেশি তেল জমে। রান্না শেষে চুলা ঠাণ্ডা হলে প্রতিদিন মুছে ফেললে দাগ শক্ত হবে না। এক্সহস্ট ফ্যানেও দ্রুত তেল জমে যায়। মাসে অন্তত একবার ফ্যানের ফিল্টার খুলে গরম পানি ও ডিটারজেন্টে ভিজিয়ে পরিষ্কার করা উচিত। 

প্রতিদিনের ছোট অভ্যাসে মিলবে বড় ফল
রান্নাঘর সবসময় পরিষ্কার রাখতে কিছু ছোট অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন-
•    রান্না শেষে চুলা ও কাউন্টার মুছে রাখুন
•    সপ্তাহে এক দিন টাইলস ও দেয়াল পরিষ্কার করুন
•    ভাজাপোড়া করার সময় ঢাকনা ব্যবহার করুন
•    এক্সহস্ট ফ্যান চালু রাখুন
•    ময়লা কাপড় বা স্পঞ্জ নিয়মিত ধুয়ে নিন

এই গরমে ত্বকের যত্ন নিন সহজে

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
এই গরমে ত্বকের যত্ন নিন সহজে

গ্রীষ্মকালের এই সময়টায় তীব্র রোদ, অতিরিক্ত ঘাম, ধুলাবালি ও আর্দ্রতার কারণে নানা ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দেয়। বছরের এই সময়টাতে কারও ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে যায়, কারও ব্রণ বেড়ে যায়। আবার অনেকের ত্বকে র‌্যাশ, রোদে পোড়া দাগ কিংবা শুষ্কতা দেখা দেয়। তাই এই সময়ে একটু সচেতনতা এবং নিয়মিত যত্ন ত্বককে রাখতে পারে সতেজ, পরিষ্কার ও প্রাণবন্ত। লিখেছেন রোদসী
   
ত্বক পরিষ্কার রাখুন নিয়মিত
গরমে ঘাম বেশি হয়, ফলে ত্বকে ময়লা ও তেল জমে যায়। এতে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস কিংবা ফুসকুড়ির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দিনে অন্তত দুবার মুখ পরিষ্কার করা উচিত। নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী মাইল্ড ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। বাইরে থেকে এসে অবশ্যই মুখ ধুয়ে নিন, যাতে ধুলাবালি ত্বকে না জমে থাকে। 
তবে অতিরিক্ত মুখ ধোয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে। বারবার সাবান বা ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট হতে পারে।

সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন প্রতিদিন
গরমে ত্বকের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। এটি ত্বকে কালচে দাগ, ট্যান, রোদে পোড়া ভাব এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই বাইরে যাওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
কমপক্ষে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন বেছে নিন। যদি দীর্ঘসময় বাইরে থাকতে হয়, তা হলে কয়েক ঘণ্টা পর আবার ব্যবহার করুন। শুধু মুখ নয়, হাত, গলা এবং খোলা অংশেও সানস্ক্রিন লাগানো উচিত।

হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
অনেকে মনে করেন গরমে ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন নাই। এটি ভুল ধারণা। গরমেও ত্বক আর্দ্রতা হারায়, বিশেষ করে রোদে থাকলে বা বারবার মুখ ধুলে। তাই হালকা, তেলমুক্ত বা জেলভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বক নরম থাকবে এবং শুষ্কতা কমবে।

প্রচুর পানি পান করুন
ত্বকের যত্ন শুধু বাইরে থেকে নয়, ভেতর থেকেও নিতে হয়। গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে অনেক পানি বের হয়ে যায়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান না করলে ত্বক নিষ্প্রাণ ও ক্লান্ত দেখাতে পারে।
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের রস কিংবা পানিযুক্ত ফল যেমন তরমুজ, শসা, কমলা খেতে পারেন। এতে শরীর যেমন ঠাণ্ডা থাকবে, তেমনি ত্বকও থাকবে সতেজ।

হালকা প্রসাধনী ব্যবহার করুন
গরমে ভারী মেকআপ ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত ফাউন্ডেশন, ভারী কনসিলার বা ঘন প্রসাধনী ঘাম ও তেলের সঙ্গে মিশে ত্বকের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই এই সময় হালকা প্রসাধনী ব্যবহার করাই ভালো।
টিন্টেড সানস্ক্রিন, হালকা কমপ্যাক্ট, ওয়াটারপ্রুফ কাজল বা লিপ বাম ব্যবহার করতে পারেন। এতে স্বাভাবিক লুক বজায় থাকবে, আবার ত্বকও আরাম পাবে।

ত্বক ঠাণ্ডা রাখতে প্রাকৃতিক যত্ন
গরমে ঘরোয়া কিছু উপায়ও ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে। যেমন-
•    শসার রস বা টুকরো চোখ ও মুখে ব্যবহার করলে ঠাণ্ডা অনুভূতি দেয়
•    গোলাপজল ত্বককে সতেজ রাখে
•    অ্যালোভেরা জেল ত্বকের জ্বালা কমাতে সাহায্য করে
•    দই ও মধুর প্যাক ত্বক কোমল রাখতে সহায়ক 
তবে যেকোনো কিছু ব্যবহারের আগে ত্বকে মানায় কি না তা দেখে নেওয়া ভালো।

ঘাম ও ব্রণের যত্ন
গরমে অতিরিক্ত ঘাম হলে ত্বকে ব্যাকটেরিয়া জমে ব্রণ হতে পারে। তাই মুখে বারবার হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার করুন এবং ঘাম হলে আলতোভাবে মুছে নিন।

খাবারেও আনুন পরিবর্তন
ত্বকের সুস্থতার জন্য খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল-ঝাল খাবার, ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার অনেক সময় ত্বকের সমস্যা বাড়ায়। তাই গরমে বেশি করে ফল, শাকসবজি, সালাদ ও হালকা খাবার খাওয়া ভালো। 
ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার যেমন কমলা, পেয়ারা, লেবু ত্বকের জন্য উপকারী। এ ছাড়া বাদাম, দই, সবুজ শাকসবজিও ত্বকের পুষ্টি জোগায়।

কী এড়িয়ে চলবেন
গরমে ত্বকের যত্নে কিছু ভুল অভ্যাস এড়িয়ে চলা জরুরি–
•    রোদে বের হয়ে সানস্ক্রিন না ব্যবহার করা
•    ঘামযুক্ত মুখে মেকআপ রেখে দেওয়া
•    অপরিষ্কার তোয়ালে বা বালিশের কভার ব্যবহার করা
•    খুব গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়া
•    ব্রণ খোঁটা বা চেপে ধরা
এসব অভ্যাস ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।

এই গরমে শিশুর যত্ন নেবেন যেভাবে

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
এই গরমে শিশুর যত্ন নেবেন যেভাবে

তীব্র গরমে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন সবচেয়ে বেশি যত্ন ও সচেতনতার প্রয়োজন শিশুদের ক্ষেত্রে। প্রচণ্ড গরমেও তাদের খেলাধুলা ও ছোটাছুটি থেমে থাকে না। এতে অতিরিক্ত ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায় প্রয়োজনীয় পানি ও খনিজ লবণ, যা ডিহাইড্রেশনসহ নানা শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই এ সময় শিশুদের খাবার, পানীয়, পোশাক ও দৈনন্দিন পরিচর্যায় বাড়তি মনোযোগ দেওয়া জরুরি। লিখেছেন দীনা মরিয়ম 

পানি এবং পানীয়: প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি যা অনুভূত হয় তা হলো পিপাসা। শিশুরা অনেক সময় খেলতে খেলতে ক্ষুধা-পিপাসা ভুলে যায়। অনেক সময় শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে গিয়ে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন হতে পারে যা অনেক ক্ষেত্রে শিশুর জন্য মারাত্মক হতে পারে। তাই অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে যে, শিশু সময়মতো পানি পান করছে কি না। নির্দিষ্ট সময় পর পর তাদের নিজ দায়িত্বে পানি পান করাতে হবে। ঘামের সঙ্গে শরীরের পানি ছাড়াও প্রয়োজনীয় লবণ ও কিছু পানিতে দ্রবিভূত ভিটামিন ও মিনারেল বেরিয়ে যায়। 

তাই অতিরিক্ত গরমে শুধু পানি শিশুর এ ঘাটতি পূরণ করতে পারে না। তাছাড়া অনেক সময় শিশুরা পানি পান করতেও চায় না। সেজন্য দিনের বিভিন্ন সময়ে পানির পাশাপাশি তাদের ডাব, লাচ্ছি, ঘরে তৈরি ফলের রস লেবুপানি, গ্লুকোজ, মৌসুমি ফল, টকদই, রসযুক্ত ফল ও খাবার খেতে দিতে হবে। প্যাকেটজাত জুস, সফট ড্রিংকস বা কোল্ড ড্রিংকস এড়িয়ে চলতে হবে। অনেকেই গরমে নিজের ইচ্ছামতো ওরস্যালাইন খেয়ে থাকেন, যা বিশেষজ্ঞদের মতে শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের জন্য ওরস্যালাইন, টেস্টি স্যালাইন বিশেষ কারণ বা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা একদমই উচিত নয়। 

খাবার: গরমে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, বেশি তেল-মসলাযুক্ত খাবার, বেশি বেশি জাঙ্কফুড বদহজমের কারণ হতে পারে। তাই খাবার নির্বাচন করতে হবে সহজপাচ্য। যে মৌসুমে যেসব শাকসবজি জন্মায়, সে মৌসুমের জন্য সেসবই সবচেয়ে ভালো ও উপকারি খাবার।
শিশুদের খাবারে প্রয়োজনীয় আমিষ ও ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত মৌসুমি শাকসবজি ও সালাদ থাকতে হবে। যেসব খাবার শরীর ও পেট ঠাণ্ডা রাখে, শিশুকে সে ধরনের খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

পোশাক: গরমে পোশাকের একটি বড় ভূমিকা থাকে। শিশুদের পোশাক নির্বাচনের সময় হালফ্যাশনের চেয়ে তা কতটা আরামদায়ক সেদিকে বেশি নজর দিতে হবে। সাধারণত একটু ছোট হাতাওয়ালা ও ঢিলাঢালা ডিজাইনের নরম সুতি কাপড়ের পোশাক এ সময়ের জন্য উপযোগী। কারণ, তাতে বাতাস চলাচল করতে পারে আবার ঘাম শোষণ করে নিতে পারে। এতে শিশু আরাম অনুভব করে, আবার ঘামের জীবাণু-সংক্রমণ কম হয়। 

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: গরমের দিনে শিশুদের নিয়মিত গোসল করাতে হবে। গোসলের পানিতে কিছুটা অ্যান্টিসেপটিক সল্যুশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া প্রতিবার বাইরে থেকে ফেরার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে হাতমুখ ধুয়ে দিতে হবে। 
প্রয়োজনে ভেজা তোয়ালে দিয়ে গা মুছিয়ে দেওয়া যেতে পারে। ঘামে ভেজা পোশাক পরিবর্তন করে পরিষ্কার পোশাক পরিয়ে দিতে হবে। প্রতিবার পোশাক পাল্টানোর সময় ভালো করে প্রিকলি হিট পাউডার শরীরে ব্যবহার করতে হবে।

বাইরে বের হওয়ার সময়সূচি: অন্য কোনো কাজ বা খেলাধূলার জন্য বের হওয়ার ক্ষেত্রে তীব্র রোদ এড়িয়ে চলাই ভালো। শিশুদের খেলাধূলার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে জায়গাটা যেন একটু ছায়াযুক্ত হয়।   

পর্যাপ্ত বিশ্রাম: শিশুরা গরমে একটু বেশি ক্লান্ত হয়ে পরে, তাই তাদের পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে। শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি খাবার হজম হওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্যও যথাযথ ঘুমের প্রয়োজন। 

ঘরের তাপমাত্রা: যে ঘরে শিশুরা বসবাস করে তার ভেতরের তাপমাত্রা যতটা পারা যায় শীতল রাখার চেষ্টা করতে হবে। প্রাকৃতিক বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকলে খুবই ভালো। না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।

/এমটি

রূপচর্চায় পাকা আম

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
রূপচর্চায় পাকা আম

গ্রীষ্মকাল মানেই পাকা আমের মৌসুম, আর এই সময়টা শুধু স্বাদের জন্য নয়–ত্বক ও চুলের যত্নের জন্যও দারুণ একটি সুযোগ। ফলের রাজা আমে রয়েছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ই, বিটা-ক্যারোটিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং নানা ধরনের মিনারেল; যা ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়। প্রাচীনকাল থেকেই ঘরোয়া রূপচর্চায় পাকা আম ব্যবহৃত হয়ে আসছে, আর আধুনিক স্কিন কেয়ার ট্রেন্ডেও এখন এটি আবার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। লিখেছেন রোদসী 

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে পাকা আম
পাকা আমের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো এটি ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন-সি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়, ফলে ত্বক হয় টানটান ও সতেজ। নিয়মিত ব্যবহারে মুখের নিস্তেজতা দূর হয়ে আসে প্রাকৃতিক গ্লো। বিশেষ করে যারা রোদে বের হন বেশি, তাদের ত্বকে ট্যান বা ডালনেস কমাতে আমের ফেসপ্যাক বেশ কার্যকর।

আমের পাল্প সরাসরি মুখে লাগালে তা হালকা এক্সফোলিয়েশনের কাজ করে, মৃত কোষ দূর করে নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে। ফলে ত্বক আরও মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখায়। তবে খুব বেশি সময় না রেখে ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই ধুয়ে ফেলা ভালো, যাতে ত্বকে অতিরিক্ত স্টিকিনেস না থাকে।

শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের প্রাকৃতিক সমাধান
শুষ্ক ত্বকের জন্য পাকা আম এক ধরনের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। আমে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও পানি ত্বককে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখে। বিশেষ করে শীতের শেষ বা গরমের শুষ্ক সময়ে আমের ফেসপ্যাক ত্বককে কোমল ও হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।

শুষ্ক ত্বকের জন্য আম, দুধ ও মধু মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করা যেতে পারে। দুধ ত্বক নরম করে, মধু আর্দ্রতা ধরে রাখে, আর আম ত্বকে পুষ্টি জোগায়। এই কম্বিনেশন নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের রুক্ষতা অনেকটাই কমে আসে।

ব্রণ, দাগ ও ইনফ্ল্যামেশন কমাতে সহায়ক
পাকা আমে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। যাদের ব্রণের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে আমের সঙ্গে অল্প হলুদ বা গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করলে তা ত্বককে শান্ত করে এবং লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে।

নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের দাগ ধীরে ধীরে হালকা হতে পারে। তবে খুব সেনসিটিভ বা অ্যালার্জি প্রবণ ত্বকে প্রথমে অল্প জায়গায় টেস্ট করে নেওয়া জরুরি, কারণ প্রাকৃতিক হলেও কিছু ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

ঘরোয়া ফেসপ্যাকের নানা ব্যবহার
পাকা আম দিয়ে ঘরে খুব সহজেই একাধিক ফেসপ্যাক তৈরি করা যায়। কিছু জনপ্রিয় কম্বিনেশন হলো–
আম + দই: ত্বক পরিষ্কার ও হালকা এক্সফোলিয়েশনের জন্য
আম + মধু: গভীর ময়েশ্চার ও উজ্জ্বলতার জন্য
আম + দুধ + বেসন: ট্যান দূর করে ত্বক ফর্সা ও মসৃণ করতে
আম + অ্যালোভেরা জেল: সংবেদনশীল ত্বক শান্ত করতে
এই ফেসপ্যাকগুলো সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করলে ত্বকের টেক্সচার উন্নত হয় এবং প্রাকৃতিক গ্লো বাড়ে। 

চুলের যত্নেও পাকা আম
শুধু ত্বক নয়, চুলের যত্নেও পাকা আম অত্যন্ত উপকারী। রুক্ষ, শুষ্ক ও প্রাণহীন চুলের জন্য আমের হেয়ার মাস্ক দারুণ কাজ করে। আমের পাল্পের সঙ্গে নারকেল তেল, দই বা অল্প মধু মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগালে চুল হয় নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল।
এটি চুলের ভাঙা কমাতে সাহায্য করে এবং স্ক্যাল্পকে পুষ্টি জোগায়। গরমে ঘাম ও ধুলোবালির কারণে চুলে যে রুক্ষতা তৈরি হয়, তা কমাতেও আমের হেয়ার প্যাক কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সতর্কতা ও সঠিক ব্যবহার
যদিও পাকা আম প্রাকৃতিক ও উপকারী, তবে অতিরিক্ত ব্যবহার করা উচিত নয়। সপ্তাহে ১-২ বারের বেশি ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বকে স্টিকিনেস বা ব্রণ বাড়তে পারে। এছাড়া ব্যবহারের পর ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধোয়া জরুরি।

/এমটি 

শিশুকে নিরাপদ রাখতে অভিভাবকের করণীয়

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
শিশুকে নিরাপদ রাখতে অভিভাবকের করণীয়

সমাজে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার মতো ভয়াবহ ঘটনা আমাদের প্রতিনিয়ত নাড়া দেয় এবং এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করে। শিশুরা যেহেতু শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল, তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন শুধু পারিবারিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা। একটি নিরাপদ শৈশবই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও মানবিক করে গড়ে তোলে। লিখেছেন রোদসী 

শিশুর সঙ্গে বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলা
শিশুর নিরাপত্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো তার সঙ্গে খোলামেলা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি করা। অনেক পরিবারে দেখা যায়, শিশুর কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয় না বা ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যার ফলে শিশু নিজের সমস্যা বা অস্বস্তি প্রকাশ করতে পারে না। অথচ শিশুকে এমন পরিবেশ দিতে হবে যেখানে সে নির্দ্বিধায় তার অনুভূতি, ভয়, অস্বস্তি বা কোনো খারাপ অভিজ্ঞতার কথা বলতে পারে।
প্রতিদিনের ছোট ছোট কথোপকথন যেমন স্কুল কেমন গেল, কার সঙ্গে খেলল, কী ভালো বা খারাপ লাগল এসব অভ্যাস শিশুর মানসিক নিরাপত্তা তৈরি করে।

শরীরের সীমানা ও নিরাপত্তা শিক্ষা দেওয়া
শিশুকে তার শরীর সম্পর্কে বয়স অনুযায়ী সহজ ভাষায় শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাকে বোঝাতে হবে কোন ধরনের স্পর্শ গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি অস্বস্তিকর বা অনুচিত। এই শিক্ষা ভয় দেখিয়ে নয়, বরং আত্মসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে দিতে হবে।
শিশুকে শেখাতে হবে, যদি কেউ তাকে এমনভাবে স্পর্শ করে বা এমন কিছু বলে যা তাকে অস্বস্তিতে ফেলে, তাহলে সে যেন সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য বড়দের বিশেষ করে বাবা-মা বা শিক্ষককে জানায়। শিশুকে এই বার্তা দিতে হবে যে, সে কোনো অবস্থাতেই দোষী নয় এবং সব সময় সাহায্য পাওয়া সম্ভব।

অপরিচিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা
শিশুকে অপরিচিত মানুষের বিষয়ে সতর্কতা শেখানো প্রয়োজন, তবে আতঙ্ক তৈরি না করে। তাকে বোঝাতে হবে যে, সব অপরিচিত মানুষ খারাপ নয়, কিন্তু কিছু পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা জরুরি।
যেমন কেউ যদি তাকে ডেকে নেয়, কোনো উপহার দেয় বা একা কোথাও যেতে বলে, তাহলে সে যেন আগে অভিভাবকের অনুমতি নেয়। একই সঙ্গে ‘না বলা’ শেখানোও গুরুত্বপূর্ণ শিশু যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অস্বস্তিকর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

দৈনন্দিন চলাফেরা ও নিরাপদ রুটিন
শিশুর দৈনন্দিন রুটিন যতটা সম্ভব নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত। স্কুলে যাওয়া-আসার পথ, সময় এবং সঙ্গী সম্পর্কে অভিভাবকের স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। অচেনা পরিবেশে শিশুকে একা না পাঠানো এবং নির্ভরযোগ্য পরিবহন বা দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যোগাযোগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুকে তার আশপাশের নিরাপদ স্থান যেমন পুলিশ স্টেশন, পরিচিত দোকান বা প্রতিবেশীর বাড়ি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া যেতে পারে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে সে সাহায্য নিতে পারে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অনলাইন ঝুঁকি
বর্তমান যুগে শিশুদের নিরাপত্তা শুধু বাস্তব জগতে নয়, ডিজিটাল দুনিয়াতেও নিশ্চিত করতে হয়। মোবাইল, ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অনেক সময় অচেনা ব্যক্তি শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। তাই অভিভাবকদের উচিত শিশুর অনলাইন কার্যক্রম নজরদারি করা, বয়স উপযোগী কনটেন্ট নিশ্চিত করা এবং অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়া।

আচরণগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ
শিশুর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন যেমন অতিরিক্ত ভয় পাওয়া, চুপচাপ হয়ে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা বা নির্দিষ্ট কোনো জায়গা বা ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলা এসব লক্ষণকে গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। অনেক সময় শিশু সরাসরি কিছু না বললেও তার আচরণেই অস্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অভিভাবকের দায়িত্ব হলো বিচার না করে ধৈর্যসহকারে শিশুর কথা শোনা এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ সহায়তা নেওয়া।

সামাজিক দায়িত্ব ও সম্মিলিত প্রতিরোধ
শিশু নিরাপত্তা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। প্রতিবেশী, শিক্ষক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান সবাইকে শিশুদের প্রতি আরও সংবেদনশীল হতে হবে। কোনো সন্দেহজনক আচরণ বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি দেখলে তা উপেক্ষা না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।