ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দেয়ালের রঙে ফুটুক ঘরের ব্যক্তিত্ব মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড উদ্যোক্তা গড়তে ১০ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ৬টি নতুন প্রকল্প হচ্ছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী খামেনির জানাজায় যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন স্পিকার সুইডেনের বিপক্ষেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে ফ্রান্স ফুটবল ও সাম্বার দেশ ব্রাজিলে ইসলামের অজানা অধ্যায় ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭১৯ জন সুনামগঞ্জে আবারও সড়ক অবরোধ মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে দৃঢ় হতে চাণক্যের নামে প্রচলিত ৮ নীতি ডাচদের বিদায়ে হেগে ভক্তদের হুলুস্থুল ‘আমরা সবার সম্মান অর্জন করেছি’ নরওয়ে ম্যাচের আগে সতর্ক আইভরি কোস্ট বুধবার ‘ব্যাংক হলিডে’, বন্ধ থাকবে লেনদেন মায়ানমারে পাথরের খনি ধসে ৫ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১৫ তেঁতুলিয়ায় ইউএনওর সম্মানহানির প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্ণফুলীতে পাথরবোঝাই লাইটার জাহাজ ডুবি, ১২ নাবিক উদ্ধার তিস্তা মহাপরিকল্পনায় অন্য কোনো দেশের কনসার্নের সুযোগ নেই: তথ্য উপদেষ্টা ভেনেজুয়েলায় ৫৮ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ১১ ভাগ মানুষ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে: মির্জা ফখরুল ফ্রান্সকে হারাতে জীবনের সেরা পারফরম্যান্স দরকার, বললেন সুইডেন কোচ পটার হলমার্কসহ ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন: এমপি আখতার হোসেন রাজধানীতে এআই ক্যামেরায় ১৫০০ মামলা: ডিএমপি কমিশনার বিচার বিভাগের বাজেট ১ টাকায় নামানোর প্রস্তাব, ‘পুলিশি রাষ্ট্র’ হওয়ার শঙ্কা আইনমন্ত্রীর ওয়াইফাই এক্সটেন্ডার নাকি মেশ নেটওয়ার্ক ভালো বিশ্বকাপ যুদ্ধে চার চ্যাম্পিয়ন বজলু ভাইয়ের দল বদলের রহস্য হিলিতে মাদরাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, আটক ১ অপরাধ থামাতে পুলিশকে কঠোর হতে হবে বিশ্ববাজারে তেলের বড় দরপতন শৈলকুপায় প্রতিপক্ষের হামলায় ভ্যানচালক নিহত

১১৭৮ কোটি টাকার সার কিনবে সরকার

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৪৯ পিএম
১১৭৮ কোটি টাকার সার কিনবে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, রাশিয়া, মরক্কো ও কাফকো থেকে ২ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১ লাখ ১০ হাজার টন ইউরিয়া, ৬০ হাজার টন টিএসপি এবং ৩৫ হাজার টন এমওপি সার কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ১৭৮ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ৬০ টাকা। এ ছাড়া ১৯৯ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই সার ও ফসফরিক এসিড কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্রানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জন্য সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাঙ্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

এ ছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জন্য কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ-এর কাছ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

এদিকে বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাশিয়ার জেএসসি ‘ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন’ ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে সই হওয়া চুক্তির আওতায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এবং বিএডিসির মধ্যে সই হওয়া চুক্তির আওতায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে ১০ম লটে আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠকে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএপিএফসিএল) জন্য ২০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার ‘ব্যাংক হলিডে’, বন্ধ থাকবে লেনদেন

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
বুধবার ‘ব্যাংক হলিডে’, বন্ধ থাকবে লেনদেন
ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে বুধবার (১ জুলাই) দেশের সব ব্যাংকে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। এই দিন দেশের প্রধান দুই শেয়ারবাজারেও বন্ধ থাকবে লেনদেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরের ১ জুলাই ও ৩১ ডিসেম্বর দুদিন ‘ব্যাংক হলিডে’। প্রথা অনুযায়ী আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার জন্য বার্ষিক হিসাব-নিকাশ শেষ করতে প্রতি বছর এই দুই দিন ‘ব্যাংক হলিডে’ পালন করা হয়।

অর্থবছরের প্রথম দিন বুধবার (১ জুলাই) এবং পঞ্জিকা বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর তফসিলি ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ রাখা হয়। তবে এদিন শুধু দাপ্তরিক কার্যক্রম চলে।

অর্থাৎ, নিজেদের আর্থিক হিসাব মেলাতে সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাকবে। এই দিন ব্যাংক খোলা থাকলেও সেখানে কোনো ধরনের লেনদেন সম্পন্ন হয় না।

নীতি অনুযায়ী ব্যাংক হলিডেগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংক গ্রাহকদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না। তবে এ সময়ে কার্ডের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন গ্রাহকরা।

এদিকে পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচার পর ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হয়। কাজেই ব্যাংক বন্ধ থাকলে দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) কোনো প্রকার লেনদেন হয় না। তবে বুধবার ((১ জুলাই) পুঁজিবাজারে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলবে বলে জানা গেছে।

অন্তরা/

স্বর্ণের দাম আরও ৩৩২৪ টাকা কমল

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:০০ পিএম
স্বর্ণের দাম আরও ৩৩২৪ টাকা কমল
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও মূল্য সমন্বয় করে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণ ও রুপার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকায়।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি যোগ হবে। স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। এছাড়া অলংকার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে আগের নীতিমালাই বহাল থাকবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

অন্তরা/

ভ্যাটে ছাড় পেতে পারেন ছোট দোকানিরা

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ভ্যাটে ছাড় পেতে পারেন ছোট দোকানিরা
ছবি: খবরের কাগজ
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সংসদ সদস্যরা পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা করেন, সমালোচনাও করেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, অল্প আয়ের দোকানদারদের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারসহ প্রস্তাবিত বাজেটের কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন হতে পারে। এসব সংশোধনের পর আজ সোমবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের অর্থবিল চূড়ান্ত হওয়ার কথা আছে।
 
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রয়েছে। এই বেশি পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে গিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে অনেক ক্ষেত্রে কর আরোপ করা হয়েছে। নতুন আরোপিত কর নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সরকারের নেতিবাচক সমালোচনা করেছে। 
 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমালোচনা এড়াতে এনবিআরকে প্রস্তাবিত বাজেটের জনসম্পৃক্ত বিষয়গুলো নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে করমুক্ত আয়সীমা কিছুটা বাড়ানো সম্ভব কি না, অল্প আয়ের দোকানদারদের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার, আবাসন খাতে নিবন্ধনের খরচ কমানো, সঞ্চয়পত্রের ওপর আরোপিত কর, শিল্পের অনেক খাতে উৎসে করে ছাড় দেওয়া সম্ভব কি না, তা ভেবে দেখতে বলেন। 
 
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল তিতুমীর খবরের কাগজকে বলেন, সরকার জনকল্যাণে বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছে। এই বাজেটের কোনো ধারায় বা কোনো পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলে তাতে সংশোধনী আনা হবে। তবে দেশের উন্নয়নে রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে। 
 
চলতি অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেন।
 
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে এনবিআর আগামী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা ধার্য করতে পারে বলে জানা গেছে। ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে বলে জানা গেছে। 
 
প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলে আয়কর আইনের প্রথম তফসিলে সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধন করে ‘স্বতঃপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন’ নামে নতুন ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে কর দিয়ে বিনা প্রশ্নে জমি-ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য প্রদর্শনের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়।
 
প্রস্তাবিত অর্থবিল ব্যাখ্যা করে বলা যায়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য ও দলিল মূল্যের পার্থক্যের ওপর নির্ধারিত হারে কর দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কোনো বিক্রেতা জমি, বিল্ডিং, অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সময় দলিলে প্রকৃত মূল্য গোপন করলে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য ও দলিল মূল্যের পার্থক্যের ওপর বিক্রেতাকে ১৫ শতাংশ মূলধনি কর দেওয়ার ধারা আনা হয়েছে। 
 
এ ক্ষেত্রে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থবিল বিশ্লেষণ করে বলা যায়, ‘স্বতঃপ্রণোদিত ঘোষণার পূর্বে আয়কর আইন অনুযায়ী ক্রেতা বা বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্রদেয় করের ২০ শতাংশ জরিমানা হিসেবে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে। তা ছাড়া স্বতঃপ্রণোদিত ঘোষণার আগে বাংলাদেশের কোনো আদালত ঘোষণাকারীকে অপরাধমূলক কার্যকলাপের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকে, তাহলে ওই ব্যক্তি আইনের এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।’
 
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমালোচনা এড়াতে চূড়ান্ত অর্থবিলে এই ধারা বাতিল করার ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি নেই বলে এনবিআর জানিয়েছে। প্রস্তাবিত অর্থবিলে ব্যাংক হিসাব খোলায় করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরের (ইটিআইএন) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এতে গ্রাহক কমে যাওয়ার আশঙ্কা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন করে বিভিন্ন ব্যাংক। এখন এনবিআর এই ধারা বাতিলের পক্ষেও মত দিয়েছে। 
 
প্রস্তাবিত অর্থবিলে ৫০ লাখ টাকার নিচে বার্ষিক বিক্রি বা টার্নওভার আছে এমন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ওপর এলাকাভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণের ভ্যাট আরোপ করা হয়, যা প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ব্যাংক হিসাব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ভ্যাট কেটে নেওয়ার কথা অর্থবিলে স্পষ্ট করা হয়েছে। পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে আশঙ্কা থেকে প্রধানমন্ত্রী এই পদক্ষেপ নিয়ে এনবিআরকে নতুনভাবে ভাবতে নির্দেশ দেন। এনবিআর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে এই ধারা বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছে। 
 
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের জনতুষ্টির দায় আছে। ভোটের জন্য আবারও জনগণের কাছে যেতে হবে। তাই জনগণ যেসব পদক্ষেপের সমালোচনা করবে তা এড়িয়ে যাওয়া ভালো। 

বেক্সিমকোয় ভর করে বাড়ল সূচক ও লেনদেন

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
বেক্সিমকোয় ভর করে বাড়ল সূচক ও লেনদেন
ছবি: সংগৃহীত

টানা ১৩ কার্যদিবস ক্রেতাসংকটে থাকার পর গতকাল রবিবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে বেক্সিমকো। ক্রেতা ফেরায় কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করেছে। সেই সঙ্গে সার্বিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ফলে বেড়েছে মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেই সঙ্গে লেনদেন বেড়ে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। বেড়েছে মূল্যসূচক। তবে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। এর মাধ্যমে টানা চার কার্যদিবস উভয় বাজারে মূল্যসূচক বাড়ল।

এর আগে টানা ১৩ কার্যদিবস ক্রেতাসংকটে পড়ে বেক্সিমকোর শেয়ার। গতকাল লেনদেনের শুরুতে বেক্সিমকোর শেয়ারের ক্রেতাসংকট দেখা দেয়। এতে টানা ক্রেতাসংকটে পড়ে বেক্সিমকোর শেয়ারের দাম ১১০ টাকা ১০ পয়সা থেকে ২৫ টাকা ৬০ পয়সায় নেমে যায়। তবে গতকাল ক্রেতা ফেরায় দাম কমার সর্বনিম্ন সীমা থেকে দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমায় উঠেছে বেক্সিমকো।

বেক্সিমকোর এমন ঘুরে দাঁড়ানোর দিনে সার্বিক বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। দাম কমেছে ১৩৩টির এবং ৪৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১১১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। ৭০টির দাম কমেছে এবং ১৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৩৩টির এবং ৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৩০টির এবং ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১৪টির দাম বেড়েছে। ৬টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স তার আগের দিনের তুলনায় ৬৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে। বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক তার আগের দিনের তুলনায় ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৬২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৭১ কোটি ৩ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ১১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। লেনদেন বেড়েছে ২৬০ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১০৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার। ৪০ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইটি কনসালট্যান্ট।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মাঝে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ড্যাফোডিল কম্পিউটারস। কোম্পানিটির শেয়ার দর তার আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৬ টাকা ৫ পয়সা বা ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমেছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমেছে। তৃতীয় স্থানে থাকা রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স পিএলসির শেয়ার দর ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমেছে। এ ছাড়া ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো ন্যাশনাল ফিড মিল, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, এসকে ট্রিমস, তুং হাই নিটিং, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস লিমিটেড ও রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২০৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৮টির দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ৬১টির এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। তার আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

দেশে আয়বৈষম্য বেড়েছে

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
দেশে আয়বৈষম্য বেড়েছে
ছবি: খবরের কাগজ

শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, গত ১৫ বছরে দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির হার ছিল অত্যন্ত কম। গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে শিল্পকারখানাগুলো পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারেনি। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। দেশে আয়বৈষম্য বেড়েছে। দেশের কলকারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে। অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটাতে গ্যাসসংকট সমাধানে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। 

গতকাল রবিবার আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) মিলনায়তনে এসএমই ফাউন্ডেশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বে করেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উইমেন এন্টারপ্রেনিউর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব) এর প্রেসিডেন্ট নাসরিন ফাতেমা আউয়াল ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বাংলাদেশের প্রধান ম্যাক্স টুনন। এতে অংশগ্রহণ করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন প্রতিনিধি ও সরকারি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। 

অনুষ্ঠানে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের নাজিম আহমেদ সাত্তার ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম। 

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে এমএসএমই খাতের অবদান ৩৪ শতাংশ। অর্থনীতির প্রাণ হিসেবে পরিচিত এই খাত যত বেশি গতিশীল হবে, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিও তত বেশি ত্বরান্বিত হবে। এই খাতের টেকসই সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) বিদ্যমান শিল্পনগরীগুলোর পাশাপাশি আরও নতুন নতুন আধুনিক শিল্প পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। 

নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি সুদূরপ্রসারী প্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছি। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে। বিসিকের মাধ্যমে পাবনা, সিলেট ও নীলফামারীর সৈয়দপুরে নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব শিল্প পার্কে প্লট শেষ হয়ে গেছে, সেখানে নতুন করে ফিজিবিলিটি স্টাডি করে আরও পার্ক করা হবে।’ 

নাসরিন ফাতেমা উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তির সঙ্গে আরও বেশি সংযুক্ত থাকতে হবে। আমদের উদ্যোক্তারা প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবসায় অবদান রাখে। তারা ৭০ ভাগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। আমাদের দেশের সমগ্র শিল্পের প্রায় ৯৮ শতাংশ এমএসএমই। ইকোনমিক সেন্সাস ২০২৪ অনুযায়ী বাংলাদেশে এক  কোটি ১৮ লাখ উদ্যোক্তা রয়েছে। এর মধ্যে  ১ কোটি ১০ লাখই এসএমই উদ্যোক্তা। দেশে প্রায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা যারা প্রায় ৫০ শতাংস কর্মসংস্থান তৈরি করছে এবং সেখানে মোট এসএমইর প্রায় ৮৭ শতাংশ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। এসএমই উদ্যোক্তারা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।’

শিল্পসচিব আব্দুন নাসের বলেন, “এই খাতের সবচেয়ে বড় শক্তি আমাদের ফ্যাশন হস্তশিল্প ইন্ডাস্ট্রিতে বিপুলসংখ্যক নারী উদ্যোক্তা ও নারীকর্মী কাজ করছেন। তারা শুধু পণ্য উৎপাদন করেন না, এটি আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেন। আজ বিশ্বজুড়ে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক খাত হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের এই খাতে অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে। জামদানি, টাঙ্গাইল শাড়ি, রাজশাহী সিল, নকি পাখা, শীতল পাটি, বাস ও বেতের পণ্য কিংবা আমাদের অসংখ্য দেশীয় এসব পণ্য বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরিচয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। বর্তমান সরকারের নির্বাচন ইশতেহারে ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন দেশীয় শিল্পের বিকাশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং দেশীয় ব্রান্ডকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার বিষয়ে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার আমরা বিশ্বাস করছি। এই অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন বাংলাদেশের এসএমই ও ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”

এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এসএমই ফাউন্ডেশন প্রায় ২২ লক্ষাধিক উদ্যোক্তাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সেবা প্রদান করেছে। যাদের মধ্যে আড়াই লক্ষাধিক সরাসরি সুবিধাভোগী উদ্যোক্তা এবং ৬০ শতাংশ নারী-উদ্যোক্তা। এসএমই ফাউন্ডেশন ২০০৯ সাল থেকে ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির মাধ্যমে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা প্রায় ১৫ হাজার উদ্যোক্তার মাঝে বিতরণ করেছে। যাদের অন্তত ২৫ শতাংশ নারী-উদ্যোক্তা। এসএমই ফাউন্ডেশন সারা দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করছে, উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে, উদ্যোক্তাদের ব্যবসাকে প্রযুক্তি ও আইসিটি-বান্ধব করে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে, উদ্যোক্তাদের পণ্যের বিক্রয় ও বাজারজাতকরণ, প্রচার-প্রসারে কাজ করছে, উদ্যোক্তাদের নীতিগত-সহায়তা প্রদান করছে, বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের সঙ্গে অ্যাডভোকেসি করছে। তবে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার কারণে সারা দেশে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। এমতাবস্থায়, এসএমই ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের সদয় মনোযোগ ও সহায়তা দরকার। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের জামানতবিহীন ঋণনীতি থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলোর জটিল প্রক্রিয়ার কারণে অধিকাংশ নারী উদ্যোক্তা প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের মোট ঋণের একটি বড় অংশ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কাগজপত্রের জটিলতায় তা উচ্চপর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না। নারী উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে স্বল্প সুদে এবং অত্যন্ত সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক ঋণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়। উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পণ্য বাজারজাতকরণে কাজ করা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তির এই যুগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়াতে হবে। ই-কমার্সের মাধ্যমে দেশীয় পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়। এসএমই খাতের পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সরকার শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং নতুন নতুন বাজার খোঁজার চেষ্টা করছে। আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমাদের এসএমই খাত তৈরি পোশাক খাতের মতোই বড় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।