ঢাকা ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নরওয়ে ম্যাচের আগে সতর্ক আইভরি কোস্ট বুধবার ‘ব্যাংক হলিডে’, বন্ধ থাকবে লেনদেন কর্ণফুলীতে পাথরবোঝাই লাইটার জাহাজ ডুবি, ১২ নাবিক উদ্ধার তিস্তা মহাপরিকল্পনায় অন্য কোনো দেশের কনসার্নের সুযোগ নেই : তথ্য উপদেষ্টা ভেনেজুয়েলায় ৫৮ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত দেশের ১১ ভাগ মানুষ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকিতে: মির্জা ফখরুল ফ্রান্সকে হারাতে জীবনের সেরা পারফরম্যান্স দরকার, বললেন সুইডেন কোচ পটার হলমার্কসহ ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন: এমপি আখতার হোসেন রাজধানীতে এআই ক্যামেরায় ১৫০০ মামলা: ডিএমপি কমিশনার বিচার বিভাগের বাজেট ১ টাকায় নামানোর প্রস্তাব, ‘পুলিশি রাষ্ট্র’ হওয়ার শঙ্কা আইনমন্ত্রীর ওয়াইফাই এক্সটেন্ডার নাকি মেশ নেটওয়ার্ক ভালো বিশ্বকাপ যুদ্ধে চার চ্যাম্পিয়ন বজলু ভাইয়ের দল বদলের রহস্য হিলিতে মাদরাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, আটক ১ অপরাধ থামাতে পুলিশকে কঠোর হতে হবে বিশ্ববাজারে তেলের বড় দরপতন শৈলকুপায় প্রতিপক্ষের হামলায় ভ্যানচালক নিহত কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে তিন পজিশনে অনিশ্চয়তা ড্রয়ারে লোকানো ছিল অ্যান্টার্কটিকার বিরল ডাইনোসর জীবাশ্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুদের টাকা নিয়ে তৃতীয় দিনের সংঘর্ষে আহত ২০ নিয়োগ দেবে ব্র্যাক ব্যাংক, বয়সসীমা নেই বরগুনায় বজ্রাঘাতে ৫০ ফুট উঁচু তালগাছে অগ্নিকাণ্ড আখাউড়ায় সিসি ক্যামেরা বসিয়ে মাদক ব্যবসা, গ্রেপ্তার ১ সমালোচনার জবাব দিলেন কোম্যান পঞ্চগড়ে যুব মহিলা লীগ নেত্রী কারাগারে কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন কাতারে দুর্ঘটনায় নিহত সিলেটের ৫ যুবক দুপুরের মধ্যে ৮ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস সিন্ধুর পানি না পেলে ‘হাত কেটে নেওয়া হবে’, ভারতকে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ ওরিয়েন্টেশন ও বার্ষিক পিকনিক অনুষ্ঠিত স্বর্ণের দাম আরও ৩৩২৪ টাকা কমল

শামায়েল কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতা মোবারক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতা মোবারক
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন যিনি, তাঁর পায়ের জুতাজোড়া কেমন ছিল? রাজকীয় কোনো পাদুকা, নাকি সোনা-রুপায় মোড়ানো চটি? ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম এই মানব ব্যবহার করতেন অত্যন্ত সাধারণ, লোমহীন চামড়ার এবং কখনো কখনো তালি দেওয়া জুতা! আসুন, নবিজি (সা.)-এর জুতার সেই অনন্য অবয়ব সম্পর্কে জেনে নিই। 

আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে আরব সমাজে পশম বা লোমযুক্ত চামড়া দিয়ে জুতা তৈরির একটি সাধারণ রেওয়াজ ছিল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতা ছিল পরিচ্ছন্ন ও আলাদা।

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত, ঈসা ইবনে তাহমান (রহ.) বলেন, আনাস (রা.) আমাদের সামনে দুটি লোমশূন্য জুতা নিয়ে আসেন, যে দুটিতে দুটি করে চামড়ার ফিতা ছিল। পরে সাবিত (রহ.) আমাকে জানান যে, জুতা দুটি ছিল স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩১২৭)।

একই বিষয়ে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) এবং হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিটি জুতার উপরিভাগে দুটি করে চামড়ার ফিতা বা বেল্ট যুক্ত থাকত, যা জুতাকে পায়ের সাথে মজবুত ও আরামদায়কভাবে ধরে রাখত। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৬১৪; আল-মুজামুস সাগীর, হাদিস:২৫৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) কেবল সাধারণ জুতাই পরতেন না, বরং জুতা ছিঁড়ে গেলে তা নিজে হাতে মেরামত করে বা তালি দিয়েও পরিধান করতেন। বর্তমানের ভোগবাদী সমাজে যেখানে সামান্য ত্রুটি হলেই আমরা জিনিসপত্র ফেলে দিই, সেখানে আল্লাহর রাসুলের এই আমল এক বিরাট শিক্ষা।

হযরত আমর ইবনে হুরায়ছ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তালিযুক্ত জুতা পরিধান করে সালাত (নামাজ) আদায় করতে দেখেছি।’ (সুনানে কুবরা লিন-নাসাঈ, হাদিস : ৯৭১৭; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস :১৪৬৫)

এই হাদিসটি থেকে আমরা নতুন একটি বিধান ও চমৎকার তথ্য জানতে পারি। তা হলো, পবিত্র ও তালিযুক্ত জুতা পায়ে দিয়েও নামাজ আদায় করা জায়েজ, যা স্বয়ং নবিজি (সা.) করে দেখিয়েছেন।

লোমহীন মসৃণ চামড়া, পায়ের খাঁজে আটকে থাকা দুটি সুদৃশ্য ফিতা আর প্রয়োজনের সময় তাতে লেগে থাকা তালি, এই ছিল বিশ্বনবির জুতার অবয়ব। এটি কেবল জুতার বিবরণ নয়, বরং তাঁর চরম বিনয়, মিতব্যয়িতা এবং অনাড়ম্বর জীবনদর্শনের এক জীবন্ত প্রতীক। বই বা পত্রিকার পাতায় নবিজি (সা.)-এর এই দৈহিক অবয়বের গল্প আধুনিক মানুষকে শেখাবে কীভাবে বিলাসিতা বর্জন করে পায়ের মাটির সঙ্গে মিশে থাকা যায়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

মক্কা-মদিনায় স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
মক্কা-মদিনায় স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ
ছবি: সংগৃহীত

যারা প্রতি বছর ওমরাহ বা হজের উদ্দেশ্যে পবিত্র ভূমিতে যান, তাদের অনেকেরই মনে সুপ্ত ইচ্ছা থাকে—যদি মক্কা বা মদিনায় নিজের ছোট্ট একটা আবাসন থাকত! বহু শতাব্দীর সেই অধরা স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। ২৬ বছরের পুরোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা ভেঙে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব। এখন থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মুসলিম নাগরিকরা মক্কা ও মদিনার পবিত্র ভূমিতে সরাসরি ফ্ল্যাট বা জমির স্থায়ী লাভ করতে পারবেন।

সম্প্রতি সৌদি মন্ত্রিসভায় এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হওয়ার পর 'সৌদি প্রপার্টিজ' পোর্টালের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী আবেদন প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। ২০০০ সালের পুরোনো আইন অনুযায়ী অ-সৌদিদের জন্য এই দুই নগরীতে সম্পত্তি কেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেই নিয়মে বড় পরির্বতন এলো। তবে মক্কা ও মদিনার পবিত্রতা রক্ষায় অমুসলিমদের প্রবেশ এবং সম্পত্তি ক্রয়ের ওপর আগের মতোই কঠোর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।

নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার স্বার্থে পুরো শহর জুড়ে নয়, বরং রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি (REGA) কর্তৃক নির্ধারিত পবিত্র মসজিদগুলোর কাছাকাছি নির্দিষ্ট কিছু জোনে এই সম্পত্তি কেনা যাবে।

মক্কার উল্লেখযোগ্য জোন: জাবাল ওমর, আবরাজ মক্কা, আল-মানার, কিং সালমান গেট, মাসার এবং মক্কা জোন ১ ও ২।

মদিনার উল্লেখযোগ্য জোন: রুয়া আল-মদিনা, ডাউনটাউন মদিনা, দিয়ার আল-মাকার এবং মদিনা জোন ১ ও ২।

বিনিয়োগকারীদের জন্য সৌদি সরকার এক আকর্ষণীয় অফারও রেখেছে। কোনো মুসলিম ক্রেতা যদি মক্কায় সর্বনিম্ন ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল মূল্যের কোনো সম্পূর্ণ নির্মিত আবাসিক সম্পত্তি ব্যাংক লোন বা মর্টগেজ ছাড়া সম্পূর্ণ নগদ অর্থে ক্রয় করেন, তবে তিনি সরাসরি সৌদির মর্যাদাপূর্ণ 'প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি' বা স্থায়ী নাগরিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন।

আবেদনের সহজ প্রক্রিয়া হলো: আগ্রহী ক্রেতাদের saudiproperties.rega.gov.sa ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। সৌদি প্রবাসীরা তাঁদের নিজস্ব 'ইকামা' (Iqama) নম্বর দিয়ে সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন। আর সৌদির বাইরের ক্রেতাদের অনলাইনে আবেদনের আগে নিজ দেশে থাকা সৌদি দূতাবাস থেকে একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য খনিজ তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করা। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও তুরস্কের মতো মুসলিম প্রধান দেশগুলোর জন্য এটি এক অভূতপূর্ব সুযোগ। এখন আর শুধু হোটেল বা ভাড়াবাড়ি নয়, কোটি কোটি মুসলিম চাইলে পবিত্র ভূমিতে গড়ে তুলতে পারবেন নিজের স্থায়ী ঠিকানা।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতা মোবারক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতা মোবারক
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন যিনি, তাঁর পায়ের জুতাজোড়া কেমন ছিল? রাজকীয় কোনো পাদুকা, নাকি সোনা-রুপায় মোড়ানো চটি? ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম এই মানব ব্যবহার করতেন অত্যন্ত সাধারণ, লোমহীন চামড়ার এবং কখনো কখনো তালি দেওয়া জুতা! আসুন, নবিজি (সা.)-এর জুতার সেই অনন্য অবয়ব সম্পর্কে জেনে নিই। 

আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে আরব সমাজে পশম বা লোমযুক্ত চামড়া দিয়ে জুতা তৈরির একটি সাধারণ রেওয়াজ ছিল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতা ছিল পরিচ্ছন্ন ও আলাদা।

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত, ঈসা ইবনে তাহমান (রহ.) বলেন, আনাস (রা.) আমাদের সামনে দুটি লোমশূন্য জুতা নিয়ে আসেন, যে দুটিতে দুটি করে চামড়ার ফিতা ছিল। পরে সাবিত (রহ.) আমাকে জানান যে, জুতা দুটি ছিল স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩১২৭)।

একই বিষয়ে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) এবং হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিটি জুতার উপরিভাগে দুটি করে চামড়ার ফিতা বা বেল্ট যুক্ত থাকত, যা জুতাকে পায়ের সাথে মজবুত ও আরামদায়কভাবে ধরে রাখত। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৬১৪; আল-মুজামুস সাগীর, হাদিস:২৫৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) কেবল সাধারণ জুতাই পরতেন না, বরং জুতা ছিঁড়ে গেলে তা নিজে হাতে মেরামত করে বা তালি দিয়েও পরিধান করতেন। বর্তমানের ভোগবাদী সমাজে যেখানে সামান্য ত্রুটি হলেই আমরা জিনিসপত্র ফেলে দিই, সেখানে আল্লাহর রাসুলের এই আমল এক বিরাট শিক্ষা।

হযরত আমর ইবনে হুরায়ছ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে তালিযুক্ত জুতা পরিধান করে সালাত (নামাজ) আদায় করতে দেখেছি।’ (সুনানে কুবরা লিন-নাসাঈ, হাদিস : ৯৭১৭; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস :১৪৬৫)

এই হাদিসটি থেকে আমরা নতুন একটি বিধান ও চমৎকার তথ্য জানতে পারি। তা হলো, পবিত্র ও তালিযুক্ত জুতা পায়ে দিয়েও নামাজ আদায় করা জায়েজ, যা স্বয়ং নবিজি (সা.) করে দেখিয়েছেন।

লোমহীন মসৃণ চামড়া, পায়ের খাঁজে আটকে থাকা দুটি সুদৃশ্য ফিতা আর প্রয়োজনের সময় তাতে লেগে থাকা তালি, এই ছিল বিশ্বনবির জুতার অবয়ব। এটি কেবল জুতার বিবরণ নয়, বরং তাঁর চরম বিনয়, মিতব্যয়িতা এবং অনাড়ম্বর জীবনদর্শনের এক জীবন্ত প্রতীক। বই বা পত্রিকার পাতায় নবিজি (সা.)-এর এই দৈহিক অবয়বের গল্প আধুনিক মানুষকে শেখাবে কীভাবে বিলাসিতা বর্জন করে পায়ের মাটির সঙ্গে মিশে থাকা যায়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

৩০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
৩০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ৩০ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৬ মিনিট

আসর

৪.৪২ মিনিট

মাগরিব

৬.৫৩ মিনিট

এশা

৮.২০ মিনিট

ফজর (৩১ জুন)

.৪৮মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বান্দার হৃদয়ে আল্লাহ কেন মোহর মারেন?

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
বান্দার হৃদয়ে আল্লাহ কেন মোহর মারেন?
ছবি: সংগৃহীত

সুরা বাকারার ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা সত্যকে অস্বীকারকারীদের চূড়ান্ত পরিণতির কথা বলেছেন। আল্লাহ তাদের অন্তরে ও কানে মোহর করে দিয়েছেন এবং তাদের চোখের ওপর পর্দা পড়ে গেছে; আর তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি। এই মোহর বা সীলগালা কেন এবং কীভাবে পড়ে, তা নিয়ে মুফাসসিরগণ গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন।

হযরত মুজাহিদ (র.) অন্তরের এই অবস্থাকে একটি চমৎকার উদাহরণের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষের অন্তর হলো হাতের তালুর মতো। যখন সে একটি পাপ করে, তখন একটি আঙুল বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে ক্রমাগত পাপ করতে করতে একসময় পুরো হাতটি মুষ্টিবদ্ধ হয়ে যায়। এই রুদ্ধ মুষ্টির ভেতরে যেমন কোনো কিছু প্রবেশ করতে পারে না, তেমনি নিরন্তর পাপের ফলে কালো পর্দায় ঢাকা অন্তরে হিদায়াতের আলো আর প্রবেশ করতে পারে না। একেই কুরআনের ভাষায় ‘খাতাম’ বা মোহর বলা হয়েছে।

হযরত কাতাদাহ (র.)-এর মতে, যখন শয়তান কোনো মানুষের ওপর পুরোপুরি জয়লাভ করে, তখন সে তার আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হয়। এর ফলে তার শ্রবণশক্তি ও অন্তর্দৃষ্টির ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে মোহর লেগে যায়। তারা সত্যের বাণী শুনলেও তা হৃদয়ে জায়গা দেয় না এবং চাক্ষুষ নিদর্শন দেখেও তা থেকে শিক্ষা নেয় না। এটি তাদের ইচ্ছাকৃত সত্যবিমুখতারই এক অনিবার্য প্রতিফল।

একটি প্রশ্ন জাগতে পারে—আল্লাহ কেন মোহর মারেন? তাফসিরকারকগণ এর উত্তরে বলেছেন, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো জুলুম নয়, বরং সরাসরি সুবিচার। মানুষ যখন বারবার সত্যকে তুচ্ছজ্ঞান করে এবং স্বেচ্ছায় মিথ্যার পথে পা বাড়ায়, তখন আল্লাহ তাদের সেই বক্র পথেই ছেড়ে দেন। হাদীস অনুযায়ী, প্রতিটি পাপের ফলে অন্তরে একটি করে কালো দাগ পড়ে। তওবা করলে তা মুছে যায়, কিন্তু পাপ চালিয়ে গেলে পুরো অন্তর মরিচা ধরা লোহার মতো কালো হয়ে যায়। এই অবস্থাকেই বলা হয় রীন বা মরিচা।

আয়াতের শব্দবিন্যাস লক্ষ্য করলে দেখা যায়, মোহর মারা হয়েছে অন্তর ও কানের ওপর, আর চোখের ওপর দেওয়া হয়েছে পর্দা। এর অর্থ হলো, তাদের বোঝার ক্ষমতা এবং সত্য শোনার আগ্রহ শেষ হয়ে গেছে। আর চোখের সামনে সত্যের হাজারো প্রমাণ থাকলেও মোহের চাদর বা অহংকারের পর্দা তাদের দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। যেমন একটি পাত্রের মুখ মোহরবদ্ধ থাকলে তাতে কিছু ঢোকানো অসম্ভব, তেমনি এই মোহরবদ্ধ হৃদয়ে ঈমানের প্রবেশাধিকার রুদ্ধ হয়ে যায়।

জীবনের শুরুতে কেউ কাফির বা মোহরবদ্ধ হয়ে জন্মায় না। বরং ক্রমাগত অহংকার, সত্যের সাথে উপহাস এবং পাপের পথে অবিচল থাকাই মানুষকে এই দুর্ভাগ্যের দিকে ঠেলে দেয়। তাই আমাদের উচিত সামান্যতম পাপকেও তুচ্ছ না ভাবা এবং অন্তরে মরিচা পড়ার আগেই তওবার মাধ্যমে তা পরিষ্কার রাখা।

 

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল রাসুল (সা.) কিভাবে জুতা পরতেন?

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
রাসুল (সা.) কিভাবে জুতা পরতেন?
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিনের খুব সাধারণ একটি কাজ জুতা পরা এবং খোলা। অথচ চৌদ্দ শত বছর আগে এই সামান্য অভ্যাসটির মধ্যেও এক চমৎকার শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচার ফুটিয়ে তুলেছেন রাসুল (সা.)। আজ আমরা জানব জুতা ব্যবহারের সেই অনন্য নববি নির্দেশনা এবং ইসলামের ইতিহাসে জুতার ফ্যাশনে আসা একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের কথা।

আমরা অনেকেই হয়তো খেয়াল না করেই যেকোনো পায়ে আগে জুতা গলিয়ে দিই। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ আমাদের প্রতিটি কাজে ইতিবাচক ও সুশৃঙ্খল হওয়ার শিক্ষা দেয়। জুতা পরা ও খোলার ক্ষেত্রে তিনি একটি চিরন্তন নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ জুতা পরিধান করে, তখন সে যেন ডান দিক থেকে আরম্ভ করে। আর যখন খোলে, তখন যেন বাম দিক থেকে আরম্ভ করে। অর্থাৎ পরিধানের সময় ডান পা প্রথমে থাকবে এবং খোলার সময় বাম পা প্রথমে থাকবে।’ (সহিহ বুখারি, ৫৮৫৫; মুয়াত্তা মালিক,১৬৩৪)

উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, এটি কেবল জুতার ক্ষেত্রেই নয়, বরং ভালো কাজের প্রতি নবিজি (সা.)-এর এক চিরন্তন ভালোবাসা ছিল। তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর চুল আঁচড়ানো, জুতা পরিধান করা এবং পবিত্রতা অর্জনের মতো (সব ভালো) কাজের ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন।’ ( বুখারি, ৪২৬; ইবনে হিব্বান, ১০৯১)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জুতার গঠন কেমন ছিল, তা আমরা জানি। কিন্তু খেলাফতের যুগে এসে জুতার এই নকশায় যে একটি ঐতিহাসিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন এসেছিল, তা অনেকেরই অজানা। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.), আবু বকর (রা.) এবং উমর (রা.) প্রমুখের জুতায় দুটি করে ফিতা ছিল। অতঃপর (আমিরুল মুমিনিন) উসমান (রা.)ই সর্বপ্রথম এক ফিতাবিশিষ্ট জুতো পরিধান করেন।’ (আল-মুজামুল কাবীর, ১২৮)

এই তথ্যটি আমাদের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। জুতায় দুটি ফিতা থাকা কোনো অলঙ্ঘনীয় ধর্মীয় নিয়ম ছিল না, বরং তা ছিল তৎকালীন আরবের সংস্কৃতি। তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.) যখন এক ফিতার জুতা পরা শুরু করলেন, তখন মুসলিম সমাজ বুনেছিল প্রগতি ও ব্যবহারের সহজীকরণের এক নতুন পাঠ।

ডান পা দিয়ে জুতা পরা আর বাম পা দিয়ে খোলা বাইরে থেকে দেখতে সাধারণ মনে হলেও এটি একজন মুমিনের মনস্তাত্ত্বিক শৃঙ্খলা তৈরি করে। আর উসমান (রা.)-এর একক ফিতার জুতার ইতিহাস প্রমাণ করে, ইসলাম সংস্কৃতির সুন্দর ও সুবিধাজনক পরিবর্তনকে কতটা উদারভাবে গ্রহণ করে। বৈচিত্র্যময় এই নববি সিরিজটি বইয়ের পাতায় বা পত্রিকার কলামে আধুনিক পাঠককে প্রাত্যহিক জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়েও সচেতন হতে অনুপ্রাণিত করবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক